আমি এডভেঞ্চারিস্ট। ট্রেকিং’য়ে যাইনা, জঙ্গলে যাইনা। আমার এডভেঞ্চার মাঝে-সাঝে কলকাতায় ট্যাক্সি ধরবার সূত্রে। জমজমাট উত্তেজনা।
রাত আটটা। পার্ক স্ট্রিট। ফাঁকা ট্যাক্সি-দ্বয় ফুটপাথ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে।
প্রথমটিকে ধরলাম; “বালিগঞ্জ ফারি যাবে?”
-“বেহালা যাবেন?” সপাট উত্তর।
-“আরে, চাইছি বলিগঞ্জ যেতে....”
-“আমি বেহালা যাবো, ইচ্ছে হলে চলুন...”
-“ইয়ার্কি নাকি ?”
-“তিরিশ টাকা বেশি লাগবে, বলিগঞ্জ যেতে হলে...”
-“কী ? জুলুম নাকি ?”
-“গলা তুলে আওয়াজ দেবেন না স্যার, ইনসাল্ট সহ্য করবো না...”
-“বটে?আপনি জানেন মদন মিত্র আমার কে হয় ?”
_ “দাঁড়ান, আপনার গাড়ির নম্বর আমি পুলিশে দেবো”
-“বিধানসভায় দিন, কানের কাছে ঘ্যানোর ঘ্যানোর করবেন না”
জরুরী দরকার। ট্যাক্সি না পেলেই নয়। হুরমুর করে গেলাম দাঁড়িয়ে থাক দ্বিতীয় ট্যাক্সিটির কাছে। ভাবলাম নিজেই ট্যাক্সির দরজা খুলে বসে পড়বো। তবে দরজার হাতলে হাত দেওয়ার আগেই ড্রাইভারের প্রশ্ন: “দম করে দরজা খুলবেন না স্যার, যাবেন কোথায়?”
-“ যেখানেই যাই,আপনি নিয়ে যাবেন”, কড়া হতে চেষ্টা করলাম।
-“ট্যাক্সির ইঞ্জিন ডাউন হতে পারে”, নির্ভীক উত্তর।
-“ইঞ্জিন ডাউন আছে কী ?”
-“যাবেন কোথায়?”
-“সেটা শুনে বলবেন যে সত্যি ইঞ্জিন ডাউন কী না?”
-“অত কথার সময় নেই আমার”
-“বালিগঞ্জ যাবো”
_ “পঞ্চাশটাকা বেশি লাগবে”
-“হোয়াট ? পঞ্চাশ? মগের মুলুক নাকি?”
-“ইঞ্জিন ডাউন আছে, অন্য ট্যাক্সি দেখুন”
-“তিরিশ টাকা বেশি দিতে রাজি আছি”, সত্যিই ভীষণ জরুরী দরকার ছিলো।
-“উঠে বসুন”, পেছনের দরজা খুলে দিতে দিতে বললেন ড্রাইভার-দাদা।
No comments:
Post a Comment