Sunday, June 19, 2011

পেঁয়াজী কথা


আরেকটা বৃষ্টির সন্ধ্যে। এবারের আশ্রয়দাতা পড়শী পিয়ালদা। শিক্ষক এবং সমঝদার খাইয়ে। আজকের সন্ধ্যেটা মাত হল পিয়াল-বৌদির হাতে বানানো পেঁয়াজী'তে। বাংলাদেশের অতি পরিচিত, জাতীয়-পতাকা-সম তেলেভাজা হলো এই পেঁয়াজী, কিন্তু পিয়ালদার প্রবল পেঁয়াজী-রোম্যান্স'কে সম্মান জানিয়ে, পেঁয়াজী ভাজার ব্যাপারটা গ্রাফিকালি সাজিয়ে দেওয়ার লোভ সামলানো গ্যালো না। অতি সহজ অথচ অতি-সুস্বাদু।



রসদ বলতে প্রয়োজন : পেঁয়াজ (বড় বড় খন্ডে কাটা, শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, নুন, কালো জীরে, কাঁচা লঙ্কা কুচিয়ে নেওয়া, অল্প খাওয়ার-সোডা, ব্যাসন এবং তেল; সঙ্গে রয়েছে পিয়াল-বৌদি ইস্পেশাল মসলা; এই মসলা তৈরি হয়েছে, তেজপাতা-জীরে অল্প আঁচ'য়ে ভেজে, তারপর অল্প গরম মসলা মিশিয়ে গ্রাইন্ডারে গুঁড়ো করে নেওয়া)।

সমস্ত মসলা ও নুন দিয়ে, সামান্য জলে ব্যাসনটা ভাল করে আগে গুলে নেওয়া। তারপর পেঁয়াজ'এর টুকরো গুলো সেই ব্যাসনে ভাল করে চুবিয়ে; পুরু ভাবে ব্যাসনাবৃত করে কড়াইতে ডুবো-তেলে ভেজে নেওয়া, যতক্ষণ না পেঁয়াজী'র বড়া গুলো লাল টুকটুকে হয়ে উঠছে। এরপর কড়াই থেকে তেল ছেকে পেঁয়াজীগুলো তুলে নিয়ে, তার ওপর আলতো করে বিট-নুন ছড়িয়ে, কাসুন্দি সহ পরিবেশন।

ভগবান বৃষ্টির সৃষ্টিই করেছেন মানুষ পেঁয়াজী ভাজবে বলে।




1। মসলা-পাতি


2। ব্যাসন-ব্যাপ্তি




4। কড়াই ডগমগ



6। হামলা


Wednesday, June 15, 2011

চেষ্টা করেছিলাম তবুও


পিতা : তোমার রেজাল্ট যে দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে

আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..

পিতা : চেষ্টা আমার মুণ্ডু, তুমি শুধু ধেইধেই ফুটবল পেটাতে আর ফুচকা গিলতে জানো রাস্কেল




বউ : আজকেও দেরি, তোমার টাইমিং সেন্স দিন দিন বিগড়ে চলেছে

আমি :ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..

বউ : ড্যাম ইওর চেষ্টা, তুমি একটা আলসে ভূত আসলে




বস : সেলস ফিগার যে নায়াগ্রা থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারিয়ানা ট্রেঞ্চে নেমে চুমু খাচ্ছে চাঁদু

আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..

বস : চেষ্টা-ফেষ্টা বলে ব্লাফ ঝেড়ো না বাপ, তোমার মত স্লিপারি ফাঁকিবাজ আমি জম্মে দেখিন!




ডাক্তার : আরে মশাই, তেল-চোবানো চপ-মিসাইল গুলো খাওয়াটা এক্ষুনি বন্ধ করুন, নয়তো এত টন কোলেস্টেরল ঢোকালে, ইলেকট্রিক চুল্লিও চোক করে যাবে

আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..

ডাক্তার : আপনার মশাই এলেবেলে চেষ্টা সব, উইল-পাওয়ার আপনার মধ্যে এক আউন্স'ও নেই




মা :হ্যাঁ রে বাবা, দিন দিন এমন রোগ হয়ে চলেছিস তুই, শরীরের একটুও যত্ন নেই তোর?

আমি : ইয়ে মানে, চেষ্টা করেছিলাম, তবুও..

মা : কিছু চেষ্টা করিস না তুই, রাজ্যের লোকের ব্যাগার খেটে যায় শুধু ছেলেটা আমার, এদিকে নিজের দিকে কোনও নজর নেই..







Monday, June 13, 2011

বৃষ্টির সন্ধ্যে ও একটি গা-কাঁপানো গল্প




জুন মাসের সন্ধ্যে।
ঝমঝম বৃষ্টি। প্রবল, ছাতা-ডিসমিস করে দেওয়া বৃষ্টি।
লোড-শেডিং। প্রবল গপ্পিয়ে বন্ধু। তার রত্ন-সম রাধুনি বর্ধমানের দিবাকর।
মোমবাতি'র আলোয় জমাট আড্ডা। আড্ডা'র ক্যাটালিস্ট হিসেবে দিবাকর কুমারের পেঁয়াজি, বেগুনী,
লঙ্কা-পকোড়া (হু হু হু হহুহু, চোখে জল কিন্তু জ্বিবে দারুন), ডিম'এর ডেভিল, আম আচার'এর তেল
এবং আলু-সহ ভাজা মুড়ি। সঙ্গে ফ্রিজ-ঠান্ডা মিষ্টি ডাব'এর জল। আহহ... জিহ্ভার্গ্সম একেই বলে।
বৃষ্টি'র সন্ধ্যে। মোমবাতি আছে, তেলে-ভাজা মুড়ি আছে, ভূতের গপ্প হবে না?


সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করতেই সে উঠে ভিতরের ঘরে গিয়ে একটা পুরনো এবং ময়লা এক টুকরো ডায়েরী-ছেঁড়া পাতা এনে ধরিয়ে দিল। বললে
, "পড়ে দ্যাখ, সুইসাইড নোট"

সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডে কনকন।
"দাদা,
দীপক'কে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব ছিল। ঠাকুমা'র পছন্দ করা ছেলের সঙ্গে বিয়ে মেনে নিতে পারব না।চললাম, তোরা ভাল থাকিস
ইতি
মণি"
-"এই সুইসাইড নোট'টা কার ?"
-"আমার বোন'এর। আমাদের পরিবারে আমার ঠাকুমার দাপট ছিল ভীষণ। মণি'র প্রেম করা উনি কিছুতেই মানতে পারেননি। জানতে পেরেই একরকম জোর করেই ওর বিয়ে ঠিক করেন ঠাকুমা আর বাবা। পাকা-কথার আগের দিন রাত্রে মণি হঠাত্‍ এই ডিসিশনটা নিয়ে ফ্যালে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। ও মারা যাওয়ার পর থেকেই ঠাকুমা একটানা হ্যালুসিনেট করতে থাকেন যে মণি'র আত্মা এসে ওকে জাপটে ধরছে। দু-দিনের মধ্যেই ঠাকুমার প্রবল জ্বর আসে, সঙ্গে বিকার ওর প্রলাপ। এক সপ্তাহ না ঘুরতেই ঠাকুমা মারা যান"
-"অহহ, সরি, কিন্তু এই সুইসাইড নোটের সঙ্গে ভূতের কী লিংক?"
-"বিশ্বাস করবি কি না জানি না, কিন্তু এটা একটা posthumous সুইসাইড নোট"
-"মারা যাওয়ার পড়ে লেখা সুইসাইড নোট মানে ?", আমি তখন উত্তেজিত
-" হাইপার হয়ে যাস না, যা বলছি শুনে যা। এরপর বিশ্বাস করা তোর নিজের ওপর। ঠাকুমা যখন প্রবল জ্বর'এর মাথায় প্রলাপ বকে চলেছেন, যার বেশির ভাগ কথাই কেউ ধরতে পারছে না, অনেকেই বলেছিল যে ওকে নাকি মণি'র আত্মা চেপে ধরেছে। আমি অন্তত পাত্তা দিনি সেসব । জ্বর এতটাই ছিল যে ঠাকুমা বিছানা ছাড়তে পারতেন না। সাত দিন'এর মাথায়, মাঝরাত্রের দিকে আমি নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে মাথা রেখে পড়ে আছি, ঘুম আসছে না। আচমকা দেখি ঠাকুমা ওই শরীরেই উঠে আমার টেবিলের কাছে চলে এসেছে, উড়ো-চুল, লাল চোখ, শরীরে শুধু একটা সাদা থান জড়ানো, আর সেই মুখ আমি কখনো ভুলবো না রে, গোটা মুখে যেন রক্ত উঠে এসেছে। ঠাকুমা আমায় সোনভাই বলে ডাকতেন। কিন্তু সেই ঘোরে আমায় কি বললে জানিস?
বললে "দাদা সরে যা...", আর বলেই বরফ হাতে, এমন আসুরিক শক্তি নিয়ে আমায় ঠ্যালা দিলেন যে আমি সামলাতে পারলাম না, হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম চেয়ার সহ..., আর আমি পড়ে যেতেই ঠাকুমা আমার টেবিলে রাখা খোলা ডায়েরি আর কলম নিয়ে খস-খস করে ওই দুই লাইনের চিঠি'টা লিখেই লুটিয়ে পড়েন, মারা যান"
-"মানে..মানে তোমার বোন'এর এই সুইসাইড নোট'টা তোমার ঠাকুমা..বিকারের ঘোরে..?"
-"হ্যাঁ"
-"কিন্তু এটা তো আত্মা জাতীয় কিছু নাও...মানে সাবকনশাসে'ও তো..."
-" ঠাকুমা লেখা পড়া আদৌ জানতেন না স্যার, তাঁর অক্ষর জ্ঞান'ও ছিল না.."
( সঙ্গীর থেকে ব্লগে তার অভিজ্ঞতা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছি, তবে পত্র-লেখিকার আসল নামের পরিবর্তে অন্য নাম ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে )

Sunday, June 12, 2011

বউ-লেস চিলি চিকেন



“A Man is emancipated from the clutches of his wife, when he successfully makes Chilli Chicken all by himself, in his own kitchen, in the absence of his wife” ~ An Old Chinese Saying

প্রশ্নচিহ্ন :
বউ বাড়ি না থাকলে পাউরুটি-আমূলস্প্রে খেয়ে থাকতে হবে? সেদ্ধ-ভাত'ই বা খেতে হবে কেন? রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়ার আনতে যাওয়াই বা জরুরি কেন?
বউ বাপের বাড়ি গ্যাছে বলে রোববার রাত্রে বাড়িতে মুরগি ঢুকবে না এটা কি কোনো ইজ্জতের কথা হলো?
অতএব :
@finelychopped (টুইটার পরিচিতি) ব্লগে হানা দিলাম (মুম্বাই-বাসী কল্যাণ কর্মকারের এই ব্লগ'টি যে কোনও খাদ্য-রসিকের কাছে একটি সোনার খনি, যারা এখনো এই ব্লগ'টি তে যান নি, এই পোস্ট পড়া বন্ধ রেখে আগে গিয়ে ওই ব্লগটা দেখুন) চিলি চিকেনের সহজ অথচ গরম রেসিপি টুকে নিলাম, আর তারপর...তারপর.. ইতিহাস নেমে এল রান্নাঘরে।
রেসিপিটা এত সহজে এক লাইনে সাজিয়ে দিয়েছেন @finelychopped যে সেটাকে বাস্তবায়িত করা অতি সহজ
Heat oil, add chopped garlic, add soy sauce and chili sauce, add, chopped onion bulbs, add chicken, salt and ajino moto, stir till cooked and oil dries, add green chillies. End of story. Ten minutes from start to Finish
আমি শুধু সামান্য দুটো ইনোভেসন গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেছি :
১. চিকেন'টা কে এক ডিম ফাটিয়ে ও সামান্য নুন-শুকনো লঙ্কার গুড়ো, কর্ণ-ফ্লাওয়ার দিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রেখেছি (ডিম'এর প্রতি আমার অগাধ আস্থা, পারলে..ইয়ে..শুক্ত'তেও )
২. মূল রান্নার আগে চিকেনটাকে অল্প আঁচে একটু ভেজে নিয়েছি
ব্যাস.. তারপর @finelychopped'এর সহজ লাইন মেপে চালিয়ে দিয়েছি
ফলাফল? অনবদ্য, অভাবনীয়, ঐতিহাসিক
বউ ছাড়া রান্না ঘরে মুরগি ঢুকবে না, এই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে গ্যালো...
"আমার প্রথম চিলি চিকেনে রাঙানো ভাত এক কাঁড়ি / আমি কি ভুলতে পারি " - প্রাচীন চিনা গণ-সঙ্গীত (দয়া করে ক্রস-চেক করতে যাবেন না)

১. যা যা দরকার