Thursday, January 31, 2013

বইমেলার এখন তখন

একদিকে আপনার পেটে প্রবল ক্ষিদে, অন্যদিকে আপনার চারিদিকে হিমসাগর, জলভরা, পাঠিসাপটার পাহাড় – আপনি দেখছেন, নাড়া-চারা করেছেন কিন্তু কিচ্ছুটি মুখে পুরতে পারছেন নাডায়েবেটিস! আপনার জিভের ডগায় চিনির কনা আর মাটির বুকে প্লাস্টিক প্যাকেট একই ব্যাপার 

অবশেষে আপনি একটি বিস্বাদ ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট, চিনি-হীন গরম জল-মাফিক চায়ে চুবিয়ে মুখে চালান করলেনতারপর ঢেকুর তোলার চেষ্টা করে বললেন “এই তোফা”

কলেজ ছাত্র হিসেবে যখন বইমেলায় ঘুরঘুর করতে যেতাম তখন ওই পেটের ক্ষিদের বদলে থাকতো বইয়ের নেশাযাবতীয় বুক-স্টল গুলো ছিলো হিমসাগর-জলভরার পাহাড়আর বাদলা-হাওয়া খেলে যাওয়া পকেট ছিলো ডায়েবেটিসএক ঠোঙ্গা বাদাম ছিলো আমার সেই ক্রিম-ক্র্যকার বিস্কুট

বয়েস বেড়েছেচাকরি এসে পকেটকে পেশী-বহুল করে তুলেছেউমদা জিন্দেগিকিন্তু কোথায় ক্ষিদে স্যার! বসয়ের ফাইল আর বউয়ের শপিং কে তোল্লাই দিতে দিতে, অম্বল অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে- কোন ব্যাটার সাধ্য বই-ক্ষিদে বয়ে বেড়ায়। আর বই কিনেই বা কি হবে জনাব, আমি দেখবো টিভি জুড়ে মুন্নির কোমর-দুলুনি আর আমার শো-কেস বুক-ভর্তি বঙ্কিম-শঙ্খ-বিভুতি নিয়ে হুপিং কাশবে।

সব গেজে গ্যাছে গুরু। এখন শুধু অপেক্ষা কবে আসলি ডায়েবেটিস এসে কলজের হাতে বাটি ধরিয়ে দিয়ে যাবে। 

Wednesday, January 30, 2013

চুমু'র কথা

পাল্টে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। আর্তজনে দান করবার কি রাম-হিড়িক চতুর্দিকে, কিন্তু সে হিড়িক কি নিদারুণ সংকীর্ণ। আরে অভাব কি শুধু পেটের খাদ্যের আর দেহের আভরণের ? রাবিশ!

চুমু-বিতরণ শিবির আয়োজন হবে কবে ? পাবলিকের ঠোঁটে বোরোলিন আর খিস্তি ছাড়া যে কিছুই টিকছে না। পাবলিকের হৃদয় যে সবুজ ময়দান থেকে বিটকেল গন্ধওয়ালা ধাপার মাঠ হয়ে চলেছে ক্রমশ। শুধু অমুক যোজনা, তমুক প্রকল্পের বার-ফাট্টাই মারলে হবে ?

রাজ্যের মাথায় ঋণ আর অন্যদিকে পাবলিক চুমুতে দীন; হাউ উইল বেঙ্গল মুভ এহেড মাই ডিয়ার বেহেড মুখ্যুস ?

ঋণ-টিন বাদ দিন, লেট দ্য চুমুস কাম ইন। দেশের ছেলেরা শুকিয়ে মরছে, রোম্যান্সের গ্লুকোজ ঢালুন, নয়তো জিন্দেগি আন্ত্রিক। ল্যালল্যাল ঘুরে বেড়ানো ইয়ূথ; এম-পি-থ্রি প্লেয়ার যুক্ত সস্তা মোবাইলে ফেসবুক ব্রাউজ ও চিপ্স-কোলা মাখা হাফ-আনার ভূড়ি – বখে গেলো মা; বখে গেলো। চুমু-টুমু ঢালো।

নন্দনে-নলবণ-ভিক্টোরিয়ায়-পার্কে বিস্তর কেস। দু মিনিট ধরে মন দিয়ে চুমুতে চুমুক দেবেন উপায় নেই; চারিদিকে হাভাতে চোখ; শালা থার্ড ওয়ার্ল্ড। এগিয়ে আসুক সরকার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিস্তর ট্যাক্স’য়ের টাকা উজাড় করা হয়েছে; এবার হোক সংরক্ষিত চুমুদ্যান। ফরেস্ট রিজার্ভ গোছের কিস-রিজার্ভ; প্রতি পাড়ায়; যেখানে দু জোড়া ল্যাপ্টালেপ্টি ঠোঁট ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। প্রত্যেকে নিজ-নিজ চুমুতে ব্যস্ত থাকবে, এ অন্যকে ‘উই শালা’ বলে আওয়াজ মারবে না। এছাড়া প্রত্যেক বাড়ির চিলেকোঠায় বাড়ির গার্জেন’দের ওঠা বেআইনি ঘোষিত হোক।

আর হ্যাঁ, যারা অতি পাতি ? যাদের চুমু বিলোবার কেউ নেই ? তারা কি বেওয়ারিশ এক জোড়া ঠোঁট নিয়েই ঈর্ষা-অম্বল পুষে লটকে রবে ? নেভার! বারোয়ারী দুর্গা পুজোয় কাঙালি ভোজন হতে পারে, নেতাজীর জন্মদিনে কম্বল বিতরণ চলতে পারে, তবে চুমু-বিলি উত্‍সব হবে না কেন ?

একদিন মাইকে এমন এনাউন্স করা হবে না কেন:

“চুমু-প্রার্থীরা দয়া করে লাইনে ভাঙ্গবেন না। ধৈর্য্য ধরে দাঁড়ান, আর কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হতে
চলেছে বেলতলা নবরুণ সংঘের উনিশতম চুমু-বিতরণ উত্‍সব। ভলেন্টিযার ঘন্টা কে অনুরোধ করছি যে পিছনের দিকে যেসব চুমু-প্রার্থী হল্লা করে বিশৃংখলার সৃষ্টি করছেন তাঁদের যেন কিছুতেই ফ্রেঞ্চ-চুমুর স্লিপ ইস্যু না করা হয়। বন্ধুরা, আজকের চুমুদান অনুষ্ঠানে চুমু দিতে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের লতিকা ও প্রখ্যাত ঠোঁটসেবী বিনীতা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজ্যের মাননীয় চুম্বন-মন্ত্রী শ্রী মখমল হালদার লতিকা ও বিনীতা দেবীকে ফুলের তোরা ও লিপ-স্টিক দিয়ে অভ্যর্থনা করবেন....” ইত্যাদি, ইত্যাদি

Tuesday, January 29, 2013

গুরু

এ জীবনে গুরু ব্যাপারটা ভারী দরকারিপিতা পরম গুরু-ফুরু বাতেলা অতি নরমেই ঘুচে যায়। ছেলেবেলাতেই ইচ্ছে করে রিভার্স-স্যুইপ-খ্যাত নেত্যদার চরণে অজন্তা হাওয়াই হয়ে যাইনেত্যদার হাতের তালু আমার মাথার তালুতে না ঠেকলে যে পাড়ার টিমেও সাত নম্বরের আগে ব্যাট করতে নামা যাবে নাবয়স এগোলো, অন্য গুরু এলো অন্য খেলা শেখাতে; মেয়ে-খেলাএকজন কে খেলিয়ে খেলিয়ে যেই না ডাঙ্গায় তোলা অমনি গুরুভার চলে গেলো ঈপ্সিতার কাঁধে

বউ বললে মাই ওয়ে অর হাইওয়ে।

বস বললে- দ্যাখো বাওয়া, আমার জুতো চেরি-ব্লসমে নয়; তেলে চমকায়

এরপর হয়তো ডায়াবেটিক রক্ত আর বাইপাসিও হৃদয় বয়ে ছুটে যাবো দক্ষিণেশ্বর; পরমহংসের পদতলে থেবড়ে বসে বলতে হবে: “রহিসিয়ানার গোস্তাখি মাফ খোদা, ওসব নির্ভানা-টির্ভানাও আর চাই না- শুধু হাঁটুর বাত আর ছেলের হেরোইনের নেশাটা একটু কন্ট্রোলে এনে দাও গুরু”।  
  
এই গুরু থেকে ওই গুরুর হাতে খেলে গেলামঘুরে গেলামলটকে গেলামচমকে গেলামভেবড়ে গেলাম। গুরুভার বয়ে জীবন কাবার হয়ে গেলো। শুধু “বেওসা-বিজনেস” করে, নিষ্পাপ ভালোবাসাগুলো জানান দেওয়া হলো না। 

Sunday, January 20, 2013

রবিবারের শেষ পাতে

রবিবারটি মরে আসছে গো, মরে আসছেশনিবার বিকেল থেকে তা-ধই-তা-ধই বেয়াদপি নেচে চললামকচুরী খায়েগা, দুপুরে ঘুমায়েগা, বিশের চায়ের দোকানে আড্ডা মারেগা, ফ্রেঞ্চ ওপেনে মেয়েদের টেনিস দেখেগা, মটন গিলকে চিকেন কো ডাঁটা-মাফিক বোলকে গালি পাড়েগা, দায়-দাইত্বর নিকুচি করেগাধুর শালা

পলিটিকাল গুণ্ডাবাজি শেষ হয় না, বউয়ের চাহিদার ফিরিস্তি শেষ হয় না, কফি হাউসের আঁতলামি শেষ হয় না, আনন্দবাজারে পাত্র-পাত্রী বিজ্ঞাপন পড়ে শেষ হয় না - এই রবিবার শেষ হয় কেন ?

শুক্রবারের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে মনে হয় রবিবারের পর পৃথিবী ক্ষতমউইকেণ্ড-মুখী অফিসের শেষ বেলায় যে ফাইল হাফ-খামচা মেরে রেখে চলে এসেছি, সেই ফাইল কাল আমায় গিলে মুখ আচাবেবস কলার পাকড়িয়ে চেল্লাবে, “পাকড়াশীর ফাইল কমপ্লীট হয়নি কেন ? তোমার পাবলিক ফাঁসি হচ্ছে না কেন?”

বাসে ভীড়, রাস্তায় জ্যাম, লাঞ্চে মুলো-ঘণ্ট – এই সোমবার এসে আমার ঈশ্বর বিশ্বাস কচুকাটা করে দেয়।

যে ভুবনে সোমবার আসে, সে ভুবনে কাহাকা ভগবান ? কাহাকা আল্লা ? সব বুজরুকি। জীবনে রয়ে গ্যাছে শুধু রবিবারের কচুরী-আর বাকি হপ্তার ক্যালানি। রবিবার রাত দশটা বাজলেই মনে হয় যে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়াটা তেমন গলদঘর্ম-কেস নয়। ইলিশ-সর্ষে, হুইস্কি, গুলাম আলী, সঞ্জীব চাটুজ্জ্যের মত কিছু ফ্যাক্টর বাদ গেলেও; সন্ন্যাস জীবনে থাকবে হিমালয়ের কম্ফর্টেবল ওয়েদার (বছর দশ মাস কলকাতায় প্যাচপ্যাচ অসহ্য হয়ে উঠছে) আর স্কন্ধ-কাটা সোমবারআয়ু অন্তত ত্রিশ বছর বেড়ে যেতে বাধ্য

তবে এ রক্ত-ঘাম-বেরহমির গপ্পেই জিন্দেগি শেষ নয়। পাঁচ দিনের নরক পেরিয়ে, গোপন প্রেমিকার আঙুলের ডগার মত তুলতুলে শুক্রবার সন্ধ্যেটি, আদুরে নূপুরের শব্দ হয়ে বুকে গড়িয়ে পড়বেই। ফের কোনও ফাইল অফিস টেবিলে বেমক্কা অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে থাকবেই। ফের এক রবিবার সকালে, আমার পরমাত্মীয় রহিম এক মুখ হাসি নিয়ে আমায় ডেকে নেবে তার পবিত্র দোকানটিতে, “ একদম নধর এবং কচি। এইমাত্তর কাটাপাঁজড়-ঠ্যাংয়ের দিক মিশিয়ে দিই কিলো খানেক ?” 

Friday, January 18, 2013

মহাকাশে বাঙালি


বাক্স-প্যাঁটরা গুছিয়ে তৈয়ার হওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। পাক্কা তিন মাসের মহাকাশ-Cruise। অনন্তবাবুর কাছে এ এক হিল্লে ব্যাপার। দেড়-খানা গ্যালাক্সি জুড়ে প্রমোদ ট্যুর। নন্দী-ট্র্যাভেলস চমত্‍কার ডিসকাউণ্ট অফার করেছে। এই মাগ্গির বাজারে এত সস্তার এই মহাকাশট্যুর টা মিস করার মানে হয় না।তাছাড়া বেশ কিছুদিনের ছুটি জমে ছিলো। বে-থা নেই, ঝাড়া হাত-পা। দেড় বছরের মধ্যে রিটায়ারমেন্ট, এই তো ঘুরে নেওয়ার সময়। মিল্কি-ওয়ে ছাড়া অন্য কোনও গ্যালাক্সি  আজ পর্যন্ত দেখা হয়নি অনন্তবাবুর; শেমফুল। দু খানা বেঢপ সুইট-কেস আর একটা ঝোলা ব্যাগে সমস্ত জিনিষ-পত্তর ধরে গ্যাছে। দুগ্গা বলে হাউই-ট্যাক্সি ধরে সিধে গিয়ে হাজির হলেন টলিগঞ্জ এয়ার-বোর্ন সিটির নতুন এই ভাসমান টারমাকে। 

***

কাঁচের ১৭ তলা নন্দী-ট্র্যাভেল স্পেশ্যাল মহাকাশ-ক্রুজ-ক্র্যাফ্টয়ে মৌজ করে বসে আছেন অনন্তবাবু। কিউবিকেলের দ্বিতীয় বেডের সঙ্গীটি এখনো আসেন নি। কী মুস্কিল। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে ক্রুজ যাত্রা শুরু করবে যে। লোকে এত দেরি যে কেন করে। একবার মনে হলো যে আর হয়তো কেউ আসবেন না। একা পুরো কিউবিকেল জুড়ে থাকতে পারবেন ভেবে মন্দ লাগছিলো না অনন্তবাবুর, তবে তিন মাসের ভ্রমণে একজন রুম-মেট পেলে সুবিধে হয়; এটাও একটা ফ্যাক্টর।

ক্রুজ-ক্র্যাফ্ট ছাড়তে যখন ঠিক আধ-মিনিট বাকি, তখন কিউবিকেলে হুড়মুড় করে ঢুকলেন অনন্তবাবুর কিউবিকেল সঙ্গী। তাড়াহুড়োর চোটে ভদ্রলোকের বেদম হাঁপাচ্ছেন।
-“ আমি মৃদুল খাসনবিস”, কোনও ক্রমে বলে হাত মেলালেন ভদ্রলোক।
-“ আমি অনন্ত মুখুজ্জে। তেষ্টা পেয়েছে ?”
-“ হ্যাঁ, এক-দুটো জলের বড়ি পেলে ভাল হতো”
অনন্তবাবু টেবিল থেকে জলের বড়ির শিশি বাড়িয়ে দিলেন মৃদুলবাবুর দিকেশিশি থেকে দুটো বড়ি মুখে চালান করে তৃপ্তিতে রুমাল দিয়ে মুখ মুছলেন মৃদুল বাবুতারপর অনন্তবাবুর দিকে চেয়ে শুধোলেন;
-   “ বিয়ণ্ড গ্যালাক্সি কি আপনার ফার্স্ট টাইম ?”
-   “ হ্যাঁ, আপনারও?”, অনন্তবাবু প্রশ্ন করলেন
-   “না, বেশ কয়েকবার হয়ে গ্যালো, শেষ গেছি টুয়েন্টি ট্যু হান্ড্রেড নাইন্টি সেভেনে”
-   “আপনার ক্রুজ-ক্র্যাফ্টে আসতে এত দেরি হলো? আর একটু হলেই তো বেরিয়ে যাচ্ছিলো আর কি ?”
-   “আর বলবেন না মশায়, আকাশে গিজগিজে জ্যাম, তার মধ্যেও শ্যামবাজার থেকে রাসবিহারী পর্যন্ত ফ্লাই করে ফেলেছি,  এমন সময় খেয়াল পড়লো ইসবগুলের কৌটো আর কাসুন্দির বোতল দুটোই ফেলে এসেছি। আমার ইসবগুল আবার স্পেশ্যাল, ছোট-শালা বাগনান থেকে মাসে মাসে পাঠিয়ে দেয়; ওইটে ছাড়া আমার মুভমেন্ট কিছুতেই খেলতে চায় না বুঝলেন। আর এই তিন মাস জুড়ে বাইরে থাকবো; ভাজাভুজির সাথে মিসেসের নিজের হাতের কাসুন্দি থাকবে না; এমনটা তো ভাবতেই রক্ত হিম হয়ে যাচ্ছিলো। অগত্যা! গ্যালাক্সি-ক্রুজ মিস হয় হোক, টাকা গচ্ছা যায় যাক; ইউ-টার্ণ নিয়ে সোজা শ্যামবাজার। কাসুন্দির বোতল আর ইসবগুলের কৌটো হাতে দে ছুট; কপাল জোরে পেয়ে গেলাম ক্রুজ-ক্র্যাফ্টটা”   
  

হেসে-ভালোবেসে

মগ হবে তো এলুমিনিয়ামে
নাড়ু হবে তো মিল্কমেডি নারকোলে
মুড়ি মাখা হবে তো আম-তেলে।
ইলিশ হবে তো ডিমে টইটুম্বুর পেটীতে।
আড্ডা হবে তো গোল্ডফ্লেকে।
একলা হবে তো বৃষ্টিতে।
দোস্তি হবে তো খিস্তিতে।  
জানুয়ারীও ভাত-ঘুম হবে তো জেলুসিল আর লেপ-মুড়িতে।
প্রেম হবে তো হাত-চিঠিতে।
চুমু হবে তো জিভ-চকামে।

আর সুর হবে তো ব্যথায়
শিরশিরে চিনচিনে যন্ত্রনায়, অন্ধকারে। যখন দুমরে-মুচড়ে ঘাপটি মেরে থাকা যন্ত্রণাগুলো মাকে পায় না; তখন গুটিগুটি সলিল এসে জড়িয়ে ধরবেন ,

“কখন জানি না সে, তুমি আমার জীবনে এসে, যেন সঘন শ্রাবণে প্লাবনে দুকুলে ভেসে...শুধু হেসে; ভালোবেসে”

Sunday, January 13, 2013

আমি শুধু রইনু

ঠিক সন্ধ্যের মুখে। আজকাল লোডশেডিং এমনিতে হয় না, আজ হটাত্‍। অন্ধকার রাস্তা ঘেঁষা চুপড়ি আঁধারে ব্যালকনি। টুপটাপ ঝড়ে চলেছে শীত। গায়ের শাল, শরীরে লাক্স ও ঠোঁটে বোরোলীন মিলে মধ্য-বয়স্ক জানুয়ারীর মায়া-বসন্ত। বউটি হাওয়া; কোনও এক পার্লারে দেহ-লালনেআমার হাতে রয়েছে ফাঁকা কফির কাপ ও কোলে রয়েছেন ঘুপচি অন্ধকারে অসহায় ভাঁজ হওয়া মুজতাবাবেশবেশ

পকেটে রয়েছে মোবাইল। এখনই চুপুক করে কাউকে ফোনে ডাকতে পারি, ঝুপুক করে একটু ফেসবুকে উঁকি মারতে পারিচালিয়ে দিতে পারি এফ-এম; ,মিহি হিন্দী সুর বা কোন রেডিও জকির কোদাল-ধার মস্করায় নিজেকে বলতে পারি; লোডশেডিং আর আমাদের একা করতে পারে না

এও ভারি নাজুক হিসেব। আজকাল একা হওয়া যায় নাবাথরুমেও খবরের কাগজের ধর্ষণ নিমকি হাসে, মহা মুস্কিলহাল-ফ্যাশন আনন্দবাজারকে কমড-পণ্য বানিয়ে ছেড়েছে। একা আর থাকতে দেয় না দুনিয়া।

ছেলেবেলায় লোড-শেডিং হলে ঠাকুমাকে জাপটে বসে থাকতাম; একা থাকতে তখন ভরপুর ত্রাস। ঠাকুমা জড়িয়ে ধরে গুণগুণে-গান গাইতেন “বাপরে নিমাই আমার, যাইয়ো না যাইয়ো না”আর নিমাই! হাল জমানায় ওসব নিমাই-তস্য নিমাই সব লটকে যেতেন জয়েন্ট-এণ্ট্র্যান্স/আই-আই-টির খেলেশালা হিউমানিটি যাক মেট্রোর নীচে; কেরিয়ার বাঁচলে বাপের নাম

এখন একা থাকা অসম্ভব। অফিসে একা ঘুর-ঘুর করলে বস ভাবেন টিমম্যান নয়, বাড়িতে একা থাকলে বউ ভাবে অন্য প্রেম করছে, পার্কে গিয়ে একা বসলে পাড়া-পাবলিক ভাবে বউ-খেদানো মাল; লে হালুয়ানিজের নিজেকে নিয়ে থাকাটাই পাপ।

দিল্লাগী মওকা। বউ পার্লারে। লোডশেডিং, টিভি নেই-ইন্টারনেট-ফোন-কেতাব তামাম বাদ। আমি একা। এই ব্যালকনি আমার হিমালয়; আমি শ্রীশ্রী পচা বাবা। আমি ছেলে বেলার রথের মেলা ভাববো, আনমনা-খেউড় করবো, ভূপেন স্যারের কানমলার রেওয়াজি-স্বাদ মনে আনবো, গায়ের শালের কোনা দাঁটে কাটবো। এবং সর্বোপরি, ইচ্ছে মাফিক কিচ্ছু ভাববো না।

আমিও বেড়াল নয়, এ মুহূর্তও শিকে ছেড়া লোডশেডিংয়ের নয়। ঘরের টিউব-বাতি আর বউয়ের কলিং বেল, এক সাথে বুকে ছ্যাত করে উঠলো।