Tuesday, December 6, 2011

অতি প্রেম-পত্তর

ডিয়ার মাই বৌর্ণভীল সোনামণি,
উফ্ফ, পার্কে থেকে তোমাকে ছেড়ে এলুম আধ ঘন্টাও হয়নি, এর মধ্যেই হাওয়ায় অক্সিজেন কমে আসছে, পেটের ভেতরটা কেমন শেওয়াগ-গোছের লাফালাফি হচ্ছে; তোমায় ছাড়া আমার অবস্থা এক্কেবারে দেবু-জ্যাঠার নস্যি-মাখা রুমালের মত হাল হয় মাইরি
তোমার সঙ্গে থাকলে সময়টা এক্কেবারে দালের মেহেন্দির তুনক তুনক তুনএর মত কেটে যায়। তোমার আব্দারের বালি ছড়ানো মেঝেতে হামাগুড়ি দিতে যে আমার কী ভালোই লাগে...
এক্কেবারে ভিমনাগ ছড়ানো গলায় যখন বলো:
“ বাসে ভীষণ ভীড়, ট্যাক্সি নাও না প্লিজ”
“বসন্ত কেবিন না ডিয়ার, লেট্স গো টু সাম নাইসার প্লেস না সোনা, মেনল্যান্ড চায়না?”
“মাত্র দু ঘন্টা তো দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছ হনুমান, এতে রাগ করার কী আছে?”
“আমার নোট জেরক্স করবার আছে, বাইরে ভারী রোদ, তুমি শেয়ালদা গিয়ে করিয়ে আনো না”
“তোমার গায়ে কী বোঁটকা গন্ধ, ভালো ডিও না স্প্রে করে আমার পাশে আসবে না”
এমন কত কী,
কী ভালোই যে লাগে শুনতে। সুইট-হার্ট! আমার চিত্তদার বিরিয়ানী, আমার কমলা রেষ্টুরেন্টের মোগলাই পরোটা তুমিতুমি আদর করে বললে আমি নিজের ফুসফুসে ইস্তিরি চালিয়ে নিতে পারি, রিয়েলি বলছি!
আজ পার্কে যখন বললে “জিরাফ কোথাকার, তুমি আজ থেকে আর ওই দীপক-রজতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে পারবে না”, আমি সঙ্গে সঙ্গে বললুম “জো হুকুম”তিন মাসের প্রেম বাঁচাতে যদি তেরো বছরের বন্ধুদের মাইনাস নাই করতে পারি, তবে এক মাস আগে চিঠি লিখে তোমাকে বলেছিলাম কেনো “ তুমি আনসীন আমি কমন/ তুমি চাঁদ আমি বামন
আর ওই কথাটা শুনে বুকে ঝিল্লি লাগল মাইরি! তোমার বাবা নিজের মুখে বলেছেন যে বিয়ের পর তোমাদের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটটা আমার নামে লিখে দেবেন? অবশ্য তোমার বাবাকে দেখলেই কেমন দেবতা দেবতা একটা ফিলিং আসে! আর তোমার মায়েরর হাতের পাস্তা? কোথায় লাগে আমার মার বানান আলু পোস্ত; কোথায় এভারেস্ট আর কোথায় নিম-গাছের মগ-ডাল।
চিঠি এইখানেই শেষ করছি আমার সোনামনা!
লাভ ইউ!
চুমু চুমু চুমু! (শেষ চুমুটা কিন্তু ভেজা, রাগ করলে চলবে না মাইরি)
ইতি তোমার একমাত্র বেবুন
পুনশ্চ:
কয়েকটা পুচকে কথা, মূল চিঠিতে লিখতে কেমন বাঁধো-বাঁধো ঠেকলো। ভেবে দেখলাম অনেকছোট সদাগরী অফিসে চাকরি, ট্যাক্সি, এ.সি. রেষ্টুরেন্ট আমার পোষাবে না হয়তো। সেদিন তোমার জন্যে রোদে ঠায় অপেক্ষা করে ভারী সর্দি-গরমি লেগে গ্যালোদীপক-রজতদের ছাড়া আমার চলবে না। তোমার বাবার ফ্ল্যাটে আমি ইয়ে করি আর তোমার মার রান্না পাস্তা মুখে দিলে আমার বমি আসে। আমাদের আর কোনদিন দ্যাখা হওয়ার দরকার দেখছি না। আর হ্যাঁ,আর একবার আমায় বাঁদর বা জিরাফ বললে তোমায় ডাইনি বলে ডেকে ফেলবো।

Monday, December 5, 2011

নব্য-বঙ্গ ব্যঙ্গ

গালাগাল, থুড়ি..তিরস্কার ক্রমশ বড় আলুনি হয়ে উঠছেকদিন ধরেই দেখছি শাপ-শাপান্ত বা বাপ-বাপান্ত করে তেমন লে হালুয়া গোছের ফুর্তি হচ্ছে নাতবে বাঙালির ব্রেন থাকতে খিস্তি...ইয়ে মানে...ভর্ত্‍সনার জন্যে নব্য ভাষা বা যুক্তির অভাব হবে, এ কেমন কথা? একটা জটিল যোগ-মন্ত্র মনে মনে আউড়ে নিয়ে, মনসংযোগ সুদৃঢ় করে এগিয়ে এলাম, আধুনিক এবং সদ্য-আবিষ্কৃত কিছু ভেলকিময় হুমকি লিপিবদ্ধ করতে
১. অকর্মণ্য : “পার্লামেন্ট কোথাকার” (ডেমোক্রেসি ভিত্তিক)

২. সর্বনাশ হোক: “গ্রুপ বি তে গিয়ে পচ শালা” (ইউরো১২ ভিত্তিক)
৩. মোটা: “সরকারি ফাইল কোথাকার” (অনলি ইন-নেভার আউট ভিত্তিক)
৪. ঘুম নষ্ট হোক: “তোর পিছনে আন্না লাগুক” (নিউ-এজ সত্যাগ্রহ ভিত্তিক)
৫. ন্যাকা: “আস্ত অ্যান্টি-কোলাভেরী” (ইউ-টিউব ভিত্তিক)
৬. বিপদে পড়ুক: “পেটে শ্রীসান্থ ঢুকে যাক” (ষণ্ড-নৃত্য ভিত্তিক)
৭. সারমেয় লাঙ্গুল (ইয়ে..মানে কুত্তার লেজ-সম ব্যক্তি) : “শালা ইনফ্লেসন কোথাকার” (মূল্যবৃদ্ধি ভিত্তিক)
৮. অকাজের লোক: “ব্যাটা অর্কুট” (সোশ্যাল-মিডিয়া ভিত্তিক)
৯. অলস: “পুরো কফি-হাউস” (কোলকাতা ভিত্তিক)
১০. ও মরুক গে, আমার কী!: “বি-জে-পির হয়ে কলকাতায় ভোটে লড়ুক গে আমার কী!” (রিয়ালিটি ভিত্তিক)
১১. অপয়া: “ওরে সচিনের ৯৯ সেঞ্চুরি” (খুড়োর কল ভিত্তিক)
১২. বাঁদরের গলায় মুক্ত-হার : “বিদ্যা বালানের কোলে তুষার কাপুর” (নোংরা-ছবি ভিত্তিক)
১৩. তোকে দিয়ে কিছু হবে না: “করবি,লড়বি, জিতবি রে, করবি, লড়বি রে..” (কে কে আর ভিত্তিক)
১৪. গুলতানী মারা বন্ধ কর : “ইন্ডিয়া-টিভিগিরি বন্ধ কর” (মিডিয়া ভিত্তিক)
১৫. অকর্মার ঢেঁকি: “ফুলকপির বিরিয়ানী” (বমি-আগমন ভিত্তিক)
১৬. অসম্ভব ঘটনা : “সলমন খানের জামা” (দাবাঙ্গ ভিত্তিক)
১৭. সন্দেহ-জনক: “কিরণ বেদীর প্লেনের টিকিট” (NGO ভিত্তিক)
১৮. তোর মুখে ছাই পড়ুক : “তোর মুখে জল মেশানো বিয়ার পড়ুক”
১৯. ভন্ড: “শারদ পাওয়ারের গাল” (থাপ্পড় টের না পাওয়া ভিত্তিক)
২০. জুতো মেরে গরু-দান : “ আন-ফলো করে রি-টুইট করা” (টুইটার ভিত্তিক)

Friday, December 2, 2011

দ্য গ্রেট ইটালিয়ান সেলুন



পুরুষ-প্রসাধনের মত সহজ ব্যাপার এ পৃথিবীতে বিরল
সেই সহজাত সহজ হিসেব-কিতেব কে জমজমাট সাজিয়ে তলে লচ্ছমন সিংএর (লচ্ছমন , লক্ষণ বা লক্সমন নয়) এই গ্র্যান্ড ইটালিয়ান সেলুনবস্তুত একটি বাজারের থলি হাতে ঘুরে বেড়ান এই প্রোলিতারিয়েত হাবিবথলির সম্পদ নামিয়ে যে কোনও জায়গায় বসে যায় এই বিহারী যুবকের পথের পুরুষ-পার্লার
এক বোতল জল, একটি ক্ষুর,একটা চিরুনি, দুটি কাঁচি, একটি গামছা, একটা সেভিং ক্রীমের টিউব, একটা সেভিং ব্রাশ, একটা স্টীলের তোবড়ানো বাটি এবং একটি আধ-ভাঙ্গা ফিটকিরিএই সরল আসবাব সাজিয়ে যত্র-তত্র বসে যায় লচ্ছমনের দ্য গ্রেট বিহার সেলুন। লছ্মন জানালে যে চুল কাটতে সে নেয় ৭ টাকা, দাঁড়ি কামাতে ৪ টাকা এবং চুল-দাঁড়ি এক সাথে ছাঁটালে শুধু দু টাকার ছাড় পাওয়া যাবে তাই নয়, পাঁচ মিনিট মালিশও ফ্রী। এমন লোভনীয় অফার ফেলে যদি আপনি নামজাদা সেলুনে চুল-দাঁড়ির সঙ্গে পকেটটিও কাটাতে ঢোকেন তাহলে বলতেই হয় আপনি নিতান্তই একটা ইয়েআর হ্যাঁ, নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, যে পুরুষ-প্রসাধনী সেলুনে যদি FDI’এর অনুপ্রবেশও কোনদিন ঘটে, লচ্ছমনের ব্যবসা টলানো অসম্ভব
পুনশ্চ: এই ছবিটি বিহারের বেগুসরাই জেলার সীমারিয়া-অর্ধ কুম্ভ মেলাতে (২০১১) তোলা।

Thursday, December 1, 2011

সীতাভোগ-মিহিদানা ও ছোটোমামা




মত্‍স মারিব খাইবো সুখে; এহেন স্লোগান বদলে বাঙালি যখন মত্‍স ধরিব পুষিবো সুখে বলে ছলকে ওঠে, তখন ব্যাপারটা অতি সিরিয়াস পচা, নিজেকে কন্ট্রোল কর, তুই বখে যাচ্ছিস” আমার নতুন কেনা দু জোড়া মাছ সহ ফিশ-বাওল পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললো ছোটমামা
একটা ফিস-বাওলএর শখ বহুদিন ধরেই ছিলোসেদিন হঠাত্‍ নিয়ে এসেছিলামদু জোড়া গৌরামি (GOURAMI) মাছ-সহএক জোড়া হলুদ, অপর জোড়াটি সাদাঘটনাচক্রে সেদিন ছোটমামা বাড়িতে এসেছিলছোটমামা মাছ-প্রেমিক, তবে পুষ্যি মাছের নয়, যেসব মাছ উদরস্থ করা যায় তাদের। পাড়ার মাছ বাজারে ছোটমামা আনন্দবাজারি ভাষায় বীরেন্দ্র সহবাগ।
দিনে অন্তত দু রকম মাছ ছাড়া ছোটমামার চলে না। মামার মাছ-প্রীতি এতদূর যে মাছ-ওয়ালারা মামা কে এস-এম-এস করে আগাম খবর দেয় কী কী মাছ আসছে বাজারে। বাড়িতে আলাদা ফ্রিজার রেখেছে শুধু মাছ স্টক করতে। ছোটমামা রবিবার আবার নিজে মাছ রান্না করেন, এক পদ ছোটমাছ, এক পদ বড় কোনও মাছ। সেও এক উত্সব, তার গল্পও অন্যদিন। ছোটমামার কিছু খুচরো মত্‍স-দর্শন আছে, যথা:
-বাঙালি যত না রবীন্দ্রনাথে, তার চেয়েও বেশি ইলিশ মাছে।
-মাছ থাকবে সমুদ্রে, নদীতে, পুকুরে বা খাওয়ার প্লেটে
-মাছা ছাড়া খাদ্য, সুরহীন বাদ্য
-মাছ দেখলেই পাকরো, কাটো, ভাজো এবং গপাগোপ গেলো
এহেন ছোটমামার যে মাছ পোষবার বুদ্ধি বিশেষ ভাল লাগবে না সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমার এই দু জোড়া মাছ বোধ হয় তাদের স্বাদে না হোক, রূপে ছোটমামকে ইমপ্রেস করেছিল। গোটাদিন দেখলাম ছোটমামা দেখলাম ফিস-বাওলের কাছেই বসে রইল। বিকেলবেলা যাওয়ার আগে বলে গ্যালো, “বুঝলি পচা, তোর পোষা মাছগুলোর একটা করে নাম দিয়ে গেলাম”
-“আমি বললাম মাছের আবার নাম কী?”
_ “বাহ, নাম হবে না?”, ছোটমামা বললে, “যে মাছ কড়াইতে ভাজা যায় না, তার তো নাম দিতেই হয়। নাউ লিসেন পচা, ওই যে হলুদ মাছ-জোড়া ওদের নাম হল মিহি আর দানা, আর ওই যে সাদা মাছ জোড়া; ওদের নাম হল সীতা আর ভোগ”
-“মিহিদানা আর সীতাভোগ? মাছের নাম? আর ফিস-বাওলটা তাহলে কী? বর্ধমান?”
_”হে হে , তোর ঘটেও আছে কয় ছটাক, চলি রে পচা, চলি রে মিহিদানা- সীতাভোগ, টেক কেয়ার”
এর ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ছোটমামির ফোনে আর্তনাদ
_ “ ওরে পচা রে, তোর মামা তোর বাড়ি থেকে সেদিন ঘুরে আসবার পর থেকেই কেমন গোলমেলে হয়ে গ্যাছে রে”
-“কেন? ছোটমামার আবার কী হলো?, আমি অবাক।
-“তোর ছোটমামা আর মাছ খাচ্ছে না!”
-“ ছোটমামা মাছ খাচ্ছে না? ধুর! ছোটমামাকে ফোন দাও তো”
ছোটমামার এমন উদ্ভট ব্যবহারের কারণ জানতে চাইতেই ছোটমামার মিচকি হাসি মাখা জবাব ভেসে এলো, “আসলে পাতে মাছ দেখলেই সীতাভোগ, মিহিদানার ইনোসেন্ট চাউনি মনে পড়ে যায় রে, ভারী মিষ্টি রে তোর ওই সীতাভোগ-মিহিদানা। ভাবছি বর্ধমান থেকে হপ্তাহে এক-এক কিলো সীতাভোগ-মিহিদানাই আনিয়ে রাখবো, মাছএর বদলে মিষ্টিতেই কনসেনট্রেট করতে হবে দেখছি
ছোটমামা এরপর আর সত্যিই মত্‍স-স্পর্শ করেনি।


Sunday, November 13, 2011

শিশুপাল


রোববার সন্ধ্যেবেলা অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলেই মেজাজ খিঁচড়ে ওঠে কোনও অফিসিও খবরের আশঙ্কায়। ফোন-কলটা ধরবো কী ধরবো না ভাবতে ভাবতে ধরেই ফেললাম।
-“হ্যালো, পচা?”, দুরুম ব্যারিটোনেই বুঝতে চিনতে পারলাম আনন্দ-স্যার, ছোটবেলার ইংরেজি গৃহ-শিক্ষক কাম কৈশোরের জীবন-গুরু। ব্যাচেলর, গিটার-বাজিয়ে, দাপুটে এই ইংরেজি শিক্ষকটি ছিলেন আমাদের স্কুল-জীবনের আরাধ্য। ক্লাস এইট-নাইনে যখন আনন্দ-বাবুর কাছে পড়তাম, তখন মনে হত ; আজন্ম ব্যাচেলর থাকা, গিটার বাজানো, চারমিনার খাওয়া আর গড়গড় করে ইট্স বা শক্তি আউড়ানো ছাড়া জীবন বৃথা। কিন্তু উচ্চ-মাধ্যমিকের পর যথারীতি আনন্দ-বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ কমে এসেছে। এখন যোগাযোগ বলতে বিজয়ার সময় আমার প্রণাম-সহ ফোন। কিন্তু এতদিন পর এই রবিবার সন্ধ্যে বেলা হঠাত্‍ আনন্দবাবুর ফোন পেয়ে অবাক হলাম বটে।

-“হ্যাঁ স্যার , বলছি। কেমন আছেন আপনি?”
-“আমি ভাল আছি কিনা জানতে হলে, নিজে ফোন কর”
-“হ্যাঁ স্যার
-“তুমি কেমন আছ? বৌমা কেমন আছে?”
-“ভাল স্যার, আপনার শরীর ভালো?”
-“কে ফোন করেছে?”
-“আপনি স্যার”
-“আমার শরীরের স্টেটাসের ব্যাপারে যখন আগ্রহ হবে নিজে কল করবে”
-“হ্যাঁ স্যার
-“চাকরি-বাকরি কেমন চলছে? নিজের উড়ন-চন্ডি হ্যাবিটগুলো কে চেক করতে পেরেছ?”
-“ইয়ে, হ্যাঁ স্যার”
-“সিগারেট ছেড়েছো?”
-না স্যার, মানে ছেড়ে দেব স্যার, তবে ইয়ে, আপনিও তো..”
-“আমি সিগারেট খাই, তাই বলতে চাও তো? আচ্ছা? আমি মর্নিং ওয়াক করি। তুমি কর? আমি ব্যায়াম করি দিনে ঝাড়া আধ-ঘন্টা, তুমি কর? আমি নিয়মিত টপ্পা শুনি, তুমি শোনো?
-“না স্যার”
-“তবে সিগারেটের ব্যাপারে আমার সঙ্গে তুলনা করছো কেনো?, যাক গে, বাইরের আগডুম-বাগডুম খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেছ?”
-“চেষ্টা করছি স্যার”
-“এখনো চেষ্টা? তোমার পেটে যে পরিমাণ তেলে-ভাজার লেয়ার আছে, এরপর তো ফিনাইল ছাড়া সাফ হবে না হে, হ্যাঁ? হে হে হে হে হে..”
-“হে হে হে স্যার...”
-“যাক গে, বেশ লাগল তোমার কণ্ঠস্বর শুনে, আর আমার শরীর এখনো একদম ফিট বুঝলে, যোগ ব্যায়ামের মত কোনও ম্যাজিক হয় না। বেশ, বেশ, ভালো থাকো,আজ তবে রাখি”
-“স্যার কি দরকারে ফোন করেছিলে বললেন না তো?”
-দরকার? কই! কোনো দরকার নেই তো, ওই এমনিই আর কি, হে হে হে। অবিশ্যি, আমি অমুক-ডে তমুক-ডে এইসবের কনসেপ্ট এককেবারেই মানি না, তবে এই যে শুনলাম কাল নাকি চিল্ড্রেনস ডে, শিশু-দিবস। তাই ভাবলাম আমার শিশুপাল-গুলোকে একটু চমকে দি.. বুঝলে কি না! হে হে হে, রাখি কেমন? ভালো থেকো”