পাগলা মালির গান
ভাবলুম বুঝি ওই নেচে চলে হাতি; বাঁশির তালেতে তার দেহে লাগে দোল। ভাল করে চেয়ে দেখি কেলো ঘোর অতি- বউ’য়ের চিঠি ওটা, বলো হরি বোল ! বহু ভেবে অবশেষে, বুঝলুম শেষে- এ জীবন নিম পাতা-করোলার ঝোল ।
ভাবলুম বুঝি ওই মোষ ভাগে জোশে ছাদের ওপরে বসে চাটে আলপিন ভালো করে চেয়ে দেখি কাকিমার পিশে আলসেতে গুলতানী মারে সারাদিন আমি কই “ওলো সই,পালাও তুরন্ত নতুবা ঘানিটি টানা, বিফলে জামিন”
ভাবলুম বুঝি ওই লাউ-ডগা সাপ তামিল ভাষায় তারে করিনু সওয়াল ভাল করে চেয়ে দেখে ধরে গ্যালো হাঁপ কই সাপ? এ তো দেখি বুধবার কাল আমি কিছু কইবো না,ভোটিবো না কিছু রা-খানি কাটলেই আমি নিখুঁত বাচাল
ভাবলুম চিরুনি খোঁজ, খোঁজ কেরানী বাস থেকে নেমে আসা ঘাম-ঘামা জামা ভালো করে চেয়ে দেখি এ বা কী কাহানী জলহস্তী-ভারী মস্তি, দিয়ে চলে হামা? এই ব্যাটা যদি খায় ডাল-শাক-দোরমা খালি পেটে রয়ে যাবে আমি,ছেলে তার মা
ভাবলুম উড়ে চলে ক্যাঙ্গারূরা সবে কফি-হাতে বাবু সাজে চন্ডি-উড়ন ভাল করে চেয়ে দেখি বেওকুফি হবে ইসবগুলের হাতে জীবন মরণ যদি গিলি এই ফল অতি-ইসবে মিসিং স্কোয়াড ও তার ভবানী-ভবন
ভাবলুম বুঝি বাঁধা আরাম-কেদারা খাট ঘেঁসে ঘুম মারে আদরে ভালো করে চেয়ে দেখি স্কন্ধ-কাটারা মাথা ব্যথা বলে কাঁদে গুমোরে তাই বলি খেতো যদি রদ্দাটি চড়া ব্যথা-ট্যাথা টেসে যেতো পূর্ণ-বেঘোরে
ভাবলাম ওই বুঝি ব্যাটা পানকৌড়ি ল্যাম্প-পোস্ট থেকে ঝোলে চপলে ভালো করে চেয়ে দেখি স্ট্যাম্পের টুকি খাম চেপে ঘুরে আসে ভূগোলে বললুম ওরে ব্যাটা লাল ঘরে ডুবি চুপচাপ ভিজে থাক রাত্তির ভুলে
ভাবলুম ওই বুঝি বাগীচার দোর ভাঙ্গা তালা চাবি খোয়া স্পষ্ট ভালো করে চেয়ে দেখি ধুত্তোর দোহারা-তেহারা সে কী কষ্ট অবশেষে জল-ভাত রহস্য ঘোর ভেবে তবু সারাদিন ঘুম দুটো নষ্ট
ভাবলুম ওই বুঝি কথা-কাটা যুদ্ধ ওই বুঝি কেষ্টটি, ঠাকুরের রাম ভালো করে চেয়ে দেখি যা:চ্চলে বুদ্বুদ খোসা বেছে খাচ্ছে বাদাম! দ্বীর্ঘশ্বাস নামে ফুসফুস ছুয়ে মরা আশা,আশা মোর চাষারে হারাম
কচি কুমীর কেমনে
কচি কুমিরের বুকে তুলো-তুলো সাধ চমকাবে ল্যাজখানি ঝকমক নীল-নদ চষে জল ঢেলেছে অবাধ প্রতিটি আঁশেতে সোনা চকমক
মুচকি হাসিতে তার গাল খানি ভরা পরিপাটি মেলে ধরা স্নেহ-মাখা নখ আলগোছে ডাকে “কই কচি মাছ তোরা?- প্রেম-ময় দাঁত-ফাঁকে মিটিয়ে যা শখ!”
|