Thursday, September 29, 2011

Boss কহিলেন



[এমন এক BOSS কে চিনি, যাকে তার দ্বারা Boss’ইতো জনগণ অসুর কুমার বলে ভক্তি-শ্রদ্ধা করে থাকেনসেই অসুর-কুমারএর বস-মুখি চিন্তা-ভাবনার এক খাবলা চুরি করে নীচে টুকে দিলামBoss-দু:খে যারা মরমে মরে আছেন, তাদের হাড়ে-হাড়ে এই ভাবনা-গুলোর পাল্স অনুভূত হবে, এ আমার বিশ্বাস ]
“এই যে পাহাড়ের মত চেয়ারটায় ওপর চড়ে বসে আছি, সেখান থেকে নিচের দিকে থাকলেই মাথাটা কেমন বন-বন করে ঘুরতে থাকে; কত্তসব ছুটকোছটকা অপদার্থের দল পোকা-মাকড়ের মত ঘোরাঘুরি করছে। আমি যে এতো খাটা-খাটনি করে এদ্দুর উঠে এলাম, সেই হার্ড-ওয়ার্কিং স্পিরিটের ভগ্নাংশও যদি এই গাধাগুলোর মজ্জায় থাকত তাহলে এর উর্বর মানুষ হয়ে উঠতো। কাজ-কর্মের বালাই নেই, গোটাদিন শুধু চাই-চাই-চাই’; ছুটি চাই, বোনাস চাই, লোন চাই,টি-এ/ডি-এ চাই! আরে? আমার অধস্তন বলে কি আমার স্তন পিষে নেবে নাকি
? সব ব্যাট নিমক-হারাম! আমি নিশ্চিত সব বুড়োগুলো কম্পিউটার খুললেই সলিট্যায়ার খেলে আর ছোকরাগুলো কম্পিউটারে বসলেই ফেসবুক খোলে।
রাবিশ, জানোয়ারদের দলএসব আধুনিক ওয়ার্ক-কালচারবাজির চল না হলে, সব ব্যাটাকে আড়ং-ধোলাই দিয়ে শায়েস্তা করতাম

শালা জুনিয়রগুলো অফিস ডিসিপ্লিনের তোয়াক্কা করে না? আমি বস, আমি বেলা এগারোটায় অফিস এসে চারটেয় কাটলে তার যুক্তি আছে, কিন্তু তোদের ব্যাটা সাহস কি করে হয় সাড়ে নটার পড়ে অফিসে আসার? আবার অজুহাতের ডিক্সানারী সব ব্যাটা ; ‘স্যার যা ট্র্যাফিক- তবে কি হেলি-কপটার দেবে নাকি কোম্পানি বাবুদের অফিসে আসার জন্যে? রিডীকুলাস।
আর আমি নিশ্চিত, ছুটি চাইতে গেলেই সবগুলোর পেট থেকে ভূর-ভূর করে মিথ্যে বেরিয়ে আসে, ‘ছোট মেয়েটার জ্বর স্যার / মা ক্রিটিক্যাল স্যার / ছেলের স্কুলে ডেকেছে স্যার’: সব ব্যাটা মিথ্যুক, বেল্লিক, হারামি কা বাচ্চা!
কোনও কাজ করতে বলেছি কি বাবুদের মুখ গোমড়া। কাজ করবার আগে না করবার কারণ খোঁজেফাঁকিবাজি নিয়ে রীতিমত পড়াশোনা করা রাস্কেলগুলো আমার হাড় জ্বালাতে এসেছেএকটা কাজ সময়মত হওয়ার উপায় নেইকাজ করতাম আমরা জোয়ান বয়েসে, মুখে রক্ত তুলে কাজ করে এসেছি; সে সব ছিল সময়আর এখন? বজ্জাতগুলো কে দেখলে গা-পিত্তি জ্বলে যায়
এরা একেকজন যে শুধু অকম্ম্যের ধাড়ি তাই নয়, দস্তুরমত ষড়যন্ত্র চালায় আমার বিরুদ্ধে, আমি নিশ্চিত আমার আড়ালে এরা সর্বক্ষণ আমায় গাল-মন্দ করে, তবেই না এন্তার বিষম খেতে হয় আমায়। এদের চারটে মাথা এক জায়গায় এলেই আমার ভয় লাগে; নিশ্চই আমার বিরুদ্ধে কন্স্পিরেসি করছে? ইউনিয়নগিরি করছে না তো? শুয়োরের দল!
নেহাত আমার মত নরম,ভালো-মানুষের হাতে পড়েছিল শালা-গুলো, তাই উতরে গ্যালো।এই যদি কোনও বাতিকগ্রস্ত বসএর হাতে পড়তো মালগুলো, তবে বুঝতে অকাল-কুষ্মাণ্ড গুলো যে কত ধানে কত চাল!”

Tuesday, September 27, 2011

দুর্গা পুজো খাদ্য নির্ঘন্ট


সপ্তমী :
সকাল ৭ ঘটিকা – লুচি + ছোলার ডাল নারকোল দিয়ে + বেগুন ভাজা + ভীম নাগ সন্দেশ
বেলা ১১ ঘটিকা - দেবী প্রসাদ (চাল-কলা, শসা, আপেল ইত্যাদি) + কোকা-কোলা
দ্বিপ্রহর ২ ঘটিকা - নুন, লেবু, ভাত, বেগুনী, ঝুড়ি আলু ভাজা, সোনা মুগের ডাল, মাছের মাথা দিয়ে বাঁধা কপির তরকারী, রুই মাছের কালীয়া, মৌরলা মাছের ঝোল, খেজুরের চাটনি, ছানার পায়েস
বৈকাল ৫ ঘটিকা - লেবুর সরবত
সন্ধ্যে ৬ ঘটিকা - পাঁঠার ঘুগনি, ঘটি-গরম চানাচুর মিশ্রণ, দই-ফুচকা + ঠান্ডা পানীয়
রাত্রি ১০ ঘটিকা - রকমারি কাবাব, মুর্গ-মুসল্লাম, মাটন বিরিয়ানী, ফির্নি, কে সি দাসের রসগোল্লা, মিষ্টি পান


অষ্টমী :

বেলা ১০ ঘটিকা - অঞ্জলি-ক্রিয়া সমাপনে; রাধা বল্লভী, আলুর দম, জিলিপি, চন্দননগরের জল-ভরা সন্দেশ
দ্বিপ্রহর ২:৩০ ঘটিকা - লেবু, নুন, ভেটকী ফ্রাই, কাজু-কিশমিশ পোলাও, কষা মাংস, চাটনি,পাঁপড়, চমচম।
সন্ধ্যে ৬ ঘটিকা - আলু-কাবলী, ফিশ-চপ, পেয়াঁজী, মটন-কাটলেট। ডাব-সরবত
রাত্রি ১০ ঘটিকা - অষ্টমী-পুজোর প্রসাদ-ভোগ: নারকোল-বাদাম মেশানো শুকনো খিচুড়ি,আলু ভাজা, ফুল-কপি ভাজা, বরবটি ভাজা, কুমড়ো ভাজা, বাঁধা কপির নিরামিষ তরকারী, আলু-পটলের তরকারী, চাটনি, রসগোল্লা, নারকোলের সন্দেশ
নবমী :
সকাল ৭ ঘটিকা - লুচি, আলু ভাজা, মোহনভোগ, সিমুই-পায়েস,মিহি দানা
বেলা ১১ ঘটিকা - দেবী প্রসাদ (চাল-কলা, শসা, আপেল ইত্যাদি) + কোকা-কোলা
দ্বিপ্রহর ২ ঘটিকা -চিকেন ললিপপ, স্প্রিং-রোল,চিকেন শেজয়ান, মিক্সড ফ্রায়েড রাইস, আইস-ক্রীম
বৈকাল চার ঘটিকা -পাড়া-ব্যাপী ফুচকা-ভক্ষণ প্রতিযোগিতা।
সন্ধ্যে ৭ ঘটিকা -ডাবল এগ-ডাবল মটন-রোল, চিংড়ি-চপ, চিকেন আফগানি কাটলেট, কোকা-কোলা
রাত্রি ১১ ঘটিকা -বঙ্গ-রুচির মোগলাই পরোটা, আলুর তরকারী সহ, মটন রেজালা, লিমকা
দশমী:
সকাল ৭ ঘটিকা -হিংএর কচুরী, ছোলার ডাল, ঝাল-মিষ্টি আলুর তরকারী, ল্যাংচা, সন্দেশ
দ্বিপ্রহর ১ ঘটিকা -নুন, লেবু, কুমড়ো ফুলের চপ,মুসুরির ড়ালের বড়া, বেগুন ভাজা, ফুলকপির রোস্ট, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, তোপ্সে ফ্রাই, পটলের দোরমা,মোচার ঘণ্ট, কাঁকড়া মাছের ঝোল, খাসির মাংস, চাটনি, ছানার পায়েস
বৈকাল ৫ ঘটিকা - সিদ্ধি প্রস্তুতি পর্ব এবং সিদ্ধি পান। সন্দেশ, লেডিকেনি, কিশমিশ সহযোগে
রাত্রি ৯ ঘটিকা - বিসর্জনত্তর গুঁজিয়া এবং নারকোল নাড়ু ভক্ষণ।
রাত্রি ১১ ঘটিকা - নারকোল দেওয়া ঘুগনি, নিমকি, নারকোল নাড়ু, নিমকি, মাখা-সন্দেশ, ক্ষীরের সন্দেশ, পায়েস।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
“উক্ত দিন গুলোতে, জেলুসিল পকেটে সদা-প্রস্তুত না রাখা, বাঙ্গালিয়ানার নিরিখে একান্তই আহাম্মকি”

Monday, September 26, 2011

মহালয়া কান্ড

মহালয়া মানেই বাঙালির হাড়-গোড়ে কাঁপণ। আধুনিক বাঙালি আর কাশ-শিউলি-নীল আকাশে পুজো পুজো সিগন্যাল খোঁজে না।কলকেতিয়ে বঙ্গ-সন্তান হলে তো কথাই নেই। ট্র্যাফিক বাতির লাল-সবুজ, ট্যাক্সির হলুদ আর রাইটার্সএর লাল বাদে কলকাতার পাবলিক রঙ চেনে না।
বাঙালি এখন পুজোর হাওয়া চিনতে পারে পাড়ার দাদাদের চাঁদা তোলার হিড়িকে, ক্যালেণ্ডারের তারিখে, পূজা বার্ষিকীতে তথা পণ্য-বাজারের দুর্গা পূজা ধামাকা ডিসকাউন্ট অফার থেকে। আর এই পুজো-আনন্দ ছলকে ওঠে মহালয়া থেকে। ভোর রাত্রে বীরেন ভদ্রের প্যাঁপর যেই না বাজল অমনি বাঙালির গায়ে কাঁটা!
নিষ্ঠাবান বাঙালি মাত্রই ভোর ছটা থেকে দূরদর্শনের সামনে বসবেন কফি বা চা হাতে, সঙ্গে চানাচুর, নিমকি। নিষ্ঠা যদি অতিমাত্রায় জাগে তবে তিনি ভোর পাঁচটা থেকে শুনবেন আকাশবানীএবং পনেরো মিনিটে চা-টা হজম করে বসে বসে ঢুলবেনবীরেন্দ্র ভদ্র থকে গিয়ে ক্ষান্ত হলে, বাবু জেগে উঠবেন আহ! সাচ এ পীওর ট্র্যাডিশন’, বলে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুম চালিয়ে যাবেন
-পূজা ইজ হিয়ার মায় বয়, লিসেন টু দ্য ম্যাজিকাল ভয়েস অফ ভিরেন্দ্রা কৃষ্ন্যা ভ্যাদ্রা”, সাউথ সিটির ৩৬ তলার পিতা তার পুত্রকে হেচড়ে তোলেন ভোর বেলা


-বাবা প্লিজ, ওই মহালয়ার রেকর্ডিং এম পি থ্রী ফরম্যাটে আমাদের পি-সি তে আছে, পরে উঠে শুনে নেব, এখন লেট মি স্লীপ, প্লিজ”, পুত্র ঘোর যুক্তি-বাদী।
-নন সেন্স, এম-পী-থ্রী তে মহালয়া? তেমন মহালয়ার মাথায় আগুন,আই মিন, ড্যাম দ্যাট কাইণ্ড অফ মহালয়া। ভোরের কুল ব্রীজ কুল-কুল করে স্কিনে লাগবে, ভ্যাদ্রার এনচ্যান্টিংগ ভয়েস ইয়ার ড্রাম বেয়ে রিব-কেজে নেমে আসবে, অনলি দেন ইউ উইল ফিল দ্য এসেন্স অফ মহালয়া মায় সন”, বলে পিতা পুত্রের হাত ধরে মারলেন আরেকটা মোক্ষম টান।
-বাবা, হোয়াট আর ইউ ডুইং?তুমি আরেকবার আমায় ডিসটার্ব করলে আমি মা কে কম্পলেইন করে দেব কিন্তু”, পুত্র আলটিমেটাম ঝাড়ে।
-কি বল্লি ব্যাটাচ্ছেলে? মা কে বলবি?চ্যাংদোলা করে আই উইল গিভ ইউ আড়ং-ধোলাই”, কিছুক্ষণ আগেই নিজের স্ত্রী কে ভসভসিয়ে ঘুমতে দেখেছিলেন, তাই পিতা বেশ সাহস করে পুত্র কে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন। মহালয়ার সকাল তো আর আপন পুত্রের থেকে ধমকি শুনে শুরু করা যায় নাকিন্তু সেই সাহসটাই হলো কাল
পত্নী দড়াম শব্দে জেগে উঠলেন: অনেকক্ষণ তোমার নন-সেন্স বিয়ার করেছি, মহালয়া-মহালয়া করে সেই ভোর পাঁচটা থেকে ধেই ধেই শুরু করেছো। তুমি জানো না সকাল সাতটা থেকে আমার য়োগা ক্লাস আর বিল্টুর ক্রিকেট কোচিং? সবার ঘুম নষ্ট করো কোন সাহসে তুমি? তোমাকে কি লোকে রাসটিক সাধে বলে?মহালয়া শুনতে হলে রেডিও হাতে ছাতে চলে যাও, যত্তসব!”
ধীর পায়ে পিতা ওরফে বিশিষ্ট এম.এন.সি.র এম.ডি. সাহেব ইন্দ্রজিত রায়, চোরের মত চুপি চুপি রেডিও হাতে ছাতে উঠে আসেন। ওপরে এসেই দ্যাখেন সেখানে ৩৯ তলার বিপিনবাবুও রেডিও হাতে বসে।
ইন্দ্রবাবুকে দেখতে পেয়েই বিপিনবাবু বললেন, ইয়ে, মানে বীরেন্দ্রকৃষ্ণর গলা ময়াই খোলা হাওয়া ছাড়া ঠিক খোলতাই হয় না
-“তা ঠিক”, বিপিনবাবুর পাশে থেবড়ে বসে বললেন ইন্দ্রজিত, “আচ্ছা বিপিনবাবু, আপনার স্ত্রীও বোধ হয় আমার স্ত্রীর সাথে য়োগা ক্লাসে যান রোজ, তাই না? আর আপনার ছেলেও তো বোধ হয় বিল্টুর সঙ্গে ক্রিকেট কোচিংএ যায়? রোজ সকাল সাতটা থেকে, তাই না?”
পাশে পেটো ফাটলেও বোধ হয় এতটা চমকে উঠলেন বিপিনবাবু, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, ইয়ে মানে, কেনো বলুন তো?”
-“না এমনি!” বিষন্ন হেসে মহালয়ার আকাশে ফোকাস করলেন ইন্দ্রবাবু।