Tuesday, February 14, 2012

নব যুধিষ্ঠীর-উবাচ

পটভূমি : পাণ্ডবদের বনবাসের এক দিন

তৃষ্ণার্ত যুধিষ্ঠির-দ্রৌপদীর জন্যে জল আনতে গিয়ে একে একে সহদেব, নকুল, অর্জুন ও ভীম নিকেশ হলেন পুকুর-মালিক এক যক্ষয়ের হাতে

“দ্রৌপদীর সঙ্গে মন দিয়ে দুটি কথা কইবো তার উপায় নেই, চার চারটে ব্রাদার হাপিস সামান্য জল আনতে গিয়ে। ধুত্তুরী বিরত্ব” রাগে গজ গজ করতে করতে বাধ্য হয়ে যুধিষ্ঠিরবাবু চললেন ভাইদের খোঁজে এবং অবশেষে এসে পৌছোলেন যক্ষের পুকুরের কাছেপুকুরের কাছে গিয়েই যুধিষ্ঠিরবাবুর চক্ষু ছানাবড়া পাশাপাশি ভীম, অর্জুন, নকুল সহদেবের লাশ পড়ে আছেএ কী কেলো! ভীম-অর্জুন না থাকলে দুর্যোধন ঠেঙ্গিয়ে রাজ্য ওয়াপস আনবে কে? নকুল-সহদেব না থাকলে ফাইফরমাশ খাটবে কোন গাধায়?এ তো মহা-কেসতবে পিপাসা ভীষণ পেয়েছিলোযুধিষ্ঠির বাবু ভাবলেন চাপ নেওয়ার আগে জল-টল খেয়ে একটু ঠান্ডা হওয়া যাকএই ভেবে যেইনা পুকুরের দিকে পা বাড়িয়েছেন যুধিষ্ঠিরবাবু, অমনি বিকট পলিটিক্যাল গুণ্ডার মত চেহারা নিয়ে যক্ষ হাজির- “  এইয়ো, রোককে, পিছে হঠ! মাগনায় জল খাবি নাকি?”

-“কে ? কে?, থতমত হয়ে পড়লেন যুধিষ্ঠিরবাবু, “ কে মশায় আপনি?”
-“ পুকুরের মালিক আমি, এ পুকুরের জল খেতে হলে, আমার কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিতে হবে, না পারলে জল খেতে পাবেনিকো, জোর-জুলুম করলে পাঁচ নম্বর লাশ ফেলে দেব”
-“আরে স্যার চটছেন কেনো? জল-টল না হয় পরে খেলেও চলবেঅফ কোর্স আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবো। তবে তারপর যদি দু ঢোক খেতে এলাউ করেন, মানে এই  বোশেখ মাসের গরমে সকাল থেকে হেঁটে চলেছি কি না...”
-“বেশ তবে প্রশ্নের উত্তর দাও, Rapid Fire ফরমাটে খেলেতে হবে, রাজি?”

-“শুট”, মনোযোগী হলেন যুধিষ্ঠির, এমন টল-টলে বিসলারীর মত পুকুরের জল দেখে তার তৃষ্ণা দ্বিগুন হয়ে গ্যাছে।
-“ বেশ, তবে বলো- সূর্য অস্ত যায় কার তরে?
-“ বি-সি-সি-আই স্যার, সূর্য অস্ত গেলে তবেই না ফ্লাড লাইট, রঙিন জামা, সাদা বল; তবেই না টু পাইস এক্সট্রা”
-“মানুষের দেবত্ত্ব লাভ কি প্রকারে হয়?”
-“ ইলেকশন জিতে”
-“ পৃথিবীর চেয়ে ভারী কি?”
-“ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ণ”
-“স্বর্গের চেয়ে উঁচু কি?”
-“হুইস্কি”
-“মগজের চেয়ে দ্রুত কি?”
-“মুদ্রাস্ফীতি”
-“পথিকের বন্ধু কে?”
-“ ধাবা”
-অসুস্থের বন্ধু কে?”
-“মেডিক্লেম ইনসুরেন্স”
-“কি ত্যাগ করলে মনুষ্য ধনলাভ করে?”
-“ ফালতু সেন্টিমেন্ট ” 
-“কার পরাজয় অসম্ভব?”
-“ডলার”
-“সুখী কে?”
-“যার প্রতিবেশী দুস্থ, অসুস্থ ও বিপন্ন”
-“খবর আসলে কি?”
-“আনইণ্টরাপ্টেড ভায়োলেন্স”
-“পথ কি?”
-“রোম ও রামকৃষ্ণ”
যক্ষের মুখে স্মিত হাসি ফুটে উঠলো “প্রিয় যুধিষ্ঠির, এলেম আছে তোমার! জল খাও, কুলকুচি করো, ভেজা গামছা দিয়ে গা মুছে বর চাও; চার মৃত ভাইয়ের মধ্যে কার প্রাণ তুমি ফিরে পেতে চাও”
যুধিষ্ঠিরবাবু ভুরু নাচিয়ে জানান দিলেন, “সহদেবকে বাঁচিয়ে দিন স্যার
-“ভীম-অর্জুনের মত স্টলওয়ার্ট আপন ভাই থাকতে, মাদ্রি-পুত্র কে বাঁচাতে আগ্রহ কেন ভায়া?”
-“দেখুন স্যার, ভীম-অর্জুন থাকতে লাইম-লাইট বা দ্রৌপদী; কোনোটাই জমাটি ভাবে জুটবে না। বরং এখন যদি সহদেব কে সাইডে রেখে যদি দুর্যোধনের সঙ্গে একটা কোয়ালিসন ফ্রেম করতে পারি..”
-“বিচক্ষণ ব্যক্তি তুমি, অনেক দূর যাবে। তবে ভীম-অর্জুন কে এখনই সাল্টে দিলে যুগের ইতিহাসে মহাভারতের TRP ঝুলে যাবে। আর একা নকুলকে লটকে রেখে আমি হাত গন্ধ করবো নাতোমার সব ভাইয়ের জীবন ফেরত দিলাম মরালিটির মাথায় ঝাড়ু মেরে তোমরা আরও জুয়া খেলবে, ভাতৃ-হত্যা করবে, প্রজা ঠ্যাঙ্গাবে; এ আশীর্বাদ করি। দীর্ঘজিবি হও। “
-“ধন্যবাদ স্যার। এবার একটু সাইড দিলে জল খেয়ে পিলে ঠান্ডা করি”  

Wednesday, February 8, 2012

পর্ণ-গেট ও স্বর্গ-দুয়ার


দুরু দুরু পায়ে গোমূত বাবু লাল গালিচা মারিয়ে হেঁটে এলেন। চারিদিকে কুয়াশা মাখা ক্লাসি ব্যাপার। কুয়াশা চিরে শুধু এই লাল গালিচার পথ গিয়ে ঠেকেছে একটা বেঢপ সেগুন কাঠের বার্নিশ করা দরজায়। আর কিস্যু নেই কোথাও। আকাশ-মাটি কিছু না। শুধু কুয়াশা, লাল গালিচা আর সেগুন কাঠের দরজা।
মরবার পর থেকে তেরোশো বছর ধরে ড্যাঙস-পিটুনি খেয়ে আসছেন গোমূত-বাবু। পোলিটিকাল কেরিয়ারের মাশুল । পরলোকে যে এমন ফ্যাসিবাদ চলছে তা জানলে কী আর এত সহজে মারা যেতেন? আরে বাবা স্ট্রেট পিটুনি, লোয়ার কোর্ট-হায়ার কোর্ট বলে কোনও বাফার নেইরাসকালা!অবশ্য আরও সাতশো বছর ডান্ডা-পেটা হওয়ার কথা ছিল গোমূত-বাবুর, তার অন্য সমস্ত রাজনৈতিক সঙ্গীদের মত । কিন্তু হটাত্‍ কোথা থেকে এক হুকুম-নামা এলো, যে নরক-ঠ্যাঙ্গানির মাঝে একটা ছোট্ট এক মাসের স্বর্গ-বিরাম তিনি পাবেন। অন্য কারুর কপালে এমন জ্যাকপট জোটেনিকিন্তু গোমূত-বাবুর বরাত এমন দরাজ হলো কেনো গোমূতবাবু শত ভেবেও কুল-কিনারা করতে পারছেন না

ওই বার্নিশ করা দরজার ওপারে রয়েছে স্বর্গরাজ্য। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে দরজার কাছে পৌছলেন গোমূতবাবু এবং নক করলেনস্যটাক করে খুলে গ্যালো দরজাখুললেন একজন সুদর্শন পুরুষ, ধুতি-মালা-মুকুট পরা, ঠিক যেন বি-আর-চোপড়ার সেট থেকে সদ্য উঠে আসা।

_ “ আপনিই ইন্দ্রদেব নাকি স্যার?” ভক্তি ভরে প্রণাম ঠুকলেন গোমূত-বাবু।
_ “ ভারী আহাম্মক তো হে তুমি? ইন্দ্র কী বাহাদুর সিং যে দরজায় দাঁড়িয়ে সেলাম ঠুকবে? আমি স্বর্গের দুয়ার-রক্ষক”, গর্বের সঙ্গে বললে সেই পুরুষ।
-“ও, দারোয়ান?”
-“দরোয়ান হবে তোর বাপ! আমি দুয়ার-রক্ষক, পদএর দুলুনিটা খেয়াল করিসনি? খবরদার দরোয়ান  বলবিনি”
-“ অহহো, মার্জনা করুন। ইয়ে, আমায় এখানে ডাকা হল কেনো? মানে আমার কপালে একমাসের স্বর্গ-ছুটি জুটলো কেনো? আমার বিধানসভার বাকি দোস্তদের তো জুটলো না এ সুবিধেআমার কোনও এক্সট্রা পুন্য ছিল নিশ্চয়?”
-“এক্সট্রা পুন্য ছিলো না রে গোমূত-ব্যাটা! তবে পাপ একটু কম করেছিলিস কী না তাই এই সুবিধে পেলি, স্বর্গে সাদর আমন্ত্রণ”
-“পাপ কম করেছি তাই নাকি? কী ভাবে?”
-“ওই যে ব্যাটা, বিধানসভায় বসে মোবাইলে নোংরা ছবি দেখলি? তাতেই তোর পাপ একটু কম হয়েছে হয়েছে কিন্তু কম!”
-“পানু দেখে পাপ কম হয়েছে? ঠাট্টা করছেন স্যার? দরজার এপারে এনে আরও ক্যালাবেন?”
-“ওরে না রে, ঠাট্টা নয়, ঠাট্টা নয়, আরে বিধানসভায় বসে, যখন সমস্ত মন্ত্রী মিলে ভয়ানক সব পাপ করে চলেছে; যেমন দেশ বিক্রির ফন্দি কষা, গরীবের টু পাইস ঝেড়ে নেওয়ার প্ল্যান করা, এদিক ওদিক লাশ ফেলে দেওয়ার কথা, ঘুষ-প্রণালী সহজতর করার কথা, ইত্যাদি ইত্যাদি, তখন একমাত্র তুইই এসব কিছু না ভেবে আপন মনে নোংরা ছবি দেখে চলেছিলিস নিজের মোবাইলেবিধানসভায় তুই ১০ মিনিট পানু-দর্শনরত অবস্থা অন্যমনস্ক থাকায় দেশের ক্ষতি কিঞ্চিত কম হয়েছে। অতএব বাকী মন্ত্রীদের সমান শাস্তি তর প্রাপ্য নয়। তাই ইস্পেশ্যাল এক মাসের স্বর্গবাস। সমঝা?”
-“আপনাদের দয়ার শরীর।তা, এখনো ইন্দ্রসভায় মেনকা-টেনোকার শো হয় তো?”  

Monday, February 6, 2012

বারুদের গন্ধ

পোড়া বারুদের গন্ধ লিওনের ভারী প্রিয়যখনই মেশিন গানের গুমম-গুমম-গুমম শব্দ ভেসে আসে, লিওন ছুটে চলে যায় তাদের এক-কামরার এসবেস্টসের ঘরের কোণের এক মাত্র বন্ধ জানলার কোনের ছোটো ফুটোটার কাছে এবং মন ভোরে বারুদের গন্ধ শুষে নেয়। মা বলে এ গন্ধে নাকি বমি আসে, কে জানে বাবা, যখন থেকে লিওন গন্ধ চিনতে শিখেছে, তখন থেকেই বারুদের সুবাস চেনে লিওন

গত অক্টোবর মাসে যখন কিছুদিনের জন্য শহরে যুদ্ধ বন্ধ ছিল, সে ছিল ভারী আনন্দের সময়। সাত বছরের লিওন সেই প্রথম এক টানা সাত দিন বার্লি বা সেনাবাহিনীর বিলি করা শক্ত পাউরুটি না খেয়ে রোজ ভাত খেয়েছিলো। কিন্তু ওই সাত দিনের মধ্যে একটা ব্যাপারেই লিওনের একটু কেমন কেমন লেগেছিলো। কোনও বারুদের গন্ধ ওই কয়দিন নাকে লিওনের নাকে আসেনিদেশলাই-কাঠির পোড়া আগায় নাক ঠেকিয়ে দেখেছিলো লিওন, সে বারুদের গন্ধ অন্যরকমদিনে যখন দু ঘন্টার জন্যে কারফিউ ওঠে, তখন লিওন ওদের বাড়ির সামনের অপরিষ্কার ফুটপাথে ঘুর-ঘুর করে আসে-পাশের ঝুপড়ির কিছু সম-বয়েসির সঙ্গে। রাস্তায় যে কামানের ঘষটানির দাগ থাকে, তার থেকে গন্ধ আসে মেটে-তেলেররাস্তায় চলমান সৈন্যদের ভীড় থেকে ভারী হয়ে আসে ঘামের গন্ধসৈন্যরা কিন্তু সবাই বেশ মানুষমাঝে মাঝেই তার দাঁড়িয়ে ছোটো ছেলেমেয়েদের চুলে বিলি কেটে দেয়, জানতে চায় ওরা কেমন আছেছোটোরা কথা স্পষ্ট বলতে পারে না, কিন্তু  ওরা জানে সৈন্য দেখলেই চিত্‍কার করে বলতে হবে “স্বৈরতান্ত্রী শয়তানরা নিপাত যাক”
লিওন জানে না স্বৈরতান্ত্রী কারা, শয়তানই বা কারা? ওর মাও তো ওকে মাঝে মাঝে শয়তান বলে ধমক দেয়, দুষ্টু ছেলেরা কী তবে শয়তান? তবে কী লিওনদের নিপাত যাওয়া উচিত? লিওন অবশ্য পরোয়া করে না, কারণ নিপাত যাওয়া মানে যে কী, সেটাও লিওন জানে নাতবে হাত মুঠো করে চিত্কার করে বলতে বেশ লাগে ““স্বৈরতান্ত্রী শয়তানরা নিপাত যাক”যখন রাইফেল কাঁধে-সৈনিকরা লিওনের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়, লিওন তাদের আঙুল টেনে নিজের নাকের কাছে নিয়ে আসে; ওদের আঙ্গুলের চামড়া থেকে যে বেরনো যে বারুদের গন্ধ, তা যেনো আরো অপূর্ব যুদ্ধের বাজারে এইটুকুই লিওনের মজাযুদ্ধের-বাজার কথাটা লিওন মায়ের থেকে শিখেছে, মা বলে অনেক দিন আগে নাকি যুদ্ধ-টুদ্ধ কিস্যু ছিলো নালিওন অবশ্য সে সব সময়য়ের কোনও খবরই রাখে না, রাখবে কী করে? ওর তো যুদ্ধের বাজারেই জন্ম

লিওন শুধু এটাই বুঝতে পারে না, বারুদের গন্ধে মা এত বিরক্ত হয় কেনকেমন মোলায়েম, মাথা ঝিমঝিম করা, কেমন ঘুম পাড়ানি একটা গন্ধলিওনের তো চিরকালই বেশ লাগে এই সৌরভ এই সৌরভ কথাটা লিওন শিখেছে এক সৈনিক-কাকুর কাছ থেকে; কাকু বলেছিল বিশেষ ভালো গন্ধ কে, কেতাবী ভাষায় সৌরভ বলে। তো মোটের ওপর ছোট্ট লিওনের ভীষণ প্রিয় ছিলো এই বারুদের গন্ধ।

শুধু যেদিন একটা বেমক্কা যুদ্ধ বিমান এসে সাংঘাতিক একটা বেফালতু বোমা ফেলে গ্যালো তাদের বস্তিটার ওপরে, একটা বিকট যন্ত্রনার সাথে একটা বারুদের-গন্ধের হলকা ঢুকে পড়েছিল লিওনের নাক বেয়ে ওর বুকের ভিতর। লিওনের সাত বছরের জীবনে, শুধু মাত্র শেষ তিন মিনিট সে বারুদের গন্ধকে ভালবাসতে পারেনি বরং অসম্ভব গা-গুলিয়ে উঠেছিলো তার; নিজের রক্ত মাখা বুকের ওপর শেষ-বমিতে ভাসিয়ে দিয়েছিল লিওন।  

Sunday, February 5, 2012

100. And A Brief History of Bong Pen


হনুমানের পাহাড় খুবলে কতটা মস্তি হয়েছিলো? যুধিষ্ঠীরের অশ্বমেধ যজ্ঞ করে কতটা ফুর্তি হয়েছিলো? হেক্টরের ট্রয় থেকে হেলেন ঝেড়ে কতটা ছাতি ফুলেছিলো? ওডেসিয়াসের রাজকার্য চুলোয় দিয়ে বিশ্বময় টই-টই করে বেড়াতে কেমন লেগেছিলো?
সহজ উত্তর হচ্ছে: ব্যাপক!
আমি হনুমান, যুধিষ্ঠির, হেক্টর, ওডেসিয়াস কোনটাই নই, তাই বলে আমার কোনও ‘Epic’ কিছুর ওপর কোনও অধিকার থাকবে না, তা কী করে হয়! না হয় সেটা পাতি-লেভেলেই হল, কিন্তু একটু নিজের পিঠে চাপড় মারবো না সেটা কী ভাল দ্যাখায়?
এত ভণিতা যে করলুম তার মূল কারণ হলো, Bong Pen’এর ৯৯ পোস্ট পেরিয়ে এবার ১০০তম পোস্টের সময়। এই সুযোগে দেদার ভাবে নিজের ঢোল পিটিয়ে নেওয়া উচিত। তা বলে নিজের পিঠ নিজে চুলকোবো? ধরলাম মাকুকে (ওরফে সুহেল ব্যানার্জী)Bong Pen’য়ের মূল আইডিয়া এই সুহেলেরইএবং BongPen শুরুর সময়ই ঠিক ছিলো যে ১০০তম পোস্ট লিখবে সুহেলই। ছোটবেলার বন্ধু হিসেবে, আমি শুধু কিছু গোপন ইনফরমেসন ভিত্তি করে সুহেল কে ব্ল্যাকমেল করে রেখেছিলাম যাতে বংপেনের বিষয়ে কথা ছাড়াও আমার  ব্যাপারেও যেন বেশ গাল-ভারী ভালো ভালো কথা ওর এই পোস্টে থাকে। অত:কিম - ১০০তম পোস্ট, বংপেনে;


Like most of us Bongpen too was conceived in the middle of the night. A warm and sultry night in May '07. Tanmay & I were on the phone, discussing India's recently completed disastrous stint at the World Cup in the Caribbean. He was at the fag end of his MBA (yes, Bong Pen is an MBA, surprising, isn't it?) and had some time on his hands before starting with his new job. I was working with an Internet firm, getting more fascinated by the day of this still-new medium and its reach and power. We were friends since high school, and I was well aware of Tanmay's  command over Bangla, captivating story telling powers and "cockroach dipped in ink crawling over white paper" handwriting skills. In what seems like 'the moment of truth' in hindsight, we decided to start a web journal to chronicle his writing. 


Interestingly the original name for the blog was not Bong Pen but 'Anondo Hazar' inspired of course by the leading Bangla newspaper 'Ananda Bajar Patrika'. Perhaps due to the unavailability of the preferred spelling variation and the short & catchy sound of Bong Pen, the latter was chosen to start things off.

As a long time admirer of Tanmay's writing, I couldn't be happier with where Bong Pen has reached over the past four and a half years. He was a ‘writer’ since school but this platform has transformed him into a far more disciplined and prolific one. Maintaining a blog with these consistent high standards of quality and frequency requires more than sheer talent. One could say the blog transferred Tanmay's inner Kambli into the present day Tendulkar (Ref.- 100th Post).

There have been numerous instances of heated discussions about the font, whether to go with the Bangla script or use Roman characters for Bangla words, with a truce sometime in between when there used to be a transliterated version available for all posts. The template has undergone many changes, including the sudden retirement by the black crow, the previous unofficial mascot of the blog. Analytics was installed pretty early on and our enthusiasm with every new visitor or comment was captured in the frenetic calls discussing page views and time per visit. The initial days saw most of the marketing centered around Tanmay emailing his latest blog posts to a group of friends and a like minded Bangla fiction loving circle of his. Also GTalk status messages and oh, of course, those Orkut wall posts. Yes, we're talking about a pre-FB India.

I feel the advent of social media in its present form with Facebook & Twitter really helped the blog get its due attention. As a writer most of us look for appreciation or acknowledgement of our work and once Bong Pen became a commonly shared link between friends I noticed a drastic change in Tanmay's postings. Never compromising on quality or trying to please his audience but by pushing himself to keep shipping the best content at a far more brisk pace. Also, he stopped killing the protagonists of his posts during this period, another welcome change.

It's an immense honour for me that he asked me to pen this hundredth post on Bong Pen, a landmark which I know is very close to his heart, and mine. I am glad to have been a part of the journey from the very beginning and have no doubts in my mind that this will continue to become a premier destination for people across the globe seeking genuine, gripping and refreshing Bangla literature. 

Hope I will be able to write the 1000th post as well. Well done my friend. God bless Bong Pen.


Friday, February 3, 2012

ইন্টারনেট গুবলেট

বস্তুত, প্রযুক্তি হিসেবে বাঙালি জাতির কাছে ইন্টারনেট প্রবল ভাবে ব্যর্থইন্টারনেট নামক জন্তুটি যে সহজ সত্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে, সেটি হলো যে বাঙালি জাতির 'পরিবর্তন' কোনও সার্ভারয়ের হাতে নয়, রয়েছে ব্যালটে ও ইসবগুলের স্বাদেইন্টারনেটের স্বপক্ষে যাবতীয় যুক্তি, আদপে বাঙালির মূল জাতিগত স্বার্থগুলোতে বারংবার প্রবল আঘাত হেনেছেতলিয়ে দেখলে, ইন্টারনেট আসলে বাঙালির থেকে বাঙালিয়ানা কেড়ে নেওয়ার একটি নির্মম মহাজাগতিক প্রচেষ্টা মাত্র।

হে গুগল-লেহনকারী বঙ্গসন্তান, শান্ত চিত্তে ভেবে বলুন তো এই আন্তর্জালিক মক্কেলটি আপনার কোন ইন্দ্রিয়ে সুড়সুড়ি দিয়েছে যে আপনি এর কেন গোলাম হয়ে থাকবেন? ভাতঘুম বেঁচে থাক, এই প্রযুক্তির নেশা কাটিয়ে উঠুক বাঙালি, নয়তো অচিরেই তার অস্তিত্ব সাফ হয়ে যেতে পারে।

ইন্টারনেটের উপকারিতা কোথায়? বিশ্ব-ব্যপি যোগাযোগয়ের সুবিধে? বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ রেখে আমরা কী করব? ঘরের কোনে আলতো পেছণ ঠেকিয়ে ভ্রমণ কাহিনী পড়বো, মুড়ি চানাচুর খেতে খেতে কাফকা পড়বো, এর বেশি বিশ্বযোগয়ে আমাদের কী কাজ? যোগাযোগের নামে বাঙালীকে বাংলা ছাড়া করবার এক নিকৃষ্ট অজুহাত যুগিয়েছে ইন্টারনেট।সাবধান বন্ধুরা। 

জ্ঞান-বর্ধন? ইনফরমেশন? গাইড বই, গল্পের বই এবং পঞ্জিকা, এর বাইরে বাঙালি-ভোগ্য জ্ঞান কোথাও নেই, থাকতে পারে না।জ্ঞান-বাজি আর যোগাযোগ, এই দুটোই যদি বাদ থাকে, তবে ইন্টারনেট দিয়ে দরকারটা কী ?

অথচ ভেবে দেখুন, ইন্টারনেট বাঙালির অনাবিল চারিত্রিক বৈশিষ্টগুলি কে কিরকম অদৃশ্য হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে দিচ্ছে।

দশটা-পাঁচটা আপিস, তারপর খাওয়া-আড্ডা-ঘুম। ইন্টারনেট আর সেই উপার রেখেছে? ই-মেলয়ের হাত ধরে ২৪ ঘন্টা আপনার অফিস আপনার মাথার ওপর ধেই নাচছেরিডিকুলাসঅবসর যদি অফিস-ইমেল-চোনা মিশ্রিত হয়, তবে সে অবসরের মূল্য কোথায়আর নির্ভেজাল অবসর বিনে বাঙালির বাঙ্গালিয়ানা যে মাঠে মারা যাচ্ছেআড্ডা নেই, গুলতানী নেই, অসময়ে ঘুম নেই, আনমনে আবোল-তাবোল কবিতা লেখার অবসর নেই, আরে আমরা যে নাত্‍সী হয়ে যাবো!

এক সময় ছিল যখন মানুষ হাতের লেখা ঝালিয়েছে প্রেম-পত্র লিখে, আরে এখন তো ই-মেলও নয়; টুইটারে টুসকি মেরে <3 লিখলেই হৃদয়-নিবেদন।অমন রোমান্সের মুখে ব্লিচিং পাউডার কোথায় চিলেককোঠার আড়াল খুঁজে চুমু আর কোথায় গোপন ভিডিও চ্যাট। বাঙালি-সুলভ প্রেম এক কথায় বিপর্যস্ত। ইন্টারনেট-ত্রস্ত।


প্রতি পাড়ার যত পবিত্র ঠেক, সমস্ত ধু ধু মরু। নেরুদার বুকনি থেকে চিমার ফ্রী-কিক হয়ে সুপর্ণার বক্ষভার; বি-বি-সির বাপ ছিল এসব রক-ভিত্ত্বিক আড্ডা-তীর্থ গুলোআর এখন? ফেসবুক? ট্যাগ? পোক?শেয়ার? ছি:, ছি: , আড্ডার ওপর এমন অনৈতিক ইস্তিরি ? কলেজ স্ট্রিট চষে বই সাফারি ভুলে বাঙালি কিনা পাশবালিশ কোলে Flipkart ঠেলবে? শেম! ধিক্কার। হৃতপিণ্ডে থাপ্পড়। Wake Up বাঙালি
*****


রাত দেড়টা।
বাড়ির কম্পিউটারে বসে অফিসিও পাপ-ক্ষয় করছি। এমন সময় জি-টকয়ে পিং শব্দ।
“কখন ঘুমোবে?” চ্যাট-মেসেজটি পাঠিয়েছে আমার বউ, পাশের ঘরের ল্যাপটপ থেকে।
“একটু পরে” , আমি টাইপ করলাম।
ঈশ্বর, এ ইন্টারনেট তুমি ওয়াপস নাও