Wednesday, September 26, 2012

পুজোর ছুটি ঘটিত


দত্ত: মে আই কাম ইন স্যার?
বস: দস্তুরের ফাইলটা কমপ্লিট করেছো?
দত্ত: ইয়ে স্যার ,ওই আর ঘন্টা-খানেকে হয়ে যাবে স্যার
বস: তাহলে ইয়ে দত্ত, তুমিও ঘন্টা-খানেক পরেই এসো
দত্ত: ভারী আর্জেণ্ট স্যার!
বস: দস্তুরের ফাইলের চেয়েও বেশি?
দত্ত: ইয়েস স্যার!
বস: প্রমোশোন নিয়ে ন্যাকা কান্না জুড়বে না তো?
দত্ত: না স্যার
বস: কাম ইন
দত্ত: থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
বস: কী ব্যাপার? দস্তুরের ফাইলটা এখনো কমপ্লিট হলো না?
দত্ত: ওই যে বললাম, আর ঘন্টা খানেক...
বস: তবে তার আগে এসেছো কেনো?
দত্ত: ইয়ে স্যার, ভারী জরুরি ব্যাপার!
বস: জলদি বলে ফেলো, টাইম ইস মানি এন্ড মানি ইজ ইন দস্তুরস পকেট
, ফাইল না শেষ করে গতি নেই
দত্ত: ইয়ে, বসবো?
বস: না, বসবে কেনো? আড্ডা মারতে এসেছো নাকি? দস্তুরের ফাইল শেষ করে এনে তবে বসবে, জলদি বলো কী ব্যাপার!
দত্ত: হে: , স্যার, ওই যে কথাটা বলা ছিলো, পুজোয় ছুটির কথা, আপ টু দ্বাদশী, সিক্স ডেইজ, সিক্কিম ভাবছি ঘুরেই আসি।
বস: সে কী? এই শুনলাম বুকিং নেই কোনও ট্রেনের জলপাইগুড়ি পর্যন্ত? সেই জন্যে তুমি তুমি ছুটির এপ্লিকেশন ক্যানসেল করলে, বললে ডিসেম্বরে ছুটি নেবে, আবার সিক্কিমের প্ল্যান করছো যে?
দত্ত: ইয়ে স্যার, একটা পুজো স্পেশাল ট্রেন দিয়েছে ফ্রম হাওড়া টু নিউ-জলপাইগুড়ি, অনলি অন সপ্তমি মর্নিং। আচমকা খবর পেলামএইমাত্র ইন্টারনেটে চেক করলাম খান তিন-চারেক মাত্র পড়ে আছে, আপনি কনফার্ম করলে, এখনই টিকিট কেটে ফেলি, বউয়ের খুব ইচ্ছে স্যার; এবার পুজোয় পাহাড়ের হাওয়া খেয়ে হেঁসেল ভুলবে
বস: সপ্তমীর দিন সকালে? জলপাইগুড়ির স্পেশাল ট্রেন? সরি। সপ্তমীর দিন ছুটি হবে নাঅষ্টমী থেকে নিতে পারো, নট ফ্রম সপ্তমী!
দত্ত: কিন্তু স্যার, সপ্তমী তো রোব্বার?
বস: ইয়ে, তো কী হয়েছে? ওই দিন একটা বিশেষ ব্যাপার হতে পারে
দত্ত: কী বিশেষ ব্যাপার স্যার?
বস: সে ভারী একটা ইয়ে ব্যাপার আছে, ওই দিন রবিবার হলেও তোমায় একটি বারের জন্যে অন্তত অফিস আসতেই হবে, একটা হিউজ ব্যাপার আছে, তোমায় পরে বলে দেবো কী ব্যাপার। শুধু তুমি সপ্তমীর দিন রওনা হতে পারবে না
দত্ত: কিন্তু স্যার, সপ্তমীর দিন না বেরতে পারলে তো আর কোনও ট্রেনে টিকিট নেই! সিক্কিম তো আর যাওয়াই হবে না!
বস: সিক্কিম সিক্কিম করে নেচো না তো! হ্যাভ ইউ বিন টু অযোধ্যা পাহাড় দত্ত? বাংলার মধ্যে যে কী বিউটিফুল সব স্পটস আছে, সেগুলো এক্সপ্লোর করো আগে! যাও বরং অযোধ্যা পাহাড়ে দু-দিন কাটিয়ে এসো।
দত্ত: সপ্তমীর দিন তাহলে ছাড়ছেন না?
বস: বললুম তো! না!
দত্ত: তাহলে ওই ডিসেম্বরেই ছুটি নেবো, অযোধ্যা পাহাড়ে গিয়ে কাজ নেই।
বস: সেই ভালো, অযোধ্যায় গিয়ে কাজ নেই, তুমি বরং মন দিয়ে দস্তুরের ফাইল তা দ্যাখো, কেমন?
দত্ত: হুম! চলি স্যার।
বস: ইয়েস!

( দত্তর বসয়ের চেম্বার থেকে প্রস্থান। বস মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করেই ফোন লাগালেন স্ব-গৃহে)
ফোনে বস: “গিন্নী, কেল্লা ফতে! তুমি পুজোয় সিক্কিম যেতে চাইছিলে না? ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ও ফ্লাইটের বাজেট না থাকায় আমাদের ক্যানসেল করতে হলো প্ল্যান! রেল থেকে একটা পুজো স্পেশ্যাল ট্রেন দিয়েছে, সপ্তমীর সকালে হাওড়া থেকে ছাড়ছে; আপটু নিউ-জলপাইগুড়িসেখান থেকে গাড়িতে সিক্কিম এক্কেবারে মেগা ব্যাপার গিন্নীশুধু মাত্র তিন-চারটে টিকিট পড়ে আছে, একটা কম্পিটিটর কে কচু-কাটা করে দিয়েছি,এবার বাকিদের আগে আমার কেটে ফেলতে হবে; এই IRCTC’য়ের সাইটে ঢুকছি!জয় তারা!”
ফোনে বসের গিন্নী: “আই লাভ ইউ সোনা, ইউ আর দ্য বেস্ট”
ফোনে বস: “আই লাভ ইউ টু হানি, ইয়েস, আই এম দ্য বেস্ট”


Monday, September 24, 2012

মনের বাইসেপ, হৃদয়ের ট্রাইসেপ


“এই যে স্যার, হ্যাঁ, এই যে, আপনাকেই বলছি স্যার,গুড মর্নিং, এই যে ট্রেড-মিলে ঝড় তুলে আপনি বেদম দৌড়চ্ছেন, এ তে আপনার মেদ ঝড়ছে ঠিকই, কিন্তু মগজের জং সাফ হচ্ছে কই?হৃদয়ের ঝুল ঝাড়-পোছ হচ্ছে কই? কলজেতে হাওয়া খেলছে কই? চাবুক শরীরে খেন্তী-বুড়ির মন পুষে কী লাভ? মাল্টি-জিম ছেড়ে মনটি জিমে দিন। দৈন্য দূর করুন।

রোল-কাবাবের তেলে রক্ত ভরিয়ে নিতে কসুর করবেন না; জিহ্বা শাণিত হবে।
দুম-ফটাস হাসতে গিয়ে আটকে যাবেন না; হৃত্পিণ্ড অক্সিজেন পাবে।
জমাটি প্রেম করুন, বউ-প্রেম, বিয়ণ্ড বউ-ভালো লাগা জড়ো করুন; মনের শিকল আলগা হবে।
হুইস্কি খান; পাঁজড় কড়ক পাবে।
মাসে একবার গাঁজা টানুন; মগজে তিরিং যাবে।
খিস্তি করুন; ফুসফুস বল পাবে।
ফাইল-পত্তর মাঝে-সাঝে সাইড করে বেদম আড্ডা জমান; চোখে চমক আসবে।  
ঘুমের মধ্যে যাতে  ডাকাতে ভঙ্গিমায় নাক ডাকতে পারেন তার জন্যে সাধনা করুন; নির্মল শান্তি মালুম হবে

ভূড়ি ম্যানেজ করাটাই সব নয় স্যার! অন্তর-আত্মা কে মনন-খাদ্যে ভূড়ি-ভোজ করান, তবেই না উত্তরণ?”

এ কোন অমোঘ দৈব-বাণী আমার কানে বর্ষিত হলো? কোন মহাপুরুষ আমার কানে এই মহামন্ত্রের বীজ বপন করে গেলেন? টের পাওয়ার আগেই ঘুম গেলো চটকে বউএর কলার ধরে ঝাঁকুনিতে:
“ওঠো,ওঠো বলছি! থ্যাবড়া গোবর-গণেশ কোথাকার! খালি গিলবে আর ভূড়ি পুষবে! এত কষ্ট করে জিমে ভর্তি করালাম, আর জিমে এসে কী না তুমি টুলে বসে ঘুমোচ্ছো? ডিসগাস্টিং! ওয়েক আপ নাউ!”


গৌরহরি বস্ত্রালয়


গৌরহরি বস্ত্রালয়দেড়-তলার কাপড়ের দোকান। দোকানের মাথার গ্লো-সাইন আর মালিক মধু মল্লিকের চামড়ায় ভাঁজ ছাড়া, জন্ম হতে আজ তক; দোকানটি কে একই চেহারায় দেখে অভ্যস্তহাজার শপার্স স্টপ এসেও এর হুলিয়া বদলাতে পারেনি বা এর ব্যবসায় চাকু বসাতে পারেনি। নিচের তলা জুড়ে শুধুই শাড়ি, এবং ওপরের হাফ-তলা জুড়ে “জেণ্টস কাম কিডস সেকশন” । ধবধবে গদিতে বসে মধুকাকু কর্মচারীদের ধোনী-ভঙ্গিতে চালনা করছেন এবং চকাম শব্দে মিঠে সুপুরি চিবুচ্ছেন, এ দৃশ্য অতি পরিচিত। দোকান-ময় ধুপ, ঘাম, কাপড় এবং পুরনো দেওয়ালের গন্ধ মেশানো একটা হাওয়া ঘুর-পাক খাচ্ছে সর্বক্ষণ কিন্তু তবুও সাবেকি রুচির ক্রেতাদের ভীড় লেগেই আছে; “বেস্ট কোয়ালিটি এন্ড প্রাইস ইন দ্য টাউন” পিতৃদেবের মতে।

পিতৃদেব বছরে দুইবার কাপড়-জামা কেনেন, পুজো এবং পয়লা বৈশাখ; গুষ্টির সক্কলের জন্যে; এবং জন্মাবধি দেখে আসছি যে প্রত্যেকের জন্যে একি ধরনের পোশাক প্রত্যেক বার। যেমন পয়লা বোশেখে আমার জোটে একটা ফতুয়া, একটা পাঞ্জাবি ও একটি কমন পায়জামা। পুজো এলে জোটে একটা চকমকে হাফ শার্ট, একটা গম্ভীর ফুল শার্ট এবং একটা ট্রাউজার। ক্লাস সিক্স থেকে এই বয়স পর্যন্ত এর অন্যথা হয় নি। এবং গৌরহরি বস্ত্রালয়য়ের মধু মল্লিক পিতৃদেব কে ভারী খাতির করেন; কর্মচারীদের হাতে ছেড়ে দেন না; পিতৃদেব এলে নিজেই এগিয়ে এসে কাপড়-জামা দেখান।

এবং এই আঠাশ বছর বয়সেও মধুবাবু আমায় পচাবাবু বলে ডাকেন এবং প্রত্যেক পুজো মরশুমে আমি শুনতে পারি যে “পচাবাবু কী আরেকটু লম্বা হয়েছো নাকি?”প্রত্যেক বার এইটে বলে আমার পিতৃদেবের সঙ্গে একটু খোলতাই হেসে নেনএরপর তিনি পিতৃদেবকে চা অফার করবেন এবং অত:পর নয়া কাপড়-জমা দেখাতে দেখাতে শুরু করবেনগত বিশ-বাইশ বছরে এই নিয়মের অন্যথা হয়নি

পুজো সামনে, এইবারেও যথারীতি উপস্থিত পিতৃদেবের সঙ্গে গৌরহরি বস্ত্রালয়ে। ইউসুয়াল “পচাবাবু কী আরেকটু লম্বা হয়েছো নাকি?” ঠাট্টা ঝাড়লেও, মল্লিকবাবুর মেজাজ একটু অফ-ফর্মে দেখলাম। পিতৃদেবও সিচুয়েশন জরিপ করে বেশি হ্যা-হ্যা তে গেলেন না। বিস্তর কাপড়-জামা কিনে বেরোবার আগে পিতা যথারীতি মল্লিক-বাবুকে বললেন “ চলি মল্লিকদা, আবার দেখা হবে চৈত্র মাসে”
-“আর হয়তো দেখা হবে না মুখার্জীদা”, অতি-ম্লান হাসি ফুটিয়ে বললেন মধু মল্লিক।
_ “ কেন? দেখা হবে না মানে?”, পিতা দম-অবাক

-“ এ বছর আমার ছেলে-মেয়ে-বউ নিজেদের দোকানের কাপড় না কিনে; কলকাতার শপিং মল ঘুরে পুজো বাজার করে এনেছে। এমনকি গিন্নীও পিঠে ছুরির ডগা ডলে দিয়েছে, ছেলে-বউদের সঙ্গে ভীড়ে কোলকাতার ঠান্ডা দোকান থেকে  থেকে লোচ্চা শাড়ি কিনে এনেছে। চ্যারিটি এণ্ড অনেষ্ট বিজনেস; বিগিনস এট হোম মুখুজ্জেদা, নিজের ফ্যামিলিকেই যখন নিজের প্রোডাক্ট সম্বন্ধে কনভিন্স করতে পারলাম না, পাবলিকের কাছে নিজের পসরা সাজিয়ে বসবার কী অধিকার আছে আমার? দোকান ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে দিয়েছি। এ শহরে এসে এই কাপড়ের দোকান দেওয়ার আগে আমার ঠাকুরদা বর্ধমানে গামছা বিক্রি করতেন। আমিও বর্ধমানের পৈত্রিক ভিটেতে শিফ্ট করছি। একাই শিফ্ট করছি; গিন্নীকেও বাদ রেখেছি; লেডি মির্জাফর কী না! বর্ধমানে গিয়ে একটা গামছার শো-রুম খুলবো আমার ঠাকুরদার নামে; গৌরহরি গামছা প্যালেস। সব ঠিক হয়ে গ্যাছে প্রায়।  উইশ মি লাক”

ধরা গলায় পিতৃদেব বললেন, “মল্লিকদা, আপনি তো সোলজার মশাই! কৌন বোলা হ্যায় আমাদের দেখা হবে নাআমি গামছা কিনতে বর্ধমান আসবো, আসবোই”

Saturday, September 22, 2012

বঙ্গ-জব



যাবতীয় বেকার সমস্যা সত্ত্বেও, বাঙালি অন্তত জব-লেস নয়। জোড়া জবে বাঙালির শৌখিন-ব্যস্ততা হিমালয় হয়ে থাকবে চিরকাল।
   
বঙ্গ-হৃদয়য়ের ক্যালরি-ক্ষরণের সব চেয়ে বড় অস্ত্র: গুজব।
প্রতিবেশীর বৌদির গোপন মনোভাব, মেদু-বাবুর নব্য-ভূড়ির রহস্য, অমুক অভিনেত্রীর ঢল-ঢলে ঢল, ভোটের ফলের চোরা আভাস, ময়দানে গড়াপেটা, বিদেশী আক্রমন; গুজবে পরিচয়তে

দুসরা বৃহত্‍-জব: আজব।
বাঙালির ধড়াম-বুকে অবাক বনে যাওয়ার অভ্যেস চির-অমলিন। মাধ্যমিকে লেটার? আজব! গড়িয়াহাটের ভীড়? আজব! দেবয়ের পাগলু একশন? আজব! সুমন চাটুজ্যের সুর; আজব! প্রেম: আজব। আমরা জাতিগত ভাবে আজবিয়া। পৃথিবীর সামান্যতম হেল-দোল আমাদের কাছে এক আজব-খেল।

গুজব-আজবই বাঙালির হৃদিয়ানা জব; বাঙালির আদি দুধ-ভাত। 

Friday, September 21, 2012

ফ্লপকার্ট

অনলাইন কেতাব খরিদের সুবিধে আমাদের জীবনে এক দৈবিক আশীর্বাদফ্লিপকার্ট এক দেবদূতশুধু বই কেন? যাবতীয় খুচরো বিকিকিনি এখন কী মায়াময় ভাবে সহজএকটা ক্লিক আর ফিক হাসি, দিব্যি কাজ হাসিলবই, ব্যাগ, গানের সিডি বসন্তের আনন্দ বয়ে দরজায় হাজিরটেকনোলজির কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে,“সাবাস তোপসে”

নিজে কেনো, অন্যকে উপহার দাও। সহজিয়া ইজ দ্য ওয়ার্ডশুধু কী ঘরে বসে খরিদ্দারী? যেমন ভাবে খুশি দাম মেটানো; নগদে, ক্রেডিট কার্ডে, এমনকি রয়েছে ক্যাশ-অন-ডেলিভারির হিমালয় মাফিক সুবিধে
এইত্তো সেদিন, ছেলেবেলার বন্ধু দোলুকে জন্মদিনে একটা জমাট বই উপহার হিসেবে পাঠালাম; অনিক বর্ধনের রহস্য-গপ্প সংকলন “অসহ্য সাসপেন্স”। বইটির মলাট এমন চমত্কার ভাবে রোমহর্ষক মনে হলো যে নিজের জন্যেও এক কপি আনিয়ে নিলাম। ক্রেডিট কার্ড ঘষে দোলুর বইটি ওর দিল্লীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম গিফ্ট-মোড়কে মুরে; “হ্যাপি বার্থডে দোলু” মেসেজ সহ আর নিজেরটা আনিয়ে নিলাম ক্যাশ অন ডেলিভারিরতে; টেকনোলজির এমন মনহারিণী আশ্বাস যে আমার অর্ডার দেওয়া বই কেউ ঘরে বয়ে পৌছে দিয়ে যাবে এবং আপন-সামান হাতে পেয়ে তবে আমি টাকা দেব। প্রযুক্তির জবাব নেই।

আজ সকালে পেলাম, আমার “অসহ্য সাসপেন্সের’’ কপিটি পেলাম। অবাক কান্ড,ডেলিভারি দিতে আসা ছোকড়াটি বলে নাকি পেমেণ্ট করা আছে। ভুরু সবে ওপরে তুলছি এমন সময় মোবাইলে দোলুর ফোন, “থ্যাঙ্ক ইউ ফর দ্য নাইস গিফ্ট পচা, কিন্তু তুই এখনো সেই হাড়-কেপ্পনই রয়ে গেলি। একটা বার্থ-ডে গিফ্টও নিজে কিনে পাঠাতে পারলি না? লজ্জা করে না শালা উপহার ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পাঠাতে? নিজের নামের উপহার নিজেই টাকা দিয়ে ছাড়াতে হলো; বউ বলেছে এবার থেকে আর যেন তুই দিল্লী এলে তোকে গাণ্ড-পিণ্ডে গিলিয়ে এন্টারটেইন না করি”

মাউস ক্লিকিও, রক্তাত্ব; ভ্রান্তি-বিলাস

Thursday, September 20, 2012

ব্যর্থ বাংলা-বন্ধ, বমকানো বাঙালি

“বোল্টুদার বাড়িতে ডাকাত পড়েছে”। হুড়ুম হল্লাব্যাপারটা অত সস্তা নয়বোল্টুদা আমার প্রতিবেশী এবং পাড়ার রক-স্টার মাস্তান।তোলা আদায় করতে, মড়া পোড়াতে, চোয়াল ভাঙ্গতে, চাঁদা তুলতে, রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে, রক্তদান শিবির আয়োজন করতে; বোল্টুদার কোনও জুড়ি নেই। লোকাল এম-এল-এয়ের ডান হাত। এক দিন নিজেই কাউন্সিলর হবেএমন লোকের বাড়িতে ডাকাত?

বেরিয়ে এসে দেখি, ডাকাত নয়; পাড়ার বিজুকাকু দমাদম লাথি কষাচ্ছেন বোল্টুদার বাড়ির দরজায় আর উদোম চিত্‍কার করে চলেছেনবিজুকাকু রাগে-উত্তেজনায় থর থর করে কাঁপচ্ছেন, বোঝা যাচ্ছে অফিস ফেরতা সোজা চলে এসেছেন বোল্টুদার বাড়িতেগায়ের হাফ-শার্ট ঘামে চপচপ, চুল উস্ক-খুস্ক আর একটানা গলা ফাটিয়ে চলেছেন : “বেরিয়ে আয় শালা বল্টে, আজ তোরই একদিন কী আমার, একটা এস্পার-ওস্পার না করে আমি হটছি না। কাম আউট শালা স্কাউন্ড্রেল”

বিজুকাকুর কাছে গিয়ে কী ঘটেছে জানতে চাওয়াতে কেস স্পষ্ট হলো ; 

“এই শালা বল্টে, একটা ইউজলেস রাস্কেল কোথাকার, এমন একটা দলের হয়ে লেজ নাড়ে যে যাদের মুরোদ নেই ডাল-ভাতের আর ঢেকুর তোলে বিরিয়ানিরশালা, কতদিন পরে একটা বন্ধ ডাকলোআমি ভাবলাম আপিস কেচে যাবেরাস্তা-ঘাট শুনসান থাকবে।কাল সন্ধ্যে বেলা খাসি নিয়ে এলাম কষিয়ে বন্ধের দুপুরে আমেজ করবো। আর এই আহাম্মকদের জন্যে সব গেলো রসাতলেআপিস শালা যথারীতি খোলা, বাঙালির ইজ্জত যে ধুলোয় লুটিল আজসেই ফাইলের নোংরা ঘাটা, সেই বসের চিত্‍কার, উল্টে যাতায়াতে বাসের বাড়তি ভীড়ে নাকালবন্ধের আশা জাগিয়ে এমন বিট্রে? শালারা দু-চারটে বাস জ্বালাতে পারলো না? দু একটা আপিস ভাঙ্গচুর করতে পারলো না? ন্যাকা-কুসুমের দল এসেছে রাজনীতি করতে? বন্ধ করতে পারে না, সরকার গড়বেআমার মুণ্ডু করবেআমি বল্টে আর বল্টের দলের বিরুদ্ধে কনজিউমার কোর্টে মামলা করবো এই কোয়ালিটি-লেস বন্ধ ডাকবার জন্যেএই বল্টে শুয়ার আসুক এবার চাঁদা চাইতে, ওর হাড় দিয়ে আমি থিম প্যান্ডেল বানিয়ে ছাড়বোসাধারণ মানুষকে অফিস-কামাইয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে ধোকা? কাম আউট বল্টে, তোর নেতাগিরি ন্যাতা না করে আজ আমি ছাড়বো না”

সত্যি-মিথ্যা জানি না, তবে ফিসফাস শুনলাম যে বিজুদা এমন রন-মূর্তি দেখে বোল্টুদা নাকি পিছনের দরজা দিয়ে ভেগে হাপিস হয়ে গেছে। পুজোর আগে আর পাড়া-মুখো হচ্ছে না হয়তো।