Monday, January 30, 2012

থাপ্পড়ের খপ্পরে


থাপ্পড় ব্যাপারটা ছেলেবেলায় নেহাত মামুলি ছিল। ভাত খেতে না চাওয়া; মায়ের থাপ্পড়, জানলার ভাঙ্গা কাঁচ; পাড়াতুতো জ্যেঠুর থাপ্পড়; অঙ্কে উনিশ; হেডস্যারের থাপ্পড়, ইস্কাপণ-তীর আঁকা বেহাত প্রেম-পত্তর; Could-Have-Been প্রেমিকার পিতার থাপ্পড়। একটা বয়েসে ক্রমশ মনে হতে থাকে, বড় হওয়ার ইনসেনটিভ একটাই; চড়-থাপ্পড়হীন জীবনযাপন
কিন্তু বড় হয়ে দেখলাম উল্টো বুঝলি রাম। থাপ্পড়ের শরীরিকতা গায়েব হয়ে গ্যালো ব্যটে, অশরীরী থাপ্পড়ের ঝড় নেমে এলো জীবনেমার্কেট শেয়ার কচু-কাটা; বস-কতৃক Performance Evaluation ঘটিত থাপ্পড়বিবাহবার্ষিকী বেমালুম ভুলে গুল; বউয়ের দৃষ্টি থাপ্পড়হাতে প্রাগৈতিহাসিক মডেলের মোবাইল; সমাজের স্টেটাস মুখী-থাপ্পড়। প্রতি দুই খানি ফুচকায় এক খানি জেলুসিল থাপ্পড়, প্রতিটি তেলেভাজার সাথে বুক জুড়ে কোলেস্টেরল-থাপ্পড়।

***
শনিবার রাত, হুইস্কিতে পেট ফুলে ঢোল; ভাত খাবো না।উফ্ফ, শুধু ছোটবেলার মত মা যদি একবার চড় কষিয়ে বলতো “ভাত খাবে না? সাপের পাঁচ পা দেখেছো নাকি?”
***
স্কুলের শেষ দিন, ভূগোল শিক্ষক সুব্রতবাবুকে প্রণাম করতে গেলুম।সুব্রতবাবুর থাপ্পড় ছিলো স্কুল-বিখ্যাত, অন্য শিক্ষকেরা টিপস নিতেন সুব্রতবাবুর থেকে, কী ভাবে থাপ্পড়কে আরো এফেকটিভ করে তোলা যায়। শুনতাম সুব্রতবাবু নাকি হাতের তালুর ভঙ্গিমা কী হবে, বুড়ো আঙ্গুলের ভাঁজ ঠিক কী ভাবে হবে আর হাতের বাকি আঙুলগুলি ঠিক কী অ্যাঙ্গেলয়ে রাখতে হবে থাপ্পড় যুতসই করতে হলে, সে সব বোর্ডে এঁকে, সব শিক্ষকদের টিচার্স-রুমে বসিয়ে demonstrate করতেন মাঝে মধ্যে। এমন থাপ্পড়-খ্যাত সুব্রতবাবুকে প্রণাম করতে যেতেই ভদ্রলোক বুকে টেনে নিয়েছিলেন সেদিন, “ লিসেন পচা, আমার দেওয়া প্রতিটি থাপ্পড় তোদের গাল ব্রাশ করে আমারই বুকে এসে ডিপোসিটেড হয়েছে, হেন্স আই ক্যারি আ পারপেচুয়াল হেভী হার্ট। এত self-less থাপ্পড়, তোরা বড় হয়ে গেলে আর জোটাতে পারবি না রে, আই ভাউচ ফর ইট”

Saturday, January 28, 2012

আকাশ ভরা সূর্য-তারা



রবীন্দ্রনাথেও Value-Add সম্ভব?
সম্ভব। দেবব্রত বিশ্বাসে।
আর দেবব্রত বিশ্বাসে value-add?
সম্ভব।
মুহূর্তে, অভিব্যক্তিতে, সুন্দরে, পাগলামিতে।
এক খাম খেয়ালী থিয়েটার কর্মীর পাহাড়ে আসা, এবং এই গানে পাহাড়ময় নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়া।
ঋত্বিক-অনিল-দেবব্রত ছাড়া রবীন্দ্রনাথকে এতো ভীষণভাবে প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারতেন? প্রশ্নটা ধৃষ্টতা হয়ে কানে ঠেকছে কী? স্বপক্ষের যুক্তি তে শুধু এই Expression গুলো বিকট ভাবে আলাদা করে সাজিয়ে দেওয়ার একটা হাস্যকর চেষ্টা করা যেতে পারে:
"জাগে আমার গান" - এমন ভাবে ছাড়া জেগে ওঠা যায়?



***

"অসীম কালের, এ হিল্লোলে...(জোয়ার ভাটায় জীবন দোলে)" এর চেয়েও অসীম কিছু হয় বুঝি
***
"নাড়ি তে মোর রক্ত ধারায়, লেগেছে তার টান.." এমন তীব্র টানের কথাই তো অনুভূত হওয়ার কথা, নয় কী?
***
"ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে" এত নরম ভাবে ঘাসের বুকে পা নেমে আসার স্বপ্ন, মুখে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব?
***
বিস্ময়ে (তাই জাগে)” - মানুষের মুখের বিস্ময় এর চেয়ে স্পষ্ট ভাবে ক্যামেরায় কোনও দিনও বন্দী হয়েছে?
সমস্ত জমে থাকা কান্না কে বড় সহজে ডুকরে তোলে ছবির এই অংশটি, এক অদ্ভুত পরিশীলিত আনন্দের মধ্যে দিয়ে।
সম্পূর্ণ গান'য়ের ভিডিওটি এইখানে:



Wednesday, January 25, 2012

কলকাতা বইমেলা : যা করবেন এবং যা করবেন না


কলকাতা বইমেলা। বাঙালি দুর্গাপুজো করে ফুর্তির জন্যে, বই মেলা ঘোরে আধ্যাত্মিক মালিশের জন্যে। অনিচ্ছুক ভিডিও-গেমবাজ বাচ্চাদের ঘাড় ধরে পিতারা বই চড়ান, প্রেমিক-প্রেমিকারা ছাতা-হীন প্রেম সারেন, মেয়েরা বই দ্যাখে-ছেলেরা মেয়ে, উদ্যোগী মানুষে বই চুরি করেন, কবিরা তীর্থ করেন, গিটার-শখিয়েরা থেবড়ে বসে গান করেন, হুল্লাট ব্যাপার এক্কেবারে।
এ ব্লগের পক্ষ থেকে বই মেলায় কী করণীয়, কী নয়, তার ওপর একটা মৃদু রিসার্চ করে ফেলা হয়েছে। জনদরদী উদ্দেশ্যে তা সাজিয়ে দেওয়া হলো:
বইমেলায় কি করবেন?
- বই মেলার ম্যাপ জোগাড়কাঁধে ওয়াটার-বটল ঝুলিয়ে, চোখে গগল্স চাপিয়ে, পিঠে রুক-স্যাক চাপিয়ে লিভিঙ্গস্টোনের মত বলবেন, “ এই আমি আছি ১৩২ নম্বর স্টলের সামনে, নাক বরাবর হেঁটে গিয়ে, ১৯২ নম্বর থেকে বাঁ দিকে টার্ণ, অত:পর কয়েক পা এগিয়ে মিলবে ফোয়ারা এবং ফ্রম দেয়ার ঈশান কোনের দিকে মুভমেন্ট করতে করতে ৬ খানা স্টল ছাড়ালেই পাওয়া যাবে ডেষ্টিনেশন, স্টল ৩১৭”, তবেই না তৃপ্তিযদি কেউ ফোড়ন কাটে “আরে ওই তো দ্যাখা যাচ্ছে স্টল ৩১৭”, দমে যাবেন না, বইমেলায় এসে ম্যাপ ছাড়া ঘোরা নেহাত গবেটামি

- ক্যারি ইউর ওন থলি নিজের সাধন নিজে রাখুন, এ সবে ইকলজিকাল ফেরেব্বাজির যুগ। চা খেয়ে মেলাময় প্লাস্টিকের কাপের কার্পেট সাজিয়ে দেওয়াতে বাঁধা নেই, এদিকে বই কেনার পর প্লাস্টিকের প্যাকেট চাইতে গেলেই আপনি দানবঅতএব, নিজের ঝোলা সঙ্গে রাখুন, বই নেওয়ার সুবিধে, প্লাস একটা ইণ্টেলেকচুয়াল ইয়ে আছে ওতে
- আঁতেল কিছু বইএর নাম মুখস্থ রাখুনধরুন আপনি কিনতে গ্যাছেন বাঁটুল আর ফেলুদা, এদিকে হটাত্‍ এক টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার ফোকাস আপনার ওপর, বাঙালি হয়ে যদি আপনি ফস করে দু-চারটে সাংঘাতিক কবিতার বইয়ের নামই না করতে পারেন, তো আপনার ইজ্জত থাকবে না বাঙালির অভিমান রক্ষা হবে ?
- ছোটো স্টলে ঢুকুন আরে বড় নাম, বড় পাবলিসার তো আপনার রইলইতার জন্যে কলেজ স্ট্রিটও নয়, খাটে বসে ফ্লিপকার্টেয়ে লগ ইন করলেই হলোনতুনদের চিনুন, দুর্দান্ত কিছু নতুন কাজ এবং সম্ভবত কিছু অনাবিল মানুষ দেখতে পারবেনগ্যারেণ্টী রইল
- বেগুনী-মুড়ি: দুটো হালকা বই কিনে, এক ঠোঙ্গা মুড়ি-বেগুনী হাতে করে একলা বসুন মাঠের কোনও এক কোণেবিকেল বেলার দিকটায়দেবে কাজ, মহারাজ”
বইমেলায় কি করবেন না ?
- নামজাদা স্টলগুলোর ভীড়ের খপ্পরে পড়বেন নাআনন্দ-দে, এরা রনে-বনে-জঙ্গলে সর্বত্র এবং অন্যত্র হইত এদের বইতে ছাড়ও অনেক বেশি থাকে (যথা কলেজ স্ট্রিট)।তাহলে এদের দরজার সামনের রেশনের ভীড়ে ভাপতে যাবেন কেন? ফাঁক পেলে অবশ্যই টুকি দেওয়া যেতে পারে
- আঁতেল সঙ্গ বর্জন করুন যথা-সাধ্য, নয়তো গোটা মেলাভ্রমণ দেরিদা-গিন্সবার্গ শুনে হেজে যেতে হতে পারে। বইমেলার সময় হলো আঁতেল-প্রজাতির ভাদ্র মাস, সাবধান!
- বই চুরিমজারু, শখের জন্যে; সে আপনি যাই বলুন না কেনব্যাপারটি বেমানান। বই বলিউডি গানও নয়, যে আপনি সংগস ডট পি কে’তে ঢুকবেন। বই কিনুন। কিনুন। কিনুন।
- গুরুজনেদের সামনে মৌসুমী প্রকাশনির স্টলের সামনে উঁকি-ঝুঁকি। ব্যাপারটা যা তা, বাবা বা মেজমামা সঙ্গে থাকলে তাদেরকে দেব সাহিত্য কুটিরের মধ্যে ফেলে রেখে হাওয়া হয়ে গেলেই হলো। যদি মৌসুমী প্রকাশনীর ব্যাপারে সম্যক না জেনে থাকেন, এই বইমেলাটি অন্তত মাটি করবেন না।
- পকেট মারবেন না। ( আচ্ছা, এই প্রগতির যুগেও কী পকেট-মারেরা ব্লগ পড়া শুরু করেনি? জাস্ট ইন কেস..)বহু সাধারণ মানুষজন-ছেলেপিলে, বহু কষ্টে কিছু টাকা জড়ো করে শুধু বছরের এই একটা সময়ের বই-খিদের জন্যে। অবিশ্যি, আলালের ঘরের বেমক্কা দুলাল আইডেন্টিফাই করে যদি পকেট ঝাড়তে পারা যায়, তাহলে বিশেষ কিছু বলার নেই। প্রফেশন বলেও একটা ব্যাপার রয়েছে

Tuesday, January 24, 2012

ফ্রিডম অফ স্পিচ ঘটিত


[ আচমকা রাস্তায়; এক জনৈকের একটি জনৈক মতামত ]
হে হে স্যার, ফ্রিডম অফ স্পিচ? জয়পুর লিট-ফেস্টে রুসদি-সাহেবের ঝাড় খাওয়ার প্রয়োজন হলো আপনাদের ভারতীয় ফ্রিডম অফ স্পিচের কাছা খুলতে? শুনে রাখুন, ফ্রিডম অফ স্পিচ কোনওদিনই ছিল নাওসব কনস্টিটিউশনাল-বুলি সব প্যাডেড ব্রা। আপনি কি মনে করেন? ধর্মীয় মৌলবাদয়েই বাক-স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়? নন-সেন্স। ধর্ম কখন ধরমেন্দ্র হয়ে ডেমক্রেসির মুণ্ডু খায় জানেন? যখন রাজনৈতিক মৌলবাদের মেরুদণ্ড শক্ত হতে থাকেরাজনৈতিক মৌলবাদ কোথা থেকে ক্যালরি অর্জন করে?করে তোষনবাদ থেকে; ধর্ম-তোষন, ব্যক্তি-তোষন, দল-তোষন এট সেটেরা, এট সেটেরা! সব কটা রাজনৈতিক দলের নিজেস্ব খুনে মৌলবাদ আছেসমস্ত দলের
নিজের বাক-স্বাধীনতার দৌড় চেখে দেখতে চান? দু একটা পাতি সহজ অভিযোগ চালাতে গিয়ে দেখুন, সত্য-বিচার পরে হবে, জাষ্ট অভিযোগ প্লেস করতে গিয়ে দেখুন কি রাম-ক্যালানি খেতে হয় আপনাকে

- কোনও কংগ্রেসী নেতা কি গিয়ে জানতে চান, গান্ধী-পদবী অর্জন ছাড়া, রাহুলকুমার নিজের জীবনের বৃহত্তর অংশে কি এমন বহুমুল্য কেশদাম ছিড়েছেন যে তিনি আমার প্রধানমন্ত্রী হবেন?
- কোনও বিজেপি নেতাকে গিয়ে বলুন রামমন্দিরের ইস্যুতে দেশের বয়ে গ্যাছে, তাঁদের বলুন, যে শত উন্নয়নেও মোদীর খুন-খারাপি ধুয়ে যায় না।
- কোনও সি-পি-এম নেতা গিয়ে বলুন যে তাদের ধর্মীয়-নিরপেক্ষতা তথা ধর্ম-হীনতা সব ব্লাফ। ইডিওলজিকে পাশ কাটিয়ে তারাও ধর্ম-তোষন করেন, হরকিসেন সিংহ সুরজিতও কমুনিষ্ট পাগড়ি, কাড়া পড়তেন
- কোনও তৃণমূলীকে কে বলুন যে তৃণমূল আসলে মমতা-মূল দল এবং মমতাদেবী তার যাবতীয় গুনাবলি সত্বেও অতি শান্ত-ভাষায় যাকে বলে একরোখা এবং প্রবল ভাবে আমি-আমি-আমি ভিত্বিক নেত্রী।
এসব অভিযোগ যদি আপনি এইসব পার্টির গুহার সামনে ভাসিয়ে দেন,তাহলে আপনার অভিযোগ ঠিক না ভুল সেই ডিবেটের স্কোপ আপনি পাবেন ভেবেছেন? সোজা বাপের নাম খগেন।
শুনুন স্যার, এ দেশের বাক-স্বাধীনতা থেকে সরিয়ে নিশ্চিন্তে বসিয়ে নিতে পারেন

ছবি : fakingnews.com থেকে নেওয়া

Saturday, January 21, 2012

মাসলোর উইকেণ্ড ফর্মুলা

উইকএন্ড কাকাটাইম টু আনওয়াইণ্ডহপ্তা ধরে ইস্তিরি হওয়ার পরে এই মওকা, শরীর-মনে একটু চেকনাই আনবারশনিবার দুপুর থেকেই একনিষ্ঠ ফোকাস, ফুর্তির মিটারে কোনও ফ্লাকচুয়েশন চলবে নাআগামী গোটা সপ্তাহের অক্সিজেন জোগাড় করে রাখতে হবেরবিবার রাত এসে সোমবারি-নার্ভাসনেস কলজে গ্রাস করবার আগে, Self-Actualize করতে হবে
সপ্তহান্তিক ফুর্তি কে তুরীয় করে তুলতে দরকার প্ল্যানিংপ্ল্যানিংয়ে দরকার যুক্তিপূর্ণ কাঠামো। কী ভাবে ধাপে ধাপে সাপ্তাহিক স্বর্গলাভ ঘটানো যাবে তার জন্যে দরকার Maslow-ভিত্ত্বিক পর্যালোচনা এবং Check-লিস্ট। জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে Maslow’s Hierarchy ভিত্ত্বিক Weekend Planning টা আমাকেই সারতে হলো

IIPM’এর যুগে এই ভূমিকটা অর্থহীন, তবুও বলতে হয় বলে বলি; মানুষের চাহিদার স্তর-বিন্যাস বোঝাতে ১৯৪৩ সালে এব্রাহ্যাম মাসলো সাহেব এই পিরামিড এঁকেছিলেন
এখন এই পিরামিডের স্তরে স্তরে সাজিয়ে তুলতে হবে আমাদের উইকেন্ড চাহিদাগুলো। এরকম একটা ইজিপ্শিও আকারে সমস্ত শনিবারিও চাহিদা এঁকে ফেলতে পারলেই আর উইকেণ্ডে গলদ ঢুকবে না।
এবার শুধু এক্সেকিউশন!

Friday, January 20, 2012

ট্রেন বিহার

আমার বিহারি সহকর্মীটি বেশ রসিক মানুষচাকরির খাতিরে বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়াতে হয়একবার এরকমই এক ট্যুরয়ে পৌছেছিলাম বনমঙ্খি নামের এক ছোট্ট স্টেশনেমিটার গেজের লাইন চলে গ্যাছে আর লোকাল রুটে ট্রেন চলে থাকে সেখান দিয়ে। আমার সহকর্মীটি বললেন চলুন আপনাকে দেহাতী মাল্টি-জিম দ্যাখাচ্ছি”!
“মাল্টি জিম?” অবাক হয়ে চাইলাম ভদ্রলোকের প্রতি ।
আমাকে প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ে এসে, অপেক্ষারত একটা লোকাল ট্রেন দেখিয়ে ভদ্রলোক বললেন, “ এই হলো আমাদের গ্রাম-দেহাতের মাল্টি-জিমদৈনিক এক ঘন্টার এই ট্রেন সফরে যা ক্যালরি ঝড়ে, তা কোনও শহুরে জিমের বাপের দ্বারাও হবে না”

এই সেই দন্ডয়মান শকট-কসরতখানাভাবলে অবাক লাগে, এই ট্রেনটি ছাড়তে তখনও ঝাড়া দু ঘন্টা বাকিমনে মনে ভাবলাম, যে বিহারের গ্রাম দেহাতের এই ট্রেন-জিমের তুলনায় আমাদের, শহুরে শেয়ালদার বনগাঁ লোকালও কী কম যায় নাকি?