Friday, August 3, 2012
Thursday, August 2, 2012
অথ কোলকাতা কড়চা-ক্যাওড়া
কোলকাতা সম্বন্ধিও যত আলপটকা ট্যুইটের ব্লগীও সংকলন। ক্রমশ আপডেটিতো হতে থাকবে, এমনটিই আশা
"ধর্মতলায় ধর্ম ও রবীন্দ্রসদনে দাঁড়ি: খুঁজবেন না"
"কফি হাউসের কফি খারাপ এবং হাউস পুরনো। এছাড়া সব কিছু ঠিকঠাক"
"জামা-ভেজা ঘাম ও হ্যান্ডেলে ঝুলন্ত আধ-ঘুম : মিনিবাস বেমালুম"
"বিনে শ্যামবাজারের পাঁচ মাথা , কল্কে পাবেনি কোলকেতা"
"বিনে শ্যামবাজারের পাঁচ মাথা , কল্কে পাবেনি কোলকেতা"
"ট্রামের গতি আর গড়িয়ায় ট্র্যাফিকের মতি: কখনো ভরসা যোগ্য নয়"
"ভিক্টোরিয়ার ছাদে মশারি টাঙ্গানো চলে না"
"আলতো চুমু নন্দন, ফষ্টি-খেলা নলবন"
"ট্র্যাফিকে-পুকুরে, ক্লাবেতে-দুপুরে: রবীন্দ্রনাথই হলেন আদত 'চলমান অশরীরী' ”
Wednesday, August 1, 2012
অন্য পারের রাখী
জ্যেঠু হামেশাই বলতেন স্নেহ সহজেই ‘পাল্স’ চিনে নেয়। এক সহজিয়া বন্ধু-স্বর ট্যুইটারের কচ-কচানি চিরে মাঝে মাঝেই সাড়া দিতো।সাড়া দিতো বাংলার ওপার থেকে, অন্য বাংলা হতে। আচমকা ভেসে এলো আদর মাখা স্নেহ-ডাক : দাদাভাই। মুখায়ব অচেনা, অপরিচিতা, তবু কল্পনা করে নিতে অসুবিধে হয় না বোন’টির চোখের কোণে চিকচিকে ভালোবাসা।
আন্তর্জালিক সুতোয় জড়িয়ে থাকা রাখী ভেসে এলো। সীমান্তে যুদ্ধটার মত; এমণটাও তো হয়েই থাকে।
নিপাট ভাই-বহেন।
* * *
দমদম এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি। বস ঢাকা থেকে ফিরছেন কিছু বেফালতু অফিসিও কাজ সেরে। ঢাকার ফ্লাইটে নেমে বস ফোন হাতে ব্যস্ত। আমি সং’টি সেজে নন্দি সেজে দাঁড়িয়ে রয়েছি।রাখীর দিন। শ্যামবাজারে পিসতুতো দিদির বাড়িতে মোগলাই খানার নিমন্ত্রণ। বসের চক্করে এয়ারপোর্টে আটকা রয়েছি। মেজাজ প্রবল ভাবে চটকে। এমন সময় ঝকঝকে একটি মেয়ে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কী তন্ময়
?”
?”
অচেনা। সম্পূর্ণ। ভেবড়ে গিয়ে বললাম, “ইয়ে, হ্যাঁ, কিন্তু কেনো?”
মেয়েটি মিষ্টি হেসে আমার পকেটে একটা ভাঁজ করা কাগজ ঠুসে দিলো। বললে, “এই কাগজটি আপনাকে একজন দিতে বললো”
চিরকুট? আমায়? এয়ারপোর্টে কে চিনলো? কেনই বা দিলো? স্মগলার বা টেররিষ্ট নয় তো? কে দিলো, কেন দিলো জিজ্ঞেস করবার আগেই বস’এর হাঁক। বসের দিকে ফিরে ফরমাশ সামাল দিতেই সেই মেয়েটি হাওয়া। বসকে কোনও মতে বিদেয় করেই চিরকুটটা বার করলাম। ভাঁজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে ভীষণ তড়ি-ঘড়ি করে লেখা। চিরকুটটা খুলতেই বৃষ্টি এলো প্রায়। ওতে লেখা:
“দাদাভাই,
ইতি,
তোমার বোন
সোনা
পৃথিবী স্বর্ণ-ময়। গয়নার সোনা, ভল্টের সোনা, ছিনতাইয়ের সোনা, মাধ্যমিকের লেটার পাওয়া ছেলেটি সোনা, টুকটুকে মেয়েটির গা’য়ের রংটি সোনা, প্রেমিকার তুলতুলে আদুরে সোনা, বিস্কুটের সোনা, মহাপাত্র সোনা, আমার বাংলা সোনা, ডিসেম্বরের রোদ্দুরের সোনা, আদরের পোষ্য বেড়াল-সোনা, ওল্ড ইজ গোল্ডের সোনা, অল দ্যাট গ্লীটার্স’য়ের সোনা, বাপী লাহিড়ীও সোনা, অলিম্পিকীও সোনা।
শুধু যদি চলে যাওয়া মা এসে “সোনা” বলে বুকে টেনে নেয়, বাকি সব সোনা ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায়।
Sunday, July 29, 2012
চাকরির চক্করে
গৌতমবাবুর সঙ্গে দেখা বহুদিন পর।বাজারে।গৌতমবাবু ছিলেন আমাদের কেমিষ্ট্রীর শিক্ষক।ভীষণ ভালো ফুটবল খেলতেন, পাড়ার ক্লাবের কোচও ছিলেন। ঢিপ করে প্রণাম করে নিজের পরিচয় দিলাম। চিনতে পারলেন। আমি জানালাম কোথায় আছি এখন, কীই বা চাকরি করছি।গৌতমবাবু নরম হেসে বললেন:
“চাকরি? চাকরির একটি মাথা।দুটি কান, একটি নাক, একটা মুখ দুটো হাত, দুটো পা।একটি হৃদয়। চাকরি স্তন-বানও বটে।চাকরির প্রতি এমন স্নেহ নিয়ে কৈশোর থেকে যৌবনের দিকে ট্র্যাভেল করেছো। পড়াশোনার কসরত্ করেছো, কেতা-অভ্যেস করেছো, বিবেকানন্দ পড়ে ডন-বৈঠক দিয়েছো, কথা বলার চাকুরিও-মায়াবী ভঙ্গিমা রপ্ত করেছো, নারী-প্রেম নিশ্চই তোমার ট্র্যাভেল-ট্র্যাকে বোম মেরেছে তবু তুমি লাইন-চ্যুত হওনি।এখন তুমি একজন পরিপূর্ণ যুবক! পকেট নিকোনো চাকরি। যার একটি মাথা, দুটি কান, একটি নাক, একটা মুখ, দুটো হাত, দুটো পা একটি কোলেস্টেরল-মাখা হৃদয়। জানি না তোমার সাথে আবার কবে দেখা হবে, তাই বলি।বিয়ে করেছো দারুন ব্যাপার। ইউ উইল বি আ ফাদার সাম ডে। সন্তান কে এমন শিক্ষা দিও যাতে সে শৈশবকে কফিনে সার্ভ করার আগে শৈশবের কপালে আলতো চুমুটুকু খেতে পারে।চলি। কেমন?”
মনে রাখার ব্যাপার-স্যাপার
ন্যাবা-জ্যেঠুর বাড়িতে রাত সাড়ে এগারোটায় ঢুঁ মারতে হলো দাদুর হাঁটুর ব্যাথার হোমিওপ্যাথিক টোটকার জন্যে। ন্যাবা-জ্যেঠুর হোমিও-চিকিত্সা’তেই দাদুর হাঁটু নাকি পুর্ণিমা-অমাবস্যাতে ম্যাক্সীমাম রিলিফ পায়। আজ আচমকা ব্যথাটা চাড় দেওয়াতে এই রাত-দুপুরে দাদু দেরাজ খুলে দেখলেন ওষুধের স্টক নীল। ন্যাবা-জ্যেঠু দাদুর মর্নিং ওয়াক সঙ্গী হওয়ায় রাত্রিবেলা প্রয়োজনে বিরক্ত করতে বিশেষ অসুবিধে নেই। ভদ্রলোকের হোমিওপ্যাথিতে এ অঞ্চলে বেশ পসার রয়েছে।সদ্য বিপত্নীক। এক মাত্র ছেলে বউ-বাচ্চা নিয়ে দিল্লিতে থাকে। পেল্লায় বাড়িতে একাই থাকেন।
কলিং বেল টিপতেই ন্যাবা জ্যেঠু নিজেই দরজা খুললেন।দাদুর প্রয়োজনের কথা বললাম। ঘুম যে ভাঙ্গাইনি সেটা ন্যাবা জ্যেঠু নিজেই জানালেন; “যদিও আর্লি ট্যু বেড’য়ের ফিলসফি’তেই বিশ্বাস, তবে আজ জেগে রয়েছি অন্য কারণে, ছেলের তরফ থেকে বিশেষ ফোন আসবে”। বিশেষ ফোন কেন জিজ্ঞেস করাতেই ন্যাবা-জ্যেঠু খোলসা করলেন : “গত বছর এই দিনে তোমাদের জ্যেঠিমা মারা গেছিলেন, তাই নিমু’র (ন্যাবা জ্যেঠুর ছেলে)ফোন একটা এক্সপেক্ট করছি। বেচারী ভারী মা ন্যাওটা ছিলো। আজকের দিনটা নিশ্চই আমার সাথে ফোন করে একটু মন হালকা করে চাইবে। গোটা দিনের ব্যস্ততায় হয়তো ফোন করতে পারেনি, নিশ্চয় একবার ফোন করবে...” বলতে বলতেই ন্যাবা জ্যেঠুর ফোন বেজে উঠলো, “নিমু উইল লিভ ফর হান্ড্রেড ইয়ারস...কল এসেছে...মিনিট-পনেরো দাও আমায়, কথা বলেই ওষুধ টা এনে দিচ্ছি”। সঙ্গে একটা সাহেবী “এক্সকিউজ মী” জুড়ে ন্যাবা জেঠু পাশের ঘরে গেলেন কথা বলতে। ঠিক ৪৫ সেকন্ডের মাথায় ফেরত এলেন।
-“কী ব্যাপার জ্যেঠু, লাইন কেটে গ্যালো নাকি?”, জিজ্ঞেস করলাম,
“না:”, জ্যেঠু হাসলেন, “কাল ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ণ ফাইল করার শেষ দিন, আমার ভারী ভূলো মন তো, তাই আমার চার্টার্ড-পুত্র আমায় মনে করিয়ে দিলে যাতে আমি এই বেসিক ব্যাপারটা ভুলে গিয়ে একটা গোলমাল না করে দিই, তুমি পাঁচ মিনিট বসো; আমি ওষুধ নিয়ে আসছি”
Saturday, May 26, 2012
জামাই-ষষ্ঠী Alert
এই দু বছর আগে। পহেলা জামাই ষষ্ঠীর আগের দিন সন্ধ্যে। মনে একটা সিরিয়াস ইয়ে চলছে।দু দিন ধরে খাওয়া ঈষত্ কমিয়ে রেখেছি;খালি পেটে যথেষ্ট জল খেয়ে বাওয়েল মুভমেন্ট স্মুদ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এমন সময় পিসেমশাই পাকড়াও করলেন।
পিসেমশাই: “ভুলে যেওনা, ইউ আর এ জামাই। ফাদার-ইন-ল’য়ের পেনশন ফান্ডের ওপর নিজের স্পাইন সিমেন্ট করতে যেওনা। জামাই ষষ্ঠী-ফষ্ঠীর মত ফিউডাল-সেক্সিষ্ট ব্যপারে আদেখলামো করতে যাওয়া সোজা ভাষায় আনএথিকাল। এই মাগ্গির বাজারে ফোর্সড উত্সব পালন উইথ চিংড়ি-ইলিশ-পাঁঠা-মণ্ডা-মেঠাই সামগ্রিক ভাবে গ্রস। প্লাস এই মে’র গরমে ওসব ক্যালরি-ফ্যালরির লেভেল-টেভেল মলটভ মেরে উড়িয়ে দেওয়াটা একটা আদ্যপান্ত ম্যালিশাস ব্যাপার।
শশুর-বাড়ি ল্যান্ড করার আগে কমুনিকেট করে দেবে যে তোমার পেটে পার সাপার, একটির বেশি জাতের আমিষ রান্না সহ্য হয় না। প্লাস এক বেলার বেশি দু বেলা তুমি খেতে পারবে না কারণ তোমার অন্যত্র নিমন্ত্রণ আছে। নিমন্ত্রণ না থাকলে গুল মারবে। আনহিনডার্ড শশুর-জবাই চলতে পারে না। এছাড়া, শশুরবাড়ি পৌছবার আগে মিষ্টির হাড়িটি জবরদস্ত দেখে নিও, যাতে জামাই-ষষ্ঠীর খানায় তোমার শশুরের ইনভেস্টমেন্টকে মোটামুটি ম্যাচ করতে পারো। এবং হ্যাঁ,মেল-শভিনিজ্ম’য়ের মাথায় লাঠি মেরে নিজের পিতাকে বোলো একটা বউ-ষষ্ঠীর শ্যাডো-প্রোগ্রাম করতে। জাস্ট টু এনসিওরম দ্যাট দ্য ব্যালন্স ইজ মেইনটেইন্ড। বুঝলে মিস্টার পচা মিউকারজি?”
এতটা এক নি:শ্বাসে বলে পিসেমশাই নিজের এক মাত্র মেয়ে, আমার পিসতুতো বোন মুচকি’র দিকে তাকালেন : “ আর এই যে মামনি, এই পচাদা কে যে কথাগুলো বললাম, সেগুলো ভালো করে মনে রেখো কেমন? মনে রেখে নিজের ফিউচার হাসব্যান্ডকে ভার্বাটিম কনভে করে দিও, কেমন?”
Subscribe to:
Posts (Atom)


