Showing posts with label Being A Bengali. Show all posts
Showing posts with label Being A Bengali. Show all posts

Sunday, December 15, 2013

শীত Of কোলকাতা - The Essential Elements

ডিসেম্বর জুড়ে বসছে শহরে। সন্ধ্যের মুখে হাফ সোয়েটারটি আর বেমানান মনে হচ্ছে না। কলকাতাইয়া হাওয়াতেও চামড়ায় ছ্যাঁত হচ্ছে। সেন মহাশয় নলেন গুড়ের সন্দেশে বাজার মাতাচ্ছেন।
তা বাঙালির শীত পিকাসিও হয় কি প্রকারে ? বহুবিধ আবেদনময় পৌষ-মাঘি সৌখিনতার হাত ধরে। রবীন্দ্রনাথ বিনে বাঙালি হয়তো বা বাঙালি হলেও হতে পারতে; তবে পৌষ ম্যাজিক বিনে বাঙালিজ্‌ম বলে কিছু থাকতো কিনা সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে।
বঙ্গ-শীতের সেরা মশলাগুলো কি কি ? অগোছালো ভাবে সাজিয়ে দেওয়া যাক Essential Elements of Kolkata Winter ----



চড়ুইভাতি। অর্থাৎ পিকনিক (ফ্যামিলির সাথে) বা ফিস্টী (পাড়ার বন্ধুদের সাথে)। 
The mandatory Picnic

   


সিঙ্গারায় ফুলকপি
Singara with traces of Cauliflower in It

(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bloomsnpetals.blogspot.com)


চেজমি গ্লিসারিন সাবান
Glycerine Soap
 

ডাবর চ্যবনপ্রাশ
Warmth of Chawanprash



নতুন আলু
Fresh Potatoes




চিড়িয়াখানায় সকাল
Mornings spent at Alipore Zoo



ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বিকেল বেলা
Late Afternoon Trips to Victoria Memorial



করাইশুটির কচুরি
Peas Kochuri

(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- saffronstreaks.com)

নলেন গুড়ের সন্দেশ
Nolen Gur Sondesh
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- banglasweets.wordpress.com)

জয়নগরের মোয়া
Joynogorer Moa
 
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bongcookbook.com)

লেপ
The Benglicized Quilt

কইমাছের ঝোলে ফুলকপি
Koi-Fish with Cauliflower
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- lassiwithlavina.com)


পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনের সন্ধ্যে
Christmas Evening at Park street

ইডেনে টেস্ট ম্যাচ
Test Match at Eden Gardens

পাঠিসাপটা
Pathisapta
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- madhurrecipes.com) 

পাড়ার জলসায় রাতজাগা
Night Long Music Shows across the Paras


বছর শেষের রাত্রে আলতো হুইস্কির স্নেহ। সাহেবি নতুন বছরে সাহেবি মেজাজের কনসেপ্ট।
The New Year's Eve Whiskey. Sahib's Calendar should be celebrated in Sahib's fashion. 



ভোরের কুয়াশায় ময়দান ভ্রমন
Early morning walks across foggy Maidan
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- knowallsbox.com) 

শাল মুরি দিয়ে সন্ধ্যেবেলার চপ-মুড়ি
Wrapped up in a Shawl, Engaged in Chop-Muri
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- spicesandpisces.wordpress.com)

ডিনার শেষের সাহেবি কফি
The Post Dinner Coffee. Colonial Charisma speaking.


রাত্রে ভাতের বদলে রুটি
Roti replaces 'Bhaat' in the Dinner Menu 
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- mansuraudraji.wordpress.com)

মাঙ্কি টুপি
Monkey Cap. The Crown. 

বোরোলিন
Boroline

চলো পুরী
Let's go to Puri

ফুচকায় বাড়তি ঝাল
Raising the Chili quotient of Fuchka to jack up the heat
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- viji-vijisworld.blogspot.com)

ছাদের রোদে বালতি রেখে জল গরম
Keeping the Bucket full of water under the roof top sun. For natural geyser effect. 


সর্ষের তেল মেখে স্নান
That classy mustard oil massage before bath. To amputate the remotest of Cough & Cold possibilities.  

সোয়েটারে ন্যাপথলিনের গন্ধ
The Napthalene flavored Sweaters


পেঁয়াজকলি দিয়ে মৌরলা মাছের ঝাল
Mourla Fish spicy curry with Spring Onions
PiyaajKoliMaach2
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bongcookbook.com)

নিউ মার্কেট চষে সেরা কমলা লেবুর খোঁজ
Exploring New Market for the finest Oranges

দ্য হাইয়েস্ট ফর্ম অফ ডিম- হাঁসের ডিম’য়ের বাড়তি ব্যবহার
The highest form of edible Eggs; The Ducks egg; assumes a far more significant role during this time.


বইমেলা; কালীঘাটের চেয়েও পবিত্র পীঠস্থান
Book Fair; Even the Kali Ghat is not as sacred.

পাড়ার মেলায় নাগরদোলার দোলন ও বেগুনী ভক্ষণ
Twisting on the Fancy Rides and Gorging on the Begunis at Para Fairs



বোলপুরে দু দিন গা এলিয়ে পৌষ মেলা
A leisurely trip to Bolpur's Poush Mela

মাফলার’য়ের আদর ঘোমটা
The Ghunghat of Muffler 




    এ লিস্ট অবশ্যই অসম্পূর্ণ; এ পোষ্ট দীর্ঘতর হবে এমনটাই আসা। ইংরেজিতে যাকে বলে “Suggestions are welcome”. 

Saturday, November 16, 2013

এক্সপেরিমেন্ট

দিবাকর দু আঙুলের ফাঁকে সাবধানে টেস্ট টিউবটাকে ধরে নাড়ছিলেন। আড়চোখে খেয়াল রাখতে হচ্ছিল স্টপওয়াচের প্রতি। পাক্কা বাহাত্তর সেকেন্ড।

তারপর একটা চিমটে দিয়ে টেস্ট টিউবটার টুঁটি টিপে বার্নারের ওপর ধরলেন। দিবাকরের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, গরমের নয়, উত্তেজনার। এই ছোট্ট ল্যাবরেটরিতে এর আগেও বহু চমৎকার ঘটনা ঘটেছে; কখনও তাঁর হাতে, কখনও বা তার সহকর্মী ইন্দ্রে’দার তত্ত্বাবধানে। তবে এই প্রথম দুজনে এক সঙ্গে মাঠে নেমেছেন কারণ কাজটা তেমনই দুর্দান্ত। এই কম্পাউন্ড আবিষ্কার হলে দুনিয়ার ভোল পাল্টে যাবে। এক সময় মনে হচ্ছিল কাজটা অসম্ভব। কিন্তু ভাগ্যিস দুজনের কেউই হাল ছেড়ে দেননি। ব্রেক-থ্রুটা আসে গত পরশু সন্ধ্যে বেলা। কি ভাবে সেটা বলাই বাহুল্য কিন্তু দুজনেই লাফিয়ে উঠেছিলেন। একটানা ত্রিশ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে তারপর থেকে দুজনে কাজ করে গেছেন। এই সামান্য কিছুক্ষণ আগে ইন্দ্রদা গেছেন একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে।

বার্নারের ওপর মিনিট তিনেক রাখতেই টেস্ট টিউবের ভেতরের মিশ্রণটি কালো ড্যালা থেকে পালটে দুটো স্পষ্ট ভাগে দেখা দিল; একটা সবজেটে, অন্যটা গাড় লাল। চিমটে সহ টেস্ট টিউব হাতে না থাকলে দিবাকর লাফিয়ে উঠতেন ইউরেকা বলে। একবার ভাবলেন ইন্দ্রদাকে হাঁক দেবেন। তারপর ভাবলেন যে এক্সপেরিমেন্টের শেষ অংশটুকু সেরেই ফেলা যাক। তারপর ইন্দ্রদাকে ডেকে ফাইনাল স্যাম্পেল দেখিয়ে হুল্লোড় করা যাবে।

টেস্ট টিউবের সবুজ-লাল মাল-মশলা একটা কাঁচের পাত্রে ঢাললেন দিবাকর। তারপর দেরাজ খুলে নিয়ে এলেন ড্রপার ও কাঁচের তিনটে শিশি। প্রত্যেক শিশি থেকে দুই ফোঁটা নিয়ে এই লাল-সবুজ কম্পাউন্ডে মিশিয়ে দিলেই সেই মহার্ঘ বস্তুটি তৈয়ার হবে। দিবাকর দেরি করলেন না। দু ফোঁটা করে কেওকার্পিন,  তরল বোরোলিন ও নলেন গুড় মিশিয়ে দিলেন সবুজ-লাল কম্পাউন্ডে।

সঙ্গে সঙ্গেই দিবাকর হাঁক দিলেন “ হুররে ইন্দ্রদা, উই হ্যাভ ডান ইট! বাঙালির ডী-এন-এ তৈরি”। 

Tuesday, August 20, 2013

বাঙালি ও বৃষ্টির ব্যাপার-স্যাপার



বৃষ্টির ব্যাপারে কবিতা লিখে আর গান বেঁধেই যেন সব্বার দায়িত্ব খালাস। বৃষ্টিতে ভেজার বেলায় শুধু রবিনা ট্যান্ডন।  বৃষ্টির ছাঁট সামান্য গায়ে এসে পড়েছে কি আঁতকে ওঠা শুরু। জামা কাপড় বিগড়ে যাওয়া, অসময়ে জ্বর; এমন হাজার চিন্তা মানুষের মনে।  
বৃষ্টির উৎপাত এড়াতে মানুষের কত ফন্দি ফিকির।
কেউ বানালেন ছাদ।
কেউ বুদ্ধি করে আবিষ্কার করে ফেললেন ছাতা।
তৈরি হল হাই-ড্রেন।
পথ চলতি মানুষের গায়ে উঠলো বর্ষাতি, পা ঢাকতে গাম বুট।

তবে বৃষ্টি আটকানোর এই দুর্বুদ্ধিগুলোর একটাও কিন্তু বাঙালির আবিষ্কার নয়। বৃষ্টিকে বাঙালি সামাল দিয়েছে গাঙ্গুলিও-কভার ড্রাইভের কেতায়।
বাঙালি বৃষ্টিকে আপন করে নিয়েছেন বহুবিধ মায়াবী অস্ত্রে;
-      খিচুড়িতে
-      ফুলুরিতে
-      ইলিশে
-       “কোমরের ব্যথাটা রিল্যাপ্স করেছে স্যার, আজ অফিস আসতে পারছি না” মূলক ছুটিতে।

যে বাঙালি দৈনিক সংসার ও অফিসের যৌথ রগড়ানিতে নিয়মিত চিমসে যাচ্ছেন, বৃষ্টির সন্ধ্যেয় তার মেজাজেও রয়েল বেঙ্গলি হালুমের ছাপ এসে যায় এবং আলেকজ্যান্ডারি কেতা নিয়ে তিনি পেঁয়াজি  ও রবীন্দ্রনাথে ঝাঁপিয়ে পড়েন।  

Monday, August 12, 2013

পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড


পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড। শুধু গোল্ডফ্লেক্‌ ফুঁকে আর লিট্‌ল ম্যাগ ঘেঁটে ইন্টেলেকচুয়াল বনে থাকা যায় না। পলিটিক্স বুঝতে হবে এবং টেবিল চাপড়ে বোঝাতে হবে। ব্রাজিলে যদি সবাই ফুটবল-বিদগ্ধ হন, তবে কলকাতাইয়া মাত্রই রাজনীতিজ্ঞ এবং রীতিমত থুঁতনি চুলকনো সেফলজিস্ট। অবিশ্যি আমাদের রাজনীতিতে ডান-বাম তেমন কিছু নেই। উইং বলতে দুটিই ; অতি-বাম এবং প্রবল-বাম। বুর্জোয়া রাজনীতি এবং পনীরের ঝোলের পরোয়া বাংলাই কোনোদিন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।


কলেজে ভালো ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেন, গবেটরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে নবাবী করেন আর বুদ্ধিমানেরা রাজনীতি করেন। উপযুক্ত দাদা-দিদিদের চিনে নেওয়া, মিছিল-টিছিলে র্যাীম্প ওয়াক, ইউনিয়ন রুমে দেদার ফ্রি চা-বিস্কুট, ব্রিগেড মিটিং’য়ের দিনে পার্টি ব্যাজ আর বিরিয়ানির বাক্স এবং সর্বোপরি; এলেম থাকলে কচি নেতা’র উপাধি – এইসব মিলে ছাত্র রাজনীতি।

ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হাতেখড়ি না হলেও ক্ষতি নেই। সক্রিয় বলে অবিশ্যি কিছুই হয় না; আদতে সবই ইন-ডাইরেক্ট ; অন্যের মাথায় কাঁঠাল ক্র্যাক করে দুনিয়া চলছে।
বাঙ্গালির কাছে রাজনীতির ডিস্ট্যান্স লার্নিং কোর্স হিসেবে রয়েছে জলখাবারের পাতে আলু ভাজার হলুদ মাখা খবরের কাগজ। অথবা পাড়ার অমুক-দা বা ছোটকাকার পলিটিকাল এনালিসিস ও টিপ্পনী। রাজনীতির যাবতীয় জ্ঞান কুলকুল করে অনবরত মগজে চালান হয়ে চলেছে।

যৌবনের রঙ দেহে সঠিক ভাবে লাগবার আগেই মনে লাগে পার্টির রঙ। পাড়ার নেতা তখন দেবতা, আখের তখন পার্টি ম্যানিফেস্টো। এর সাথে যোগ হয় গোঁয়ার্তুমি; এই ব্যাপারটি সমুচিত পরিমাণে না থাকলে চায়ের দোকান কি কফি হাউসের পলিটিকাল তর্কে জমি পাওয়া অসম্ভব। আস্তিনে যদি কিছু জাঁদরেল খিস্তি গুঁজে নেওয়া যায় তবে অতি জম্পেশ।

বাঙালি মননে রাজনীতির আলোচনা বলে কিছু হয় না, হয় শুধু তর্ক ও ঝগড়া। এট দি হাইয়েস্ট ফর্ম- হাতাহাতিও চলতে পারে। আমি যা বলছি; চমৎকার বলছি আর আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই সে ব্যাটা ক্যাপিটালিস্ট রাস্কেল। আমি চাই উন্নয়ন আর আমার বিরোধী মানেই পুকুর-ডাকাত। আমি হচ্ছি লিবারেল আর যে উল্টো কথা বলে সে হিটলারের চুমু খাওয়া বান্দা। আমার মতবাদ তুলসি পাতা আর অন্য মতবাদ চোলাই।

বেশির ভাগ বাঙ্গালির জন্যে রাজনীতির আড্ডা এক ধরনের সুস্বাদু ও অব্যর্থ ইসবগুল বিশেষ।

Wednesday, May 8, 2013

রবিজ্ঞান

রবি ইজ আওয়ার কম্যুনিটি-হবি। হেবি আমেজ। 

কবিত্বের গভীরতা সম্বন্ধে বিশেষ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না; কারণ ভদ্রলোক মদ্যপান তেমন করতেন বলে শোনা যায় না। তবে  দাঁড়ি তে যদি থাকে জীবন-মুখির আসলি মেজাজ, তাহলে  নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে রবি'ই হলেন প্রাচীন নচিকেতা।  শুধু জিন্স আর বাতেলা বাদ থাকায় নচি-সম গ্ল্যামার-রূপ  বাদ থেকে গেলো। নচির ওই হু-লা-লা-লা'র ছোঁয়ায় অবশ্য রবিবাবুর পাগলা হওয়া গানটা অনেকটাই দাঁড়িয়ে গেছে।  

তবে নেহাৎ হেলাফেলার মাল নন। হাজার হলেও নোবেল ম্যানেজ করেছেন, বোলপুরে ইস্কুল আর গুচ্ছ আঁতলামো ছেড়ে গেছেন। রাস্তায় মূর্তি, শো-কেসে সাজানো রচনাবলী এবং শাওয়ারের তলে একলা চলো'র সুর। এলেম তো আছেই। তাছাড়া  বুদ্ধিমান পাবলিক  মাত্রই বুঝবেন যে ওনার আঁকার হাতটা অনেকটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর মত।

ইয়ে, দাঁড়িওয়ালার বৌদির সাথে একটা ইয়ে ছিলো না ? কে একটা বলছিলো যেন, আমি অবিশ্যি পাত্তা দিইনি।
 

যাক গে। আউর এক জন্ম-বার্ষিকী। নেকু গলায় মিনমিন, সাথে হারমোনিয়াম, পাশে রজনীগন্ধার ষ্টিক ভর্তি ফুলদানি। গাম্বাট কন্ঠে ঢেঁকুর মাখা আবৃত্তি আর টিভি-ভর্তি  ফালতু গদগদ।

পাড়ার গুলে-মাতাল মাঝে মাঝেই বালক সংঘের ক্লাব-চাতালে খাড়া রবি-মূর্তির সামনে এসে চোলাই পেটে লুটিয়ে পড়ে। আর বিড়বিড় করে আউড়ে চলে : 

" বহু কোটি বাঙালি হে মা জননী , রেখেছে ঠাকুর করে আদর করনি "

অন দ্যাট নোট : " হ্যাপী রবি-ডে গাইজ" । 

Monday, May 6, 2013

ঠকানে বৃত্তান্ত

প্রেমিক চোরা প্রেমে প্রেমিকাকে ঠকালে ।

প্রেমিকা ঠকিয়ে অন্য ঠোঁটে চুমু খেলে।

মেঘলা আকাশ ঠকিয়ে দিয়ে ঢেলে দিলে মেঘ।

দোকানি ঠকিয়ে গছিয়ে দিলে বাসি রসগোল্লা।

টেরি ঠকিয়ে টাক নামালে।

বয়েস ঠকিয়ে বাত পাঠালে।

সি-পি-এম ঠকিয়ে গাঁট্টা দিলে, তৃনমূল ঠকিয়ে চাটি মারলে।

কিন্তু সব চেয়ে খুনে ঠকানে বৃত্তান্ত;

ধোকার ডালনা কে ঠকিয়ে; পনীর-ন্যাকামোর বাঙালি রসনায় ঢুকে পড়া।

মর্মান্তিক। মর্মান্তিক। মর্মান্তিক।  

Wednesday, May 1, 2013

বাঙালির বিপন্ন ক্যারিস্মা

বাঙালির ক্যারিস্মা কমে যাচ্ছে ক্রমশ। মধ্যবিত্তের ভুঁড়ি নেই, মধ্যবয়স্কের গেঁটে বাত নেই, মধ্য-বুদ্ধি ছাত্রের নধর আলিস্যি নেই। বিরক্তিকর।

পাড়ায় পাড়ায় এখন মাল্টী-জিম আর তার কব্জায় পড়ে পাবলিক চিমসে মেরে চলেছে। এক সময় ধুম ছিল ভোরবেলা আলতো হেঁটে এসে মৌজ করে পরোটা আলুর দম গেলার। এখন ছাই ট্রেড-মিলে নাচুনি ঝেড়ে , ডাইনিং টেবিলে বসে, ইকনমিক্স টাইমসে মুখ গুঁজে; করনফ্লেক্স গেলা। ছিঃ ছিঃ, অমন ফিটনেসের মাথায় বাজ।

ভাত-ঘুম ছিল এক কালের বিউটি-ফ্যাসন। এখন দেবীরা দুপুরে এরবিক্সে নিজেদের নিমজ্জিত করছেন।  ফল ? তোবড়ানো গাল, হাড়গিলে দেহ-পল্লব – অমনটা না হলে নাকি আজকাল চাবুক বলা চলে না। আরে বাবা, বং-ললনা যদি আলতো থলথলে সৌন্দর্য-রসে না ভিজে থাকেন; তাকে কি আর পাতে দেওয়া চলে ?

জিম যে অতি হাড়-হিম করা ব্যাপার; তা এই বেলা পাবলিকে টের না পেলে সমুহ বিপদ।

Thursday, April 25, 2013

চিট-ফান্ড

বস বলছে ছয় মাসের কাজ ছয় দিনে সারতে। 

বউ বলছে পুজোয় দীঘা-টিঘা চলবে না, ম্যালেইসিয়ার টিকিট কাটতে হবে। 

মন্ত্রীরা ভাবছেন এক কোপেই হাজার কোটি হাপিস মারতে, ইনস্টলমেন্টে ঝাড়ার  গড়িমসি অসহ্য।

প্রেমিকার মনের চিড়ে সওদাগরী আপিসের চাকরির জলে আর ভিজছেনি, দরকার "ফরেন পোস্টিং"।

ভিক্টোরিয়া প্রেম প্রেমিকের মনে যথেষ্ট সুধা-সঞ্চার করতে পারছে না আজকাল, কথায়  কথায় শুধু বকখালি-উইকেন্ডের বাই। 

বাংলা সিনেমা-দেখিয়ে পাবলিক এখন আর বাইক-চড়া রোম্যান্সে গলে পড়ছেন না, "বেড-সিন" চাই'ই চাই।

ভগবানও মাগনায় ক্রিকেট ছাড়তে চাননা, চল্লিশে চালসে ভগবান মানবেন কেন ? 

জগত্টাই এখন চিট-ফান্ড, তামাম পাবলিক চাইছেন কানা কড়ি ছড়িয়ে গ্যালন গ্যালন সর্ষের তেল গায়ে মাখবেন। লে রগড়। 
খামোখা সুদীপ্ত সেন'য়ের পেছনে হুমড়ি খেয়ে গড়াগড়ি যাওয়ার কি দরকার ?  

Friday, March 15, 2013

হুজুগ-দেবী ও বাহানা-সম্রাট

ঘুরতে যাওয়ার জন্যে কত শত মজবুত হুজুগ মজুত রয়েছে। ছোট ঘুরতে যাওয়া, মেজ ঘুরতে যাওয়া বড় ঘুরতে যাওয়া। আহাঃ।  

কতদিন ঘুরতে যাওয়া হয় না, চলো ঘুরে আসি। পাহাড় ডাকছে গো, চলো তবে। জগন্নাথের মানত ওভার ডিউ, এবার না গেলেই নয়। মাইনে বেড়েছে গত মাসে, ঘুরে আসি। বোনাস আ গয়া, টিকিট কেটে ফেলা যাক। শরীর মন ভালো নেই, একটু বেড়িয়ে আসলে কেমন হয়? প্রবল স্ফূর্তি; দল বেঁধে বেড়িয়ে আসা যাক। মন কেমন বিকেলবেলা, চলো গঙ্গার ঘাটে। সময় কাটাবার  পার্কে হাঁটাহাঁটি। পায়ের তলায় আর ইলিশ ভাপায়; সর্ষে ম্যাজিকের জুড়ি নেই। ঘুরে বেড়াবার যুক্তি জোগাড় করে একদল মানুষ হিল্লে মনে ঘুরে বেড়ান; যেমন আমার সঙ্গিনীটি।

অন্যদিকে। যারা মুভ-টি-নট হয়ে ঘরের কোনে ক্যানিয়াকুম্যারি টু ক্যাস্মের এস্পার-ওস্পারে করে থাকেন, তাঁদেরও বাহানা-বাহিনী নিতান্ত নড়বড়ে নয়।
পাড়ার মণ্ডপে না বসলে পুজো গ্যাঁজলা মেরে যায়, এ সময় ঘুরতে বেরোবার মানে হয় না। উইকেণ্ড রেস্ত করে রেস্ট নেওয়ার সময়; বেফালতু বোলপুর গিয়ে হেজিয়ে মরার কি দরকার ? সমুদ্র বাদ কারন কুষ্ঠীতে আছে জলে ফাঁড়া বিটউইন আঠারো টু তেপান্ন। Acrophobia আর সর্দির ধাত, অতএব পাহাড় বাদ। কলকাতার ঘেমো ভিড়ে চটকে নিউমার্কেট ঘুরবার জন্যে রবিবারের সিয়েস্টা ত্যাগ করতে হবে, শেষটায় এমন দিন এলো ?  ঘরে বসে ল্যাদ খাওয়ার টাল-বাহানা মুলক যুক্তির লিস্টি অনেকে পকেটে রেখে চলা-ফেরা করেন। যেমন আমি।

দেবীর ভ্রমন-পিপাসায় ও নিজের গৃহ-আলস্যের যুদ্ধে দুজনেই অনবরত জিতে চলি।  তাই সিমলা বেড়াতে , হোটেলের বারান্দায় ফেলে আসা কলকাতার ব্যালকনির মেজাজ খুঁজে পেয়ে আমি বিভূতিভূষণ ও কফি-কাপে দিন উড়িয়ে দিই। আবার দেবী বাড়ির ছাদে উঠে বিকেলের পাতলা আলোয় পড়েন ভ্রমন কাহিনীর রগরগে সমস্ত প্রকৃতি প্রেম। এইটুকুতেই সংসারে থাকা।  

Thursday, March 7, 2013

শাহবাগের প্রতি



আমি মনে মনে শাহবাগ প্র্যাকটিস করি। সক্কাল সক্কাল বাথরুমে ঢুকে শাওয়ারের তালে চিৎকার করে উঠি “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”। এরপর গায়ে ডিও স্প্রে করতে করতে আলতো গলা কাঁপুনিতে ফ্ল্যাট বাড়ির বাতাস হয়ে ওঠে বিপ্লব-ময় : “ আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলতে পারি ?” ।

তারপর মুখে সামান্য লুচি-আলুর দম মুখে পুরে ঝুঁকে পরি আনন্দবাজারে; এক দিকে শাহবাগ; অন্য দিকে শহবাগ। ওপারের নির্ভীক প্রতিবাদের খবরে গর্বে ফেঁপে উঠি, বাংলা বলে ঢেঁকুর তুলি,গর্জে উঠি ; “আর একটা লুচি প্লিজ”।

হুন্ডাই গাড়ির স্টীয়ারিং’য়ে দ্রুত অফিসের দিকে ভেসে যেতে যেতে অবাক হয়ে ভাবি ; “ আমরা কি ভাবে পাল্টে দিচ্ছি বাংলার জং ধরা যত খোল নলচে; কি ভাবে ঘুরিয়ে দিচ্ছি বাঙ্গালির ভাগ্য-পথ”। তিন বার জয় বাংলা বলে চালিয়ে দিই গাড়ির মিউজিক সিস্টেম-   “ যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক আমি তোমায় ছাড়বো না মা...” । আহা; গায়ে কাঁটা আর মৌলবাদের মুখে ঝ্যাঁটা।

অফিসে ইংরেজিতে বার-ফাট্টাই চলে বটে কিন্তু মনে মনে বিপ্লবি বাঙালি হল্লা করে চলে “ জয় শাহবাগ, জয় বাংলা, স্ক্রিউ রাজাকার”। তবে অফিস তো, মন কে একটু মিউট করে চলতেই হয়।

ঘর ফেরতা টিভি’তে শাহবাগ, টুইটারে শাহবাগ, ফেসবুকে শাহবাগ - রক্ত গরম হয়ে যায় মাইরি; এত জোর বিপ্লব পায় যে কি বলবো। নিজেকে সামলাতে পারি না; সামান্য হুইস্কি আর এম-পি-থ্রি’তে প্রতুল মুখুজ্জের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে গুনগুন করে চলিঃ “ আমি যা কিছু মহান বরন করেছি বিনম্র শ্রদ্ধায়, মেশে তেরো নদি সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায় / বাংলা আমার তৃষ্ণার জল তৃপ্ত শেষ চুমুক / আমি একবার দেখি বার বার দেখি দেখি বাংলার মুখ”। 

Wednesday, February 20, 2013

বনধ থাকুক

বনধ কে যারা গা-জোয়ারি গাল পাড়েন, ইতিহাস তাঁদের চাবকাবেন; এমনটাই আশা। অফিসে বসে সলিট্যায়ার খেলার চেয়ে দুপুরের ভাত ঘুম ঢের ভালো।  মুখে আপনি যাই বাতেলা ঝাড়ুন, নিজের হৃদয় হাতড়ালে টের পাবেন যে বনধ আসলে হিসেবি-ব্লাউজের-সুন্দরী-পরনারী বই আর কিছু নয়।  
  
সব চেয়ে দুঃখের বিষয় যে বনধ-শিল্প বাঙালি আজও সঠিক সুরে বাঁধবার চেষ্টা করলো না। বনধ যেন লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা; আঁতলামো করে খিস্তি মেরেই খালাস। বনধ নাকি ইকনমি, জি-ডি-পি, শিক্ষা-স্বাস্থ সমস্ত ইস্যুতে ব্লেড চালায়। আরে ধুর; দেশের পর দেশ সেনাবাহিনী পুষে ফতুর হয়ে যাচ্ছে আর যত গলা-শুকনো কান্না শুধু বনধ’য়ের বেলায়। বনধ হলও হাফ-শহীদ-চাকুরি’বাজেদের বুকের ভেতরের ব্যালকনির হাওয়া; খল-নলচে জুড়ে না হয় খেলুক একটু।  

বনধ-সংস্কৃতি বরং একটু সুসংহত করে তোলবার সময় এসেছে। অমুক-চেতনা সপ্তাহ, তমুক-জাগরন পক্ষ গোছের বেফালতু নেত্য না করে; জাতীয় বনধ সপ্তাহ পালন করা হোক। পালা করে দেশের তাবড় রাজনৈতিক দলগুলো বনধ ডাকবেন। পার্টির বনধ ভলেন্টিয়াররা রাজ্যময় ছড়িয়ে পড়বেন বনধ সম্বন্ধে পাবলিককে আরও সচেতন করে তুলতে। মোরে মোরে ওয়ার্ক-শপ করে লোককে শেখানো হোক কি ভাবে বনধের দিন রাস্তা জুড়ে ক্রিকেট ফুটবল খেলতে হবে, অফিস-কারখানার গেটের সামনে জমায়েত করে কি ভাবে থিয়েটার করতে হবে, কি ভাবেই বা বিভিন্ন পার্টির বনধ-মাস্তানি-কমিটি’তে নাম লেখানো যাবে।

রাজ্যের বনধ-মন্ত্রি রাস্তায় কোনও মিনিবাসে আগুন জ্বেলে বনধ-সপ্তাহের উদ্বোধন করতে পারেন; পেছনে রি-মেড রবিন্দ্রসঙ্গীতের কোরাস – “ বাস জ্বেলে দাও, বাস জ্বেলে দাও, বাস জ্বেলে দাও, দাওওওওওওও...”। এর পর সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলো এক এক করে আয়োজন করবেন এক দিনের বন্ধ। রাজ্য জুড়ে উদযাপিত হবে বিভিন্ন উৎসব ও আনন্দ-খেলা; যেমন বনধ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ছোটদের জন্যে বসে-টায়ার-পোড়াও প্রতিযোগিতা, থিম ভিত্তিক সড়ক-অবরোধ ইত্যাদি। খুব ভালো হয় যদি প্রত্যেক বনধ বা বনধ-বিষয়ক উৎসবগুলোর জন্যে আলাদা আলাদা স্পনসর পাওয়া যায়। বেশ একটা আই-পি-এল হাওয়া লাগবে; কার্বন-কামাল-গাড়ি ভাংচুর বা সিটি-মোমেন্ট অফ রেল-অবরোধ। আহাঃ।

সপ্তাহ শেষে, যখন সমস্ত দলের বনধ শেষ, তখন শুরু হবে সেরা বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল নির্বাচনের পালা। এটা ডেমোক্রেসির যুগ, ভোটাভুটি ব্যাপারটা মানুষ বেশ খায়। অতএব “সেরা কে”,  এই ব্যাপারটা ঠিক করা যেতে পারে এস-এম-এস ভোটের মাধ্যমে। আপনার প্রিয় বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল কে জেতাতে হলে আপনাকে এসএমএস করতে হবে <পার্টির নাম>স্পেস<সেরা-বন্ধবাজ> আর তা পাঠিয়ে দিতে হবে অমুক নম্বরে। পার্টি নেতারা নিজে এসে এস-এম-এস এপিল করবেন; তাতে খেল জমবে। সেরা বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল পাবেন বছরে আরও দুটি এক দিনের বনধ ডাকার সুবর্ণ সুযোগ। রাজ্য-জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বনধ-প্রিয় জনতার জন্যে বনধ গুডীজ; যেমন আই-লাভ-বনধ লেখা টি-শার্ট, টুপি, বিবেকানন্দের বানী লেখা শুনশান বনধ-রাস্তার পোস্টার; ইত্যাদি।

এ সব কিছু হলে দেখবেন; টি-আর-পি,স্পন্সর,এন্সিলারি আউটপুট ইত্যাদি সব মাল-কড়ি মিলে বনধ-ইন্ডাস্ট্রি আপনাদের ইকনমিতেও টু পাইস ঢালবে। ল্যাদখোর পাবলিকও বছরে কদিন ভাত ঘুম দিয়ে হাঁপ ছাড়বে।
      

Monday, February 4, 2013

সাবান-দানি

সাবান-দানি হয়ে বেঁচে থাকতে মন চায়। প্লাস্টিকের নধর কোমর বাঁকানো দেহ। বেলেল্লা লুঙ্গি মাফিক সর্বক্ষণ আধ-খোলা ঢাকনা। গায়ে বাহারি কারুকাজ, অথচ দেহের অন্য প্রান্তে ফুঁটোর মেলা – যা কিছু জলজ ও অস্থির; টুপটাপ করে ইজেক্ট করে যাওয়া। বুক-পেট ভর্তি ফেনাময় সম্ভাবনা।

সাবানেও ফ্যানা, বেধড়ক মদ গিলেও গ্যাঁজলা ওঠা ফ্যানা; দুইই সাফ করে – দেহ, হৃদয়, লিভার, ভবিষ্যৎ।

মাতাল হলেই নিজেকে সাবান-দানি ভেবে ডন ক্যুয়োটে হয়ে যাই। পেটের মদে সাবানের খুশবু- ল্যাভেন্ডার। লিভারে ফুটো গুলো স্রেফ সাবান-দানির পারফরেসনস।  

Sunday, January 20, 2013

রবিবারের শেষ পাতে

রবিবারটি মরে আসছে গো, মরে আসছেশনিবার বিকেল থেকে তা-ধই-তা-ধই বেয়াদপি নেচে চললামকচুরী খায়েগা, দুপুরে ঘুমায়েগা, বিশের চায়ের দোকানে আড্ডা মারেগা, ফ্রেঞ্চ ওপেনে মেয়েদের টেনিস দেখেগা, মটন গিলকে চিকেন কো ডাঁটা-মাফিক বোলকে গালি পাড়েগা, দায়-দাইত্বর নিকুচি করেগাধুর শালা

পলিটিকাল গুণ্ডাবাজি শেষ হয় না, বউয়ের চাহিদার ফিরিস্তি শেষ হয় না, কফি হাউসের আঁতলামি শেষ হয় না, আনন্দবাজারে পাত্র-পাত্রী বিজ্ঞাপন পড়ে শেষ হয় না - এই রবিবার শেষ হয় কেন ?

শুক্রবারের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে মনে হয় রবিবারের পর পৃথিবী ক্ষতমউইকেণ্ড-মুখী অফিসের শেষ বেলায় যে ফাইল হাফ-খামচা মেরে রেখে চলে এসেছি, সেই ফাইল কাল আমায় গিলে মুখ আচাবেবস কলার পাকড়িয়ে চেল্লাবে, “পাকড়াশীর ফাইল কমপ্লীট হয়নি কেন ? তোমার পাবলিক ফাঁসি হচ্ছে না কেন?”

বাসে ভীড়, রাস্তায় জ্যাম, লাঞ্চে মুলো-ঘণ্ট – এই সোমবার এসে আমার ঈশ্বর বিশ্বাস কচুকাটা করে দেয়।

যে ভুবনে সোমবার আসে, সে ভুবনে কাহাকা ভগবান ? কাহাকা আল্লা ? সব বুজরুকি। জীবনে রয়ে গ্যাছে শুধু রবিবারের কচুরী-আর বাকি হপ্তার ক্যালানি। রবিবার রাত দশটা বাজলেই মনে হয় যে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়াটা তেমন গলদঘর্ম-কেস নয়। ইলিশ-সর্ষে, হুইস্কি, গুলাম আলী, সঞ্জীব চাটুজ্জ্যের মত কিছু ফ্যাক্টর বাদ গেলেও; সন্ন্যাস জীবনে থাকবে হিমালয়ের কম্ফর্টেবল ওয়েদার (বছর দশ মাস কলকাতায় প্যাচপ্যাচ অসহ্য হয়ে উঠছে) আর স্কন্ধ-কাটা সোমবারআয়ু অন্তত ত্রিশ বছর বেড়ে যেতে বাধ্য

তবে এ রক্ত-ঘাম-বেরহমির গপ্পেই জিন্দেগি শেষ নয়। পাঁচ দিনের নরক পেরিয়ে, গোপন প্রেমিকার আঙুলের ডগার মত তুলতুলে শুক্রবার সন্ধ্যেটি, আদুরে নূপুরের শব্দ হয়ে বুকে গড়িয়ে পড়বেই। ফের কোনও ফাইল অফিস টেবিলে বেমক্কা অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে থাকবেই। ফের এক রবিবার সকালে, আমার পরমাত্মীয় রহিম এক মুখ হাসি নিয়ে আমায় ডেকে নেবে তার পবিত্র দোকানটিতে, “ একদম নধর এবং কচি। এইমাত্তর কাটাপাঁজড়-ঠ্যাংয়ের দিক মিশিয়ে দিই কিলো খানেক ?”