Showing posts with label Not Quite A Story. Show all posts
Showing posts with label Not Quite A Story. Show all posts

Monday, December 30, 2013

একটি চুরির ঘটনা



অনিন্দ্য নিজেকে গোয়েন্দা বলতে বেশ লজ্জাই পায়। মাসে যে কটা কেস তার কাছে আসে, তা প্রায় সবই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী সম্বন্ধে গোপনে খোঁজখবর নেওয়ার জন্যে – পাত্রর মাইনে-কড়ি ঠিক কত, পাত্রীর কোনও গোপন প্রেম রয়েছে কি না ইত্যাদি। তার তোপসে নেই, আছে শুধু তার ঘরের ও অফিসের কাজের লোক কমল। তার কাছে যে এমন কেস কিভাবে এলো। ভাবতে ভালো যতটা না লাগছে, তার চেয়ে বেশি লাগছে ভয়। দশ বছর হল এ লাইনে কাজ করছে অনিন্দ্য। তার এই সুপার শার্প ডিটেকটিভ এজেন্সি পাত্রপাত্রী খবরাখবর জোগাড়ে বেশ নাম করেছে শহরে। কিন্তু তাই বলে এমন জটিল কেস ? ডাইরেক্ট মূল্যবান সম্পদ চুরি ? এমন মক্কেল তার অফিসে আসলে কি চায়ের সঙ্গে সামান্য টা’য়ের ব্যবস্থা রাখা উচিৎ ? কমলের সঙ্গে কনসাল্ট করতে হবে।

দীপক মিত্র’র চেহারা দেখে বয়স চল্লিশের বেশি মনে হয় না। চেহারা ভারি ডাক-সাইটে, হীরের ব্যবসায়ীর চেহারা এমনটাই হওয়া উচিৎ। গলার স্বর ঠিক বাজখাঁই নয়, তবে দম আছে। অনিন্দ্যর বেশ নার্ভাস লাগছিল। কিন্তু দীপকবাবু যখন জানালেন যে চুরি হচ্ছে ‘কলকাতার শীত’, তখন অনিন্দ্যর মালুম হল যে ভদ্রলোকের মাথায় ছিট রয়েছে। মানে মানে বিদেয় করতে হবে, এই ভেবে কমলকে সে ইশারা করলে যে চায়ের সাথে ফুলুরি ভাজার দরকার নেই।
   

অনিন্দ্য – চুরি যে হয়েছে, সেইটা আপনি কি করে বুঝলেন ?
দীপক – নিজের চোখে লোপাট হতে দেখছি তো।
অনিন্দ্য – আমি যদি আপনাকে পাগল বা বেয়াদব ভাবি তাহলে কি খুব অন্যায় হবে?
দীপক – না। লাল-বাজার বা অন্যান্য জায়গাতেও তাই বলেছে। তাই বাধ্য হয়ে আপনার কাছে এসেছি। আই উইল অফার ইউ টেন থাউজ্যান্ড যদি আপনি কেসটা নেন। যদি চোরকে কে বামাল ধরতে পারেন, আই উইল গিভ ইউ আ ল্যাক।
অনিন্দ্য – দশ হাজার টাকার আমার খুব দরকার। কেস নেব।
দীপক – এই খামে দশটা হাজার টাকার নোট আছে।
অনিন্দ্য – গুনে নিলাম বলে কিছু মনে করবেন না। হয়ত আপনার মাথার ছিটের সুযোগ নেওয়াটা অন্যায় হচ্ছে...
দীপক – ইট ইজ ওকে। বালিগঞ্জ প্লেসে, রাস্তার ধার ঘেঁষা একটা ঘুমটি চায়ের দোকানে ওরা এসে প্ল্যান করে রোজ। ওই দোকানটাই ওদের কন্ট্রোল রুম। কলকাতার শীত-চুরির ব্লু-প্রিন্ট ওখানেই তৈরি হয়েছে।
অনিন্দ্য – এইটে মনে হওয়ার কারণ ?
দীপক - আমার কানে এসেছে। হরিপদ আর কালু; ওদের প্ল্যান আমি শুনে নিয়েছি। লেরো খেতে গেছিলাম। আমার কান ভারি শার্প।
অনিন্দ্য – হরিপদ কে ? কালু কে ? ওরা কলকাতার শীতকে চুরি করতে চাইবে কেন ? আর ইয়ে, মানে আমি বুঝতে পারছি না আপনি এমন দড়কচা লেভেলের গুল কেন মারছেন ?
দীপক – আপনি টেন থাউজ্যান্ড রিফিউজ করছেন ?
অনিন্দ্য – না! সে ক্ষমতা আমার নেই।
দীপক – হরিপদ’র বয়স ষাটের বেশি। ওই চায়ের দোকানের মালিক। ওর ছেলে কালু। এই চিরকুটে ওদের দোকানের এগজ্যাক্ট ঠিকানা আছে। আপনি আমায় কবে রিপোর্ট করছেন ?
অনিন্দ্য – ঠিক দু দিন পরে।
হরিপদ আর কালুর জীবন-পঞ্জি বার করে পাগলটার হাতে তুলে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। কেস জলবৎ অনিন্দ্যর কাছে।

গড়বড়। অনিন্দ্য বেনামি হুমকি চিঠি পেয়েছে যাতে সে এই কেস না নেয়। কেউ তার বসবার ঘরে চিঠিটা মুড়ে ছুঁড়ে ফেলেছিল। কিন্তু বড় কথা হচ্ছে, দীপকবাবু আচমকা নিখোঁজ। বাড়ির লোক ক্লু-লেস। পকেটে গরম দশ হাজার সত্ত্বেও অনিন্দ্য বেশ ফাঁপরে পরে গেল।

এই তিনদিনে হরিপদ’র যথেষ্ট খবর অনিন্দ্য জোগাড় করেছে। বা জোগাড় করার চেষ্টা করেছে। এবং তার মাথা ঘোরার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ অনিন্দ্য সান্যাল, যে কিনা বারুইপুরের পাত্রের সাত পুরুষের খবর মাত্র দেড় দিনে জোগাড় করে ফেলে, সে হরিপদ’র বাড়ির ঠিকানা মালুম করতে পারলে না। এই তিনদিনে রোজই হরিপদ দোকান বন্ধ করবার পর তার পিছু নিয়েছে অনিন্দ্য। কিন্তু কোথায় কখন যে হরিপদ মিলিয়ে যায়।

৬  
হরিপদ – আপনাকে কিডন্যাপ করতে ভীষণ খারাপ লেগেছে। 
অনিন্দ্য – কিন্তু করলেন কেন ?
হরিপদ – কারণ শহরের শীত চুরি হওয়ার মত এমন একটা ফালতু খবরের পিছনে আপনি দৌড় শুরু করেছিলেন।
অনিন্দ্য – দীপকবাবুকে...
হরিপদ – ইয়েস স্যার, আমিই কিডন্যাপ করেছি।
অনিন্দ্য- এমন পাগলামিকে কেন্দ্র করে আপনি দুজনকে কিডন্যাপ করলেন। এটা পাগলামি নয় ?
হরিপদ – শুধু কিডিন্যাপটাই দেখলেন ? আজ যে আপনাদের দুজনকেই খুন করব, সেটার ব্যাপারে কিছু বলবেন না?
অনিন্দ্য – আপনি উন্মাদ হরিপদবাবু।
হরিপদ – আমি উন্মাদ নেই। আর আপনার সন্দেহ ঠিক অনিন্দ্যবাবু। আমি হরিপদও নই। আমার নাম আপনি উচ্চারণও করতে পারবেন না। তবে আমায় ভালোবেসে প্রি-সু বলতে পারেন। আমি অবভিয়াসলি দেখতেও এমন নই। ছদ্মবেশ। গত ত্রিশ বছরের ধরে চা ওয়ালা হয়ে আপনাদের শহরে ঘুরঘুর করছি। আর প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রি-স্রে বা আপনাদের পরিচিত কালুর সাথে মিলে, আপনাদের কলকাতার শীতের আমেজ চুরি করি। চুরি করে সেই আমেজ কে ডিজিটাল এলগোরিদমে কনভার্ট করে আমাদের গ্রহ পেঞ্চুয়ারিতে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
অনিন্দ্য – সাইবেরিয়া থাকতে আপনি কোলকাতা এলেন শীত চুরি করতে ?
হরিপদ – দেখুন অনিন্দ্যবাবু। আবহাওয়া ও আবহাওয়ার আমেজ চুরি এবং সেই চুরি করা আবহাওয়ায় নিজেদের গ্রহ সাজিয়ে তুলতে আমরা শিখি আজ থেকে শ খানেক বছর আগে । ইয়েস, আমাদের গ্রহের পরিবেশ আর প্ল্যানেটারি মোশনের কেনা গোলাম নয়। তারপর আমরা দু শো বাহাত্তরটা এমন গ্রহ জুড়ে জরীপ করেছি যাঁদের পরিবেশ মনোরম। এই সব গ্রহের পনের লক্ষ অঞ্চল আমরা ঘুরে বেরিয়েছি আদর্শ আবহাওয়ার খোঁজে। কিন্তু গড় বারো ডিগ্রী তাপমানের এমন মধুর মেজাজ, এমন নলেন গুড়, এমন ময়দানের শীতের বিকেলের মধু, এমন মাঙ্কি টুপির আদুরে-পনা, এমন লেপের মিঠে ওম, এমন ফুলকপির শিঙ্গাড়ার আবেশ; আমরা আর কোথাও পাইনি অনিন্দ্যবাবু। পেঞ্চুয়ারি ভীষণ ছোট গ্রহ। কোলকাতা থেকে শীত চুরি করেই আমাদের সম্পূর্ণ গ্রহের পরিবেশ গোটা বছরের জন্যে মনোরম করে রাখা যায়।
অনিন্দ্য – আমার কিস্যু বিশ্বাস হচ্ছে না...আপনি...আপনি...
হরিপদ – অত নার্ভাস হবেন না অনিন্দ্যবাবু। খুন করার কথাটা আমি ঠাট্টা করে বলেছি। আমাদের সামান্য অসতর্কতায় এই যে দীপকবাবু আর আপনি আমাদের প্ল্যান-প্রোগ্রামের ব্যাপারে সন্দিহান হয়েছেন, তাতে আমাদের ভারি অসুবিধে। আমরা শুধু আপনাদের দুজনের ব্রেন থেকে এই কদিনের স্মৃতি একদম মুছে ফেলবো। সেই টেকনোলজি আমাদের আছে। সামান্য তো শীত-চুরি, তাই নিয়ে এত মাথা ব্যথার কারণটাই বা কি অনিন্দ্যবাবু ?
       
   
আচমকা এই দশটা হাজার টাকার নোট সমেত এই খামটা তার দেরাজে কি করে এলো, তা কিছুতেই মনে করতে পারছিল না অনিন্দ্য। এদিকে কমলকে জিজ্ঞেস করাও সমীচীন মনে হচ্ছে না।তাই বলে দশটি হাজার টাকা আচমকা তার দেরাজে, দুশ্চিন্তায় পড়তে হল অনিন্দ্যকে। 

Friday, December 20, 2013

স্যান্টার সারপ্রাইজ



মন বিলকুল  ভালো নেই। ডিসেম্বর এসে গেল তবু ধোপার ব্যাটা পশমের ওভার কোট আর প্যান্টালুন ফেরত দিলে না। লাগসই টুপিখানা সেই যে গত ফেব্রুয়ারি থেকে হাওয়া, এখনও খুঁজে পাওয়া গেল না । নতুন এক খানা টুপি জোগাড় করে নেওয়া যায় বটে, তবে পুরনোটার মায়া ত্যাগ করা কি অতই মামুলি ? ওদিকে স্লেজ খানার মধ্যে রাজ্যের উচ্চিংড়ের বাস। সাফ করতে জান কয়লা হয়ে যাবে। রেইন-ডিয়ার গুলো রাম আলসে হয়ে উঠছে, দিনরাত শুধু গাণ্ডেপিণ্ডে গিলবে আর মেদ বাগাবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় বিপদ অন্য জায়গায়। গিন্নী বেজায় জেদ ধরেছেন ডায়েট করে রোগা হতে হবে। এমন তাবড় ভুঁড়ি নিয়ে ঘুরে বেরালে নাকি গিন্নীর ইজ্জত ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। গত দু মাস যাবত খাওয়া-দাওয়ায় জোর করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাটাচ্ছেলে ভুঁড়িও গিন্নীর সাথে তাল মিলিয়ে ইঞ্চি চারেক কমে গেছে ইতিমধ্যেই ।  লাও ঠ্যালা। রস ছাড়া যেমন রসগোল্লা হয় না, তেমনি ভুঁড়ি ছাড়া কি স্যন্টা ক্লজ্‌ হয় ? চিমসে চেহারার কাউকে দুনিয়ার কোন বাচ্চা কি স্যান্টা ক্লজ্‌ বলে কদর করবে ?

এই সব সাত পাঁচ ভেবে ভেবে স্যান্টার রাতের ঘুম হাওয়া। গতবারে ইকুয়েডোরের এক খুকির উপহার শ্যামনগরের এক মিচকে খোকার উপহারের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার পর থেকেই মনটা খচ্‌খচ্‌ করছিল। ঠিক গড়বড় হল এইবার। আর হপ্তা খানেকের মধ্যে উপহারের ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পরার কথা, অথচ এদিকে না আছে ধড়াচুড়ো, না বাহন তৈয়ার। অন্য দিকে ভুঁড়ি বাবাজি বেজায় চুপসে রয়েছে। কোটপ্যান্ট পড়ে ফিটফাট বাবুটি সেজে যদি ট্রামে, বাসে করে মর্তলোকে ঘুরতে হয়ে তবে ইজ্জতের কোপ্তা হতে বাধ্য।

বিছানায় শুয়ে এমন সব বিদঘুটে সব চিন্তা করতে করতে সবে স্যান্টার চোখে একটু তন্দ্রা এসেছে- এমন সময় এক মিষ্টি কণ্ঠস্বরে স্যান্টার তন্দ্রা ভাঙল:
-   “ স্যান্টা, ও স্যান্টা, ঘুমিয়ে পড়লে ?”
স্যান্টা দেখলেন বছর ছয়েকের একটি ফুটফুটে মেয়ে। মিষ্টি সাদা ফ্রক পোশাকে। তার শিয়রে দাঁড়িয়ে। সম্ভবত জাপানী।
-   “ তুমি কে মামনি?” , স্যান্টা ব্যস্ত হয়ে পড়লে, “ এখানে এলে কি করে ?”
-   “ বাঃ রে, তুমি যখন আমার বাড়িতে আচমকা মাঝরাতে বাবা মা কে না জানিয়ে আমার কাছে এসেছিলে উপহার নিয়ে, আমি বুঝি তোমায় জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তুমি কি ভাবে এলে ?”
-   “ লে হালুয়া”, স্যান্টা অবাক, “ তাই তো, তোমার নাম কি মা ?”
-   “ কিম, মনে পড়ে?”
-   “ মনে ? ইয়ে মানে, পড়ে বই কি”
-   “ কচু মনে পড়ে। ছোটরা ভগবানের মত হয় না? তাঁদের মিথ্যে বলতে নেই”
-   “ সরি মামনি। বয়স হচ্ছে তো। ভুলে যাই মাঝে মাঝে”
-   “ ওটা নদী থেকে অল্প দূরে আমাদের বাড়ি ছিল। লাল রঙের। মনে পড়ে ? “
-   “ ওটা নদী ? হি...হি...হিরোশিমায় ? লাল বাড়ি? উঠোনে সাদা রঙের দোলনা ? বাড়ির সামনে ছোট্ট একটু বাগান ? উফ, তুমিই সেই কিম যে বায়না করেছিলে যে সাইকেল না পেলে তুমি নতুন বছরে কোত্থাও না বেরিয়ে বাড়িতে গুম হয়ে বস থাকবে ? হেঃ হেঃ, তোমার বাবার মাথায় সাইকেল কিনে দেওয়ার বুদ্ধিটা আমি কেমন চমৎকার ভাবে ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম বল। দারুণ সারপ্রাইজ ছিল না কিম ?”
-   “ বাহ, এই তো তোমার সমস্ত মনে আছে”
-   “ মাত্তর সত্তর বছর আগেকার কথা, স্যান্টার কি ভুলতে আছে?”
-   “ থ্যাঙ্ক ইউ স্যান্টা, তার পরের বছর আর আমাদের হিরোশিমায় এলে না কেন স্যান্টা ?”
-   “ পরের বছর, মানে পরের বছর ঠিক, পরের বছর...”
-   “ পরের বছর কি স্যান্টা ?”
-   “ পরের বছর ক্রিসমাসে তো তুমি ছিলেনা খুকি”
-   “জানি, অগস্টে বোমা পড়েছিল। আমাদের বাড়ির বেশ কাছেই। আমরা অবশ্য টের পাওয়ার আগেই ঝলসে গেছিলাম। কষ্ট পাওয়ার আগেই আমি বাবা, মা ও আমার ছোট্ট ভাই ছাই হয়ে গেছিলাম জান? আর শুধু কি আমরা, সত্তর হাজার মানুষ সেই রাত্রেই... ও কি, তুমি কাঁদছ?”
-   “তুমি সে বছর আমার কাছে একটা কলের পুতুলের জন্যে বায়না করেছিলে কিম। কিন্তু যে মানুষের কাছে বন্দুক-বোমা থাকে; তাঁরা যে আমার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী কিম। আমি পেরে উঠিনি ওদের সাথে। তোমার জন্যে কলের পুতুল আমি আনতে পারিনি মামনি। পারিনি”
-   “তুমি কি করবে বল স্যান্টা ? তুমি তো আমাদের কথা শুনতেই। কিন্তু তার আগেই তো...কিন্তু স্যান্টা একটা কথা বল, আরও যারা রয়ে গেছিল, তাঁদের জন্যে অন্তত তুমি সে বছর হিরোশিমাতে গেলে না কেন ?”
-   “ সাহসে কুলোয় নি। অত রক্ত, অত যন্ত্রণা। কার জন্যে উপহার নিয়ে যাব মামনি ? কেউ তো স্যান্টার কাছে আবদার করার মত অবস্থাতেই ছিলনা”
-   “ কেউ কিছু না চাইলে বুঝি যেতে নেই ? আচ্ছা স্যান্টা , যারা আমাদের বাড়ির ওপর বোমা ফেলেছিল, সে বছর তুমি তাঁদের বাড়িতে গেছিলে ?”

স্যান্টা’র দম বন্ধ আসছে মনে হচ্ছে। কিম তাঁকে আদর করে জড়িয়ে ধরছে কিন্তু স্যান্টা শান্ত থাকতে পারলেন না। হু হু করে কেঁদে উঠলেন। সে কি হাউ হাউ বুক ফাটা কান্না। সম্বিত ফিরল গিন্নীর ঝাঁকুনি তে।
_ “ অমন ফেউ ফেউ করে কান্না কেন মিনসে ?”
স্যান্টা ধড়ফড় করে উঠে বসে দেখলেন মাঝরাত। কিম কি তবে স্বপ্নে এলে ? সত্যি নয় কি ? আচমকা স্যান্টা অবাক হয়ে দেখলেন তার নাদুস নুদুস ভুঁড়িটি আবার ফুলে ফেঁপে আগের মত হয়ে গেছে। স্যান্টা বুঝলেন যে কিম সোনা তাঁকে তার ভুঁড়িটি উপহার দিয়ে গেছে। মনে প্রাণে চাইলে সবার জন্যেই স্যান্টার উপহার অজান্তেই এসে হাজির হয়। বাপেরও যেমন বাপ আছে, স্যান্টারও স্যান্টা রয়েছে।
“ মেরি ক্রিসমাস”, হাঁক ঝালাতে ঝালাতে সেই মাঝরাত্তিরেই স্যান্টা ছুটলেন স্লেজ সাফ করতে। 




Monday, November 18, 2013

প্যান্ডোরার বাক্স

প্যান্ডোরা অস্থির হয়ে পায়চারি করচিলেন। ঘেইমে-নেয়ে সে এক একাকার কাণ্ড। ঢাউস বাক্সখানা রাখা আছে চিলেকোঠার ঘরে। কত্তা বার বার কয়ে গিয়েচেন যেন বাক্সখানের ধারে কাছে প্যান্ডোরা না ঘেঁষে। কিন্তু মনের মধ্যে তার কেমন যেন এতাল-বেতাল হচ্ছে গো।

মিনসে ভর দুপুরে অমন বাক্স নিয়ে এলেন কেন গো। আনলেনই যখন তখন চিলেকোঠার কোনায় লুইকে রাখলেন কেন গো। লুইকে রাখলেনই যখন, তখন প্যান্ডোরাকে সে বাক্সের ধারে কাছে যেতে বারণ করলেন কেন গো। মিনসে বারণ করে আবার নিজে বাড়ি থেকে বেইরে গেলেন কেন গো। এখন প্যান্ডোরা কি করবে গো।

চিন্তেয় চিন্তেয় হাঁপ ধরে যায় প্যান্ডোরার। বাক্সে কি এমন যেমন তেমন ব্যাপার আছে গো ? বাক্সে কি এমন বাঘ-ভল্লুক রইচে গো ? কি এমন বাক্স যা প্যান্ডোরা ধইরলে তার মিনসের মান-ইজ্জৎ লটকে যাবে গো ? মিনসে কি নতুন পিরীতির খপ্পরে পড়েচে গো? বাক্সে করে সতীনের গয়না এনেচে নাকি অ্যাঁ ? এনে নুকিয়ে রেখেচে ? প্যান্ডোরার কি এমন সব্বনাশ হতে চলেচে গো ? প্যান্ডোরা কি করবে গো ?
ও হরি, প্যান্ডোরা কি করবে গো ? প্যান্ডোরার কি সব্বনাশ হল গো ?

নাঃ, এমন হতে দেওয়া যাচ্চে না। প্যান্ডোরা ঠিক করলে সে ঝ্যাঁটা মারবে মিনসের নিষেধের মুখে। দুদ্দাড় করে সিঁড়ি বেয়ে চিলেকোঠায় উঠে গেলেন প্যান্ডোরা বউঠান। ঘরের কোনে মেঝেতে রাখা আধ-হাত লম্বা সাদা কাগজের বাক্স। বিকেলের আবছায়াতে দেখতে পষ্ট নয় গো। প্যান্ডোরা উবু হয়ে বসলেন বাক্স খানার পাশে। মন শক্ত করলেন। সাদা কাগজের বাক্স রঙিন ফিতে দিয়ে বাঁধা। প্যান্ডোরার তর সইল না গো। তর সইল না।

প্যান্ডোরা রঙিন ফিতে ছিঁড়ে বাক্সর ঢাকা খুললেন। ভেতরে থরে থরে সাজানো;  কৃষ্ণনগরের রসিক, ঢলঢলে সরভাজা’দের দল।          

Saturday, November 16, 2013

এক্সপেরিমেন্ট

দিবাকর দু আঙুলের ফাঁকে সাবধানে টেস্ট টিউবটাকে ধরে নাড়ছিলেন। আড়চোখে খেয়াল রাখতে হচ্ছিল স্টপওয়াচের প্রতি। পাক্কা বাহাত্তর সেকেন্ড।

তারপর একটা চিমটে দিয়ে টেস্ট টিউবটার টুঁটি টিপে বার্নারের ওপর ধরলেন। দিবাকরের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, গরমের নয়, উত্তেজনার। এই ছোট্ট ল্যাবরেটরিতে এর আগেও বহু চমৎকার ঘটনা ঘটেছে; কখনও তাঁর হাতে, কখনও বা তার সহকর্মী ইন্দ্রে’দার তত্ত্বাবধানে। তবে এই প্রথম দুজনে এক সঙ্গে মাঠে নেমেছেন কারণ কাজটা তেমনই দুর্দান্ত। এই কম্পাউন্ড আবিষ্কার হলে দুনিয়ার ভোল পাল্টে যাবে। এক সময় মনে হচ্ছিল কাজটা অসম্ভব। কিন্তু ভাগ্যিস দুজনের কেউই হাল ছেড়ে দেননি। ব্রেক-থ্রুটা আসে গত পরশু সন্ধ্যে বেলা। কি ভাবে সেটা বলাই বাহুল্য কিন্তু দুজনেই লাফিয়ে উঠেছিলেন। একটানা ত্রিশ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে তারপর থেকে দুজনে কাজ করে গেছেন। এই সামান্য কিছুক্ষণ আগে ইন্দ্রদা গেছেন একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে।

বার্নারের ওপর মিনিট তিনেক রাখতেই টেস্ট টিউবের ভেতরের মিশ্রণটি কালো ড্যালা থেকে পালটে দুটো স্পষ্ট ভাগে দেখা দিল; একটা সবজেটে, অন্যটা গাড় লাল। চিমটে সহ টেস্ট টিউব হাতে না থাকলে দিবাকর লাফিয়ে উঠতেন ইউরেকা বলে। একবার ভাবলেন ইন্দ্রদাকে হাঁক দেবেন। তারপর ভাবলেন যে এক্সপেরিমেন্টের শেষ অংশটুকু সেরেই ফেলা যাক। তারপর ইন্দ্রদাকে ডেকে ফাইনাল স্যাম্পেল দেখিয়ে হুল্লোড় করা যাবে।

টেস্ট টিউবের সবুজ-লাল মাল-মশলা একটা কাঁচের পাত্রে ঢাললেন দিবাকর। তারপর দেরাজ খুলে নিয়ে এলেন ড্রপার ও কাঁচের তিনটে শিশি। প্রত্যেক শিশি থেকে দুই ফোঁটা নিয়ে এই লাল-সবুজ কম্পাউন্ডে মিশিয়ে দিলেই সেই মহার্ঘ বস্তুটি তৈয়ার হবে। দিবাকর দেরি করলেন না। দু ফোঁটা করে কেওকার্পিন,  তরল বোরোলিন ও নলেন গুড় মিশিয়ে দিলেন সবুজ-লাল কম্পাউন্ডে।

সঙ্গে সঙ্গেই দিবাকর হাঁক দিলেন “ হুররে ইন্দ্রদা, উই হ্যাভ ডান ইট! বাঙালির ডী-এন-এ তৈরি”। 

Thursday, November 14, 2013

নামকরণ

লালু রেগে কাই । রাগবে নাই বা কেন ? পল্টু ব্যাটা একেবারে ইস্টুপিড। টিফিনের পরের প্রথম ক্লাসে বাংলার স্যার অমন দরাজ গলায় “ কন্যাকুমারীর রকমারি মনিহারী” কবিতাটি পাঠ করছিলেন; ক্লাসময় স্যারের আওয়াজ গমগম করে খেলা করছিল, গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল লালুর। অমনি পল্টে ব্যাটা এমন একটা বিরাশি সিক্কার হাঁচি ঝাড়লে যে সব মাটি। ছন্দপতন ঘটায় স্যার ফের ফিরে গেলেন সমাসে। রাগে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিল লালুর। এই বাংলার স্যার নতুন এসেছেন, মাঝে মাঝেই স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। ক্লাসের বাকি ছেলেরা ফচকেমি করে যে এই নতুন স্যারকে দাঁড়িলেস-রবীন্দ্রনাথ বলে ডাকে, তাতে লালু ভারি মর্মাহত হয়। ইয়ে, এই মর্মাহত শব্দটা লালু নিয়মিত ব্যাবহার করছে আজকাল, সেনটেন্সে বেশ জোর আসে তাতে।

লালু্র ভারি অপূর্ব লাগে নতুন বাংলা স্যারের কবিতা। স্যারের দেশ  বেড়ানোর নেশা আছে, আজ হিমালয় তো কাল কেরল। আর ঘুরে এসেই রোমাঞ্চকর সব কবিতা লেখেন। সে সব লেখায় যেমনি আবেগ, তেমনি তার ভাষা, তেমনি ছন্দ- ভারি হাইক্লাস। কবিতাগুলো লালুর মনের মধ্যে বায়স্কোপ চালিয়ে দেয়; এমন রিয়েল লেখা সেই সব।

লালুর ছোটকা বাড়ি থেকে অল্প বয়েসে পালিয়ে যান, লালুর অবশ্য বয়েস তখন অনেক ছোট। তাঁর তোরঙ্গ ঘেঁটে একটা চমৎকার কবিতার ডায়েরি পাওয়া যায় বহু বছর পরে। অতএব সাহিত্য’র প্রতি ন্যাক লালুর ব্লাডেই আছে। বাপ-মা যতই তাকে ইঞ্জিনিয়ার করতে চান না কেন, লালু বেশ জানে সে সব তার দ্বারা হওয়ার নয়। ক্লাস নাইনের জ্যামিতির চোটে এ বয়েসেই মাথায় কেমন টাক টাক ভাব আসছে। আর দাঁড়িলেস-রবীন্দ্রনাথ-স্যারের ইনফ্লুয়েন্স গাড় হওয়ার পর থেকে লালু ঠিক করেই নিয়েছে,হয় লিটারেচারে যাবে নয়তো মেজপিসের মত বড়বাজারে আচারের ব্যবসা ধরবে।

পল্টুর উৎপাতে বাংলা স্যার কবিতা থামিয়ে ফের পড়ানোতে মন দিয়েছিলেন। লালু ঠিক করলে আজ ক্লাসের শেষে স্যারের কাছে হত্যে দিতেই হবে। আসলে এই নতুন কবি-স্যারকে এতই ভক্তি করে লালু যে আজ পর্যন্ত ঠিক কাছে ঘেঁষবার সাহস হয় নি। কিন্তু স্যার যে তাকে অনবরত ইন্সপ্যায়ার করে চলেছেন, সেটা বেশ টের পায় লালু। স্যারের মত পকেটে ছোট ডায়েরি রাখতে আরম্ভ করেছে সে। অবিশ্যি সেই ডায়েরিতে যে কি লেখা যায়, তা নিয়ে লালুর ধারনা এখনই স্পষ্ট নয়।

ক্লাস শেষ হতেই লালু ছুটলে স্যারের পিছন পিছন। বারান্দার শেষ প্রান্তে এসে হাঁক দিলে
-      “ স্যার, এক মিনিট”
-      “ আরে লালমোহন যে, কিছু বলবে ?”
-      “ স্যার, ইয়ে মানে। আমি মানে...আমার আপনার কবিতা খুব ভালো লাগে স্যার”
-      “ হেঃ, ঠ্যাং পুল করছ না তো ?”
-      “ না...নো...মানে নেভার টি নট স্যার। কি বলছেন স্যার। আপনার ওই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে নিয়ে লেখাটা, চোখে জল এসে গেস্‌ল স্যার। ওই যে স্টার্টটা। ‘অয়ি কাঞ্চনজঙ্ঘে’ বলে যে স্টার্টটা ছিল স্যার। ভারি মুভিং। আজকের যে চাঁদনী রাত নিয়ে কবিতা বলছিলেন স্যার, শুনে গায়ে কাঁটা দিয়েছে স্যার। নেহাত পল্টুটা এমন বেরসিক ভাবে হেঁচে দিলে...”
-      “ তোমার এতটাই ভালো লেগেছে লালমোহন ? এথিনিয়াম ইন্সটিটিউশনে এই প্রথম কেউ আমার কবিতাকে অ্যাক্‌নোলেজ করলে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার কাব্যরস যেন সীতা, যুগের রাবণ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছ ? আর এই একা তুমি আছ লালমোহন, যে জটায়ুর মত আমার কবিতার সীতা মাইয়াকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছ। আই অ্যাম গ্রেটফুল টু ইউ”
-      “ স্যার আশীর্বাদ করুন যেন গোটা জীবন জটায়ু হয়ে থাকতে পারি”

লালমোহন গাঙ্গুলি কে বুকে টেনে নিলেন শ্রী শ্রী বৈকুণ্ঠ মল্লিক।  

Thursday, October 24, 2013

ইভনিং শাওয়ার

বাথরুমে এত রকমের সাবান সাজানো থাকে যে নির্মল রোজই খেই হারিয়ে ফেলেন। নতুন কোম্পানি থেকে সাজানো ফ্ল্যাট দেবে তা বেশ জানা ছিল কিন্তু তার বাথরুমের চেকনাইও যে এমন হবে, সেটা আগে ভাবা যায়নি। বউ-ছেলেকে তাড়াতাড়ি অন্ডালের বাড়ি থেকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। এখন কত তাড়াতাড়ি দীপা ও বুম্বা এখানকার সোসাইটির আদব কায়দা রপ্ত করতে পারে সেইটেই দেখবার।

বাথরুমের ক্যাবিনেট খুলে মনে ভরে প্রসাধন সম্ভার দেখতে থাকেন নির্মল। হাত ধোয়ার সাবান এক, মুখ ধোয়ার সাবান অন্য।  বাকি শরীরের ধোয়ার জন্যে অন্তত চার রকমের সাবান – লিকুইড আর বার মিলে। লেবেল পড়ে নির্মল বুঝতে পারেন একেক সাবানের মর্ম একেক রকম; একেক রকম স্কিনের জন্যে একেক চিজ্‌, নিজের চামড়ার রকমটা এতদিনেও জানা হয়ে ওঠেনি নির্মলের। স্ক্রাব বলে কিছু একটা ব্যাপার রয়েছে যা দিয়ে বোধ নিজেকে বেশ রগড়ে পরিষ্কার করা যায়।

চুলের জন্যেও হরেক আয়োজন; শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক, সিরাম। আর তাছাড়া যে কতশত রকমের শিশি রয়েছে গুনে বা পড়ে শেষ করা যায় না।  শাওয়ারের ঠাণ্ডা জলের সাথে নির্মলের শিরদাঁড়ার ঘাম মিশে যায়।

ফেনায় ভেসে যেতে যেতে নির্মল গাঙ্গুলি তার এই অচানক বিশ্বজয়ের তড়িৎ সিঁড়িগুলো মনে করতে থাকেন। থ্রিল। নতুন সেক্রেটারির ব্লাউজের ঝিলিক খেলে যায় মনে। থ্রিল। বস যে শ্যাম্পেন খাওয়ালে তার এক গেলাসের দাম নাকি থ্রি অ্যান্ড হাফ্‌ থাউজ্যান্ড রুপিজ। থ্রিল।

মৃদু অস্বস্তিটা যায় না, সেটাও বেশ টের পান নির্মল। গোটা শরীরময় জল সাবানের ঝাঁপাটা সত্যেও একটা চ্যাটচ্যাটে ভাব। ছেলেবেলায় বাবা মার্গো সাবান আনতেন। সবজে সাবান, নিম তিতকুটে গন্ধ। তবু নির্মলের ভারি প্রিয় ছিল।

বাথরুমের দরজা খুলে গলা বাড়িয়ে নির্মল হাঁক দিলেন।

-      রাজু ? রাজু ?
-      জি সাহাব। আউর এক তাউলিয়া চাহিয়ে কেয়া সাহাব ?
-      না।  মার্গো সাবান এখনও বাজারে চলে ? জানিস তুই ?
-      জি নহি পতা হুজুর।
-      এক কাজ কর। চট করে নিচের মুদির দোকানে গিয়ে খোঁজ করে আয় দেখি। মার্গো সাবান। মনে থাকবে ? যা দেখে আয়।
-      শর্মার দুকানমে সাহাব ?
-      হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই ছোট মুদীর দোকানটায়।
-      উ দুকানমে আপকা লায়েক সামান নহি মিলেগা সাহাব।
-      আরে যা বলছি তাই কর গিয়ে। এটা থাকলে ওর দোকানেই থাকবে। চট করে যা। ভেজা গায়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। মার্গো সাবান থাকলে এক জোড়া নিয়ে আসিস। টেবিলের ওপর খুচরো টাকা রাখা আছে। জলদি, যা। 

Tuesday, October 15, 2013

ইভনিং পার্টি

সান্যাল – আই হোপ তুমি আজকের ইভনিং পার্টির ইম্পরট্যান্স বুঝতে পারছ গাঙ্গুলি।

গাঙ্গুলি  - অ্যাব্‌সলিউটলি স্যার। কন্ট্র্যাক্ট পাওয়ায় জন্যে ঢান্ডানিয়া কে যে আমরা স্পেশাল ফেভার অফার করতে পিছপা হব না, সেইটা কনভে করবার এর চেয়ে বেটার প্ল্যাটফর্ম আর পাওয়া যাবে না।

সান্যাল – প্রিসাইসলি। ইন ফ্যাক্ট,আগাম হাতে গুঁজে দেওয়ার জন্যে কিছু ক্যাশ আমি সঙ্গে রাখছি। দ্য সুনার উই টাই হিম ডাউন দ্য বেটার।

গাঙ্গুলি – কিন্তু ঢান্ডানিয়াকে হাতে রাখাই কি মূল শর্ত এই কন্ট্র্যাক্ট হাতে পাওয়ার ? ওর ওপরওয়ালা রয়েছে।

সান্যাল – যথেষ্ট খবর রয়েছে আমার কাছে। ওর ওপরওয়ালারা সবাই শুধু রাবার ষ্ট্যাম্প। তাছাড়া, এই ঢান্ডানিয়া ইজ আ ভেরি ধুরন্ধর মাল। দেবিকাপ্রসাদ বলে যে ওর অ্যানুয়াল ইনকাম’য়ের সেভেন্টি পারসেন্ট হল ব্ল্যাক। বুঝতেই পারছ।

গাঙ্গুলি – আই সি। আচ্ছা পার্টিতে তো ডেভিডসন অ্যান্ড কোম্পানির দাশগুপ্তও থাকবে। তাই না। ঢান্ডানিয়াকে এপ্রোচ করবার সময় ওকে দূরে রাখতে হবে।

সান্যাল – সেই কাজটা আমি করব।

গাঙ্গুলি – স্যার, আপনি মানে ? আপনি যদি দাশগুপ্তর সঙ্গে  নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তাহলে ঢান্ডানিয়া কে টোপ গেলাবে কে ?

সান্যাল – তুমি। আই ওয়ান্ট ইউ টু ডু ইট।

গাঙ্গুলি  - মাফ করবেন স্যার। আপনি তো জানেন এই ধরনের শেডি ট্র্যান্স্যাকশনগুলো আমি হ্যান্ডল করতে পারি না। মানে, আজ পর্যন্ত কখনও...

সান্যাল – লুক হিয়ার গাঙ্গুলি। এই বিজনেসে থেকে তুমি তুলসী পাতার প্রিটেন্স নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবে সেটা তো হতে পারে না।

গাঙ্গুলি – দেখুন স্যার। আমার এই ব্যাপারটা আপনার কাছে অজানা নয়। কিছু ব্যাপারে আমি কম্প্রোমাইজ করতে পারব না।

সান্যাল – ইউ উইল হ্যাভ টু গাঙ্গুলি। এই সব ডার্টি প্ল্যান ফাঁদায় তোমার এক্সপ্লিসিট মদত থাকবে। মুনাফা কামাবে। বেন্‌জ চড়বে। আর এদিকে হাতে ছুঁচোর গন্ধ বরদাস্ত করবে না। সেইটে তো বেশি দিন হতে পারে না। ইউ উইল হ্যাভ টু। অর আই উইল মেক শিওর দ্যাট ইউ আর নট আ পার্ট অফ দিস ডিল।

গাঙ্গুলি – ইজ ইট আ থ্রেট ?

সান্যাল – এক্সপ্লিসিটলি সো।

গাঙ্গুলি – আমি ভাবতে পারছি না স্যার। আপনার গলার স্বর এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভাবে অন্য।

সান্যাল – ন্যাকামোর সময় নেই গাঙ্গুলি। ইউ আর ডুয়িং ইট। আর এখন থেকে মনে রেখ, তেল মাখতে হলে তোমায় কড়িটি ফেলতে হবে।

গাঙ্গুলি – বাড়ির ফোন। এক্সকিউজ মি।

পিতা – হ্যালো। গুবলু ? শোন, সন্ধ্যে বেলা আমার একটা ইম্পরট্যান্ট মিট অ্যাটেন্ড করতে হবে । ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড বাবা।

আই নো। আই নো। প্রেপারেশন ভালো আছে তো ? গুড বয়।

হ্যাঁ তোমার সান্যাল কাকু সঙ্গেই আছে আমার। হি উইশেস ইউ অল দ্য বেস্ট ফর টুমরোজ ক্লাস টেস্ট।  

কাল কোন সাবজেক্টে টেস্ট যেন গুবলু সোনা ? মরাল সায়েন্স ? দ্যাট শুড বি আ ওয়াক ইন দ্য পার্ক ফর ইউ। টূ ইজি সাবজেক্ট, তাই না ?