Showing posts with label Conversations. Show all posts
Showing posts with label Conversations. Show all posts

Thursday, January 2, 2014

যত্তসব

-   জমিদার মশাই...

-   তুমি বড় কথা বল নায়েব

-   আজ্ঞে গোস্তাখি মাফ কত্তা

-   ফের কথা বললে ?

-   ক্ষমা-ঘেন্না করেন কত্তা।

-   ফের কথা বলে! তুমি শালা শুয়োরের বাচ্চা একটা। তা চুপ করে সং সেজে দাঁড়িয়ে আছ কেন ? বল, অমন নেচে নেচে এলে কি বলতে ? উফ, দু দণ্ড দেশের কল্যাণের কথা ভাববো তার উপায় নেই।

-   আজ্ঞে বলবো জমিদারমশাই ?

-   কি মাকাল রে বাপ, এই তোমায় আমি পয়সা দিয়ে পুষি ? বলবে না তো কি নেত্য করবে ? তুরন্ত বল নয়তো লাটসাহেব কে বলে তোমায় জেলে দেব।

-   আজ্ঞে কত্তা, একটা ছেলে এসেছিল।

-   ব্যাস, অমনি তোমায় আমি রাজচক্কোত্তি উপাধি দিয়ে দিই আর কি।

-   না মানে...

-   ছেলেটা কে ? কি চায় ?

-   আজ্ঞে হরেন। আপনার প্রজা। বিশু কুমোরের ছেলে।

-   বিশু ? যে হারামজাদা গত বছর অক্কা পেলে ?

-   যে আজ্ঞে।

-   তার সাহস কি করে হয় সে জমিদারের কাজের সময় এসে ব্যাঘাত ঘটায় ? এ যে রাজকর্মে বাঁধা; কত দেশসেবার কথা ভাবছিলাম। এই বেশ্যার পো এসে দিলে সব ভেস্তে...

-   আজ্ঞে বিশেষ অভিযোগ নিয়ে এসেছে...

-   এই এদের রোগ। অভিযোগ। টাকা নেই, খাওয়ার নেই, পাছায় ফোঁড়ার ওষুধ নেই। হারামজাদাগুলোর পাল্লায় পড়ে আর দশের উপকার করা হয়ে ওঠেনা। এই সেদিন ভাবলাম পুকুরপাড় বাঁধিয়ে সেখানে দোলনা বসাবো, তা না! গাধাগুলো বলে কি না ‘ জমিদার মশায়, ক্ষেতে জল নাই, খাল খুঁড়ে দেন”। আহাম্মকের দল। যে ভাবে কোম্পানিকে ট্যাক্সো দিতে হচ্ছে, অমন সখের কাজ করলে আমার চলে ? তার ওপর আবার আমার ছোট মেয়ে বায়না ধরেছে চড়কে মেলা বসাতে হবে – সেও মেলা খরচার ব্যাপার। তা এ ছেলে চায় কি ?

-   আজ্ঞে, ভারি নিদারুণ অভিযোগ।

-   কে বলেছে নিদারুণ ?
-   আজ্ঞে না মানে...আমি বললাম মানে...

-   চোপড়াও, আমি তোমায় বলতে বলেছি দারুণ না নিদারুণ ?

-   গোস্তাখি মাফ হুজুর।

-   ছেলেটা চায় কি ?

-   বিচার!

-   বিচার চায় মানে ? আমি কি অবিচার করেছি যে বিচার চাইবে ? ওর এত সাহস হয় কি করে ?

-   আজ্ঞে, গতকাল ওর দিদিকে নাকি জমিদার বাড়ির দুই লেঠেল মিলে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করে তারা নাকি সে মেয়েকে খুন করেছে...

-   কি বলে সে বেশ্যার ছেলে ? আমার লেঠেল তার দিদিকে ধর্ষণ করেছে ? খুন করেছে ? আমার লেঠেলের নামে বলেছে মানে তো আমার নামেই খিস্তি করেছে। শালাদের জন্যে এত করি আর শালা আমাকেই হুড়কো দেবে ?

-   আজ্ঞে না হুজুর, আপনার কাছে তো সে বিচার চাইতে এসেছে।

-   কিসের বিচার হে ? ওসব ছোটলোকের মেয়ের ছোটলোকামির মধ্যে আমায় জড়ানো ? হারামজাদা! জমিদার কে নিচু করবে ? আমার লেঠেলে তার দিদিকে মেরেছে ? মিথ্যে কথা। বল নায়েব, ছেলেটা মিথ্যুক কি না ?

-   আজ্ঞে একবার যদি ওর কথাটা...

-   তুমি কি শালা বিদ্রোহ করছো নায়েবের বাচ্চা ? তোমার পেটে পেটে এই ? দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষছি আমি ?

-   আজ্ঞে মাফ করুন কত্তা। ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেলেছি।

-    তোমার এ মাসের মাইনে থেকে দেড় টাকা কাটা গেল। অকাজের লোক আমি সহ্য করতে পারিনা।

-   আপনার শাস্তি শিরোধার্য কত্তা।

-   শোন, এসব অভিযোগ জমিদারের কাছে আসা ভালো নয়। এসব জমিদারের নামে কলঙ্ক লেপার চেষ্টা। হারামজাদা প্রজাগুলোর অভ্যাসই এমন, যে পাতে খাবে সে পাতেই হাগবে। কোনও কিছুতে এরা খুশি নয়, খেতে দিলে বলবে, বিছানা দাও। বিছানা দিলে বলবে মেয়েদের সম্মান বাঁচাও। এদের হাজার বায়নাক্কা। আবার এই মুখ্যুগুলোর পিঠে দু ঘা চাবুক পড়লেই বাপধনরা বাপ বাপ বলে বলে স্বীকার করে নেবে যে আমার জমিদারীতে তারা কত সুখে আছে। কি নায়েব, তাই না ?

-   আজ্ঞে জমিদার মশাইয়ের জমিদারী যে রামরাজ্য। লোকে যে আপনাকে ধন্য ধন্য করে।

-   লাটসাহেব আমায় রায় চৌধুরী উপাধি দিলেন বলে। আরে বাবা রাজ্য পরিচালনা কি চাট্টিখানি কথা।

-   ঠিক বলেছেন কত্তা মশায়।

-   আর এই ছেলে বলে কি না আমার পেয়াদায় তার দিদিকে...ছিঃছিঃছিঃ। নোংরা মায়ের পো কোথাকার। জমিদারের নামে খেউর না করতে পারলে এদের পেটের ভাত হজম হয় না।

-   আজ্ঞে যথার্থ বলেছেন। তা ছেলেটাকে বিদেয় করি তবে ?

-   শোনো নায়েব। ছেলেটাকে দু টাকা দিয়ে বল ফুর্তি করতে। আর সেই টাকা লেঠেলদের মাইনে থেকে কেটে নাও। দু টাকাতেও যদি হারামজাদার দিদির শোক না ঘোচে, তো ওকে জমিদারবাড়িতে চুরি করতে ঢোকার অভিযোগে লাঠি পেটা কর।

-   আজ্ঞে ?

-   হাঁ করে দাঁড়িয়ে মুখ দেখছো কি ? যা বললাম তাড়াতাড়ি কর। আমায় একটু শান্তিতে দেশের উপকারের কথা ভাবতে দাও দেখি। দেশের অভাগাগুলোর চিন্তায় আমার রাতের ঘুম গোল্লায় গেছে আর এরা এলেন এদের যত খুচরো পাপ নিয়ে। যত্তসব! 

Tuesday, October 15, 2013

ইভনিং পার্টি

সান্যাল – আই হোপ তুমি আজকের ইভনিং পার্টির ইম্পরট্যান্স বুঝতে পারছ গাঙ্গুলি।

গাঙ্গুলি  - অ্যাব্‌সলিউটলি স্যার। কন্ট্র্যাক্ট পাওয়ায় জন্যে ঢান্ডানিয়া কে যে আমরা স্পেশাল ফেভার অফার করতে পিছপা হব না, সেইটা কনভে করবার এর চেয়ে বেটার প্ল্যাটফর্ম আর পাওয়া যাবে না।

সান্যাল – প্রিসাইসলি। ইন ফ্যাক্ট,আগাম হাতে গুঁজে দেওয়ার জন্যে কিছু ক্যাশ আমি সঙ্গে রাখছি। দ্য সুনার উই টাই হিম ডাউন দ্য বেটার।

গাঙ্গুলি – কিন্তু ঢান্ডানিয়াকে হাতে রাখাই কি মূল শর্ত এই কন্ট্র্যাক্ট হাতে পাওয়ার ? ওর ওপরওয়ালা রয়েছে।

সান্যাল – যথেষ্ট খবর রয়েছে আমার কাছে। ওর ওপরওয়ালারা সবাই শুধু রাবার ষ্ট্যাম্প। তাছাড়া, এই ঢান্ডানিয়া ইজ আ ভেরি ধুরন্ধর মাল। দেবিকাপ্রসাদ বলে যে ওর অ্যানুয়াল ইনকাম’য়ের সেভেন্টি পারসেন্ট হল ব্ল্যাক। বুঝতেই পারছ।

গাঙ্গুলি – আই সি। আচ্ছা পার্টিতে তো ডেভিডসন অ্যান্ড কোম্পানির দাশগুপ্তও থাকবে। তাই না। ঢান্ডানিয়াকে এপ্রোচ করবার সময় ওকে দূরে রাখতে হবে।

সান্যাল – সেই কাজটা আমি করব।

গাঙ্গুলি – স্যার, আপনি মানে ? আপনি যদি দাশগুপ্তর সঙ্গে  নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তাহলে ঢান্ডানিয়া কে টোপ গেলাবে কে ?

সান্যাল – তুমি। আই ওয়ান্ট ইউ টু ডু ইট।

গাঙ্গুলি  - মাফ করবেন স্যার। আপনি তো জানেন এই ধরনের শেডি ট্র্যান্স্যাকশনগুলো আমি হ্যান্ডল করতে পারি না। মানে, আজ পর্যন্ত কখনও...

সান্যাল – লুক হিয়ার গাঙ্গুলি। এই বিজনেসে থেকে তুমি তুলসী পাতার প্রিটেন্স নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবে সেটা তো হতে পারে না।

গাঙ্গুলি – দেখুন স্যার। আমার এই ব্যাপারটা আপনার কাছে অজানা নয়। কিছু ব্যাপারে আমি কম্প্রোমাইজ করতে পারব না।

সান্যাল – ইউ উইল হ্যাভ টু গাঙ্গুলি। এই সব ডার্টি প্ল্যান ফাঁদায় তোমার এক্সপ্লিসিট মদত থাকবে। মুনাফা কামাবে। বেন্‌জ চড়বে। আর এদিকে হাতে ছুঁচোর গন্ধ বরদাস্ত করবে না। সেইটে তো বেশি দিন হতে পারে না। ইউ উইল হ্যাভ টু। অর আই উইল মেক শিওর দ্যাট ইউ আর নট আ পার্ট অফ দিস ডিল।

গাঙ্গুলি – ইজ ইট আ থ্রেট ?

সান্যাল – এক্সপ্লিসিটলি সো।

গাঙ্গুলি – আমি ভাবতে পারছি না স্যার। আপনার গলার স্বর এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভাবে অন্য।

সান্যাল – ন্যাকামোর সময় নেই গাঙ্গুলি। ইউ আর ডুয়িং ইট। আর এখন থেকে মনে রেখ, তেল মাখতে হলে তোমায় কড়িটি ফেলতে হবে।

গাঙ্গুলি – বাড়ির ফোন। এক্সকিউজ মি।

পিতা – হ্যালো। গুবলু ? শোন, সন্ধ্যে বেলা আমার একটা ইম্পরট্যান্ট মিট অ্যাটেন্ড করতে হবে । ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড বাবা।

আই নো। আই নো। প্রেপারেশন ভালো আছে তো ? গুড বয়।

হ্যাঁ তোমার সান্যাল কাকু সঙ্গেই আছে আমার। হি উইশেস ইউ অল দ্য বেস্ট ফর টুমরোজ ক্লাস টেস্ট।  

কাল কোন সাবজেক্টে টেস্ট যেন গুবলু সোনা ? মরাল সায়েন্স ? দ্যাট শুড বি আ ওয়াক ইন দ্য পার্ক ফর ইউ। টূ ইজি সাবজেক্ট, তাই না ?


Monday, February 4, 2013

বসাসুর

-          আগরওয়ালের এপ্রুভালটা করিয়ে এনেছো ?
-          কালকে করবো স্যার।
-          এম কে আর ওয়ার্কস’য়ের ফাইল টা ক্লিয়ার করা হয়েছে ?
-          ভাবছি সেটা আর এ মাসে ধরে লাভ নেই স্যার।
-          মান্থলি রিপোর্ট ?
-          এই যাঃ, ভুলে গেছি।
-          তুমি অফিস আসো কি করতে ? বাড়ি থাকলেই পারো, মাস মাইনেটা আমি না হয় মানিঅর্ডার করে দেবো।
-          ব্যাঙ্ক ট্রান্সফার থাকতে অমন মহাভারতের আমলের কথা বলবেন না তো! মানি অর্ডার শুনলে লোকে হাসবে।
-          মুখে মুখে তর্ক ?
-          গলার আওয়াজ তুলছেন কেন ? পাঁচ ফুটের মধ্যেই তো দুজনায় আছি।
-          বেয়াদপ!
-          খিস্তি মারলে কিন্ত বস-টস বলে তোয়াক্কা করবো না স্যার।
-          থ্রেট করছো ?
-          হুমকি, চমকানি; যা বলবেন।
-          আমি তোমার প্রমোশন আটকে দেবো।
-          আপনার প্রমোশনে আমি ইয়ে করি মাইরি।
বেহেড বেআক্কেলে লোক মশায় আপনি। রইলো আপনার চাকরি। এই আমার রেসিগনেশনের চিঠি। আর আগরওয়ালের থেকে যে আপনি নিয়মিত কমিশন খান; সে কথাও বড় কত্তা দের জানিয়ে যাব।
-          আহা ভাই মুকুজ্যে, তোমার এই দোষ- ইয়ং ম্যান কি না- অল্পেতেই মাথা গরম। অমন রেসিগনেশন রেসিগনেশন বাই তুলোনা তো! তুমিই তো ফিউচার আমাদের। একটু ঠাণ্ডা হয়ে নাও তো দেখি। একটা কাপুচিনো আনাই ? আর মান্থলি রিপোর্ট নিয়ে তোমায় আর বেশি ভাবতে হবে না। আমার হাতে বেশ কিছুটা খালি সময় থাকে। আই উইল মেক ইট। ইউ রিল্যাক্স। রিল্যাক্স। আর ছুটি-টুটির দরকার থাকলে আমায় বলতে প্লিজ হেসিটেট করো না, তোমরা আজকালকার ইয়ং ম্যানরা এত লাজুক যে কেন। 
স্বপ্ন-ভাবনাটা দারুন গাঢ় হয়ে এসেছিলো; এমন সময় পিওন বিশে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলে; “বড় সাহেব ডেকেছেন। বলেছেন আগরওয়ালের ফাইলটা নিয়ে যেতে”

মুখ তেতো হয়ে গেল। কলজে ঠাণ্ডা মেরে গেল।
নিজেকে হেঁচড়ে নিয়ে ঢুকলাম বসের ঘরে।
-          আগরওয়ালের এপ্রুভালটা করিয়ে এনেছো ?
-          কালকের মধ্যে হয়ে যাবে স্যার।
-          টুয়েন্টি ফোর আওয়ারস ? ইডিয়ট! এম কে আর ওয়ার্কস’য়ের ফাইল টা ক্লিয়ার করা হয়েছে ?
-          আজ সন্ধ্যের মধ্যেই...।
-          উফ! যত নিষ্কর্মার পাল্লায় পড়েছি।  মান্থলি রিপোর্ট ?
-          কাল ভুলে গেছিলাম স্যার ... এই ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই...
-          দেখি আগামি পাঁচ বছরের মধ্যে তুমি প্রমোশন কি করে পাও, নন-সেন্স কোথাকার! কোনও কাজ ঠিক সময়ে হয় না। অফিসে বসে কি নেত্য করা হয় ?
-          সরি স্যার
-          শাট আপ! আচ্ছা বেআক্কেলে পিস তুমি। তোমায় কি করে টাইট করতে হবে আমি বেশ জানি। বর-কত্তা কে বলে তোমায় এমন কানাগলিতে ট্রান্সফার করাবো...
-          প্লিজ স্যার, মায়ের অসুখ, ছেলের স্কুল, ট্রান্সফার হলে জলে পড়ে যাবো। আসলে দিবাকরদা অসুস্থ হওয়ায় ওর কাজটাও করতে হচ্ছে...তাই এ কাজ গুলো একটু...
-          হোয়াট ? হামকো অজুহাত দেতা হ্যায় ?
-          নো অজুহাত স্যার। ফ্যাক্ট।
-          মুখে মুখে তক্কও করা হচ্ছে আজকাল ?
-          সরি স্যার, এমন আর কোনও দিন হবে না।
-          ব্লাফ।
-          মা কালির দিব্বি। সমস্ত পেন্ডীং ব্যাপারগুলো আজই ম্যানেজ করে নেব স্যার।
-          আজকের মধ্যে না হলে আমি তোমার খাল খিঁচে নেবো। নাউ গেট আউট।

Tuesday, November 6, 2012

নারী ঠ্যাকাতে নারি


পুরুষ কণ্ঠ : যা বলছি, মন দিয়ে শোনোএবার থেকে আমার এলাকায় তোমার ধেই ধেই করে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো চলবে না

নারী কণ্ঠ: হে: , শখ দ্যাখো বুড়োরভারী তো ভূতুড়ে এলাকার মালিক, তার এলাকায় আবার ঘুরে বেড়ানো বারণ। আর এই হাড় হিম কড়া ঠাণ্ডায় কোন ভদ্রমহিলা ঘুরে বেড়াতে চায়?

পুরুষ কণ্ঠ: খবরদার গিন্নী! আমার পাড়া নিয়ে কুত্‍সা করেছো কি....

নারী কণ্ঠ: কি করবে মিনসে? ঝুটি ধরে মাথায় জেনুইন অর্ধ-চন্দ্র বসিয়ে দেবো....

পুরুষ কণ্ঠ: আহ:, লজ্জা নারীর ইয়ে....

নারী কণ্ঠ: থামো....ন্যাকা ভূত।

পুরুষ কণ্ঠ: না মানে বলছিলাম কি, এ পাড়ার আমিই নেতা কিনা, তাই আমি ভাবছিলাম যে নিয়ম করে দেবো যা পাড়ার রাস্তায় মেয়ে-বৌদের বেরোনো বারণ....

নারী কণ্ঠ: পেটে পেটে এতো ? মেয়েদের বাইরে বেরোনো বারণ? এই দু;সাহসের কারণ?

পরুষ কণ্ঠ: আহ চটছো কেনো ডার্লিং, আসলে নেতা হিসেবে তেমন কেউ মানতে চাইছে নে, আমার ডাইরেক্ট এসিসট্যান্ট দুজনেই আমায় গাঁজাখোর বলে আড়ালে ঠাট্টা করে। এমন অবস্থায় একটা কঠিন নিয়ম যদি বলবত্‍ নাই করতে পারি, তবে তো ইজ্জত্‍ ধুলোয় মিশবে....

নারী কণ্ঠ: অ! তোমার কেরদানি দ্যাখাবে বলে মেয়ে চাবকানো নিয়ম চালু করা? মানবো না!

পুরুষ কণ্ঠ: আহ, স্যুইটি! একটু ভেবে দ্যাখো দেকিনি, দন্ড-মুণ্ডের কর্ত্তার ওয়াইফ যদি নিয়ম না মানে, পাবলিকে মানবে নাকি?

নারী কণ্ঠ: তোমাদের মত মালের চামড়া ছাড়িয়ে ডুগডুগি বানানো উচিত্‍...

পুরুষ কণ্ঠ: ইসসসসস, দেবী; মুখের এমন ভাষা....

নারী কণ্ঠ: বটে? আর নিজে সিদ্ধি খেয়ে খেউড় করবে তাতে দোষ নেই? আজ তোমারই একদিন কি আমারই এক দিন....বরবাদ করে দেবো তোমার কৈলাস...

পুরুষ কণ্ঠ: দুগ্গা! দোহাই তোমারএমন কেলোর কীর্তি কোরো না মাইরি...

নারীর কণ্ঠ: তোমায় লোকে শিব বলে ভক্তি করে, অমন ভক্তির মুখে আগুন.... ব্যাটা শৌভেনিষ্ট লেম্পুন....

পুরুষ কণ্ঠ: শান্ত দেবী, শান্ত। কৈলাশের লাশ ফেলে দিও না প্লিজ....মেয়েদের কৈলাসে ঘোরাঘুরির ওপর ব্যান আমি তুলে নিলাম। কিন্তু আমার নামে অমন গাল দেওয়া থামাও প্লিজকৈলাসের ভূতরা তো দূর, এসব জানতে পারলে মর্ত্তের মানুষরাও যে আর মহেশ্বর বলে পাত্তা দেবে নাআমার ফটো দেখিয়ে যে এবার থেকে সার্কাস শুরু হবেস্বামীর ইজ্জতের জন্যে আগের জন্মে জান দিয়েছিলে....

নারী কণ্ঠ : স্বামীর জন্যে জান দিতে পারি...নিজের ইজ্জতের জন্যে জান নিতে পারি....

(আবডালে নন্দি-ভৃঙ্গির সহাস্য হাত-তালি)

পুরুষ কণ্ঠ : ক্ষমা চাইছি দুগ্গা, অমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকো না, হার্ট ফেল করে যাবো

নারী কণ্ঠ : ক্ষমা চাইলে হবে না, এমন পাপের সাজা একটাই। মর্ত্তে তোমার পুজোর থেকে আমার পুজোয় পাবলিক বেশি ফুর্তি করবে, বেশি দিন ধরে করবে। এমন ব্যবস্থা করো।

পুরুষ কণ্ঠ: ধুর শালা, বুমেরাং হয়ে গ্যালো।