Showing posts with label Bong Romance. Show all posts
Showing posts with label Bong Romance. Show all posts

Thursday, October 3, 2013

চিন্তার ব্যাপার


লাঞ্চ হয়ে গেছে দেড়টার মধ্যেই। এই সময়টা দেবুবাবু একটু জিরিয়ে নেন। অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটা জর্দা-পান, একটু আনন্দবাজার, অ্যাকাউন্টস’য়ের সামন্তের সঙ্গে চাট্টি কথা, একটা গোল্ডফ্লেক। অতঃপর ফের টেবিলে ফিরে এসে  ফাইল মন্থন।

বারান্দাটা চওড়া। কিন্তু ভারি স্যাঁতস্যাঁতে। ব্রিটিশ আমলের বাড়ি কি না। সতের  বছর আগে জয়েন করেছেন দেবুবাবু; কিন্তু এর মাঝে অফিসে একবারও চুনকাম হয়েছে বলে মনে পড়ে না। পাঁচতলার এই বারান্দা থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর ব্যস্ততা দেখতে দেখতে দিব্যি সময় কেটে যায়। আনন্দবাজারের খেলার পাতায় পৌঁছে , পান চিবোনো শেষ করে এবং গোল্ড ফ্লেক ধরিয়ে; দেবুবাবু টের পেলেন যে সামন্ত ছোকরা এখনও আসেনি। আজ সামন্ত কামাই করেনি, কারণ গুপ্তা অ্যান্ড কোম্পানির ফাইলটা নিজের হাতে পৌঁছে দিয়েছিল সকাল বেলা।

হরিদেব সামন্ত বয়েসে দেবুবাবুর চেয়ে বছর দশেকের ছোট। বছর খানেক আগে জয়েন করে, আলাপ হয় অফিস ক্যান্টিনে। সেই থেকে দুজনের মধ্যে গুরুশিষ্য গোছের সম্পর্ক। অফিস পলিটিক্স থেকে বস ম্যানেজ করার উপায়; সমস্ত ব্যাপারেই সামন্তকে গাইড করে থাকেন দেবুবাবু। তাছাড়া প্রতিদিন দেড়টা থেকে দুটো; অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুজনের আড্ডাটা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

পৌনে দুটোতেও যখন সামন্ত এলে না; তখন দেবুবাবুর খটকা লাগলো। সিগারেট বারান্দার কোনায় ছুঁড়ে ফেলে এগোলেন অ্যাকাউন্টসয়ের দিকে। সামন্তর টেবিল নজরে আসতেই দেখলেন যে সামন্ত মুখ গুঁজে ডায়েরিতে কিছু লিখে চলেছে।

চিন্তায় পড়লেন দেবুবাবু। ছোকরা কি অসময়ে কাজ করা আরম্ভ করলে নাকি ? ম্যানেজমেন্ট লাই পেয়ে যাবে যে। পই পই করে দেবুবাবু ছোকরাকে বুঝিয়ে চলেন যে অফিসে আসার পরে আধ ঘণ্টা , লাঞ্চের পর আধ ঘণ্টা আর ছুটির আগের আধ ঘণ্টা; কাজ করতে নেই, কাজ করতে নেই, কাজ করতে নেই – করলে  কেরানী জাতের অমঙ্গল। বেশ কথা শুনে চলা ছেলেই তো মনে হত। সেই ব্যাটা এই অসময়ে মন দিয়ে কলম পিষছে দেখে গা পিত্তি জ্বলে গেল দেবুবাবুর।
দুড়দাড় করে এগিয়ে গেলেন সামন্তের টেবিলের দিকে।

-      কই হে সামন্ত, ভারি কাজ করছ দেখছি। বড়বাবু সুড়সুড়ি দিয়েছেন নাকি ?
-      না দেবুদা, অফিসের কাজ নয়।

-      আহ: , বেশ। নিশ্চিন্ত হলাম। তা এত মন দিয়ে কি লেখাপড়া হচ্ছে ভায়া ? সোশ্যালিস্ট পোয়েট্রি-টোয়েট্রি নাকি?

-      ইয়ে না, তা নয়।

-      তবে? দুপুরের আড্ডা ছেড়ে টেবিলে বসে কলম চালাচ্ছ, জরুরি কিছু তো বটেই। পরকীয়া প্রেম পত্র নাকি ?

-      না দেবুদা। আসলে বউ দু মাস পর বাপের বাড়ি থেকে ফিরছে আগামীকাল। বলে রেখেছে মাসকাবারি বাজার করে না রাখলে আমার কপালে দুঃখ আছে। তা, এর আগে বাজার যতবার করেছি বউই ফর্দ করে দিয়েছে। সে চলে যাওয়ার পর হারধনের মেসেই খাওয়া দাওয়া চালিয়েছি এ দুমাস। সেই সকাল থেকে বসে রয়েছি ডায়রি খুলে দেবুদা। চাল, মুগ ডাল আর বাতাসা ছাড়া কিস্যু মাথায় আসছে না। এদিকে ফি মাসে বউ ইয়া লম্বা লিস্ট ধরিয়ে দেয়। কি উপায় দেবুদা? যদি মাসকাবারি ম্যানেজ না করতে পারি তাহলে দু মাসের জন্যে এবার আমায় গা ঢাকা দিতে হবে।

-      হুম, মিনিবাসের ভিড় আর মাসকাবারি; এই করেই যৌবনের বাপের নাম খগেন হয়ে যায় হে। তাই তো বলি; আরথ্রাইটিস গেড়ে বসার আগে হিমালয়ে চলে যাও ভায়া। আজকের বাজারে; মাসকাবারির চেয়ে মাধুকরী ইজ আ ঢের বেটার অপশন।  

Monday, July 22, 2013

দিবাকর এবং হাওড়া ব্রিজ


হাওড়া ব্রিজের একটা ডাকনাম দিলেন দিবাকর। 

একটা চটের থলিতে  ছয় কিলো গেঞ্জি-কাপড় বয়ে দৈনিক বড়বাজার টু হাওড়া হেঁটে আসেন তিনি। একটা বাস ধরতেই পারেন কিন্তু অফিস টাইমের দম বন্ধ করা ভিড়কে ভীষণ ভয় পান দিবাকর। তবে তার চেয়েও বড় কারন হচ্ছে হাওড়া ব্রিজের মায়া। সেই সতের বছর বয়স থেকে বড়বাজার থেকে গেঞ্জি কাপড় কিনে রিষড়া’র একটা আধ-কানা কারখানায় সাপ্লাই করে চলেছেন দিবাকর। বয়স এখন চুয়াল্লিশ। দিবাকর ভেবে দেখেছেন যে সময়মত বিয়ে হলে তাঁর ছেলে নান্টূ এখন ক্লাস এইটে পড়তো আর মেয়ে নিপা ক্লাস ফাইভে। এটাও ভাবা আছে যে তাঁর একটা এলো-আই-সি আর দুটো ফিক্সড্‌ ডিপোজিট হতে পারত এ বয়েসে। বুদ্ধি করে চললে সান্যালদের এক কাঠা জমি কিনে একটা ছোট পুঁচকে বাড়ি হাঁকানো কি মহা-অসম্ভব কিছু কিস্‌সা হত ?

মুস্কিল হল, বিয়ে-থা আর করা হয়ে ওঠেনি দিবাকরের। গেঞ্জির কাপড় সাপ্লাই দিয়ে যে দু পয়সা আসে তাতে তাঁর আর পিসিমার সংসার প্রায় চলে না বললেই হয়। তাও ভাগ্যি পিসেমশাই আধ-ভাঙ্গা বাড়িটা রেখে গত হয়েছেন। নয়ত পিসিমা’র সাথে ষ্টেশনের বস্তিতে গিয়ে থাকতে হত। এলো-আই-সি’র গুড়ে বালি, দিবাকরের নিজের কোনও ব্যাঙ্ক একাউন্টই নেই।
 পিসিমা’র প্রেশারের ওষুধ কিনতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। দিবাকর শেষ পাঁঠার মাংস খেয়েছিলেন চার মাস আগে, পাড়ার বাদলদা’র মেয়ের বিয়েতে। 

প্রত্যেক দিন সন্ধ্যে বেলা; এই হাওড়া ব্রিজ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে দিবাকরের যে কি ভালো লাগে। মিষ্টি হাওয়ার ঝাপটা মুখে আসে, হাতের ওজন যেন হাল্কা হয়ে আসে। হাজার লোকের ভিড়েও নাভিশ্বাস ওঠে না। গঙ্গার রিম্‌ঝিম্‌ কেউ না শুনতে পাক, দিবাকর শুনে নেন। ব্রিজের ঠিক মাঝখানে গিয়ে পাক্কা পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকেন দিবাকর। পাশের ভিড়-বাস-চেল্লাচেল্লি-ফেরিওয়ালার দল ক্রমশ হারিয়ে যায়। কালো নদীর বুকে টিম্‌টিমে কিছু আলো ভেসে যায়; দু পাশে দিয়ে ঝিরঝিরি টুনি বাল্বের মত ছড়িয়ে রয়েছে শহর। কয়েক হাজার সন্ধ্যেয় ঠিক এই একই মুহূর্ত বারবার ফিরে আসে দিবাকরের জীবনে। মাঝে মাঝে ব্রিজের এই মাঝখানের অংশটাকে সান্যালদের জমির উত্তুরে কোনা বলে ভুল হয়। হুগলীর হাওয়ায় নান্টুর বাজে-গপ্প শুনতে পারেন দিবাকর। সন্ধ্যের ঠিক এই সময়টাতেই নিপার গানের মাষ্টার আসতেন হয়ত। দিবাকর নদী-শহর মেশানো হাওড়া ব্রিজের গন্ধ নিশ্চিত চেনেন। শুধু ঠাহর করতে পারেন না যে পন্ড্‌স পাউডার আর বউ-মেশানো গন্ধটা নাকে ঠিক কেমন লাগবে। 

বিড়বিড় করে নিজের কিছু গল্প নিয়মিত নদীতে ঢেলে দেন দিবাকর। 

কলকাতা হুড়মুড় করে বদলে চলে। কিন্তু দিবাকরের চোখে এই হাওড়া ব্রিজটা একই রকম রয়ে গেল। একবার ব্যান্ডেল লোকালে এক সহযাত্রীর মুখে শুনেছিলেন যে হাওড়া ব্রিজ নাকি ফি বছর একটু একটু করে নদীর নরম মাটিতে বসে যাচ্ছে। হাওড়া ব্রিজের রেলিং’য়ে দিবাকর মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে দেন। জুড়িয়ে আসে শরীর। এত বছর ধরে কত গপ্প ব্রিজ থেকে সোজা হুগলীতে ছুড়ে দিয়েছেন দিবাকর; এই ব্রিজ কখনো বিরক্ত হয়নি। দিবাকর নাকি বাজে বকেন; নিজের পিসিমা থেকে পাড়ার ছেলে-বুড়ো সক্কলে তাঁর যে কোনও কথা বলতে শুরু করলেই বিরক্তি প্রকাশ করে। ছিচ্‌কেরা বোধ হয় তাকে ছিট্‌গ্রস্তও ভেবে থাকে। কিন্তু এই ব্রিজ তাকে কখনও কিস্যু বলে নি। চেনাজানা অতি-নিরেট-গবেট ভালোমানুষ এই ব্রিজ। 
“ আজ থেকে তোমায় ব্রজমোহন বলে ডাকবো। ব্রজদা চলবে ?” ব্রিজের হাওয়ায় ফিস্‌ফিসিয়ে বললেন দিবাকর।     

Tuesday, May 7, 2013

চুমুতে হামিতে




ঠোঁটে ঠোঁট চকামে তৈয়ার হলো চুমু।

চুমুতে রইলো আকস্মিকতা। রইলো চলকে ওঠা হুইস্কি গেলাসের মিচকে হাসি, ছাদের গন্ধ, মাথা ঝিমঝিম, ঠোঁট-বুক-হাত ত্রাহ্য-স্পর্শের পেলব বিস্ফোরণ।  ফার্স্ট-ইয়ারের বেমক্কা দু জোড়া ঠোঁটের কলম্বাস-হিউয়েন সাং জুটি বনে ওঠা। চার পাশের বিশ্ব-যুদ্ধ বাস্প হয়ে উড়ে যায়, থকথকে বুক-জোড়া পড়ে থাকে। খেজুর রসের হাঁড়ির মত সুর জমে ওঠে চুমুর ভেজা-ভেজা আবেশে। পৃথিবী লেংচে চলে।  চুমুর পালা শেষ হলেই অক্সিজেন খতম হয়ে যাবে দুনিয়া থেকে; এমন ভয় জুড়ে থাকে নলবন, দত্ত-বাড়ির পুকুর-ঘাট, মন্টুদের চিলেকোঠা এবং অন্য প্রতিটি পাঁজর-তীর্থে
 । 

চুমু সেদ্ধ হতে হতে নরম হয়ে এলে চিবুতে সুবিধে হয়। ঠোঁট-জোড়ার  তেজ কমে আসে; ঝলক আবছা হয়ে আসে অভ্যস্ত আলাপে। এক বেরসিক ইশ্বর চুমুতে গুঁজে দেন পরিচিতি। পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট জুড়ে নেমে আসে স্নেহ, যেই স্নেহ বার বার শুধু এক হাঁড়ি ভাতের মত মনে করিয়ে দেয়।  
"একে অপরকে  জাপটে ধরে ভালো রাখা, এক সাথে ভালো থাকা - এইটুকুই তো"। 

কখন যে ঠোঁট-পাগলামিতে সাথে স্নেহ মিশে যায় এবং  শ্রীমান  চুমু নিজের নাম পাল্টে হামি বনে যায়; মানব-মানবী তার হিসেব রাখতে পারেন না।      


( চুমু-ওয়ালির জন্যে  নয়, হামি-ওয়ালির জন্যেও নয়; এই পোস্টটি রইলো শ্রী শ্রী রাজ শেখরের জন্যে )

Friday, March 15, 2013

হুজুগ-দেবী ও বাহানা-সম্রাট

ঘুরতে যাওয়ার জন্যে কত শত মজবুত হুজুগ মজুত রয়েছে। ছোট ঘুরতে যাওয়া, মেজ ঘুরতে যাওয়া বড় ঘুরতে যাওয়া। আহাঃ।  

কতদিন ঘুরতে যাওয়া হয় না, চলো ঘুরে আসি। পাহাড় ডাকছে গো, চলো তবে। জগন্নাথের মানত ওভার ডিউ, এবার না গেলেই নয়। মাইনে বেড়েছে গত মাসে, ঘুরে আসি। বোনাস আ গয়া, টিকিট কেটে ফেলা যাক। শরীর মন ভালো নেই, একটু বেড়িয়ে আসলে কেমন হয়? প্রবল স্ফূর্তি; দল বেঁধে বেড়িয়ে আসা যাক। মন কেমন বিকেলবেলা, চলো গঙ্গার ঘাটে। সময় কাটাবার  পার্কে হাঁটাহাঁটি। পায়ের তলায় আর ইলিশ ভাপায়; সর্ষে ম্যাজিকের জুড়ি নেই। ঘুরে বেড়াবার যুক্তি জোগাড় করে একদল মানুষ হিল্লে মনে ঘুরে বেড়ান; যেমন আমার সঙ্গিনীটি।

অন্যদিকে। যারা মুভ-টি-নট হয়ে ঘরের কোনে ক্যানিয়াকুম্যারি টু ক্যাস্মের এস্পার-ওস্পারে করে থাকেন, তাঁদেরও বাহানা-বাহিনী নিতান্ত নড়বড়ে নয়।
পাড়ার মণ্ডপে না বসলে পুজো গ্যাঁজলা মেরে যায়, এ সময় ঘুরতে বেরোবার মানে হয় না। উইকেণ্ড রেস্ত করে রেস্ট নেওয়ার সময়; বেফালতু বোলপুর গিয়ে হেজিয়ে মরার কি দরকার ? সমুদ্র বাদ কারন কুষ্ঠীতে আছে জলে ফাঁড়া বিটউইন আঠারো টু তেপান্ন। Acrophobia আর সর্দির ধাত, অতএব পাহাড় বাদ। কলকাতার ঘেমো ভিড়ে চটকে নিউমার্কেট ঘুরবার জন্যে রবিবারের সিয়েস্টা ত্যাগ করতে হবে, শেষটায় এমন দিন এলো ?  ঘরে বসে ল্যাদ খাওয়ার টাল-বাহানা মুলক যুক্তির লিস্টি অনেকে পকেটে রেখে চলা-ফেরা করেন। যেমন আমি।

দেবীর ভ্রমন-পিপাসায় ও নিজের গৃহ-আলস্যের যুদ্ধে দুজনেই অনবরত জিতে চলি।  তাই সিমলা বেড়াতে , হোটেলের বারান্দায় ফেলে আসা কলকাতার ব্যালকনির মেজাজ খুঁজে পেয়ে আমি বিভূতিভূষণ ও কফি-কাপে দিন উড়িয়ে দিই। আবার দেবী বাড়ির ছাদে উঠে বিকেলের পাতলা আলোয় পড়েন ভ্রমন কাহিনীর রগরগে সমস্ত প্রকৃতি প্রেম। এইটুকুতেই সংসারে থাকা।  

Monday, February 4, 2013

প্রেম-টেম

প্রেম করলেই হলো ? হু উইল হ্যান্ডেল দ্য পূর্বরাগ গবেট ?

তারপর একই ইয়ার-ফোনের দুই প্রান্তে দুই জাতের দুইটি কানের মিলন; এফ এমে কাল্পনিক গাছতলার গান,  কাদা আর প্যাচপ্যাচে আষাঢ়ে গরম মিলে গপ্পিয়ে রোম্যান্স।  

তারপর রয়েছে আধো-সোহাগ, নরম-আদর। কান কামড়ানো আব্দার, দেলখোসার কেবিন-ঘর।

এরপর ? এরপর মনে রাখুন ; 

প্রেম করেই যদি ইনসান খালাস হতে পারতো তবে খোদা নিশ্চিন্তে শ্রদ্ধানন্দ পার্কে বসে পাঁচ টাকার চানাচুর মিক্সচার খেয়ে দুপুর কাটাতেন। লাভ-মেকিং বিনে প্রেম করা পূর্ণ হবে কি প্রকারে জনাব ?

এত সবের মাঝেই এক ড্রপ বেমালুম চোনা – বিয়ে।

তারপর পূর্বরাগের ধনুষ্টঙ্কার, প্রেমের আমসি, রোম্যান্সের নাভিশ্বাস, সোহাগের চুলকুনি, আদরের ইস্তিরি আর লাভ মেকিং’ইয়ের হোম-ওয়ার্ক।


ঈশ্বর স্বয়ং বাঙালি। 

Wednesday, January 30, 2013

চুমু'র কথা

পাল্টে যাওয়ার প্রয়োজন আছে। আর্তজনে দান করবার কি রাম-হিড়িক চতুর্দিকে, কিন্তু সে হিড়িক কি নিদারুণ সংকীর্ণ। আরে অভাব কি শুধু পেটের খাদ্যের আর দেহের আভরণের ? রাবিশ!

চুমু-বিতরণ শিবির আয়োজন হবে কবে ? পাবলিকের ঠোঁটে বোরোলিন আর খিস্তি ছাড়া যে কিছুই টিকছে না। পাবলিকের হৃদয় যে সবুজ ময়দান থেকে বিটকেল গন্ধওয়ালা ধাপার মাঠ হয়ে চলেছে ক্রমশ। শুধু অমুক যোজনা, তমুক প্রকল্পের বার-ফাট্টাই মারলে হবে ?

রাজ্যের মাথায় ঋণ আর অন্যদিকে পাবলিক চুমুতে দীন; হাউ উইল বেঙ্গল মুভ এহেড মাই ডিয়ার বেহেড মুখ্যুস ?

ঋণ-টিন বাদ দিন, লেট দ্য চুমুস কাম ইন। দেশের ছেলেরা শুকিয়ে মরছে, রোম্যান্সের গ্লুকোজ ঢালুন, নয়তো জিন্দেগি আন্ত্রিক। ল্যালল্যাল ঘুরে বেড়ানো ইয়ূথ; এম-পি-থ্রি প্লেয়ার যুক্ত সস্তা মোবাইলে ফেসবুক ব্রাউজ ও চিপ্স-কোলা মাখা হাফ-আনার ভূড়ি – বখে গেলো মা; বখে গেলো। চুমু-টুমু ঢালো।

নন্দনে-নলবণ-ভিক্টোরিয়ায়-পার্কে বিস্তর কেস। দু মিনিট ধরে মন দিয়ে চুমুতে চুমুক দেবেন উপায় নেই; চারিদিকে হাভাতে চোখ; শালা থার্ড ওয়ার্ল্ড। এগিয়ে আসুক সরকার। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিস্তর ট্যাক্স’য়ের টাকা উজাড় করা হয়েছে; এবার হোক সংরক্ষিত চুমুদ্যান। ফরেস্ট রিজার্ভ গোছের কিস-রিজার্ভ; প্রতি পাড়ায়; যেখানে দু জোড়া ল্যাপ্টালেপ্টি ঠোঁট ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। প্রত্যেকে নিজ-নিজ চুমুতে ব্যস্ত থাকবে, এ অন্যকে ‘উই শালা’ বলে আওয়াজ মারবে না। এছাড়া প্রত্যেক বাড়ির চিলেকোঠায় বাড়ির গার্জেন’দের ওঠা বেআইনি ঘোষিত হোক।

আর হ্যাঁ, যারা অতি পাতি ? যাদের চুমু বিলোবার কেউ নেই ? তারা কি বেওয়ারিশ এক জোড়া ঠোঁট নিয়েই ঈর্ষা-অম্বল পুষে লটকে রবে ? নেভার! বারোয়ারী দুর্গা পুজোয় কাঙালি ভোজন হতে পারে, নেতাজীর জন্মদিনে কম্বল বিতরণ চলতে পারে, তবে চুমু-বিলি উত্‍সব হবে না কেন ?

একদিন মাইকে এমন এনাউন্স করা হবে না কেন:

“চুমু-প্রার্থীরা দয়া করে লাইনে ভাঙ্গবেন না। ধৈর্য্য ধরে দাঁড়ান, আর কিছুক্ষনের মধ্যেই শুরু হতে
চলেছে বেলতলা নবরুণ সংঘের উনিশতম চুমু-বিতরণ উত্‍সব। ভলেন্টিযার ঘন্টা কে অনুরোধ করছি যে পিছনের দিকে যেসব চুমু-প্রার্থী হল্লা করে বিশৃংখলার সৃষ্টি করছেন তাঁদের যেন কিছুতেই ফ্রেঞ্চ-চুমুর স্লিপ ইস্যু না করা হয়। বন্ধুরা, আজকের চুমুদান অনুষ্ঠানে চুমু দিতে এগিয়ে এসেছেন বলিউডের লতিকা ও প্রখ্যাত ঠোঁটসেবী বিনীতা। অনুষ্ঠান শুরুর আগে রাজ্যের মাননীয় চুম্বন-মন্ত্রী শ্রী মখমল হালদার লতিকা ও বিনীতা দেবীকে ফুলের তোরা ও লিপ-স্টিক দিয়ে অভ্যর্থনা করবেন....” ইত্যাদি, ইত্যাদি

Wednesday, September 19, 2012

নব্য বং প্রেম

রাত পৌনে এগারোটা বাজতেই বেবুলদা বৌদিকে ঘরে টেনে নিয়ে দরজায় খিল

-“একটা সারপ্রাইজ আছে সোনা”

বৌদি তো অবাক, “এই রাত্রে আবার কিসের সারপ্রাইজ ?”

বেবুলদা মিউ মিউ করে কইলে, “ একটা, মস্ত ব্যাপার বয়ে এনেছি”

-   “কী গো? লিলুয়া থেকে মেজপিসি বড়ি পাঠিয়েছে নাকি গো?”, বৌদি উত্‍সুক।

-   “দ্যুত, একটা রোমান্টিক ইয়ে তৈরি করছি, আর কোথা থেকে নিয়ে এলে লিলুয়া আর বড়ি”

-   “ঈ:, চল্লিশ বছর বয়সে নাগর হয়ে এলেন রোম্যান্স করতে, কবে থেকে বলছি রান্না ঘরে একটা নতুন চিমনী বসাতে,সে বেলা কোন খেয়াল নেই। আর আমার এদিকে তেলে-ঝুলে একাকার কান্ড”

-   “উফ্ফ, হবে হবে। লেট আস ফোকাস ওন দ্য নাইট সোনা”

-   “হটাত্‍ এত সোনা সোনা বাই কেনো? ওদিকে মানতাশা গড়িয়ে দেওয়ার বেলায় অমন নেকু-কান্না কাঁদাই বা কেনো?”

-   “ওরে বাবা, আহা শুনবে তো কী এনেছি...”

-   “কী জলদি বলো, আমার বাজে সময় নেই। মালতীর মাকে কাল আবার ভোর আসতে বলেছি”

-   “না মানে, তার আগে বলো, তোমার কী মনে হয় না যে আজকাল আমরা ইয়ে ব্যাপারটা একটু ইয়ে, কম ইয়েতে করছি?”

-   “ইয়ে?”

-   মানে, ইয়ে ফিজিক্যাল ব্যাপারটা....একটু গেজে যাচ্ছে না...”

-   “বয়স গাছ বেয়ে উঠছে, এখনো আবার অমন কচি ন্যাকামো কেনো?”

-   “আরে বয়স তো মনে, ইয়েতে আবার বয়েস কিসে?আসলে আমাদের ইয়ে টা ভারী এক ঘেয়ে হয়ে যাচ্ছিল, বুঝলে ডিয়ারএকটু বৈচিত্র আনতে হবেআরে বাবা সব বলই যদি গুড লেন্থ পড়ে তবে কী আর বোলারএর কোনও মান থাকে? দুটো শর্ট বল, একটা ইয়র্কার, একটা নিচু ফুলটস থাকবে; তবে না বোলার হ্যাডলি-সম

-   “তুমি যে কী বলো আমি ছাই কিছু বুঝি না, কী এনছো সেটা বলো”

-   “বলবো হানি, তবে তার আগে বলি; আজ তোমায় হাম আদর করেগাকিন্তু অন্য স্টাইলে”

-   “ফচকেমো হচ্ছে? যা করার তাড়াতাড়ি করো, বললাম না মালতীর মা কাল ভোরে আসবে? ম্যালা কাজ”

-   “দুত্তর মালতীর মাআজ এমন একটা ব্যাপার করব না, তোমার ইচ্ছে করবে যে তুমি আদর খেতে খেতে জাষ্ট ভেসে যাও...”

-   “কী এনেছো বলবে না কী কাল টিফিনে মুলো-সেদ্ধ আর রুটি দেবো?”

-   আহহ, রুকোএই দ্যাখো; চকলেট সিরাপ এনেছি”

-   “এ দিয়ে তো হট চকলেট বানায় শুনেছি”

-   “ঠিক, আর আজ এটা দিয়ে আমরা ইয়ে-ইয়ে করবো, আই মিন; হট-ইয়ে; মানে হট-লাভ করবো”

-   “এটা দিয়ে মানে?”

-   “মানে বিদেশী ছবিতে বুঝলে, নায়করা এই  চকলেট সিরাপ নায়িকার শরীরে জুড়ে ছড়িয়ে দেয়, তারপর তা আদর করে চেটে নেয়...”

-   “ইইউ, ম্যাগো, ছি:”

-   “ছি না সোনা, ছি না, সে ভারী প্রেম-ময়; আর ইয়ে; উত্তেজক। একবার প্লিজ...”

-   “মরে গেলেও না, ইসসস...”

-   “পুজোয় পুরী নিয়ে যাবো”

-   “না বললুম তো”

-   “জামদানী”

-   “না গো, এ তো খাওয়ার জিনিষ, ভারী চ্যাটচ্যাটে”

-   “মানতাসা

-   “তুমি বড় জ্বালাও...”

-   “হীরের নাক ছাবি”

-   “হীরের কানের দুল”

-   “রাজি”

-   “জলদি করো, কাল আবার মালতীর মা ভোর ভোর চলে আসবে...”

-   “ছিপি খুলি তাহলে এই সিরাপের বোতলের?”

-   “এই, খাটে নয়; সিরাপ ছড়িয়ে গড়াগড়ি হয়ে চাদর-তোষক নষ্ট হয়ে যাবে...”

-   তবে? ইয়ে, মেঝেতে মাদুর পেতে নেবো?”

-   “না না, মাদুর চটচট করবে”

-   “তবে মাদুর ছাড়া? ডাইরেক্ট মেঝেতে ?”

-   “না না, মেঝে তে পিপড়ে আসবে যে....”

-   “ যা: শালা, তবে.....তবে মেঝেতে যদি কাগজ পেতে নি?”

-   “মা সরস্বতীর ওপর? ছি:, মরণ হয় না গো!”

-   “হাউ ইজ নিউজ-প্রিন্ট সরস্বতী? ধুর! আচ্ছা, চেয়ারে; ড্রয়িংগ রুমে?”

-   “বা: রে, এই সেদিন নতুন পালিশ করলাম চেয়ার গুলো, আজ আবার ওতে সিরাপ লেগে একাকার হোক আর কী....”

-   “কী চিজ মাইরি তুমি, আচ্ছা বেশ, চলো বাথরুমে চলো”

-   “ওয়াক থু:, অমন নোংরা জাগায় গিয়ে? ছি:, ছি:, ওয়াক থু:”

বৌদিকে একটা কাল্পনিক ড্রিবল করে, বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো বেবুলদা। আহত সিংহের মত জানালে:

 “ নিকুচি করেছে চকলেট সিরাপ সহ ইয়ের, তোমার জন্যে ওই লিলুয়া আর বড়িই ভালো; এই রইলো চকলেট সিরাপের বোতল; কাল খোকাকে কমপ্ল্যানে মিশিয়ে খাইয়ে দিও। আমি তিব্বত চললাম

Tuesday, December 6, 2011

অতি প্রেম-পত্তর

ডিয়ার মাই বৌর্ণভীল সোনামণি,
উফ্ফ, পার্কে থেকে তোমাকে ছেড়ে এলুম আধ ঘন্টাও হয়নি, এর মধ্যেই হাওয়ায় অক্সিজেন কমে আসছে, পেটের ভেতরটা কেমন শেওয়াগ-গোছের লাফালাফি হচ্ছে; তোমায় ছাড়া আমার অবস্থা এক্কেবারে দেবু-জ্যাঠার নস্যি-মাখা রুমালের মত হাল হয় মাইরি
তোমার সঙ্গে থাকলে সময়টা এক্কেবারে দালের মেহেন্দির তুনক তুনক তুনএর মত কেটে যায়। তোমার আব্দারের বালি ছড়ানো মেঝেতে হামাগুড়ি দিতে যে আমার কী ভালোই লাগে...
এক্কেবারে ভিমনাগ ছড়ানো গলায় যখন বলো:
“ বাসে ভীষণ ভীড়, ট্যাক্সি নাও না প্লিজ”
“বসন্ত কেবিন না ডিয়ার, লেট্স গো টু সাম নাইসার প্লেস না সোনা, মেনল্যান্ড চায়না?”
“মাত্র দু ঘন্টা তো দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছ হনুমান, এতে রাগ করার কী আছে?”
“আমার নোট জেরক্স করবার আছে, বাইরে ভারী রোদ, তুমি শেয়ালদা গিয়ে করিয়ে আনো না”
“তোমার গায়ে কী বোঁটকা গন্ধ, ভালো ডিও না স্প্রে করে আমার পাশে আসবে না”
এমন কত কী,
কী ভালোই যে লাগে শুনতে। সুইট-হার্ট! আমার চিত্তদার বিরিয়ানী, আমার কমলা রেষ্টুরেন্টের মোগলাই পরোটা তুমিতুমি আদর করে বললে আমি নিজের ফুসফুসে ইস্তিরি চালিয়ে নিতে পারি, রিয়েলি বলছি!
আজ পার্কে যখন বললে “জিরাফ কোথাকার, তুমি আজ থেকে আর ওই দীপক-রজতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে পারবে না”, আমি সঙ্গে সঙ্গে বললুম “জো হুকুম”তিন মাসের প্রেম বাঁচাতে যদি তেরো বছরের বন্ধুদের মাইনাস নাই করতে পারি, তবে এক মাস আগে চিঠি লিখে তোমাকে বলেছিলাম কেনো “ তুমি আনসীন আমি কমন/ তুমি চাঁদ আমি বামন
আর ওই কথাটা শুনে বুকে ঝিল্লি লাগল মাইরি! তোমার বাবা নিজের মুখে বলেছেন যে বিয়ের পর তোমাদের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটটা আমার নামে লিখে দেবেন? অবশ্য তোমার বাবাকে দেখলেই কেমন দেবতা দেবতা একটা ফিলিং আসে! আর তোমার মায়েরর হাতের পাস্তা? কোথায় লাগে আমার মার বানান আলু পোস্ত; কোথায় এভারেস্ট আর কোথায় নিম-গাছের মগ-ডাল।
চিঠি এইখানেই শেষ করছি আমার সোনামনা!
লাভ ইউ!
চুমু চুমু চুমু! (শেষ চুমুটা কিন্তু ভেজা, রাগ করলে চলবে না মাইরি)
ইতি তোমার একমাত্র বেবুন
পুনশ্চ:
কয়েকটা পুচকে কথা, মূল চিঠিতে লিখতে কেমন বাঁধো-বাঁধো ঠেকলো। ভেবে দেখলাম অনেকছোট সদাগরী অফিসে চাকরি, ট্যাক্সি, এ.সি. রেষ্টুরেন্ট আমার পোষাবে না হয়তো। সেদিন তোমার জন্যে রোদে ঠায় অপেক্ষা করে ভারী সর্দি-গরমি লেগে গ্যালোদীপক-রজতদের ছাড়া আমার চলবে না। তোমার বাবার ফ্ল্যাটে আমি ইয়ে করি আর তোমার মার রান্না পাস্তা মুখে দিলে আমার বমি আসে। আমাদের আর কোনদিন দ্যাখা হওয়ার দরকার দেখছি না। আর হ্যাঁ,আর একবার আমায় বাঁদর বা জিরাফ বললে তোমায় ডাইনি বলে ডেকে ফেলবো।