Showing posts with label Politics. Show all posts
Showing posts with label Politics. Show all posts

Thursday, January 2, 2014

যত্তসব

-   জমিদার মশাই...

-   তুমি বড় কথা বল নায়েব

-   আজ্ঞে গোস্তাখি মাফ কত্তা

-   ফের কথা বললে ?

-   ক্ষমা-ঘেন্না করেন কত্তা।

-   ফের কথা বলে! তুমি শালা শুয়োরের বাচ্চা একটা। তা চুপ করে সং সেজে দাঁড়িয়ে আছ কেন ? বল, অমন নেচে নেচে এলে কি বলতে ? উফ, দু দণ্ড দেশের কল্যাণের কথা ভাববো তার উপায় নেই।

-   আজ্ঞে বলবো জমিদারমশাই ?

-   কি মাকাল রে বাপ, এই তোমায় আমি পয়সা দিয়ে পুষি ? বলবে না তো কি নেত্য করবে ? তুরন্ত বল নয়তো লাটসাহেব কে বলে তোমায় জেলে দেব।

-   আজ্ঞে কত্তা, একটা ছেলে এসেছিল।

-   ব্যাস, অমনি তোমায় আমি রাজচক্কোত্তি উপাধি দিয়ে দিই আর কি।

-   না মানে...

-   ছেলেটা কে ? কি চায় ?

-   আজ্ঞে হরেন। আপনার প্রজা। বিশু কুমোরের ছেলে।

-   বিশু ? যে হারামজাদা গত বছর অক্কা পেলে ?

-   যে আজ্ঞে।

-   তার সাহস কি করে হয় সে জমিদারের কাজের সময় এসে ব্যাঘাত ঘটায় ? এ যে রাজকর্মে বাঁধা; কত দেশসেবার কথা ভাবছিলাম। এই বেশ্যার পো এসে দিলে সব ভেস্তে...

-   আজ্ঞে বিশেষ অভিযোগ নিয়ে এসেছে...

-   এই এদের রোগ। অভিযোগ। টাকা নেই, খাওয়ার নেই, পাছায় ফোঁড়ার ওষুধ নেই। হারামজাদাগুলোর পাল্লায় পড়ে আর দশের উপকার করা হয়ে ওঠেনা। এই সেদিন ভাবলাম পুকুরপাড় বাঁধিয়ে সেখানে দোলনা বসাবো, তা না! গাধাগুলো বলে কি না ‘ জমিদার মশায়, ক্ষেতে জল নাই, খাল খুঁড়ে দেন”। আহাম্মকের দল। যে ভাবে কোম্পানিকে ট্যাক্সো দিতে হচ্ছে, অমন সখের কাজ করলে আমার চলে ? তার ওপর আবার আমার ছোট মেয়ে বায়না ধরেছে চড়কে মেলা বসাতে হবে – সেও মেলা খরচার ব্যাপার। তা এ ছেলে চায় কি ?

-   আজ্ঞে, ভারি নিদারুণ অভিযোগ।

-   কে বলেছে নিদারুণ ?
-   আজ্ঞে না মানে...আমি বললাম মানে...

-   চোপড়াও, আমি তোমায় বলতে বলেছি দারুণ না নিদারুণ ?

-   গোস্তাখি মাফ হুজুর।

-   ছেলেটা চায় কি ?

-   বিচার!

-   বিচার চায় মানে ? আমি কি অবিচার করেছি যে বিচার চাইবে ? ওর এত সাহস হয় কি করে ?

-   আজ্ঞে, গতকাল ওর দিদিকে নাকি জমিদার বাড়ির দুই লেঠেল মিলে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করে তারা নাকি সে মেয়েকে খুন করেছে...

-   কি বলে সে বেশ্যার ছেলে ? আমার লেঠেল তার দিদিকে ধর্ষণ করেছে ? খুন করেছে ? আমার লেঠেলের নামে বলেছে মানে তো আমার নামেই খিস্তি করেছে। শালাদের জন্যে এত করি আর শালা আমাকেই হুড়কো দেবে ?

-   আজ্ঞে না হুজুর, আপনার কাছে তো সে বিচার চাইতে এসেছে।

-   কিসের বিচার হে ? ওসব ছোটলোকের মেয়ের ছোটলোকামির মধ্যে আমায় জড়ানো ? হারামজাদা! জমিদার কে নিচু করবে ? আমার লেঠেলে তার দিদিকে মেরেছে ? মিথ্যে কথা। বল নায়েব, ছেলেটা মিথ্যুক কি না ?

-   আজ্ঞে একবার যদি ওর কথাটা...

-   তুমি কি শালা বিদ্রোহ করছো নায়েবের বাচ্চা ? তোমার পেটে পেটে এই ? দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষছি আমি ?

-   আজ্ঞে মাফ করুন কত্তা। ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেলেছি।

-    তোমার এ মাসের মাইনে থেকে দেড় টাকা কাটা গেল। অকাজের লোক আমি সহ্য করতে পারিনা।

-   আপনার শাস্তি শিরোধার্য কত্তা।

-   শোন, এসব অভিযোগ জমিদারের কাছে আসা ভালো নয়। এসব জমিদারের নামে কলঙ্ক লেপার চেষ্টা। হারামজাদা প্রজাগুলোর অভ্যাসই এমন, যে পাতে খাবে সে পাতেই হাগবে। কোনও কিছুতে এরা খুশি নয়, খেতে দিলে বলবে, বিছানা দাও। বিছানা দিলে বলবে মেয়েদের সম্মান বাঁচাও। এদের হাজার বায়নাক্কা। আবার এই মুখ্যুগুলোর পিঠে দু ঘা চাবুক পড়লেই বাপধনরা বাপ বাপ বলে বলে স্বীকার করে নেবে যে আমার জমিদারীতে তারা কত সুখে আছে। কি নায়েব, তাই না ?

-   আজ্ঞে জমিদার মশাইয়ের জমিদারী যে রামরাজ্য। লোকে যে আপনাকে ধন্য ধন্য করে।

-   লাটসাহেব আমায় রায় চৌধুরী উপাধি দিলেন বলে। আরে বাবা রাজ্য পরিচালনা কি চাট্টিখানি কথা।

-   ঠিক বলেছেন কত্তা মশায়।

-   আর এই ছেলে বলে কি না আমার পেয়াদায় তার দিদিকে...ছিঃছিঃছিঃ। নোংরা মায়ের পো কোথাকার। জমিদারের নামে খেউর না করতে পারলে এদের পেটের ভাত হজম হয় না।

-   আজ্ঞে যথার্থ বলেছেন। তা ছেলেটাকে বিদেয় করি তবে ?

-   শোনো নায়েব। ছেলেটাকে দু টাকা দিয়ে বল ফুর্তি করতে। আর সেই টাকা লেঠেলদের মাইনে থেকে কেটে নাও। দু টাকাতেও যদি হারামজাদার দিদির শোক না ঘোচে, তো ওকে জমিদারবাড়িতে চুরি করতে ঢোকার অভিযোগে লাঠি পেটা কর।

-   আজ্ঞে ?

-   হাঁ করে দাঁড়িয়ে মুখ দেখছো কি ? যা বললাম তাড়াতাড়ি কর। আমায় একটু শান্তিতে দেশের উপকারের কথা ভাবতে দাও দেখি। দেশের অভাগাগুলোর চিন্তায় আমার রাতের ঘুম গোল্লায় গেছে আর এরা এলেন এদের যত খুচরো পাপ নিয়ে। যত্তসব! 

Monday, August 12, 2013

পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড


পলিটিক্স ইজ ইন আওয়ার ব্লাড। শুধু গোল্ডফ্লেক্‌ ফুঁকে আর লিট্‌ল ম্যাগ ঘেঁটে ইন্টেলেকচুয়াল বনে থাকা যায় না। পলিটিক্স বুঝতে হবে এবং টেবিল চাপড়ে বোঝাতে হবে। ব্রাজিলে যদি সবাই ফুটবল-বিদগ্ধ হন, তবে কলকাতাইয়া মাত্রই রাজনীতিজ্ঞ এবং রীতিমত থুঁতনি চুলকনো সেফলজিস্ট। অবিশ্যি আমাদের রাজনীতিতে ডান-বাম তেমন কিছু নেই। উইং বলতে দুটিই ; অতি-বাম এবং প্রবল-বাম। বুর্জোয়া রাজনীতি এবং পনীরের ঝোলের পরোয়া বাংলাই কোনোদিন করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।


কলেজে ভালো ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেন, গবেটরা গায়ে হাওয়া লাগিয়ে নবাবী করেন আর বুদ্ধিমানেরা রাজনীতি করেন। উপযুক্ত দাদা-দিদিদের চিনে নেওয়া, মিছিল-টিছিলে র্যাীম্প ওয়াক, ইউনিয়ন রুমে দেদার ফ্রি চা-বিস্কুট, ব্রিগেড মিটিং’য়ের দিনে পার্টি ব্যাজ আর বিরিয়ানির বাক্স এবং সর্বোপরি; এলেম থাকলে কচি নেতা’র উপাধি – এইসব মিলে ছাত্র রাজনীতি।

ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হাতেখড়ি না হলেও ক্ষতি নেই। সক্রিয় বলে অবিশ্যি কিছুই হয় না; আদতে সবই ইন-ডাইরেক্ট ; অন্যের মাথায় কাঁঠাল ক্র্যাক করে দুনিয়া চলছে।
বাঙ্গালির কাছে রাজনীতির ডিস্ট্যান্স লার্নিং কোর্স হিসেবে রয়েছে জলখাবারের পাতে আলু ভাজার হলুদ মাখা খবরের কাগজ। অথবা পাড়ার অমুক-দা বা ছোটকাকার পলিটিকাল এনালিসিস ও টিপ্পনী। রাজনীতির যাবতীয় জ্ঞান কুলকুল করে অনবরত মগজে চালান হয়ে চলেছে।

যৌবনের রঙ দেহে সঠিক ভাবে লাগবার আগেই মনে লাগে পার্টির রঙ। পাড়ার নেতা তখন দেবতা, আখের তখন পার্টি ম্যানিফেস্টো। এর সাথে যোগ হয় গোঁয়ার্তুমি; এই ব্যাপারটি সমুচিত পরিমাণে না থাকলে চায়ের দোকান কি কফি হাউসের পলিটিকাল তর্কে জমি পাওয়া অসম্ভব। আস্তিনে যদি কিছু জাঁদরেল খিস্তি গুঁজে নেওয়া যায় তবে অতি জম্পেশ।

বাঙালি মননে রাজনীতির আলোচনা বলে কিছু হয় না, হয় শুধু তর্ক ও ঝগড়া। এট দি হাইয়েস্ট ফর্ম- হাতাহাতিও চলতে পারে। আমি যা বলছি; চমৎকার বলছি আর আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই সে ব্যাটা ক্যাপিটালিস্ট রাস্কেল। আমি চাই উন্নয়ন আর আমার বিরোধী মানেই পুকুর-ডাকাত। আমি হচ্ছি লিবারেল আর যে উল্টো কথা বলে সে হিটলারের চুমু খাওয়া বান্দা। আমার মতবাদ তুলসি পাতা আর অন্য মতবাদ চোলাই।

বেশির ভাগ বাঙ্গালির জন্যে রাজনীতির আড্ডা এক ধরনের সুস্বাদু ও অব্যর্থ ইসবগুল বিশেষ।

Thursday, July 18, 2013

সরলীকরণ

রাজনীতির সরলীকরণ হতেই পারে। এবং এই সরলীকরণের ভারি প্রয়োজন রয়েছে। তাতে আখেরে আমাদের প্রচুর লাভ। আহঃ, এই আখের শব্দটিতে কি সুফিয়ানা মেজাজ রয়েছে; আখের রসের মত মিষ্টি বাহার রয়েছে। তবে আখেরের কথা অন্যদিন।

আজ কথা রাজনৈতিক সরলীকরণের। বর্তমানের হিসেব-কিতেব ভারি জটিল। এবং কুটিল।  ভোট দিয়ে নেতা ঠিক করা। তারপর সেই নেতাদের হাতে নিজেদের সঁপে দেওয়া। নিজেদের ভবিষ্যতকে তাদের দায়িত্বশীল হাতে অর্পণ করা। নিজেদের ছোট ছেলেমেয়েগুলোকে রাজনৈতিক মাঞ্জায় ধারালো করে নেওয়া। সরকার-বাহাদুর আমাদের আখের গুছিয়ে দেবেন এমন সব মেজাজি অঙ্কে সামিল হওয়া।  কি অব্যর্থ রোমান্টিসিজ্‌ম। অথচ কি জটিল।

তবে দেশের আম –জনতার পক্ষ থেকে আমি কবুল করে নিচ্ছি যে আমাদের রাজনৈতিক পিতাদের প্রতি আমাদের দাবিগুলি নেহাতই অনৈতিক এবং ক্ষেত্র বিশেষে বর্বরচিত। তাঁদের প্রতি আমরা বিন্দু মাত্র সাহায্যের হাত কখনও বাড়িয়ে দিই না অথচ ওনাদের থেকে আমাদের চাওয়ায় ফিরিস্তি অশেষ। অন্তত রাজনৈতিক ক্রিয়াকর্মের সরলীকরণে সাহায্য করে আমরা তাঁদের প্রতি স্নেহজ্ঞাপন করতেই পারতাম।

আমাদের দেশের রাজনীতি সামান্য ২৩টি শিশুর আহুতি চাইলে। আহুতি বিনে এত বড় দেশ চলবে কি করে ? এই আসুরিক সমাজ-ব্যাবস্থা দাঁড়িয়ে থাকবে কোন বলে যদি এখন-তখন খান কুড়ি কচি প্রানের বিনিময় মুল্যটুকুও সমাজ দিতে অস্বীকার করে ?

কিন্তু না।  এ দেশের মানুষজন এমনই আক্কেলহীন যে সন্তানকে দু মুঠো খেতে দিতে না পারলেও স্কুলে পাঠাবার শখ আছে। আহাম্মকের দল। সরকার বাহাদুরের চরনে ২৩টা লাশ ফেলে দেওয়া কি এতই কঠিন ছিল  ? বাপ-মা’দের এত ভনিতার কি প্রয়োজন ? তেইশটা কচি গলা টিপে দেওয়া কি এতই কঠিন ? তা না করে; তাঁদের সরকারি স্কুলে পাঠিয়ে, বিসাক্ত মিড-ডে মিল গিলিয়ে, সংবাদ-মাধ্যমে হল্লা-বাজি করে সন্তান আহুতি দিয়ে; সরকারকে উদ্ভ্রান্ত করে; কি লাভ হল ? বেওকুফ যত। 

Thursday, April 25, 2013

চিট-ফান্ড

বস বলছে ছয় মাসের কাজ ছয় দিনে সারতে। 

বউ বলছে পুজোয় দীঘা-টিঘা চলবে না, ম্যালেইসিয়ার টিকিট কাটতে হবে। 

মন্ত্রীরা ভাবছেন এক কোপেই হাজার কোটি হাপিস মারতে, ইনস্টলমেন্টে ঝাড়ার  গড়িমসি অসহ্য।

প্রেমিকার মনের চিড়ে সওদাগরী আপিসের চাকরির জলে আর ভিজছেনি, দরকার "ফরেন পোস্টিং"।

ভিক্টোরিয়া প্রেম প্রেমিকের মনে যথেষ্ট সুধা-সঞ্চার করতে পারছে না আজকাল, কথায়  কথায় শুধু বকখালি-উইকেন্ডের বাই। 

বাংলা সিনেমা-দেখিয়ে পাবলিক এখন আর বাইক-চড়া রোম্যান্সে গলে পড়ছেন না, "বেড-সিন" চাই'ই চাই।

ভগবানও মাগনায় ক্রিকেট ছাড়তে চাননা, চল্লিশে চালসে ভগবান মানবেন কেন ? 

জগত্টাই এখন চিট-ফান্ড, তামাম পাবলিক চাইছেন কানা কড়ি ছড়িয়ে গ্যালন গ্যালন সর্ষের তেল গায়ে মাখবেন। লে রগড়। 
খামোখা সুদীপ্ত সেন'য়ের পেছনে হুমড়ি খেয়ে গড়াগড়ি যাওয়ার কি দরকার ?  

Wednesday, February 20, 2013

বনধ থাকুক

বনধ কে যারা গা-জোয়ারি গাল পাড়েন, ইতিহাস তাঁদের চাবকাবেন; এমনটাই আশা। অফিসে বসে সলিট্যায়ার খেলার চেয়ে দুপুরের ভাত ঘুম ঢের ভালো।  মুখে আপনি যাই বাতেলা ঝাড়ুন, নিজের হৃদয় হাতড়ালে টের পাবেন যে বনধ আসলে হিসেবি-ব্লাউজের-সুন্দরী-পরনারী বই আর কিছু নয়।  
  
সব চেয়ে দুঃখের বিষয় যে বনধ-শিল্প বাঙালি আজও সঠিক সুরে বাঁধবার চেষ্টা করলো না। বনধ যেন লিটল ম্যাগাজিনের কবিতা; আঁতলামো করে খিস্তি মেরেই খালাস। বনধ নাকি ইকনমি, জি-ডি-পি, শিক্ষা-স্বাস্থ সমস্ত ইস্যুতে ব্লেড চালায়। আরে ধুর; দেশের পর দেশ সেনাবাহিনী পুষে ফতুর হয়ে যাচ্ছে আর যত গলা-শুকনো কান্না শুধু বনধ’য়ের বেলায়। বনধ হলও হাফ-শহীদ-চাকুরি’বাজেদের বুকের ভেতরের ব্যালকনির হাওয়া; খল-নলচে জুড়ে না হয় খেলুক একটু।  

বনধ-সংস্কৃতি বরং একটু সুসংহত করে তোলবার সময় এসেছে। অমুক-চেতনা সপ্তাহ, তমুক-জাগরন পক্ষ গোছের বেফালতু নেত্য না করে; জাতীয় বনধ সপ্তাহ পালন করা হোক। পালা করে দেশের তাবড় রাজনৈতিক দলগুলো বনধ ডাকবেন। পার্টির বনধ ভলেন্টিয়াররা রাজ্যময় ছড়িয়ে পড়বেন বনধ সম্বন্ধে পাবলিককে আরও সচেতন করে তুলতে। মোরে মোরে ওয়ার্ক-শপ করে লোককে শেখানো হোক কি ভাবে বনধের দিন রাস্তা জুড়ে ক্রিকেট ফুটবল খেলতে হবে, অফিস-কারখানার গেটের সামনে জমায়েত করে কি ভাবে থিয়েটার করতে হবে, কি ভাবেই বা বিভিন্ন পার্টির বনধ-মাস্তানি-কমিটি’তে নাম লেখানো যাবে।

রাজ্যের বনধ-মন্ত্রি রাস্তায় কোনও মিনিবাসে আগুন জ্বেলে বনধ-সপ্তাহের উদ্বোধন করতে পারেন; পেছনে রি-মেড রবিন্দ্রসঙ্গীতের কোরাস – “ বাস জ্বেলে দাও, বাস জ্বেলে দাও, বাস জ্বেলে দাও, দাওওওওওওও...”। এর পর সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলো এক এক করে আয়োজন করবেন এক দিনের বন্ধ। রাজ্য জুড়ে উদযাপিত হবে বিভিন্ন উৎসব ও আনন্দ-খেলা; যেমন বনধ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ছোটদের জন্যে বসে-টায়ার-পোড়াও প্রতিযোগিতা, থিম ভিত্তিক সড়ক-অবরোধ ইত্যাদি। খুব ভালো হয় যদি প্রত্যেক বনধ বা বনধ-বিষয়ক উৎসবগুলোর জন্যে আলাদা আলাদা স্পনসর পাওয়া যায়। বেশ একটা আই-পি-এল হাওয়া লাগবে; কার্বন-কামাল-গাড়ি ভাংচুর বা সিটি-মোমেন্ট অফ রেল-অবরোধ। আহাঃ।

সপ্তাহ শেষে, যখন সমস্ত দলের বনধ শেষ, তখন শুরু হবে সেরা বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল নির্বাচনের পালা। এটা ডেমোক্রেসির যুগ, ভোটাভুটি ব্যাপারটা মানুষ বেশ খায়। অতএব “সেরা কে”,  এই ব্যাপারটা ঠিক করা যেতে পারে এস-এম-এস ভোটের মাধ্যমে। আপনার প্রিয় বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল কে জেতাতে হলে আপনাকে এসএমএস করতে হবে <পার্টির নাম>স্পেস<সেরা-বন্ধবাজ> আর তা পাঠিয়ে দিতে হবে অমুক নম্বরে। পার্টি নেতারা নিজে এসে এস-এম-এস এপিল করবেন; তাতে খেল জমবে। সেরা বনধ-ডাকিয়ে রাজনৈতিক দল পাবেন বছরে আরও দুটি এক দিনের বনধ ডাকার সুবর্ণ সুযোগ। রাজ্য-জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বনধ-প্রিয় জনতার জন্যে বনধ গুডীজ; যেমন আই-লাভ-বনধ লেখা টি-শার্ট, টুপি, বিবেকানন্দের বানী লেখা শুনশান বনধ-রাস্তার পোস্টার; ইত্যাদি।

এ সব কিছু হলে দেখবেন; টি-আর-পি,স্পন্সর,এন্সিলারি আউটপুট ইত্যাদি সব মাল-কড়ি মিলে বনধ-ইন্ডাস্ট্রি আপনাদের ইকনমিতেও টু পাইস ঢালবে। ল্যাদখোর পাবলিকও বছরে কদিন ভাত ঘুম দিয়ে হাঁপ ছাড়বে।
      

Friday, December 28, 2012

বিদায় পরিচিতা

এই ছিলুমএই হাপিস

বাবার চাকরি, বাবার ভোট, মার হাতের পরোটা, মার ভোট, দাদার ক্রিকেট, দাদার ভোট
আমার কলেজ, আমার সদ্য একুশ, আমার হরিণ মাংস, আমার ভোট
আমার বন্ধুরা, আমার বন্ধুটিআড্ডা-গপ্প-শয়তানীআমাদের এক রাশ ভোট

আমার বিদেশ ঘুরতে যাওয়ার স্বপ্ন,সুইজারল্যান্ড বা সিংগাপুরআহ, আর আমার ভোটটি।

বাবা বলতেন, আমি পড়াশোনা শেষ করে নিজে চাকরি করে বিদেশ ঘুরে আসবো। বাবা-মাকেও ঘুরিয়ে আনবোতিনটি ভোট, সেজে-গুজে বিদেশ ঘুরে আসবে
মা বলতেন;আমার বর আমায় বিদেশ নিয়ে যাবে। অন্য একটি পরিবারঅন্য একগুচ্ছ ভোট
বন্ধুটি বলতো আমি তোমায় বিদেশ দেখাবো, দুর্দান্ত সব ল্যান্ডস্কেপ্স, মন মাতানো শহর; প্রযুক্তির বিস্ফোরণ। সমস্ত”। একটি অসহায় সহ-পড়ুয়া ভোটনাদান ভোট
সবাই জেনে গেছিলো যে এই বুদ্ধু লড়কী বিদেশ ঘুরতে যেতে চায়।

ঠিক সে নহি পড়েগি, তো ফরেন যায়েগি ক্যায়সে বেওকুফ?”- অঙ্কর স্যার বলতেন। এই সেইবার অংকে দুম করে ছিয়ানব্বই পেয়ে বসলাম। স্যার কে বললাম, আর পাঁচটি বছর যেতে দিন; আমার সঙ্গে দ্যাখা করতে হলে বিদেশে আসতে হবে আপনাকে।
কেউ কেউ বিরক্ত হতেন আমার বিদেশ যাওয়ার নেশায়; কেন? কী নেই আমাদের দেশে ?”

ব্যাপারটা সত্যি, কী নেই আমাদের দেশে?প্রযুক্তি, বাড়ন্ত জি-ডি-পি, ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ জয়; কী নেই ? সবই আছে। শুধু ভয় পাওয়াটা যে কেনো এমন অভ্যেস হয়ে গেছিলো। কিসের ভয় ?
ট্রেনে,বাসে, মেট্রোতে উঠতে,
বাজারের ভিড়ে,
ধর্মীয় স্থানগুলোর জটলায়,
যে কোনও মানুষের ভীড় কে ভয়।

কে বা কারা এই প্রত্যেকটি ভীড়ে লুকিয়ে থেকে আমার ওপর হামলে পড়তো ?
গা ঘিনঘিনে কথা কানে ভেসে আসতো, কখনো লোলুপ দৃষ্টির ময়লা বুকে-পিঠে ছড়িয়ে পড়তো, এবং কখনো নোংরা কিছু হাত খামচে ধরতো আমার শরীর।
মা বলতেন আমার নিজের ইজ্জত নিজের হাতে; আর কারুর দায় নয়। ট্রেনে-বাসে তো এমনটি হবেই;লোক-জানাজানি হোক; এমন ভাবে রাস্তায় যেনো কোনও চিত্কার না করে ফেলি; তাতে নাকি আরও অসম্মান; এমনটা তো হয়েই থাকে – মা বলতেন।

নিজেকে ঘেন্না লাগতো, কারা করে এমনটা রাস্তায় ? কারুর ভাই ? বাবা ? তবে কী আমারও ভাই-বাবা....! ছি: , আমি ক্রমশ অবিশ্বাস শিখেছিলামতাই ভাবতাম সব ছেড়েছুড়ে বিদেশ ফসকে যাবো

আজিব বাত দ্যাখো, যাদের প্রতি ঘেন্না এ দেশ ছাড়বো ভেবেছিলাম, তারাই আমায় বিদেশ পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিলো। সেই অন্ধকার লোক-গুলোর মধ্যে থেকে কজন আমায় এমন ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেললে, যে গোটা দেশ এবং মাননীয় ভারত সরকার হাত তুলে নিলে : বলে দিলেন তার যে আমায় সুস্থ করা তাদের কম্ম নয়স্নেহশীল ভারত সরকার আমার সমস্ত চিকিত্‍সার খরচ বহন করলেন, এমনকি আমায় নিয়ে গেলেন সিংগাপুর; এবং এরই ফাঁকে কাদের ওপর যেনো লাঠি-চালালেন, জল কামান হাঁকলেন; হারামজাদা লুম্পেন গুলো নাকি সরকারকে পথ দ্যাখাতে গেছিলো। রাসকেলগুলো কী দেখতে পায় না যে আমাদের পিতাসুলভ সরকার বাহাদুর কী প্রবল “ঠিক হ্যায়” সম্রাজ্য-স্থাপন করেছেন এ মহান দেশে ?

এবং আমাদের সংবেদনশীল শ্রী শ্রী মিডিয়া প্রভুগন আমায় নতুন নতুন নাম দিলেন, আরোপিত সেই নামে ভরিয়ে দিলেন খবরের ভাঁড়ার, টি-আর-পি আকাশ কে ফালাফালা করে দিলো

আমার পরিবার নাকি আমার চিকিত্‍সায় ভিষন খুশি ছিলেন, মিডিয়া এবং মাননীয় সরকার এমনটি জানালেন। সেলাম
আমি নাকি সিংহীর হৃদয় নিয়ে লড়াই করে গেছি, আমি ভিষন সাহসী, নির্ভীক ও অদম্য; মিডিয়া এবং মাননীয় সরকার এমনটি জানালেন। সেলামবিশ্বাস করুন আমি এমন অদম্য হতে চাইনি। 
বিশ্বাস করুন আমি ভিষন ভয় পাই সেই লোকগুলো কে, আর ওই অবিচলিত সরকার-বাহাদুরকে

আমি তো শুধু বাঁচতে চাইছিলাম। প্রতিশোধ নয়, সমাজ সংস্কার নয়ওই ভেণ্টিলেটরে শুয়ে যেটুকু সময় আমি ভাবতে পেরেছি; আমি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলামনা, কোনও অফিসিয়াল স্টেটমেন্টবার বার করে দিতে আমার মন চায়নিবাঁচতে হবে, বাঁচতে হবেইমা আমি বাঁচবো, বাবা আমি বাঁচবো, দাদা প্লিজ...আমি একটু বাঁচবো

না: , আমি বাঁচতে পারলাম না। ইন্ডিয়া কী বেটি বলে আপনার কেউ পার পেতে পারলেন না। আমার মৃত্যুর দায় আপনাদের সব্বাইকে নিতেই হলো
আপনাদের তবু বোনটি, মেয়েটি প্রতিবাদ করার জন্যে রইলো, সরকারের ভোট রইলো; আমার মা-বাবাটা বড় এক হয়ে গ্যালো। যাক
একটাই ভালো ব্যাপার ঘটে গ্যালো জানেন; ওই অন্ধকার মানুষগুলোর অত্যাচারে এবং মহানুভব সরকারের স্নেহে আমার বিদেশ-ভ্রমণটা অন্তত হয়ে গ্যালো।

সিংগাপুর। আহ: কী চমত্কার শহর; ছবির মতনা, আমি দেখতে পারলাম না
বাসের ভীড়ে যখন কেউ আমায় খামচে ধরতো, কান্না আসতো। ভাবতাম; “এই পোড়া দেশে যেন মরতে না হয়”

ধন্যবাদ ঈশ্বর কে। অন্তত ভারতবর্ষের মাটির স্নেহ বহন করে আমায় চলে যেতে হলো না।