Thursday, January 19, 2012

গোলাপদাদুর চমক



সন্ধ্যেবেলা সবে বাড়ি ঢুকেছি এমন সময় পাড়ার গোলাপ-দাদুর ফোনগোলাপ-দাদু পাড়ার বারোয়ারী দাদু, গোলাপ-চাষে এক্সপার্ট বলে এহেন নামআমাদের বয়েসি ছেলে-মেয়েদের ভারী খাতির করেনভদ্রলোকের ভূ-ভারতে কেউ নেই, এক জোড়া চাকর ছাড়াছেলে-পুলে কেউ নেই, দিদিমা বহু আগেই সরে পড়েছেনমাঝে-সঝে আমাদের মিষ্টি-সিঙ্গারা-আম-জামরুল খাইয়ে থাকেনসে হিসেবে আমারও একটু দহরম আছে গোলাপ-দাদুর সাথে
ফোন ধরতেই গোলাপদাদু বললে “ পচারাম, কাম টু মাই প্লেস, সুন”
বিশেষ কোনও কাজ-কর্ম ছিল না হাতে, মিষ্টি-সিঙ্গারার লোভে চলে গেলাম। গোলাপদাদুর বাড়ি যেতেই চমকদেখি গোটা ঘর অন্ধকারগোলাপদাদু বলে হাঁক দিতেই চিলেকোঠার ঘর থেকে আওয়াজ এলো “ওপরে, এই দিকে পচা, চলে এসো
, মেইন সুইচে ফল্ট হয়েছে কোনও, ইলেকট্রিশিয়ান এক ঘন্টার আগে আসবে না
চিলেকোঠার ঘরটার সামনে পৌছতেই দেখি গোলাপ-দাদু দরজা আটকে দাঁড়িয়ে।দেখে অবাক হলাম গোলাপ-দাদু বেশ ধোপ-দুরুস্ত প্যান্ট-শার্ট পড়ে রয়েছে।
বললাম “কী ব্যাপার দাদু, দরজা আগলে দাঁড়িয়ে কেন?”
-“একটা সারপ্রাইজ আছে”, মনে হল উত্তেজনায় দাদুর মুখ চকচক করছে
-“সারপ্রাইজ? কিরকম?”
-“কাম উইথ মি”, বলে দাদু দরজা খুলে ভিতরে ঘরে ঢুকলেন, পিছু পিছু আমি।
ঘরের ভিতর আসবাব বলতে একটা ছোট্ট সোফা এবং একটি সাদামাটা সেন্টার-টেবিল। অবাক হয়ে দেখলাম, টেবিলের ওপর একটি সোয়া পাউন্ডের কেক, মোমবাতি সহ!
-“হ্যাপি বার্থডে”
-“হ্যাপি বার্থডে?আমার জন্মদিন তো এখনো ৬ মাস দূরে..”
-“আরে আমার বার্থডে হে, আর আমি ভীষণ হ্যাপি..হ্যাপি ৮০তম..”
আমি নির্বাক।
-“আশি?”
-“ইয়েস, এইট্টি, এলাইভ এণ্ড কিকিং”, গোলাপদাদু উচ্ছসিত প্রায়।
-“হ্যাপি বার্থডে দাদু, হ্যাপি বার্থডে”
-“থ্যাঙ্ক ইউ পচা
দাদু কেক ফু মেরে 80-মার্ক মোমবাতি নেভলেন, কেক কাটলেন, আমার সাথে সুর মিলিয়ে হ্যাপি বার্থডে গাইলেন; সে তার কী ফুর্তি।
বিরিয়ানী ভোজনান্তে , দাদুর জন্মদিন পালন শেষ করে বেরোবার সময়, বুড়ো জড়িয়ে ধরে যখন থ্যাঙ্ক ইউ বললে, ভারী মন কেমন করে উঠলো। বললাম, “দাদু, আগে বলোনি তো আজ তোমার জন্মদিন? তাহলে আর জম্পেশ করে কিছু একটা করা যেতো?”
-“কেন এটা কী খারাপ হল পচাকুমার?আসলে কী জানো,জীবনে আমার তেমন কোনও শখই অপূর্ণ নেইশুধু আমার ভারী ইচ্ছে ছিল যে আমার একটা সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি হবে, সেটা আজ পর্যন্ত হতে পারেনিসেই ছেলেবেলায় মা পায়েস বানাতেন, তারপর তোমার দিদিমা, তাদের পর আর আমার জন্মদিনের ইনফরমেসনটাই তো কারুর কাছে নেই , তো সারপ্রাইজ পার্টি। এদিকে আশি হয়ে গ্যালো, এবারে, কেন জানি না মনে হলো টাইম ইজ রানিঙ্গ আউট। তাই ভাবলাম কী করা যায়, ভেবে দেখলাম বার্থডে পার্টি হাম খুদ অরগনাইজ করেগা। জন্মদিন আমার, পার্টি আমার, আর সারপ্রাইজড হবে তুমি, কেমন, হল তো সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি?”
গোলাপ দাদু এখনো বহাল তবিয়তেই আছেনপ্রবল ভাবে সুস্থগোলাপ চাষে দিনে তিন ঘন্টা ব্যয় করেন এবং আশি বছর বয়েসে ভদ্রলোক একটি নতুন চাকরিও জুটিয়েছেন একটি বেসরকারী সংস্থায় যথারীতি আমাদের ভাগ্যে মাঝে মধ্যেই মিষ্টি-সিংগারা জোটে গোলাপদাদুর বদান্যতায়। অবশ্যই গোলাপদাদুর ৮১তম জন্মদিনে একটা চমকের আয়োজন আমরা পাড়ার ছেলেরাই করতে পারবো এবং বংপেনে সে ব্যাপারটাও গুছিয়ে নথিভুক্ত করে রাখতে হবে।

Wednesday, January 18, 2012

মর্নিং ওয়াক

মর্নিং ওয়াক ইস নেসেসারীইয়েস স্যার, ফিটনেস ছাড়া বাঙালি এগোতে পারবে নারিয়েল পরিবর্তন চাইলে রাইটার্সএর আগে নিজের ভূড়িটাকে কন্ট্রোল করতে শিখতে হবেআর শরীরটাকে চাবুক-চনমনে করতে হলে সবার আগে কী চাই?
না, ইসবগুল নয়, গুলবাজ বাঙালির দিন শেষসবার আগে দরকার মর্নিং ওয়াকনেকু হাঁটা নয়, দ্রুত গতির মিলিটারি হাঁটাভোর ছটা থেকে সোয়া-সাতটা, নন-স্টপইকনমিক এবং এফেকটিভ জিম
২০১২ থেকে আমি পাল্টে যাব, আমার ঘুম ভাঙ্গা পাল্টে যাবে, ভূড়ি-বাদ নীতিতে নিজেকে আমূল বদলে স্মার্ট বাঙালি করে ফেলবোপ্ল্যান-মাফিক কাজ শুরুমর্নিং ওয়াক হলো গিয়ে সায়েবি ব্যাপার, হাভাতের মত পায়জমা গলিয়ে তো আর মেদ-বিরোধী হণ্টনে নাম যায় না
তার জন্যে প্রয়োজন সরঞ্জামগত প্রস্তুতি। ১লা জানুয়ারী থেকে যে ভোরমুখী মেটামরফোসিস ঘটবে তার জন্যে ৩১শে ডিসেম্বর লিষ্টি হাতে বেরোলুম শপিংয়ে।
- জম্পেস একটি স্পোর্টস শু, না দৌড়বো এমন আহাম্মক আমি নই, তবে হাঁটতে হলে;-স্টাইল লাগে
- তিনটে গল্ফ টি-শার্ট গদাই-লস্করি ফতুয়া পরে হাঁটলে কী আর হাঁটায় সাহেবী দুলুনি আসে নাকি?
- স্টপ ওয়াচ ঘড়ি-ফড়ি ফালতু চিজ, হাঁটার গতি যদি মাইক্রোসেকেণ্ডে মাঁপতেই না পারি, তাহলে নিজের উন্নতি ট্র্যাক করব কী ভাবে
- সিপার যুক্ত জলের বোতল। গেলাসে চুমুক দিয়ে কিনা হাঁটতে বেরোবো? আহাম্মক নাকি আমি?
- আই-পড শাফল। কানে নচিকেতা না ঢুকলে, পাঁয়ে দুলুনি আসবে কী করে ?
- এল্যার্ম ঘড়ি: একটা বিরাশী-সিক্কার এল্যার্ম ঘড়ি যাতে স্নুজ করবার কোনও উপায় নেই। মোবাইলে এল্যার্ম-ট্যালার্ম চলবে না। ডেডিকেটেড এল্যার্ম ঘড়ি ছাড়া বাঙালির ভোরের ডেডিকেটেড ঘুম কিছুতেই ভাঙ্গবে না।
- দেড় কিলো ছোলা।এক কিলো গুড়জলে ভিজিয়ে এক মুঠো খেয়ে নাও রোজ সকালেতন্দরুস্তি আর কাহাকে বলে?
রাজকীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হতেই মনে হল আমার তলপেটের মেদ যেন সামান্য টান-টান হয়ে উঠেছেতোফাএবার বাকি ছিল শুধু ১লা জানুয়ারী থেকে শরীর-যুদ্ধে ঝাঁপ
****
আজ ১৯য়ে জানুয়ারীএকটানা ১৮টি মর্নিং-এল্যার্মকে একক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ করেচ্ছি। না। এখনো আমার মর্নিং ওয়াকে বের হওয়া হয়নিযাবতীয় প্রচেষ্টা সত্বেও বেলা পৌনে-আটটার আগে একদিনও উঠতে পারিনি আমিতবে নতুন এল্যার্ম ঘড়িটির আওয়াজ নাকি এতটাই দাপুটে যে আমার স্ত্রী প্রতিদিন সাড়ে-পাঁচটায় তরাং করে উঠে পড়ছেন। এবং আমার প্রবল মনোবলের কাঁধে ভর দিয়ে আমার স্ত্রী অত্যন্ত সফল ভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত প্রাত:ভ্রমণে বেরোচ্ছেনক্রিকেটিও ভাষায়, এ তো আমারই মরাল ভিক্টোরি

Tuesday, December 6, 2011

অতি প্রেম-পত্তর

ডিয়ার মাই বৌর্ণভীল সোনামণি,
উফ্ফ, পার্কে থেকে তোমাকে ছেড়ে এলুম আধ ঘন্টাও হয়নি, এর মধ্যেই হাওয়ায় অক্সিজেন কমে আসছে, পেটের ভেতরটা কেমন শেওয়াগ-গোছের লাফালাফি হচ্ছে; তোমায় ছাড়া আমার অবস্থা এক্কেবারে দেবু-জ্যাঠার নস্যি-মাখা রুমালের মত হাল হয় মাইরি
তোমার সঙ্গে থাকলে সময়টা এক্কেবারে দালের মেহেন্দির তুনক তুনক তুনএর মত কেটে যায়। তোমার আব্দারের বালি ছড়ানো মেঝেতে হামাগুড়ি দিতে যে আমার কী ভালোই লাগে...
এক্কেবারে ভিমনাগ ছড়ানো গলায় যখন বলো:
“ বাসে ভীষণ ভীড়, ট্যাক্সি নাও না প্লিজ”
“বসন্ত কেবিন না ডিয়ার, লেট্স গো টু সাম নাইসার প্লেস না সোনা, মেনল্যান্ড চায়না?”
“মাত্র দু ঘন্টা তো দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছ হনুমান, এতে রাগ করার কী আছে?”
“আমার নোট জেরক্স করবার আছে, বাইরে ভারী রোদ, তুমি শেয়ালদা গিয়ে করিয়ে আনো না”
“তোমার গায়ে কী বোঁটকা গন্ধ, ভালো ডিও না স্প্রে করে আমার পাশে আসবে না”
এমন কত কী,
কী ভালোই যে লাগে শুনতে। সুইট-হার্ট! আমার চিত্তদার বিরিয়ানী, আমার কমলা রেষ্টুরেন্টের মোগলাই পরোটা তুমিতুমি আদর করে বললে আমি নিজের ফুসফুসে ইস্তিরি চালিয়ে নিতে পারি, রিয়েলি বলছি!
আজ পার্কে যখন বললে “জিরাফ কোথাকার, তুমি আজ থেকে আর ওই দীপক-রজতদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে পারবে না”, আমি সঙ্গে সঙ্গে বললুম “জো হুকুম”তিন মাসের প্রেম বাঁচাতে যদি তেরো বছরের বন্ধুদের মাইনাস নাই করতে পারি, তবে এক মাস আগে চিঠি লিখে তোমাকে বলেছিলাম কেনো “ তুমি আনসীন আমি কমন/ তুমি চাঁদ আমি বামন
আর ওই কথাটা শুনে বুকে ঝিল্লি লাগল মাইরি! তোমার বাবা নিজের মুখে বলেছেন যে বিয়ের পর তোমাদের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটটা আমার নামে লিখে দেবেন? অবশ্য তোমার বাবাকে দেখলেই কেমন দেবতা দেবতা একটা ফিলিং আসে! আর তোমার মায়েরর হাতের পাস্তা? কোথায় লাগে আমার মার বানান আলু পোস্ত; কোথায় এভারেস্ট আর কোথায় নিম-গাছের মগ-ডাল।
চিঠি এইখানেই শেষ করছি আমার সোনামনা!
লাভ ইউ!
চুমু চুমু চুমু! (শেষ চুমুটা কিন্তু ভেজা, রাগ করলে চলবে না মাইরি)
ইতি তোমার একমাত্র বেবুন
পুনশ্চ:
কয়েকটা পুচকে কথা, মূল চিঠিতে লিখতে কেমন বাঁধো-বাঁধো ঠেকলো। ভেবে দেখলাম অনেকছোট সদাগরী অফিসে চাকরি, ট্যাক্সি, এ.সি. রেষ্টুরেন্ট আমার পোষাবে না হয়তো। সেদিন তোমার জন্যে রোদে ঠায় অপেক্ষা করে ভারী সর্দি-গরমি লেগে গ্যালোদীপক-রজতদের ছাড়া আমার চলবে না। তোমার বাবার ফ্ল্যাটে আমি ইয়ে করি আর তোমার মার রান্না পাস্তা মুখে দিলে আমার বমি আসে। আমাদের আর কোনদিন দ্যাখা হওয়ার দরকার দেখছি না। আর হ্যাঁ,আর একবার আমায় বাঁদর বা জিরাফ বললে তোমায় ডাইনি বলে ডেকে ফেলবো।

Monday, December 5, 2011

নব্য-বঙ্গ ব্যঙ্গ

গালাগাল, থুড়ি..তিরস্কার ক্রমশ বড় আলুনি হয়ে উঠছেকদিন ধরেই দেখছি শাপ-শাপান্ত বা বাপ-বাপান্ত করে তেমন লে হালুয়া গোছের ফুর্তি হচ্ছে নাতবে বাঙালির ব্রেন থাকতে খিস্তি...ইয়ে মানে...ভর্ত্‍সনার জন্যে নব্য ভাষা বা যুক্তির অভাব হবে, এ কেমন কথা? একটা জটিল যোগ-মন্ত্র মনে মনে আউড়ে নিয়ে, মনসংযোগ সুদৃঢ় করে এগিয়ে এলাম, আধুনিক এবং সদ্য-আবিষ্কৃত কিছু ভেলকিময় হুমকি লিপিবদ্ধ করতে
১. অকর্মণ্য : “পার্লামেন্ট কোথাকার” (ডেমোক্রেসি ভিত্তিক)

২. সর্বনাশ হোক: “গ্রুপ বি তে গিয়ে পচ শালা” (ইউরো১২ ভিত্তিক)
৩. মোটা: “সরকারি ফাইল কোথাকার” (অনলি ইন-নেভার আউট ভিত্তিক)
৪. ঘুম নষ্ট হোক: “তোর পিছনে আন্না লাগুক” (নিউ-এজ সত্যাগ্রহ ভিত্তিক)
৫. ন্যাকা: “আস্ত অ্যান্টি-কোলাভেরী” (ইউ-টিউব ভিত্তিক)
৬. বিপদে পড়ুক: “পেটে শ্রীসান্থ ঢুকে যাক” (ষণ্ড-নৃত্য ভিত্তিক)
৭. সারমেয় লাঙ্গুল (ইয়ে..মানে কুত্তার লেজ-সম ব্যক্তি) : “শালা ইনফ্লেসন কোথাকার” (মূল্যবৃদ্ধি ভিত্তিক)
৮. অকাজের লোক: “ব্যাটা অর্কুট” (সোশ্যাল-মিডিয়া ভিত্তিক)
৯. অলস: “পুরো কফি-হাউস” (কোলকাতা ভিত্তিক)
১০. ও মরুক গে, আমার কী!: “বি-জে-পির হয়ে কলকাতায় ভোটে লড়ুক গে আমার কী!” (রিয়ালিটি ভিত্তিক)
১১. অপয়া: “ওরে সচিনের ৯৯ সেঞ্চুরি” (খুড়োর কল ভিত্তিক)
১২. বাঁদরের গলায় মুক্ত-হার : “বিদ্যা বালানের কোলে তুষার কাপুর” (নোংরা-ছবি ভিত্তিক)
১৩. তোকে দিয়ে কিছু হবে না: “করবি,লড়বি, জিতবি রে, করবি, লড়বি রে..” (কে কে আর ভিত্তিক)
১৪. গুলতানী মারা বন্ধ কর : “ইন্ডিয়া-টিভিগিরি বন্ধ কর” (মিডিয়া ভিত্তিক)
১৫. অকর্মার ঢেঁকি: “ফুলকপির বিরিয়ানী” (বমি-আগমন ভিত্তিক)
১৬. অসম্ভব ঘটনা : “সলমন খানের জামা” (দাবাঙ্গ ভিত্তিক)
১৭. সন্দেহ-জনক: “কিরণ বেদীর প্লেনের টিকিট” (NGO ভিত্তিক)
১৮. তোর মুখে ছাই পড়ুক : “তোর মুখে জল মেশানো বিয়ার পড়ুক”
১৯. ভন্ড: “শারদ পাওয়ারের গাল” (থাপ্পড় টের না পাওয়া ভিত্তিক)
২০. জুতো মেরে গরু-দান : “ আন-ফলো করে রি-টুইট করা” (টুইটার ভিত্তিক)

Friday, December 2, 2011

দ্য গ্রেট ইটালিয়ান সেলুন



পুরুষ-প্রসাধনের মত সহজ ব্যাপার এ পৃথিবীতে বিরল
সেই সহজাত সহজ হিসেব-কিতেব কে জমজমাট সাজিয়ে তলে লচ্ছমন সিংএর (লচ্ছমন , লক্ষণ বা লক্সমন নয়) এই গ্র্যান্ড ইটালিয়ান সেলুনবস্তুত একটি বাজারের থলি হাতে ঘুরে বেড়ান এই প্রোলিতারিয়েত হাবিবথলির সম্পদ নামিয়ে যে কোনও জায়গায় বসে যায় এই বিহারী যুবকের পথের পুরুষ-পার্লার
এক বোতল জল, একটি ক্ষুর,একটা চিরুনি, দুটি কাঁচি, একটি গামছা, একটা সেভিং ক্রীমের টিউব, একটা সেভিং ব্রাশ, একটা স্টীলের তোবড়ানো বাটি এবং একটি আধ-ভাঙ্গা ফিটকিরিএই সরল আসবাব সাজিয়ে যত্র-তত্র বসে যায় লচ্ছমনের দ্য গ্রেট বিহার সেলুন। লছ্মন জানালে যে চুল কাটতে সে নেয় ৭ টাকা, দাঁড়ি কামাতে ৪ টাকা এবং চুল-দাঁড়ি এক সাথে ছাঁটালে শুধু দু টাকার ছাড় পাওয়া যাবে তাই নয়, পাঁচ মিনিট মালিশও ফ্রী। এমন লোভনীয় অফার ফেলে যদি আপনি নামজাদা সেলুনে চুল-দাঁড়ির সঙ্গে পকেটটিও কাটাতে ঢোকেন তাহলে বলতেই হয় আপনি নিতান্তই একটা ইয়েআর হ্যাঁ, নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, যে পুরুষ-প্রসাধনী সেলুনে যদি FDI’এর অনুপ্রবেশও কোনদিন ঘটে, লচ্ছমনের ব্যবসা টলানো অসম্ভব
পুনশ্চ: এই ছবিটি বিহারের বেগুসরাই জেলার সীমারিয়া-অর্ধ কুম্ভ মেলাতে (২০১১) তোলা।