Friday, November 2, 2012

দু:স্বপ্ন


মধুময় ধড়মরিয়ে উঠে বসলেনচারিদিকে চেয়ে দেখলেন আর কেউ নেইখাটের ওপর তিনি একাপরনের গেঞ্জিটা ঘামে চুপচুপ।মান্ধাতা আমলের ফ্যানটা ঘটঘট শব্দে ঘুরে চলেছে, সাথে দেওয়াল ঘড়ির টিকটিক। নাইট-বাতির আবছা আলোর চেয়ে রাতের গাঢ় অন্ধকারই বেশি স্পষ্টতবে অন্ধকারে কিছুক্ষণ চোখ সইয়ে নিয়ে টের পেলেন যে স্বপ্নটা নিদেন স্বপ্ন ছিলো নাশিয়রের কাছের ইজি-চেয়ারে যে ছায়ামূর্তিটি বসে আছে সেটার অবয়ব দেখে মধুময় নিশ্চিন্ত হলেন যে ওটা বাবাপ্রতিবেশিরা বার বার বলা সত্বেও কাশী গিয়ে পিন্ড না দিয়ে আসাটা যে গোয়ার্তুমি হয়েছে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারলেন মধুময়আসলে যৌবনে আত্মস্থ করা কম্যুনিজ্মের পোকাটা এই ষাট বছর বয়সেও জ্যান্ত ছিলো। মধুময় বুঝলেন যে এই বয়সে এসে অন্তত এইটুকু মালুম হলো যে দৈবিক-ভৌতিক ব্যাপারটা নেহাত লোক ভোলানো বাতেলা নয়; নইলে বাবার দেখা এইভাবে পাওয়া যেতো না।

-   তুমি কি ভয় পেয়েছো মধু?, বাবার স্পষ্ট কণ্ঠস্বর

-   “বাবা?”, মধুময় যাচাই করতে চাইলেন

-   “চিনতে অসুবিধে হচ্ছে?”

-   “না মানে, ইয়ে , ভয় নয়, একটু ভেবড়ে গেছি...আপনি এতদিন তো...”

-   “এতদিন দেখা দিই নি, আজ দিচ্ছি, সঙ্গত কারণ আছে বলেই দিচ্ছি”

-   “কেমন আছেন?”

-   “ঠাট্টা করছো?”

-   “ইয়ে, মানে আমি মোটামুটি....”

-  “তোমার হাল-হকিকত আমার জানতে বাকি নেই। ভাগ্গিস বে-থা করোনি; নয়তো তোমার উড়ন-চন্ডিপনার জন্যে আর পাঁচটা জীবন জলে যেতো”

-   “বকছেন?”

-   “তুমি বকাবকির উর্ধে বাপ, চিরকালই”

-   “কি একটা সঙ্গত কারণ বলছিলেন, আজ দেখা দেওয়ার...”, মধুময় উসখুস করে ওঠেন।

-   “কারণ একটাই, যে এতদিনে তুমি আমায় এ অবস্থায় দেখার যোগ্য হয়েছ

-   “মানে?”

-   “অত্যাধিক খাওয়ার লোভই তোমার কাল হবে আমি জানতাম।গতরাতের চিংড়ি-মাংসের ওভার-ডোজ সহ্য হয়নি তোমার।  দুই ঘন্টা আগেই তুমি এই পারে চলে এসেছো মধু, ঘুমের মধ্যে আচমকা দড়াম করে বেড়ে যাও ব্লাড-প্রেশার তোমার ওই কোলেস্টেরলের ডিপো মার্কা হার্ট সাসটেন করতে পারেনি। এতদিন বাদে ছেলে আমায় দেখতে পাবে, আমি ছুটে আসবো না?আজ যে আমি কি খুশি মধু তোমায় বলে বোঝাতে পারবো না, তাড়াতাড়ি চল; তোমার মা পথ চেয়ে বসে আছেন” 

Thursday, November 1, 2012

করওয়া চৌথ’য়ের কবলে


(ঘটনাটি অথবা দুর্ঘটনাটি ঠিক এক বছর পুরনো)

সকাল সকাল বোমাব্রেকফাস্ট নেইহোয়াট? এনার্কি নাকি? বউয়ের কাছে এনকোয়েরী করতেই মালুম হলো কেস : করওয়া চৌথ! আধা-কম্যুনিষ্ট বউ বলে কী! এসব তো উত্তর ভারতীয় ব্যাপার-স্যাপার!তায় উপোস করে থাকার নিয়ম হলো স্ত্রীদের’; স্বামীদের আয়ু-বৃদ্ধির অভিপ্রায়ে। এসবের মধ্যে গোদা-বাঙালি পুরুষ-সিংহ আমি ফাঁসলাম কেমন করে?  ভাত-ডাল-চচ্চড়ি-ঝোল গিলে অফিসে বেরোনো অভ্যেস; এদিকে এক আনফোরসিন দুর্যোগ এসে হাজির।

বউ বুঝিয়ে বলায় কেস খোলসা হলো। রীতি-রেওয়াজের মুখে কেরোসিন; এই বঙ্গ-করোয়া চৌথটা হলো নব্য সামাজিক ফ্যাশন-বিশেষ। বাঙালির দেশি-কসমোপলিটিয়ানা অর্জনের দিকে আর একটি পদক্ষেপ; বউয়ের বান্ধবী-মহলে সবাই নাকি ব্যাপারটা জাতি নির্বিশেষে গ্রহণ করেছে। গতবার বউয়ের খপ্পড়ে পরে ধানতেরাসে পকেট-ত্রাস উত্‍সব পালন করতে বাধ্য হয়েছিলামএবারে করওয়া চৌথয়ের পাল্লায় পড়লামআমার উপোসের কারণ হচ্ছে স্ত্রী-মুখী সমব্যথাযেহেতু বউ উপোস যাবে; সেহেতু বরও উপোস যাবে; রোম্যান্সের হিসেব তাই বলে; বউএর বান্ধবীদের বরেরা নাকি স্বেচ্ছায় উপোস যাচ্ছেলে হালুয়া। কখন সন্ধ্যেবেলা বউ চালুনি দিয়ে চাঁদ দেখবে, তারপর সে খাবে; এবং বলি-নায়কের মত আমারও Chivalry’র কেতা মেনে তার পরেই জল-স্পর্শ করা উচিত।

আমি আপ্রাণ বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে এই উপোস কী ভাবে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে পারে; কিন্তু কে শোনে কার কথা। অবশেষে নির্জলা অবস্থায় অফিস-মুখো হলাম

অফিসে  কোনও রকমে দাঁতে দাঁত চেপে বেলা পার করছি। প্রেসার মনে হচ্ছে লো হয়ে যাচ্ছে, গা গুলিয়ে উঠছে ক্ষীদের চোটে, জিভ শুকিয়ে যাচ্ছে;যে কোনও মুহূর্তে মনে হচ্ছে কোল্যাপ্স করে যাবো। লাঞ্চে সবাই যখন ক্যান্টিন-মুখো; আমি প্রায় ভেঙ্গেচুরে তপস্যা লাটে তোলার মুখেকোনওরকমে মন শক্ত করলামবউ বেচারী আমার জন্যে হোক বা FDI’য়ের প্রতি মরাল সাপোর্টের খাতিরে হোক উপোস করে আছে; আমার কী একটা দায়িত্ব নেই? আমি কী এমনই পাষণ্ড?

সহকর্মী বচু-দা লাঞ্চে যাওয়ার আগে চিংড়ি মালাইকারী অফার করে গেলেন; বচু-বৌদির হাতের মালাইকারী যে অমৃত-সমান সেটা আমার জানা ছিলোইচ্ছে হচ্ছিল বউ ডিভোর্স করলে করবে, মেরে দিই মালাইকারীবহু কষ্টে সামলাতে হলোনিজেকে অনুপ্রাণিত করবার জন্যে একটু নিরবিলি মুহূর্তে মানিব্যাগ থেকে বউয়ের পাসপোর্ট সাইজ ফটো বার করে একটু হামি খেয়ে নিলাম; আহা রে, আমার জন্যে কেউ না খেয়ে আছেপারবো, আর কয়েক ঘন্টা আমি না খেয়ে থাকতে পারবোজয় আন্না

বিকেল পাঁচটা নাগাদ, যখন প্রায় আধ-মরা হয়ে গেছি; পাল্স ঢিলে হয়ে এসেছে; আমার মিষ্টি-নরম বউটির জন্যে মন কেমন করে উঠলো; সেও তো অফিসের কাজ ঠেলছে সেই সকাল থেকে উপোস থেকে। বৌয়ের খবর নিতে ফোন করলাম।

-   “ হেল্লো সোনা, কেমন আছো?”, আমি বিগলিত কন্ঠে শুধোলাম।

-   খারাপ থাকবো কেনো?” বউ সটান।

-   “ না মানে অফিসের কাজে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?”

-   “কেনো? অসুবিধে কেনো হবে?”

-   “না মানে, গোটা দিন উপোস করে আছো কী না....”

-   “উপোস? এইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই......যা:! দেখেছো কান্ড! অফিসে হাজার কাজের চাপে তো ভুলেই গেছিলাম করওয়া চৌথের কথা আর সেই ভুলে কল্যিগদের সঙ্গে লান্চ করে ফেলেছি। যাক! এখন থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত আর কিচ্ছুটি খাবো না, ওকে ডিয়ার? এবার বলো, করওয়া চৌথে তুমি আমায় কী গিফ্ট দেবে! ভালো গিফ্ট দেওয়াটা কিন্তু একটা নিয়ম আজকের দিনে, জানো তো? একটা হীরের...”
খটাং করে কাটলাম ফোন!তুরন্ত বেরোলাম অফিস থেকে। টার্গেট দুটো! প্রথমত: আরসালন, দ্বিতীয়ত : ডিভোর্স লইয়ার!

শালা!   

Tuesday, October 30, 2012

যেহেতু

যেহেতু এখন রাত এবং যেহেতু এখন অল্প শীত, এবং যেহেতু আমার গায়ে নরম কাঁথা, এবং যেহেতু আমার ঘুম আসছে না, এবং যেহেতু এক জাগতে কেমন লাগে, এবং যেহেতু আমার মন কেমন করে আসছে, এবং যেহেতু বাইরের অন্ধকার ঘরের ভিতর ছড়িয়ে পড়ে আমায় জাপটে ধরছে, এবং যেহেতু ভয়ের কোনও নিয়ম-কানুন হিসেব-কীতেব মেনে চলার রীতি নেই; সেহেতু আমি মায়ের কথাই ভাববো

যেহেতু অফিসে বেদম চাপ এবং যেহেতু বসের মেজাজ নিপাট আগুন, এবং যেহেতু সহকর্মীরা নিশ্চিন্তে খোঁচা মারছে, এবং যেহেতু ভীষণ একা হয়ে পড়েছি, এবং যেহেতু কপালের ঘাম ঘন ঘন মুছতে হচ্ছে, এবং যেহেতু গলাটা থেকে থেকেই শুকিয়ে আসছে; সেহেতু আমি মায়ের কথাই ভাববো

নয়তো, ফুর্তি-চিন্তায় আরামসে কেটে যায় দিন-দুপুর, সকাল-সন্ধ্যে-রাত। প্যাভলভ ব্যাটা শুধু গলা বেয়ে উঠে আসা কান্নার সাথে মায়ের হাসি-মুখ জুড়ে রেখে গ্যাছে।

মিউট বোতাম

মিউট বোতাম যে কী গভীর, কী উত্তাপ-ময়কানে শুধু মিঠে শব্দই মধু ঢালে না, নিস্তব্ধতাও হিমসাগরের মত মখমলে হতে পারে। মিউজিক সিস্টেম, রেডিও, টিভির বেয়াড়া-পনা কী স্বচ্ছন্দে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়; বুড়ো আঙ্গুলের আলতো চাপে রেডিমেড স্তব্ধতাএ জিন্দেগিতে মিউট বোতামের যদি আরও ব্যাপ্তি থাকতো, তবে মাখনে ছুরির মত চলতো লাইফ

নাগরিক হৃদয়ের কোলেস্টেরল মাখা খাঁজ থেকে উঠে আসা বিবিধ মিউট বোতামের চাহিদাগুলো সাজিয়ে দেওয়া হলো:

স্ত্রীর বালুচরী-মুখী ঘ্যানর-ঘ্যানর মিউট করে দেওয়ার বোতাম

২। বসয়ের অমুক হয়নি-তমুক হয়নি-কিস্যু হয়নির ফিরিস্তি বন্ধ করে দেওয়ার মিউট বোতাম

৩। গড়িয়াহাটের মোরের বেদম ট্র্যাফিকি হই-হল্লা ঘ্যাচাং করার জন্যে বোতাম

৪। শাশুড়ির উপদেশের রেশন-দোকান মিউট করে ফেলার মিউট-অস্ত্র

৫। রবিবার সকল নটা পর্যন্ত কলিং বেল মিউট করার বোতাম

৬। বাথরুমে আয়েস করে দু-দন্ড নিজের রেওয়াজ সারার সময় বাথরুমের দরজার দুম-দুম ধাক্কাকে মিউট করে দেওয়া অতি জরুরি

৭। কোলেস্টেরল বিরোধী , আনন্দ-ধর্ষণকারি ডাক্তারদের বিজ্ঞ টিপ্পনী মিউট করে দেওয়ার বোতাম।

৮। সর্বোপরি, নিজের মাথার ভেতর যে আওয়াজটা মাঝে মাঝেই হুমকি দেয় “এত বদ কাজ করিসনে পচা, করিস নে, বাপ-মায়ের শিক্ষা কে অবহেলা করে স্বার্থ সর্বস্ব জানোয়ার বনে যাসনি”, তাকে মিউট করে কোতল করে দেওয়া; ফুর্তি-ময় জীবনের জন্যে অতি জরুরি

Thursday, October 11, 2012

পুজোর ছক

পুজো ইজ হিয়ার
মেদু-বৌদি হিল স্টেশন ও বালুচরীর প্ল্যানে মশগুল
মেদু-পুত্র বিল্টা লজিষ্টিকাল ছক কষছে রকমারি রকমারি রেস্তের রেষ্টুরেন্ট গমনের।  
মেদু-কন্যা গোপন দশমী ডেট ও মিনিতর মিনি-স্কার্টের প্রতি নিবেদিত প্রাণ।

তামাম বুদ্ধি একজোট হয়ে  পুজো ব্লু-প্রিন্ট কনক্রিট:

চতুর্থী শপিং।
পঞ্চমী তো অষ্টমি দার্জিলিং এন্ড ব্যাক টু ক্যালক্যাটা।  
অষ্টমী ডিনার টু দশমী লাঞ্চ তক আরসালান-মোকাম্বো-ট্যাঙ্গরা থেকে পিটার ক্যাট।
দশমী রাত্রে কন্যার অভিসার।
গিন্নী ঝকমক। পুত্র-কন্যা ডগমগম্যাডক্স স্কোয়ারে গ্রুপ ফটোমেদুদা এন্ড ফ্যামিলি- সহাস্যইস্টম্যান কালার মাখা পুজো মস্তি।

শুধু মেদুদার প্ল্যানটুকু আর খোলসা করা হলো না কারুর কাছে। মেদুদার ভারী ইচ্ছে ছিলো ভদ্রেশ্বরে পৈত্রিক ভিটেতে গিয়ে গোটা পুজোটা গ্যাট হয়ে বসে থাকা।

বাবার স্মৃতিমায়ের নরম আঙ্গুলে চুলে বিলি কেটে যাওয়ামায়ের হাতের ঝিঙ্গে পোস্ত, লাউ চিংড়ি। 
ছেলেবেলার পুজোর গন্ধপাড়ার আদুরে মণ্ডপচেনা মুখ চারিদিকেতুমি-তুই-আপনিতে জমজমাট। মণ্ডপ চত্তরে স্টেজ বেঁধে নাটক, খিচুড়ি ভোগ, অঞ্জলি, সন্ধি-পুজো, প্ংক্তি ভোজন, ধুনুচি নাচ, আড্ডা, বারোয়ারী বেগার খাটা, ভোগ পরিবেশন, সিদ্ধি, হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা,  বিসর্জনের নাচ: শৈশব, কৈশোর এবং ফেলে আসা সহজ সরল ভালোবাসাগুলো। 

প্রতি বছরের বুক মুচড়ে ওঠা পুজোর প্ল্যান মেদুদারকোনও বারই খোলতাই করে ছেলে-মেয়ে-বউ কে বলে ওঠা হয় নাবাকি সবার কত রকমারি প্ল্যান। কত প্রস্তুতি
প্রতি বছর পুজোর ফ্যামিলি-ফটোতেনিজের শহীদ-শারদ-ইচ্ছেগুলোকে ছয় সেন্টিমিটারের ক্যামেরা-অনুগত হাসিতে ঢেকেবুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেদুদা
বয়েস মা আমি তোমার কাছে যাবোবলার অধিকার,  বহু আগেই লোপাট করে দিয়েছে 

Wednesday, September 26, 2012

পুজোর ছুটি ঘটিত


দত্ত: মে আই কাম ইন স্যার?
বস: দস্তুরের ফাইলটা কমপ্লিট করেছো?
দত্ত: ইয়ে স্যার ,ওই আর ঘন্টা-খানেকে হয়ে যাবে স্যার
বস: তাহলে ইয়ে দত্ত, তুমিও ঘন্টা-খানেক পরেই এসো
দত্ত: ভারী আর্জেণ্ট স্যার!
বস: দস্তুরের ফাইলের চেয়েও বেশি?
দত্ত: ইয়েস স্যার!
বস: প্রমোশোন নিয়ে ন্যাকা কান্না জুড়বে না তো?
দত্ত: না স্যার
বস: কাম ইন
দত্ত: থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
বস: কী ব্যাপার? দস্তুরের ফাইলটা এখনো কমপ্লিট হলো না?
দত্ত: ওই যে বললাম, আর ঘন্টা খানেক...
বস: তবে তার আগে এসেছো কেনো?
দত্ত: ইয়ে স্যার, ভারী জরুরি ব্যাপার!
বস: জলদি বলে ফেলো, টাইম ইস মানি এন্ড মানি ইজ ইন দস্তুরস পকেট
, ফাইল না শেষ করে গতি নেই
দত্ত: ইয়ে, বসবো?
বস: না, বসবে কেনো? আড্ডা মারতে এসেছো নাকি? দস্তুরের ফাইল শেষ করে এনে তবে বসবে, জলদি বলো কী ব্যাপার!
দত্ত: হে: , স্যার, ওই যে কথাটা বলা ছিলো, পুজোয় ছুটির কথা, আপ টু দ্বাদশী, সিক্স ডেইজ, সিক্কিম ভাবছি ঘুরেই আসি।
বস: সে কী? এই শুনলাম বুকিং নেই কোনও ট্রেনের জলপাইগুড়ি পর্যন্ত? সেই জন্যে তুমি তুমি ছুটির এপ্লিকেশন ক্যানসেল করলে, বললে ডিসেম্বরে ছুটি নেবে, আবার সিক্কিমের প্ল্যান করছো যে?
দত্ত: ইয়ে স্যার, একটা পুজো স্পেশাল ট্রেন দিয়েছে ফ্রম হাওড়া টু নিউ-জলপাইগুড়ি, অনলি অন সপ্তমি মর্নিং। আচমকা খবর পেলামএইমাত্র ইন্টারনেটে চেক করলাম খান তিন-চারেক মাত্র পড়ে আছে, আপনি কনফার্ম করলে, এখনই টিকিট কেটে ফেলি, বউয়ের খুব ইচ্ছে স্যার; এবার পুজোয় পাহাড়ের হাওয়া খেয়ে হেঁসেল ভুলবে
বস: সপ্তমীর দিন সকালে? জলপাইগুড়ির স্পেশাল ট্রেন? সরি। সপ্তমীর দিন ছুটি হবে নাঅষ্টমী থেকে নিতে পারো, নট ফ্রম সপ্তমী!
দত্ত: কিন্তু স্যার, সপ্তমী তো রোব্বার?
বস: ইয়ে, তো কী হয়েছে? ওই দিন একটা বিশেষ ব্যাপার হতে পারে
দত্ত: কী বিশেষ ব্যাপার স্যার?
বস: সে ভারী একটা ইয়ে ব্যাপার আছে, ওই দিন রবিবার হলেও তোমায় একটি বারের জন্যে অন্তত অফিস আসতেই হবে, একটা হিউজ ব্যাপার আছে, তোমায় পরে বলে দেবো কী ব্যাপার। শুধু তুমি সপ্তমীর দিন রওনা হতে পারবে না
দত্ত: কিন্তু স্যার, সপ্তমীর দিন না বেরতে পারলে তো আর কোনও ট্রেনে টিকিট নেই! সিক্কিম তো আর যাওয়াই হবে না!
বস: সিক্কিম সিক্কিম করে নেচো না তো! হ্যাভ ইউ বিন টু অযোধ্যা পাহাড় দত্ত? বাংলার মধ্যে যে কী বিউটিফুল সব স্পটস আছে, সেগুলো এক্সপ্লোর করো আগে! যাও বরং অযোধ্যা পাহাড়ে দু-দিন কাটিয়ে এসো।
দত্ত: সপ্তমীর দিন তাহলে ছাড়ছেন না?
বস: বললুম তো! না!
দত্ত: তাহলে ওই ডিসেম্বরেই ছুটি নেবো, অযোধ্যা পাহাড়ে গিয়ে কাজ নেই।
বস: সেই ভালো, অযোধ্যায় গিয়ে কাজ নেই, তুমি বরং মন দিয়ে দস্তুরের ফাইল তা দ্যাখো, কেমন?
দত্ত: হুম! চলি স্যার।
বস: ইয়েস!

( দত্তর বসয়ের চেম্বার থেকে প্রস্থান। বস মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করেই ফোন লাগালেন স্ব-গৃহে)
ফোনে বস: “গিন্নী, কেল্লা ফতে! তুমি পুজোয় সিক্কিম যেতে চাইছিলে না? ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ও ফ্লাইটের বাজেট না থাকায় আমাদের ক্যানসেল করতে হলো প্ল্যান! রেল থেকে একটা পুজো স্পেশ্যাল ট্রেন দিয়েছে, সপ্তমীর সকালে হাওড়া থেকে ছাড়ছে; আপটু নিউ-জলপাইগুড়িসেখান থেকে গাড়িতে সিক্কিম এক্কেবারে মেগা ব্যাপার গিন্নীশুধু মাত্র তিন-চারটে টিকিট পড়ে আছে, একটা কম্পিটিটর কে কচু-কাটা করে দিয়েছি,এবার বাকিদের আগে আমার কেটে ফেলতে হবে; এই IRCTC’য়ের সাইটে ঢুকছি!জয় তারা!”
ফোনে বসের গিন্নী: “আই লাভ ইউ সোনা, ইউ আর দ্য বেস্ট”
ফোনে বস: “আই লাভ ইউ টু হানি, ইয়েস, আই এম দ্য বেস্ট”


Monday, September 24, 2012

মনের বাইসেপ, হৃদয়ের ট্রাইসেপ


“এই যে স্যার, হ্যাঁ, এই যে, আপনাকেই বলছি স্যার,গুড মর্নিং, এই যে ট্রেড-মিলে ঝড় তুলে আপনি বেদম দৌড়চ্ছেন, এ তে আপনার মেদ ঝড়ছে ঠিকই, কিন্তু মগজের জং সাফ হচ্ছে কই?হৃদয়ের ঝুল ঝাড়-পোছ হচ্ছে কই? কলজেতে হাওয়া খেলছে কই? চাবুক শরীরে খেন্তী-বুড়ির মন পুষে কী লাভ? মাল্টি-জিম ছেড়ে মনটি জিমে দিন। দৈন্য দূর করুন।

রোল-কাবাবের তেলে রক্ত ভরিয়ে নিতে কসুর করবেন না; জিহ্বা শাণিত হবে।
দুম-ফটাস হাসতে গিয়ে আটকে যাবেন না; হৃত্পিণ্ড অক্সিজেন পাবে।
জমাটি প্রেম করুন, বউ-প্রেম, বিয়ণ্ড বউ-ভালো লাগা জড়ো করুন; মনের শিকল আলগা হবে।
হুইস্কি খান; পাঁজড় কড়ক পাবে।
মাসে একবার গাঁজা টানুন; মগজে তিরিং যাবে।
খিস্তি করুন; ফুসফুস বল পাবে।
ফাইল-পত্তর মাঝে-সাঝে সাইড করে বেদম আড্ডা জমান; চোখে চমক আসবে।  
ঘুমের মধ্যে যাতে  ডাকাতে ভঙ্গিমায় নাক ডাকতে পারেন তার জন্যে সাধনা করুন; নির্মল শান্তি মালুম হবে

ভূড়ি ম্যানেজ করাটাই সব নয় স্যার! অন্তর-আত্মা কে মনন-খাদ্যে ভূড়ি-ভোজ করান, তবেই না উত্তরণ?”

এ কোন অমোঘ দৈব-বাণী আমার কানে বর্ষিত হলো? কোন মহাপুরুষ আমার কানে এই মহামন্ত্রের বীজ বপন করে গেলেন? টের পাওয়ার আগেই ঘুম গেলো চটকে বউএর কলার ধরে ঝাঁকুনিতে:
“ওঠো,ওঠো বলছি! থ্যাবড়া গোবর-গণেশ কোথাকার! খালি গিলবে আর ভূড়ি পুষবে! এত কষ্ট করে জিমে ভর্তি করালাম, আর জিমে এসে কী না তুমি টুলে বসে ঘুমোচ্ছো? ডিসগাস্টিং! ওয়েক আপ নাউ!”