Friday, January 11, 2013

বিবেকানন্দ ও আনন্দ



নেতাজীপল্লী নব বালক সংঘএলাকার তরুণ-তুর্কি তথা মধ্যমনিদের পাড়া-তুতো পার্লামেন্টদুর্গা-পুজো, শীতলা পুজোর মেলা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যে, একটি রক্ত দান শিবির, একটি বস্ত্রদান উত্‍সব এবং একটি কাঙালি ভোজন আয়োজন করে থাকে প্রতি-বছরঅবশ্যই এর সাথে থাকে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট, একটা একদিনের বিরাটক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং দুটি ক্যারম টুর্নামেন্ট

ক্লাবের সেক্রেটারি বলাদার বাবা জগন্নাথ সমাজপতি সদ্য এম-এল-এ হওয়ায় ক্লাবের জাঁক দ্বিগুন হয়েছে। ক্যাশিয়ার হুলোদা আর ব্যাজার মুখে সর্বক্ষণ বসে থাকেন না। ক্লাব-ঘরে এসেছে নতুন কালার টিভি, দ্বিতীয় ক্যারাম বোর্ড।   

আধুনিক কেতা মেনেই নব-বালক সংঘেরও রয়েছে কোর-কমিটিকোর-সভ্যদের মধ্যে রয়েছে সেক্রেটারি বলা-দা, আড়তদার বিভুতিবাবুর পুত্র ও রিসোর্স শ্রীমান বাপ্পা, ক্যাশিয়ার হুলোদা, উঠতি পার্টি-কর্মী এবং প্রাক্তন হাত-বোমা বিশারদ গুলে এবং লিটল-ম্যাগিও কবি নবারুন ওরফে নবা

নতুন বছরে কোর-কমিটির ফুলকপির-সিঙ্গাড়া আর কড়া কফি সহ বৈঠক একটা ট্র্যাডিসনের মধ্যে পড়ে। যথারীতি বছরের প্রথম শনিবার, ক্যারামের আসর ভেঙ্গে যাওয়ার পর,ক্লাবঘরে সন্ধ্যে বেলা বসেছে কোর-কমিটি
আলোচনার সার-বস্তু কীভাবে আমার কাছে এসে পৌছলো সেইটে বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আমি শুধু সাজিয়ে দিলাম সেদিনের নব-বালক সংঘের কোর-কমিটিও আলোচোনাটা

বলাদা : “ উপেন ময়রার সিঙ্গাড়ায় আজকাল ফুলকপি খুঁজতে হলে লালবাজারের কুত্তা লাগাতে হবে, হিউমান নাকে ধরা পড়বে না এমন সিঙ্গাড়ার ট্রেস”
নবা: “ ইয়ে বলাদা, এ মাসের ফুটবল টুর্নামেন্টটা তো ক্যানসেল হয়ে গ্যালো, মাঠ পার্টি নিয়েছে সভা করবে বলে। কিন্তু কিছু একটা না করলেই নয়ইজ্জতে মরচে চড়ছে।“
বলাদা: হ্যাঁ, এমনিতেও একটা নতুন কিছু করা দরকার আমাদের। ওই শেতলা পুজোর মেলা আর রক্তদান ভারী এক ঘেয়ে হয়ে গ্যাছে"
হুলোদা: “ইয়ে, ফাণ্ডে বেশ রোখড়া আছে বটে, গতবারের দুগ্গাপুজোয় চাঁদা ভালোই ম্যানেজ হয়েছিল। শুভেনিয়ারের টাকা আনটাচড রয়েছে”
বাপ্পা: বহুদিন মাল খাওয়া হয় না।
গুলে: ইভেন্ট অরগানাইজ করতে চাইছি আমরা ? এ আর এমন কী। এই তো স্বামীজির দেড়শো নম্বর জন্মদিন আসছে। আমাদের পার্টি থেকে কলকাতায় বিশাল সভা করা হচ্ছে স্বামীজিকে ইয়াদ করে। টলিগঞ্জের পাগলিউ খ্যাত নায়ক দেবেনকে আনা হচ্ছে সে অনুষ্ঠানে পাবলিক কে বিবেকানন্দয়ের ওপর মোটিভেট করতেব্যাপক খরচ হচ্ছেচাইলে আমরাও তেমন কিছু করতে পারি
বলা: বিবেকানন্দর জন্ম ? দেড়শো বছর ? বা: , আইডিয়া মন্দ নয়। একটা ইয়ূথ-ফ্লেভার আছে
বাপ্পা: শেষ সেই কবে মাল খেয়েছি বলো তো আমার সবাই মিলে গুরু ?
নব: হিল্লে আইডিয়া। কী বলিস হুলো ?
হুলো : বিবেকানন্দ ব্যাপারটা পাবলিক খাবে,তাছাড়া পাড়ার হাবড়া গুলো বহুত পরেশান করে কালচারাল কিছু ডিসপ্লে করার জন্যে।
বলা: আই থিঙ্ক আমাদের বিবেকানন্দয়ের জন্মবার্ষিকী পালন করা উচিত্‍। জনগণ কী বলে ?
বাকি চারজন এক সাথে : “ আলবত”
বলা: “ জিবে প্রেম ব্যাপারটা ফোকাস করে কিছু করতে পারি”
হুলো: “ গোটা পাড়া কে ডেকে পোলাও মাংস খাওয়ালে হয় না ?”
বলা: “ কনসেপ্টটা জিবে প্রেম, জিভে প্রেম নয় গাধা”
হুলো: “ জিব মাত্রই জিভ বিশিষ্ট”
বলা: : “ সিরিয়াস ভাই সকল”
নব: “ আমি বলি কীআমাদের এমন কিছু করা উচিত যা আগে কেউ করেনি”
বাপ্পা: “ মাল খাওয়ার ব্যাপারটা....”
বলা: “ বলে যা নবা”
নব: “ বিবেকানন্দ কী বলেছেন ? গীতা-টিতা পরে পড়লেও হবেআগে ফুটবল খেলো; শরীর বাগাও।এই থিমে এগিয়ে.....”
হুলো: “থিম ? এটা পুজো প্যান্ডেল নাকি ?”
নব: “ থাম হুলো, আইডিয়া টা আগে প্লেস করতে দে। আমি বলি কী, এই যে নরেনদা, আই মিন স্বামীজি, ফুটবল এবং শরীর চর্চা এত বিশ্বাস করতেন, সেই লাইনে আমরা যদি কিছু করি ?”
বলা: “ ফুটবল টুর্নামেন্ট ? যোগ শিবির ?”
বাপ্পা: “ মদ্যপান ?”
নব: “ তাতে আর নতুন কী ভাইয়েরা ? আমার মাথায় যে আইডিয়া খেলছেতা করলে আমরা গিনেস বই পর্যন্ত পৌছে যেতে পারি। ফুটবল-ও-ডাম্বেল-বিতরণ অনুষ্ঠানপাড়ার কচি ছেলেদের জন্যে ফুটবল আর তরুণদের জন্যে ডাম্বেলনরেনদা এটা শুনলে কেঁদে ফেলতেন আনন্দে, স্যাডলি, উনি আজ আমাদের মধ্যে নেই
বলা: “তোর হবে নবা, তোর কবিতার বই এক সময় লোকে কিনে পড়বেই। আমার সমর্থন আছে; ফুটবল-ও-ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান, নব-বালক সংঘয়ের নাম টেলিগ্রাফ থেকে এ-বি-পি-আনন্দ তক পৌছে যাবেযাবেইবাকি রা কী বলে ?”
সবাই এক সাথে : “ ফুল সাপোর্ট”
বাপ্পা: “হুইস্কি খাওয়ার ব্যাপারটা কী হলো?”
বলা: “ ইয়ে হুলো, ক্যাশে কত রয়েছে”
হুলো: “ যথেষ্ট, আমরা এই অকেশনে হাজার-কুড়ি ছাড়তেই পারি।“
বলা: “সাবাস, এইবারে আয় খরচের একটা ফর্দ করে ফেলা যাক”

হলো। 
পাঁচ মাথা মিলে, বিবেকানন্দের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালনের তুমুল প্ল্যান হলো“ ফটবল ও ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান”

খরচের একটা খসড়া লিষ্টি তৈরি হলো:
মঞ্চ-সজ্জা : ৩৫০০ / -
প্রধান অতিথির যাতায়াত, ফুলের স্তবক : ৫০০ /-
মাইক : ১০০০ /-
খুচরো খরচ : ১৫০০ /-
মিষ্টি-বিতরণ : ৫০০ /-
ডাম্বেল-বিতরণ: ৫০০০/-
ফুটবল বিতরণ : ৩০০০/-
কোর-কমিটির আনন্দ-ডিনার : ৫,০০০ ( বিরিয়ানী : ১০০০/ - , কাবাব : ১০০০ / - , রোগনযোশ : ৫০০ /-,   হুইস্কি-সোডা-ইত্যাদি : ২,৫০০/- )

জয় বিবেকানন্দ।  


(ওপরের ছবিটি এই url থেকে নেওয়া : http://www.srijan.asia/blog/ )

Thursday, January 10, 2013

ডায়েরির ব্যাপার-স্যাপার


নিউ ইয়ার। সব চেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ডায়েরিএ সময় দু জাতের মানুষ জেগে ওঠেনএক ভাগ “একটা ডায়েরি প্লিজ দেবেন, ছেলের/অমুকের/তমুকের/নিজের প্রয়োজন” গোছের অন্য ভাগ “হাতে এলে অবশ্যই তোমায় দেবো, আসলে আজকাল ডায়েরি বড় কম পাই” ধরনের

ডায়েরি যারা চাইছেন, তার ডায়েরি আদৌ ব্যবহার করেন না, ডায়েরি জোগাড় করাই তাঁদের হবি
যারা দেবো বলে রোয়াব নিচ্ছেন; তারা ডায়েরি মুফত্‍য়ে পান কিন্তু বিলি করার সময় মনে হয় বুকের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কলজে ছিড়ে বের করছেন।

ডায়েরি-দাতা'দের দ্বিধা-দ্বন্দ :

হাতে রয়েছে রকমারি ডায়েরি।
বড় ,চমত্কার চামড়ার বাঁধাই, সোনালী কালিতে ছাপা বছর সংখ্যা , এবং দামী : তাদের জন্যে যাদের তৈল-মর্দন অতি দরকারী। যেমন হবু শশুর, প্রমশনের মরশুমে বস, মালদার খরিদ্দার।
মাঝারি সাইজ, মাঝারি জাত,রেক্সিন বাঁধাই, গড়পড়তা পাতার কোয়ালিটি: তাদের জন্যে যাদের কে দিয়ে “কেমন দিলুম, না দিলে পেতে?” গোছের একটা হাসি দেওয়া চলতে পারে।
ছোটো-খাটো সস্তা ডায়েরি: উলু-খাগড়ার জন্যে। চ্যারীটি আর কী। ছেলের স্কুলের মাস্টার, বেকার ভাইপো, অফিসের পিয়ন; এদের মাঝে হরির লুটের ভঙ্গিতে ছড়িয়ে দেওয়া।

ডায়েরি-লাভ করেছে যে, তার মনের দোলাচল:

আহ: , ডায়েরি। প্রথমে হাতে পেয়েই চটপট নিজের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর মায় নিজের ব্লাড-গ্রুপ পর্যন্ত টুকে রাখাতারপর মন দিয়ে দেখা দিল্লী, বোম্বে এবং চেন্নাই শহরের ম্যাপমস্তিএস-টি-কোড আই-এস-ডি কোড দেখে সময় কাটিয়ে দেওয়া কিছুক্ষণএরপর মননিবেশ এ বছর ও আগামী বছরের ক্যালেণ্ডারে; গেজেটেড হলিডে, শনি-রবি কী পরিমাণে রয়েছে; এসবের একটা হিসেব করে নেওয়া।
পকেটে হাওয়া খেললেও দেখে নেওয়া চাই ইনকাম ট্যাক্স স্ল্যাবের হিসেব কী বলছে।

তারপর আসে গুরুভারটা।
ডায়েরি তো এলো, এ নিয়ে করবো কী? কারোর হাতে অ্যাটম বোমার রিমোট দিলেও হয়তো সে এত চিন্তা করবে না; যতটা না সে ডায়েরির ব্যবহার নিয়ে ভাববে। মহা-কেলো
দিন-ডায়েরি লিখবো ? কতবার শুরু হয়েছে কিন্তু সে রোজনামচা ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত গড়ায়নি।
অফিসের কাজের নিয়মিত ফিরিস্তি রাখতে পারি।
ক্লাসের দেবু বলতো আমার মধ্যে অদ্ভুত ছন্দ সেন্স আছে, কবিতা লেখার চেষ্টা করতে পারি। বয়স কী একটা বড় ফ্যাক্টর ?
প্রবন্ধ লিখতে পারিচেষ্টা করলে কেন পারবো না
হাজার চিন্তায় ঘেমে নেয়ে একাকার।
এবং নিশ্চিত ভাবেই, জুলাই মাসে সেই ডায়েরির বিভিন্ন পাতা জুড়ে থাকে অন্য লেভেলের ব্যাপার-স্যাপার।
“ফুল প্যান্ট – ৫, ফুল শার্ট – ৪, হাফ শার্ট- ৩, শাড়ি-৪”
অথবা
“নুন -১ কিলো, ফরচুন সোয়াবিন তেল – ১ কিলো, মুসুরির ডাল (প্যাকেট করা’,লুজ নয়) হাফ কিলো, বাঁশকাঠি ৫ কিলো....ইত্যাদি ইত্যাদি”।

পুনশ্চ:

আমার স্থির বিশ্বাস, যারা আদত ডায়েরি-সমঝদার, তারা সময় মত, নিজে পছন্দ করে;ডায়েরী কেনেন, অগোচরে। এবং এও আমার বিশ্বাস যে সে সব গর্ভবতী-ডায়েরী, চিরকাল পড়ে থাকে লোক-চক্ষুর অন্তরালেই।   

বুদ্বুদ চিকিত্‍সা পদ্ধতি

সকল সাতটা। বাড়ির জানলা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যায় বাস-স্টপ।সেইখানে একটি বছর পাঁচেকের ছেলেধবধবে সাদা স্কুলের জামায়। এক হাতে একটি ছোট্ট ক্যামেরা রোলের ডিব্বা; যাতে ভর্তি সাবান জল। অন্য হাতে তারের সরু কাঠি যার ডগাটা গোল করে পাকানো। ছেলেটি একটি মশগুল বুদ্বুদ কারখানা। লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে বাস স্টপ ওলট-পালট। চারিদিকের হই-হল্লা, গাড়ির হর্ন, হাওয়ার ধুলো, রাস্তার স্বল্প কাদা, কোনও কিছুই তাকে স্পর্শ করছে না।

বুদ্বুদের নেশায় বুঁদ। গড়ে, প্রতি আড়াই সেকণ্ডে একটি সুডৌল বুদ্বুদ। আমি অন্তত শ-দেড়েক স্পষ্ট বুদ্বুদ গুণে ফেললাম। অনেকটা ঘুম আনতে ভেড়া গোনার মত কাজ দিলো পুরো ব্যাপারটা।
হাজার চিন্তা মাথায় ছিলো;  অফিসে অনেক ফাইল জমে আছে, বউকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে, গাড়ি ইঞ্জিনে গড়বড়-গ্যারেজে দিতেই হবে, অমৃতেন্দু কাল বেফসকা বসের সামনে ইনসাল্ট করে বসলে- বদলা নিতে হবে, বেকার জ্যাঠতুতো ভাইটা মাঝে মাঝেই বিশ-পঞ্চাশ ধার নিয়ে যাচ্ছে-সেটা বন্ধ করতে হবে, এ শনিবার রাম না হুইস্কি-সেটা নিশ্চিত করতে হবে; এমন কত চিন্তা শয়ে শয়ে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো, এই বুদ্বুদ গুনতে গিয়ে সব হাওয়া। কী জবরদস্ত থেরাপি। আমি নিশ্চিত, আর শ-দুয়েক বুদ্বুদ গুনতে পারলেই অফিসের পাঁকা-চন্দ্র দিবাকরকে খিস্তি মারার ইচ্ছেটা বেশ কমে যাবে। দশ-হাজার বুদ্বুদ গুনতে পারলে কী কোলেস্টেরল কমতে পারে ?

এমন সময় এক জনৈক মহিলার কাঁধ থেকে একটা স্কুল ব্যাগ নেমে এসে চাপলো ছেলেটার কাঁধেআর ঠিক সেই সময়ই একটা বিকট বাস এসে ছেলেটাকে তুলে নিয়ে হাওয়া হয়ে গ্যালো

নিম-চেবানো তেতো নেমে এলে আমার গলা বেয়ে। ফের স্নানে যেতে দেরি হয়ে গ্যালো। ফের বসের দাঁত খিচুনিফেড আপ।  

কহাকা ইনসাফ

ভগবান, কমলালেবুই যদি দিলেন, তবে তাতে বীচি দিলেন কেন ? এমন শীতের মুচমুচে সকাল, সুমিষ্ট কমলা-কোয়া সড়াক-সড়াক করে মুখে মিলিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝে, অমন মিনিবাসের সিটে পেরেকের খোঁচার মত লেবুর বীচিগুলি যে কী বিশ্রী।

মোটের ওপর, ব্রহ্মান্ডের হর্ত্তা-কর্ত্তা হিসেবে নিজের যাবতীয় ভালো কাজের মাঝে এমন বিস্তর চোনা ছিটিয়ে রেখেছেন স্যার, যে আর বলার নয়। ভিন্ডী বারো-মেসে ফল করেছেন আর ফুলকপি ডিসেম্বরিয়া; কহাকা ইনসাফ গুরু। চোখ জুড়ে নিউ মার্কেটের পসরা রেখেছো, পকেটে ধাপার মাঠ। কহাকা ইনসাফ।

বউই যদি দিলে তো দাঁত-খিঁচুনির আইডিয়াটা ফ্লোট করলেন কেন ?মুর্গি-খোকা-খুকিরা জন্ম-লগ্ন থেকে বোনলেস নয় কেন বাপ ? ডিম ফুটে ডাইরেক্ট তন্দুরী কেন বেরোবে না ? সবই কেবল ইনডাস্ট্রিয়ালিস্ট বুর্জোয়া-বৃত্তিতে বানিয়ে গেলে গুরুদেব, ফিনিশিং-টাচ যে কী জরুরী সেটা ভুলে গেলেন।

কলেজে পড়ার সময় বিরিয়ানি-ক্ষীদে আছে টাকা নেই,  চাকরিবাজির সময় টাকা আছে কিন্তু পেটে ভ্যাকিউম নেই; সেদ্ধ ভাতে অম্বল; আলুনি ঝোলে পেট কামড় – কইসে খাইবে বিরিয়ানী ওস্তাদ ? গোলাপদাদু গোটা চাকরি-জীবন এক ধারসে বই কিনে লাইব্রেরী বানালেন। রিটায়ার করে খুবসে বই পড়বেন বলে। লে হালুয়া ; ছানি এসে কেতাবি-হানিমুন খপ করে গিলে ফেললে।

শুধু ফোপর-দালালিই চালিয়ে গেলে গুরু, পারফেকশন খেলাতে পারলে না। বড় মুখ করে দুপুর-ঘুময়ের বর দিলেন বাঙালীকে, এদিকে অফিস দিতেও ছাড়লেন না। কহাকা ইনসাফ গুরু। কহাকা ইনসাফ।