Showing posts with label Famous Personality. Show all posts
Showing posts with label Famous Personality. Show all posts

Thursday, July 25, 2013

চিরঞ্জিত যদি


চিরঞ্জিত আমায় যদি একবার “ এই ভাই” বলে ডাকতেন
-

রাজা হলে রাজ্য ছেড়ে দিতাম।  অমলেটের অর্ধেক দিয়ে দিতাম। মানি-ব্যাগ থেকে শেষ মুচমুচে নোট খানা বিলিয়ে দিতাম। পুরনো বই কেনা ছেড়ে দিতাম। প্রেমিকাকে ফাঁকি দিতাম। বৃষ্টির সন্ধ্যেয় ফুলুরির বদলে পেঁপে-সেদ্ধ খেতাম।

চিরঞ্জিত যদি সিনেমেয় সুরে একটি বার আমায় “ এই ভাই” বলে ডাকতেন, “ দাদা” সুরে ঢেঁকুর তুলতে তুলতে মূর্ছা যেতাম।   

Thursday, May 30, 2013

তাঁরা


-আরে বাবা কেউ দরজাটা খোল, কখন থেকে কড়া নেড়ে চলেছি...বিশ্রি মানুষ তোরা...

-কে এসেছেন ?

-যাক এতক্ষনে অন্তত কেউ ডাক শুনেছে , বলছি দরজাটা খোল তাড়াতাড়ি।

-দরজা খোলার ভার যার ওপর সে কিছুক্ষনের জন্যে নেই। আপনি একটু অপেক্ষা করুন।

-তুই একটু প্লিজ খুলে দে না , এই এলাম। ঘেমে-নেয়ে একাকার। ভিতরে ঢুকে আগে একটু জিরিয়ে নিই।

-দরজা খোলার অধিকার যে আমার নেই ভাই। একটু দাঁড়াও, তাঁর আসার সময় হল বলে। তোমার কণ্ঠস্বর শুনে মনে হয় বয়স অল্প-তুমি করে ডাকছি। 

-অবশ্যই। তুই করে বল না। আমি কিন্তু পাইকারি হারে তুই চালিয়ে থাকি। 

-অসুবিধে নেই।

-তোর কন্ঠস্বর চেনা ঠেকছে। 

-বটে। 

-হ্যাঁ ? তুই কি ...? তুই কি...?

-হ্যাঁ, আমিই। তোমার গলাও আমি বেশ চিনেছি। এ বয়েসে এ অঞ্চলে ঢুঁ মারবে ভাবিনি। মনে হয় দারোয়ান-বাবুর সহজে পাত্তা মিলবে না। একটু না হয় তোমার  জন্যে নিয়ম ভাঙলাম। দাঁড়াও, দরজা খুলে দিই।

-বাঁচালি, এখানেও দেখছি কলকাতার মত ভ্যাপসা গরম। 

সত্যজিৎ দরজা খুলে ঋতুপর্ণ’কে ভেতরে নিয়ে গেলেন। 

Friday, January 11, 2013

বিবেকানন্দ ও আনন্দ



নেতাজীপল্লী নব বালক সংঘএলাকার তরুণ-তুর্কি তথা মধ্যমনিদের পাড়া-তুতো পার্লামেন্টদুর্গা-পুজো, শীতলা পুজোর মেলা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যে, একটি রক্ত দান শিবির, একটি বস্ত্রদান উত্‍সব এবং একটি কাঙালি ভোজন আয়োজন করে থাকে প্রতি-বছরঅবশ্যই এর সাথে থাকে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট, একটা একদিনের বিরাটক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং দুটি ক্যারম টুর্নামেন্ট

ক্লাবের সেক্রেটারি বলাদার বাবা জগন্নাথ সমাজপতি সদ্য এম-এল-এ হওয়ায় ক্লাবের জাঁক দ্বিগুন হয়েছে। ক্যাশিয়ার হুলোদা আর ব্যাজার মুখে সর্বক্ষণ বসে থাকেন না। ক্লাব-ঘরে এসেছে নতুন কালার টিভি, দ্বিতীয় ক্যারাম বোর্ড।   

আধুনিক কেতা মেনেই নব-বালক সংঘেরও রয়েছে কোর-কমিটিকোর-সভ্যদের মধ্যে রয়েছে সেক্রেটারি বলা-দা, আড়তদার বিভুতিবাবুর পুত্র ও রিসোর্স শ্রীমান বাপ্পা, ক্যাশিয়ার হুলোদা, উঠতি পার্টি-কর্মী এবং প্রাক্তন হাত-বোমা বিশারদ গুলে এবং লিটল-ম্যাগিও কবি নবারুন ওরফে নবা

নতুন বছরে কোর-কমিটির ফুলকপির-সিঙ্গাড়া আর কড়া কফি সহ বৈঠক একটা ট্র্যাডিসনের মধ্যে পড়ে। যথারীতি বছরের প্রথম শনিবার, ক্যারামের আসর ভেঙ্গে যাওয়ার পর,ক্লাবঘরে সন্ধ্যে বেলা বসেছে কোর-কমিটি
আলোচনার সার-বস্তু কীভাবে আমার কাছে এসে পৌছলো সেইটে বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আমি শুধু সাজিয়ে দিলাম সেদিনের নব-বালক সংঘের কোর-কমিটিও আলোচোনাটা

বলাদা : “ উপেন ময়রার সিঙ্গাড়ায় আজকাল ফুলকপি খুঁজতে হলে লালবাজারের কুত্তা লাগাতে হবে, হিউমান নাকে ধরা পড়বে না এমন সিঙ্গাড়ার ট্রেস”
নবা: “ ইয়ে বলাদা, এ মাসের ফুটবল টুর্নামেন্টটা তো ক্যানসেল হয়ে গ্যালো, মাঠ পার্টি নিয়েছে সভা করবে বলে। কিন্তু কিছু একটা না করলেই নয়ইজ্জতে মরচে চড়ছে।“
বলাদা: হ্যাঁ, এমনিতেও একটা নতুন কিছু করা দরকার আমাদের। ওই শেতলা পুজোর মেলা আর রক্তদান ভারী এক ঘেয়ে হয়ে গ্যাছে"
হুলোদা: “ইয়ে, ফাণ্ডে বেশ রোখড়া আছে বটে, গতবারের দুগ্গাপুজোয় চাঁদা ভালোই ম্যানেজ হয়েছিল। শুভেনিয়ারের টাকা আনটাচড রয়েছে”
বাপ্পা: বহুদিন মাল খাওয়া হয় না।
গুলে: ইভেন্ট অরগানাইজ করতে চাইছি আমরা ? এ আর এমন কী। এই তো স্বামীজির দেড়শো নম্বর জন্মদিন আসছে। আমাদের পার্টি থেকে কলকাতায় বিশাল সভা করা হচ্ছে স্বামীজিকে ইয়াদ করে। টলিগঞ্জের পাগলিউ খ্যাত নায়ক দেবেনকে আনা হচ্ছে সে অনুষ্ঠানে পাবলিক কে বিবেকানন্দয়ের ওপর মোটিভেট করতেব্যাপক খরচ হচ্ছেচাইলে আমরাও তেমন কিছু করতে পারি
বলা: বিবেকানন্দর জন্ম ? দেড়শো বছর ? বা: , আইডিয়া মন্দ নয়। একটা ইয়ূথ-ফ্লেভার আছে
বাপ্পা: শেষ সেই কবে মাল খেয়েছি বলো তো আমার সবাই মিলে গুরু ?
নব: হিল্লে আইডিয়া। কী বলিস হুলো ?
হুলো : বিবেকানন্দ ব্যাপারটা পাবলিক খাবে,তাছাড়া পাড়ার হাবড়া গুলো বহুত পরেশান করে কালচারাল কিছু ডিসপ্লে করার জন্যে।
বলা: আই থিঙ্ক আমাদের বিবেকানন্দয়ের জন্মবার্ষিকী পালন করা উচিত্‍। জনগণ কী বলে ?
বাকি চারজন এক সাথে : “ আলবত”
বলা: “ জিবে প্রেম ব্যাপারটা ফোকাস করে কিছু করতে পারি”
হুলো: “ গোটা পাড়া কে ডেকে পোলাও মাংস খাওয়ালে হয় না ?”
বলা: “ কনসেপ্টটা জিবে প্রেম, জিভে প্রেম নয় গাধা”
হুলো: “ জিব মাত্রই জিভ বিশিষ্ট”
বলা: : “ সিরিয়াস ভাই সকল”
নব: “ আমি বলি কীআমাদের এমন কিছু করা উচিত যা আগে কেউ করেনি”
বাপ্পা: “ মাল খাওয়ার ব্যাপারটা....”
বলা: “ বলে যা নবা”
নব: “ বিবেকানন্দ কী বলেছেন ? গীতা-টিতা পরে পড়লেও হবেআগে ফুটবল খেলো; শরীর বাগাও।এই থিমে এগিয়ে.....”
হুলো: “থিম ? এটা পুজো প্যান্ডেল নাকি ?”
নব: “ থাম হুলো, আইডিয়া টা আগে প্লেস করতে দে। আমি বলি কী, এই যে নরেনদা, আই মিন স্বামীজি, ফুটবল এবং শরীর চর্চা এত বিশ্বাস করতেন, সেই লাইনে আমরা যদি কিছু করি ?”
বলা: “ ফুটবল টুর্নামেন্ট ? যোগ শিবির ?”
বাপ্পা: “ মদ্যপান ?”
নব: “ তাতে আর নতুন কী ভাইয়েরা ? আমার মাথায় যে আইডিয়া খেলছেতা করলে আমরা গিনেস বই পর্যন্ত পৌছে যেতে পারি। ফুটবল-ও-ডাম্বেল-বিতরণ অনুষ্ঠানপাড়ার কচি ছেলেদের জন্যে ফুটবল আর তরুণদের জন্যে ডাম্বেলনরেনদা এটা শুনলে কেঁদে ফেলতেন আনন্দে, স্যাডলি, উনি আজ আমাদের মধ্যে নেই
বলা: “তোর হবে নবা, তোর কবিতার বই এক সময় লোকে কিনে পড়বেই। আমার সমর্থন আছে; ফুটবল-ও-ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান, নব-বালক সংঘয়ের নাম টেলিগ্রাফ থেকে এ-বি-পি-আনন্দ তক পৌছে যাবেযাবেইবাকি রা কী বলে ?”
সবাই এক সাথে : “ ফুল সাপোর্ট”
বাপ্পা: “হুইস্কি খাওয়ার ব্যাপারটা কী হলো?”
বলা: “ ইয়ে হুলো, ক্যাশে কত রয়েছে”
হুলো: “ যথেষ্ট, আমরা এই অকেশনে হাজার-কুড়ি ছাড়তেই পারি।“
বলা: “সাবাস, এইবারে আয় খরচের একটা ফর্দ করে ফেলা যাক”

হলো। 
পাঁচ মাথা মিলে, বিবেকানন্দের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালনের তুমুল প্ল্যান হলো“ ফটবল ও ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান”

খরচের একটা খসড়া লিষ্টি তৈরি হলো:
মঞ্চ-সজ্জা : ৩৫০০ / -
প্রধান অতিথির যাতায়াত, ফুলের স্তবক : ৫০০ /-
মাইক : ১০০০ /-
খুচরো খরচ : ১৫০০ /-
মিষ্টি-বিতরণ : ৫০০ /-
ডাম্বেল-বিতরণ: ৫০০০/-
ফুটবল বিতরণ : ৩০০০/-
কোর-কমিটির আনন্দ-ডিনার : ৫,০০০ ( বিরিয়ানী : ১০০০/ - , কাবাব : ১০০০ / - , রোগনযোশ : ৫০০ /-,   হুইস্কি-সোডা-ইত্যাদি : ২,৫০০/- )

জয় বিবেকানন্দ।  


(ওপরের ছবিটি এই url থেকে নেওয়া : http://www.srijan.asia/blog/ )

Tuesday, January 1, 2013

বলো দেখি কত দূরে যাবে



বসে বসে গাইছিলেনগানটা শেষ হতেই, গীটারটা কাঁধে ঝুলিয়ে দাঁড়ালেন। গীটারে একটা টুঙ দিয়েই মিচকি হাসি দিলেন। সম্ভবত গীটারটার প্রতিতারপর, সপাট চাইলেন সামনের অন্ধকারে ঢেকে থাকা দর্শক আসনের মুখগুলোর দিকে। ওই মুখগুলি দেখতে হয়তো সুমনের বাহির-বাতির দরকার তেমনটা হয় না।

মিচকি হাসিটা আলতো প্রসারিত করেই গলা ছাড়লেন : “ ছেড়েছো তো অনেক কিছু পুরনো অভ্যেস...”
ঠিক যেন এতক্ষন তাঁর আর দর্শকদের মধ্যে মুষ্টিযুদ্ধ চলছিলো; বহুক্ষণ সেটা চলায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পকেট থেকে রিভলভার বার করে দড়াম করে ফায়ার করলেন।

মুখে গেয়ে চললেন, “অসুখ বিসুখ হওয়ার পরে জিলিপি সন্দেশ...”। দৃষ্টিতে তিনি খেলে ক্ষতমের ভাষায় বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, “ কেমন, দেখলে তো ? তোমাদের সব কটা হৃদয়কে এক ধাক্কায় অবশ করে দেওয়া আমার বাঁয়ে হাত কা খেল ? দেখলে তো ?”

উপচে পড়লো পরিচিত গান;
“ছেড়েছো তো অনেক কিছুই পুরনো বোল-চাল
পুরনো ঘর পুরনো ঘর কুড়োনো জঞ্জাল
হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে
দেখা হবে তোমায় আমায়.......”

না:, “অন্য গানের ভোরে” তিনি গাইলেন না। গাইলেন না
থামলেন। ফের মিচকি হাসি।  

গান থামিয়ে, সুমন বলে চললেন:
“ জানেন, একটা জিনিষ না থাকলে, আমাদের কিচ্ছুটি হবে না, কিচ্ছুটি না। সেই ব্যাপারটা না থাকলে আমার আপনার কোনওদিন কিছু হবে নাসেইটা না থাকলে কোনও ব্রাদার-ইন-লয়ের ক্ষমতা নেই আমাদের জন্যে ভালো কিছু করে
ওই একটি ব্যাপার থাকলে সমস্ত সুন্দর হয়ে যাবে। কিন্তু ওইটি না থাকলে যে কিস্যুটি নেইবলুন তো কোন জিনিষ সেটা ?
ভালোবাসা, ভালোবাসা না থাকলে আমাদের কোনওদিন কিস্যুটি হবে না, আপনারা এটা নিশ্চিত জানবেন বন্ধুরা; ভালোবাসা ছাড়া আমাদের কোনও গতি নেই, আমাদের কোনও উপায় নেই। ভালোবাসুন বন্ধুরা, ভালোবাসুন

আমার সামনের দুটি দর্শকাসনে বসে থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতি; ঠিক সেই মুহূর্তে বৃদ্ধার মাথাটি অলস ভাবে বৃদ্ধের কাঁধে নেমে এলো।

সুমন গাইলেন:

“হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে
দেখা হবে তোমায় আমায় ভালোবাসার ভোরে”


( ছবিটি "কবীর সুমন লিরিক্স"য়ের সৌজন্যে )

Tuesday, September 18, 2012

বাঙালি, প্রতিবাদ ও মমতা



ভাতে, ঝোলে, প্রতিবাদে বাঙালিইন ফ্যাক্ট, হীরক-রাজ কইতেন যে  “ভাত-ঝোল নাও পাই / প্রতিবাদ করা চাই”।

ব্রিটিশে কিংবা গ্যাস-অম্বলের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের কিংবা ভাত-ঘুম বিরোধিতার বিরুদ্ধে, অপশাসকের কালো হাত কিংবা বউএর মেজাজের বিরুদ্ধে: বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছে চিরকাল। এবং দাঁড়াবে।

রোজ ভোরে খবরের কাগজ হাতে মেজকা সমগ্র জাতির হয়ে প্রতিবাদ রেখে যান। পিসী জেহাদ জানিয়ে যান তাস খেলুড়ে পিসের প্রতি দু ঘন্টা অন্তর দাঁত্‍ খিচিয়ে। বস নিজের বসের প্রতি রাগ জানান দেন নিজের অধস্তনকে লেজে খেলিয়েবউ বরের কলার চেপে শাশুড়ির কে শাসান, শাশুড়ি ছেলের কান মূলে বউ কে রোয়াব ঝাড়েন 

এহেন বাঙালির “গাঙ্গুলী কতৃক চ্যাপেল-ক্যালানো” মূলক মাতঙ্গিনী মূর্তি যে কী ভয়ানক তার সপাট পরিচয় নতুন দিল্লী তথা অধুনা ইউ পি এ সরকার মোক্ষম মালুম পেয়েছে। এবং হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অবশ্যই মমতা দেবীর গদাম গদা-ঠ্যাঙ্গানিতে।
সাড়ে তিনটি বছর ধরে, ইউ-পি-এ সরকার কে নেড়ি-মাফিক শাসন করে, অবশেষে; বাড়াবাড়ি রকম ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই দেখে সহবাগ মাফিক একটি পুল খেলেছেন মমতা: সাপোর্ট ক্ষতম।  দেশের সমস্ত কোন থেকে আসা এক রাশ সংবাদদাতার সামনে নিপাট বাংলায় এমন ধুলেন পর্যুদস্ত ইউ-পি-এ সরকারকে, যে সুযোগ পেলে জাকির হুসেন তাল মিলিয়ে জমাট এক হাত বাজিয়ে সঙ্গ দিতে পারতেন। সাবাস দিদি

জয়; মা-মাটি-মদনের জয়

( ছবি টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া )