Showing posts with label Bengali Customs & Habits. Show all posts
Showing posts with label Bengali Customs & Habits. Show all posts

Friday, August 23, 2013

মামা ভাগ্নে সংবাদ এবং পুজো পরিকল্পনা


ছোটমামা – “ কি বললি ? এবার পুজোয় তুই পাড়ায় থাকবি না?”

আমি-“ কতবার বলব ? নো। না। নেভার। হাওড়া টু কালকা টিকিট কেটে ফেলেছি। 
পুজোর পাঁচটা দিন শিমলা এবং মানালিতে কমপ্লিট রিল্যাক্সেশন”

ছোটমামা – “ টিকিট কাটার সময় আমার পারমিশন নিয়েছিলি ?”

আমি- “ বাবা’র পারমিশন নিয়েছি”

ছোটমামা – “ ভারি এক্কেবারে পিতৃভক্তি উথলে উঠেছে। টিকিট ক্যান্সেল কর। তোর যাওয়ার কোন প্রয়োজন আমি দেখছি না। এক কাড়ি টাকা নষ্ট। কলকাতার অক্টোবরে গায়ে কম্বল চাপা দিস, শিমলে গেলে বেঁচে ফিরবি ভেবেছিস ?”

আমি- “ সে আমি বুঝবো”

ছোটমামা – “ আমরা গুরুজনেরা থাকতে তুই কি বুঝবি রে আহাম্মক ? তুই চলে গেলে নবমীর থিয়েটারে শিশুপাল হবে কে ? আমি গলা কাটবো কার ?”

আমি – “ বাঃ রে, আমি শিশুপাল হতে যাব কোন দুঃখে ? প্রত্যেকবার যত ফালতু রোলে আমায় কাস্ট করা, আই ওন্ট টলারেট”

ছোটমামা – “ ফালতু কথা। তুই জানিস শিশুপালের ডায়লগ ডেলিভারি কি মর্মান্তিক ? বিশু শিশুপালের রোল পাওয়ার জন্যে আমায় ভজহরির ডিনার অফার করেছে সে খবর রাখিস ?”

আমি – “ ওসব ছাড়ো। বারোয়ারী মণ্ডপে লেবারের মত খাটাবে। ভোগ বিতরণে হাত লাগা রে, ধুনুচি প্রস্তুত কর রে, বৃষ্টি নামলে চেয়ার সরা রে, এটা আন রে, সেটা কেন রে, ভিড় সামলা রে, হ্যান কর রে, ত্যান কর রে। উফ পাঁচটা দিন জুড়ে; সকাল টু রাত ভলেন্টিয়ারগিরির নামে বেগার খাটুনি।  ওই থ্যাঙ্কলেস্‌ হয়রানির মধ্যে এ বান্দা নেই। তাছাড়া হিমাচল আমায় ডাকছে মামা, রিফিউজ করতে পারব না”

ছোটমামা – “ ন্যাকা! হিমাচল ডাকছে! তুই জানিস পুজোর সময় যে বাঙালি পাড়ার পুজো বাদ দিয়ে ব্যাংকক বা ঊটি গিয়ে নেত্য করে তাঁদের দশা কেমন ?
বিরিয়ানি বাদে আরসালানের মতন। ভুঁড়ি বাদে গণেশের মত। ময়দান বাদ কলকাতার মত। টুপি বাদে হিমেশ রেশমিয়ার মত। আপেল বাদে নিউটনের মত। লংকা কুচি বাদে এগ রোলের মত। কচুরি বাদে রবিবারের সকালের মত...”

আমি- “থামো থামো। মাথা চিনচিন করছে”

ছোটমামা – “ ঠিক হ্যায়। মর গিয়ে তুই শিমলায়। শুধু ইয়ে, এ বারে থিয়েটারে দোলন দ্রৌপদির পার্ট করছে। কাল থেকে রিহার্সাল শুরু। টানা দেড় মাস চলবে; সন্ধ্যে সাতটা থেকে রাত নটা পর্যন্ত। ভাবছিলাম তোকে বলব যে তোর বাড়ির কাছাকাছি থাকে যখন, তখন দোলন কে রোজ রিহার্সালের শেষে বাড়ি পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে যেতে। এখন ভাবছি তুই যখন শিমলা কাটছিস, তখন বিশুকেই শিশুপালের পার্টটা অফার করি”

আমি – মামা ইয়ে, আমি বলছিলাম কি...

ছোটমামা – কি ?

আমি – ভেবে দেখলাম তুমি মন্দ বলনি। টনসিলটা এমনিতেই এত ট্রাবল দিচ্ছে। অক্টোবরের শিমলার টেম্পারেচারে আবার কোল্যাপ্স না করে যাই। ভাবছি টিকিটটা ক্যান্সেল করে দি বল ? তাছাড়া শিশুপালের ক্যারেক্টারে একটা বেশ ইয়ে আছে...তাই না ?

ছোটমামা – “ ভারি ইয়ে হয়েছিস, মামা’র সামনেও অমন ইয়ে ভাবে ইয়ে রিভিল করতে আছে ? হা হা হা হা হা হা......” 

Tuesday, August 20, 2013

বাঙালি ও বৃষ্টির ব্যাপার-স্যাপার



বৃষ্টির ব্যাপারে কবিতা লিখে আর গান বেঁধেই যেন সব্বার দায়িত্ব খালাস। বৃষ্টিতে ভেজার বেলায় শুধু রবিনা ট্যান্ডন।  বৃষ্টির ছাঁট সামান্য গায়ে এসে পড়েছে কি আঁতকে ওঠা শুরু। জামা কাপড় বিগড়ে যাওয়া, অসময়ে জ্বর; এমন হাজার চিন্তা মানুষের মনে।  
বৃষ্টির উৎপাত এড়াতে মানুষের কত ফন্দি ফিকির।
কেউ বানালেন ছাদ।
কেউ বুদ্ধি করে আবিষ্কার করে ফেললেন ছাতা।
তৈরি হল হাই-ড্রেন।
পথ চলতি মানুষের গায়ে উঠলো বর্ষাতি, পা ঢাকতে গাম বুট।

তবে বৃষ্টি আটকানোর এই দুর্বুদ্ধিগুলোর একটাও কিন্তু বাঙালির আবিষ্কার নয়। বৃষ্টিকে বাঙালি সামাল দিয়েছে গাঙ্গুলিও-কভার ড্রাইভের কেতায়।
বাঙালি বৃষ্টিকে আপন করে নিয়েছেন বহুবিধ মায়াবী অস্ত্রে;
-      খিচুড়িতে
-      ফুলুরিতে
-      ইলিশে
-       “কোমরের ব্যথাটা রিল্যাপ্স করেছে স্যার, আজ অফিস আসতে পারছি না” মূলক ছুটিতে।

যে বাঙালি দৈনিক সংসার ও অফিসের যৌথ রগড়ানিতে নিয়মিত চিমসে যাচ্ছেন, বৃষ্টির সন্ধ্যেয় তার মেজাজেও রয়েল বেঙ্গলি হালুমের ছাপ এসে যায় এবং আলেকজ্যান্ডারি কেতা নিয়ে তিনি পেঁয়াজি  ও রবীন্দ্রনাথে ঝাঁপিয়ে পড়েন।  

Wednesday, July 31, 2013

মেজাজ ও স্নান



নিজের ওজন বুঝে নেওয়া উচিৎ সকলের। সরি স্যার। ওজন বলতে ভুঁড়ি বা মানিব্যাগের পরিধি মাপতে বলছি না। মেজাজের গভীরতা দিকে নজর দিচ্ছি।

গুরুজনেরা বলে গেছেন যে মেজাজটাই আসল রাজা। মেজাজ গড়বড়ে হলে, পকেটে টু পাইস্‌ থাকলেও আপনার ইচ্ছে করবে এইবেলা এলুমিনিয়ামের বাটি হাতে খানিক ভিক্ষে করে আসি। কাজেই মেজাজকে খোকার হাতের মোয়া করে রাখার বিশেষ প্রয়োজন।

মুস্কিল হচ্ছে, মেজাজ মাপার যন্ত্র বলতে কিছু নেই। নিজের মেজাজটা যে রাজকীয় না এলেবেলে;সেটা না বুঝলে চলবে কেন। তবে, ইয়ে...উপায় আছে। মেজাজকে আঁক মেপে চিনে নেওয়ার উপায় আছে। কি ভাবে ? তা বলতেই এ পোস্টের পাঁয়তারা।

মেজাজ মাপার একটা জলবৎ-তরলং উপায় হল  অতি সহজ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া –

“ আপনার এখন কি ভাবে স্নান করতে ইচ্ছে করছে ?

কউন বনেগা ক্রোরপতির ঢঙে এখানেও থাকবে অপশন্‌স।

প্রথম অপশন - স্নান করতে ইচ্ছে করছে না ? অসময় মনে হচ্ছে  ? স্নানে অভক্তি ? অর্থাৎ - গেঁজে আছেন। মেজাজ চটকে চ হয়ে রয়েছে। আপনার মনের সাথে তুলনা করে করলাকে রসগোল্লা বলা যেতে পারে।

দ্বিতীয় অপশন - কর্পোরেশনের নল থেকে তির্‌তিরিয়ে বেরিয়ে আসা জলে ভরা এলুমিনিয়ামের বালতি। প্লাস্টিকের মগের বার দুই ঝপঝপ। সাবান-টাবানের বাড়াবাড়ির মানে হয় না। গামছা দিয়ে কড়া ভাবে গা মুছে বেরিয়ে আসা।
অর্থাৎ - আপনার মেজাজ ভারি বাড়াবাড়ি রকমের ব্যস্ত। হয়ত সামান্য বেরসিক।

তৃতীয় অপশন - খোলা শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে গা মেলে দিতে ইচ্ছে করছে বুঝি ? মাথায় শ্যাম্পু, গায়ে লাক্স, কণ্ঠে শ্যামল মিত্র ?
অর্থাৎ -আপনি প্রেমময় মেজাজে ভাসছেন। আহা:। আহা:। আহা:। এ মেজাজের আপনিকে গোটা পৃথিবী চুমু খেতে চাইবে।

চতুর্থ অপশন - পুকুরে ডুব-স্নান।
অর্থাৎ -হয় কবিতা লিখবেন নয়ত এডভেঞ্চারে বেরবেন। সহজ ভাষায় বললে, আপনার মেজাজ চাইছে চমকিলা কিছু করতে। “ থাকবো না আর বদ্ধ ঘরে / ল্যাজ নাড়বো চিত্ত ভরে” গোছের ফুর্তিবাজ ভাব।  

পঞ্চম অপশন - সমুদ্রে লাফঝাঁপ
অর্থাৎ -ফুর্তি ভালো, বেআক্কেলে আহ্লাদ ভালো নয়। মেজাজে লাগাম দিন নয়ত কপালে দুঃখ আছে।

ষষ্ঠ অপশন - সর্ষের তেল গায়ে রগড়ে সামান্য দৈহিক কসরত। তারপর নারকোল তেলে চুপচুপে করে নেওয়া মাথা। এরপর গামছা আর মার্‌গো সাবান হাতে এসে দাঁড়ানো পাতকুয়ো তলায়। ঝপঝপ ঠাণ্ডা কুয়োর জল মাথায়, ফুরফুরে হাওয়া গায়ে, মুখে গুনগুন ভুল ভর্তি রবীন্দ্রনাথ।
অর্থাৎ - হে রাজন, আপনার মেজাজই শ্রেষ্ঠ। আপনার মন এখন আলেকজান্ডার আর সমুদ্রগুপ্তের মিলিত দীপ্তিতে পরিপূর্ণ।   জাগতিক সুখ দুঃখের অনেক উপরে ভাসছে আপনার হৃদয়-সাম্রাজ্য। আপনি শুধু ভোগ করবেন না, উপভোগ করবেন প্রতিটি কানাকড়ি। আপনিই সুন্দর।  

Friday, May 10, 2013

কলকাতার ডাকনাম

কলকাতা একটি অতি ধামড়া, বেয়াক্কেলে, উচ্চমাধ্যমিক-অঙ্কে ব্যাক পাওয়া ছেলে।  ক্লাস সেভেন থেকে কবিতা লিখে আর ক্লাস নাইন থেকে বিড়ি ফুঁকে যে বেমালুম বখে গিয়েছে। বাহানাবাজিতে নোবেল থাকলে সে বিশ্বের কনিষ্ঠতম নোবেল লরিয়েট হতো। ফাঁকিবাজির দুনিয়ায় সে আলেকজ্যান্দার। বাপের গালি , মায়ের মুখ ঝামটা, ভাই-বোনের বিদ্রুপ আর খুচরো প্রেমিকার অবজ্ঞায় বেড়ে ওঠা হেলদোল-বিহীন একটি চরিত্র। একধার দিয়ে পেটুক এবং অন্য ধার দিয়ে পেট পাতলা - এবং সেই কারণেই তার বুকের পাঁজর গোনা যায় আবার অন্যদিকে তলপেটে সে সামান্য নেদু ভুড়িটি যত্নে পুষে রেখেছে । এই কলকাতা ; মদ না খেয়েই  মাতালামি করে  যে পাবলিক-ক্যালানি খায়। 

কিছুই আর করে উঠতে পারেনা
; সেই বেহেড ছেলের মত এই শহরটা। শুধু কিছু স্মৃতি আঁকড়ে সুখ নিংড়ে নেয় সে; যেন সেই বুড়ি-ঠাম্মার কথা মনে করে চোখের জল ফেলা ; যে হেলা-ফেলা করতে না ; যে গপ্প করতে কত আদর করে; যে কত স্নেহ করতে।  শুধু প্রবল ভাবে ভালোবেসে যায় সেই আধুনিকাকে যে তার সামর্থ্যের একান্তই বাইরে।  সবাই এত খিস্তি করে, তবু সেই ছেলেটার ইচ্ছে হয় সবাইকে জড়িয়ে-জাপটে রাখতে ; কলকাতার মত; পরিচিত স্নেহের মত। 

সহজেই কলকাতার ডাকনাম বাপন বা বিল্টু হতে পারতো।  

Monday, May 6, 2013

কিছু দাবিময় ডাক-নাম

কিছু ডাকনাম যে কেন তেমন ভাবে চলে না। ভেবে মন খারাপ হয় যায়। ছোটমামা হামেশাই বলে যে পোটেনশিয়াল নষ্ট করেই এ দেশ গোল্লায় গেল। হক কথা। কত ফোনেটিক বাহার যে কেতা-দুরুস্ত হতে গিয়ে মূর্ছা গেল তার ইয়ত্তা নেই। এই যেমন নিমকি ; কি অপূর্ব নাম খানি। নিমকি মা’কে বল জলখাবার দিতে, নিমকি পড়তে বস, নিমকি বাঁদরামো করিসনে – কি ব্যাঞ্জনাময় সমস্ত ব্যাবহার।

অথবা ধরা যাক বম্বে। শহর হিসেবে নয়; ডাকনাম হিসেবে। বুম্বা-টুম্বা ফালতু; ওসব ভারি সিনেম্যাটিক। বম্বে – বেশ নাদুস-নুদুস আদুরে নাম।অমন শুনেই মনে হয় কাছে ডেকে নি – কাম হিয়ার বম্বে। একটা আলতো গ্ল্যামার আছে।

ডাকনামের কথাই যখন উঠলো তখন বলি; ভেল্কি নামটির প্রতি আমার বেশ গুচ্ছ দুর্বলতা আছে। ডাক-নামেদের মধ্যে এমন তরুন-তুর্কী নাম পাওয়া দুস্কর।
নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একশন।

বোঁদে শব্দ’টার মধ্যে ডাক-নামিও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ছন্দ-মিল সম্ভাবনা গুলো জরীপ করে দেখা গেল যে ব্যাপারটা বেজায় চাপের হতে পারে; সেইটে বাদ।

আমি আন্তরিক ভাবে একটা ডাকনামে খুব স্নেহ ভরে বিশ্বাস করি ; হাম্বা। ভারি দাবিময়। হাম্বা অঙ্কে ফেল করলি রে ? হাম্বা ফের গোলমাল করছিস ব্যাটাচ্ছেলে ? হাম্বা তুমি সাপের পাঁচ পা দেখেছো না কি ? দিল খুলে ওই নামে ডেকে ভারি সুখ হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

মনে রাখা ভালো যে কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম হতে পারে, ভালোনাম হতে পারে; কিন্তু ডাকনাম হবে স্রেফ ডাকিয়ের ইচ্ছেয়। দু চার খানা পেলব ডাকনাম শুধু ছাড়লাম এই খানে; সমগ্র লিস্টি করতে হলে আমায় বাল্মিকি হতে হবে। বাঙালি বাবাই-পাপাই-বাবু-তপু’র ফাঁদ থেকে যত তুরন্ত বেরিয়ে আসতে পারে ততই মঙ্গল।
  

Friday, January 18, 2013

হেসে-ভালোবেসে

মগ হবে তো এলুমিনিয়ামে
নাড়ু হবে তো মিল্কমেডি নারকোলে
মুড়ি মাখা হবে তো আম-তেলে।
ইলিশ হবে তো ডিমে টইটুম্বুর পেটীতে।
আড্ডা হবে তো গোল্ডফ্লেকে।
একলা হবে তো বৃষ্টিতে।
দোস্তি হবে তো খিস্তিতে।  
জানুয়ারীও ভাত-ঘুম হবে তো জেলুসিল আর লেপ-মুড়িতে।
প্রেম হবে তো হাত-চিঠিতে।
চুমু হবে তো জিভ-চকামে।

আর সুর হবে তো ব্যথায়
শিরশিরে চিনচিনে যন্ত্রনায়, অন্ধকারে। যখন দুমরে-মুচড়ে ঘাপটি মেরে থাকা যন্ত্রণাগুলো মাকে পায় না; তখন গুটিগুটি সলিল এসে জড়িয়ে ধরবেন ,

“কখন জানি না সে, তুমি আমার জীবনে এসে, যেন সঘন শ্রাবণে প্লাবনে দুকুলে ভেসে...শুধু হেসে; ভালোবেসে”

Friday, January 11, 2013

বিবেকানন্দ ও আনন্দ



নেতাজীপল্লী নব বালক সংঘএলাকার তরুণ-তুর্কি তথা মধ্যমনিদের পাড়া-তুতো পার্লামেন্টদুর্গা-পুজো, শীতলা পুজোর মেলা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যে, একটি রক্ত দান শিবির, একটি বস্ত্রদান উত্‍সব এবং একটি কাঙালি ভোজন আয়োজন করে থাকে প্রতি-বছরঅবশ্যই এর সাথে থাকে একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট, একটা একদিনের বিরাটক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং দুটি ক্যারম টুর্নামেন্ট

ক্লাবের সেক্রেটারি বলাদার বাবা জগন্নাথ সমাজপতি সদ্য এম-এল-এ হওয়ায় ক্লাবের জাঁক দ্বিগুন হয়েছে। ক্যাশিয়ার হুলোদা আর ব্যাজার মুখে সর্বক্ষণ বসে থাকেন না। ক্লাব-ঘরে এসেছে নতুন কালার টিভি, দ্বিতীয় ক্যারাম বোর্ড।   

আধুনিক কেতা মেনেই নব-বালক সংঘেরও রয়েছে কোর-কমিটিকোর-সভ্যদের মধ্যে রয়েছে সেক্রেটারি বলা-দা, আড়তদার বিভুতিবাবুর পুত্র ও রিসোর্স শ্রীমান বাপ্পা, ক্যাশিয়ার হুলোদা, উঠতি পার্টি-কর্মী এবং প্রাক্তন হাত-বোমা বিশারদ গুলে এবং লিটল-ম্যাগিও কবি নবারুন ওরফে নবা

নতুন বছরে কোর-কমিটির ফুলকপির-সিঙ্গাড়া আর কড়া কফি সহ বৈঠক একটা ট্র্যাডিসনের মধ্যে পড়ে। যথারীতি বছরের প্রথম শনিবার, ক্যারামের আসর ভেঙ্গে যাওয়ার পর,ক্লাবঘরে সন্ধ্যে বেলা বসেছে কোর-কমিটি
আলোচনার সার-বস্তু কীভাবে আমার কাছে এসে পৌছলো সেইটে বলে কাউকে বিব্রত করতে চাই না। আমি শুধু সাজিয়ে দিলাম সেদিনের নব-বালক সংঘের কোর-কমিটিও আলোচোনাটা

বলাদা : “ উপেন ময়রার সিঙ্গাড়ায় আজকাল ফুলকপি খুঁজতে হলে লালবাজারের কুত্তা লাগাতে হবে, হিউমান নাকে ধরা পড়বে না এমন সিঙ্গাড়ার ট্রেস”
নবা: “ ইয়ে বলাদা, এ মাসের ফুটবল টুর্নামেন্টটা তো ক্যানসেল হয়ে গ্যালো, মাঠ পার্টি নিয়েছে সভা করবে বলে। কিন্তু কিছু একটা না করলেই নয়ইজ্জতে মরচে চড়ছে।“
বলাদা: হ্যাঁ, এমনিতেও একটা নতুন কিছু করা দরকার আমাদের। ওই শেতলা পুজোর মেলা আর রক্তদান ভারী এক ঘেয়ে হয়ে গ্যাছে"
হুলোদা: “ইয়ে, ফাণ্ডে বেশ রোখড়া আছে বটে, গতবারের দুগ্গাপুজোয় চাঁদা ভালোই ম্যানেজ হয়েছিল। শুভেনিয়ারের টাকা আনটাচড রয়েছে”
বাপ্পা: বহুদিন মাল খাওয়া হয় না।
গুলে: ইভেন্ট অরগানাইজ করতে চাইছি আমরা ? এ আর এমন কী। এই তো স্বামীজির দেড়শো নম্বর জন্মদিন আসছে। আমাদের পার্টি থেকে কলকাতায় বিশাল সভা করা হচ্ছে স্বামীজিকে ইয়াদ করে। টলিগঞ্জের পাগলিউ খ্যাত নায়ক দেবেনকে আনা হচ্ছে সে অনুষ্ঠানে পাবলিক কে বিবেকানন্দয়ের ওপর মোটিভেট করতেব্যাপক খরচ হচ্ছেচাইলে আমরাও তেমন কিছু করতে পারি
বলা: বিবেকানন্দর জন্ম ? দেড়শো বছর ? বা: , আইডিয়া মন্দ নয়। একটা ইয়ূথ-ফ্লেভার আছে
বাপ্পা: শেষ সেই কবে মাল খেয়েছি বলো তো আমার সবাই মিলে গুরু ?
নব: হিল্লে আইডিয়া। কী বলিস হুলো ?
হুলো : বিবেকানন্দ ব্যাপারটা পাবলিক খাবে,তাছাড়া পাড়ার হাবড়া গুলো বহুত পরেশান করে কালচারাল কিছু ডিসপ্লে করার জন্যে।
বলা: আই থিঙ্ক আমাদের বিবেকানন্দয়ের জন্মবার্ষিকী পালন করা উচিত্‍। জনগণ কী বলে ?
বাকি চারজন এক সাথে : “ আলবত”
বলা: “ জিবে প্রেম ব্যাপারটা ফোকাস করে কিছু করতে পারি”
হুলো: “ গোটা পাড়া কে ডেকে পোলাও মাংস খাওয়ালে হয় না ?”
বলা: “ কনসেপ্টটা জিবে প্রেম, জিভে প্রেম নয় গাধা”
হুলো: “ জিব মাত্রই জিভ বিশিষ্ট”
বলা: : “ সিরিয়াস ভাই সকল”
নব: “ আমি বলি কীআমাদের এমন কিছু করা উচিত যা আগে কেউ করেনি”
বাপ্পা: “ মাল খাওয়ার ব্যাপারটা....”
বলা: “ বলে যা নবা”
নব: “ বিবেকানন্দ কী বলেছেন ? গীতা-টিতা পরে পড়লেও হবেআগে ফুটবল খেলো; শরীর বাগাও।এই থিমে এগিয়ে.....”
হুলো: “থিম ? এটা পুজো প্যান্ডেল নাকি ?”
নব: “ থাম হুলো, আইডিয়া টা আগে প্লেস করতে দে। আমি বলি কী, এই যে নরেনদা, আই মিন স্বামীজি, ফুটবল এবং শরীর চর্চা এত বিশ্বাস করতেন, সেই লাইনে আমরা যদি কিছু করি ?”
বলা: “ ফুটবল টুর্নামেন্ট ? যোগ শিবির ?”
বাপ্পা: “ মদ্যপান ?”
নব: “ তাতে আর নতুন কী ভাইয়েরা ? আমার মাথায় যে আইডিয়া খেলছেতা করলে আমরা গিনেস বই পর্যন্ত পৌছে যেতে পারি। ফুটবল-ও-ডাম্বেল-বিতরণ অনুষ্ঠানপাড়ার কচি ছেলেদের জন্যে ফুটবল আর তরুণদের জন্যে ডাম্বেলনরেনদা এটা শুনলে কেঁদে ফেলতেন আনন্দে, স্যাডলি, উনি আজ আমাদের মধ্যে নেই
বলা: “তোর হবে নবা, তোর কবিতার বই এক সময় লোকে কিনে পড়বেই। আমার সমর্থন আছে; ফুটবল-ও-ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান, নব-বালক সংঘয়ের নাম টেলিগ্রাফ থেকে এ-বি-পি-আনন্দ তক পৌছে যাবেযাবেইবাকি রা কী বলে ?”
সবাই এক সাথে : “ ফুল সাপোর্ট”
বাপ্পা: “হুইস্কি খাওয়ার ব্যাপারটা কী হলো?”
বলা: “ ইয়ে হুলো, ক্যাশে কত রয়েছে”
হুলো: “ যথেষ্ট, আমরা এই অকেশনে হাজার-কুড়ি ছাড়তেই পারি।“
বলা: “সাবাস, এইবারে আয় খরচের একটা ফর্দ করে ফেলা যাক”

হলো। 
পাঁচ মাথা মিলে, বিবেকানন্দের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালনের তুমুল প্ল্যান হলো“ ফটবল ও ডাম্বেল বিতরণ অনুষ্ঠান”

খরচের একটা খসড়া লিষ্টি তৈরি হলো:
মঞ্চ-সজ্জা : ৩৫০০ / -
প্রধান অতিথির যাতায়াত, ফুলের স্তবক : ৫০০ /-
মাইক : ১০০০ /-
খুচরো খরচ : ১৫০০ /-
মিষ্টি-বিতরণ : ৫০০ /-
ডাম্বেল-বিতরণ: ৫০০০/-
ফুটবল বিতরণ : ৩০০০/-
কোর-কমিটির আনন্দ-ডিনার : ৫,০০০ ( বিরিয়ানী : ১০০০/ - , কাবাব : ১০০০ / - , রোগনযোশ : ৫০০ /-,   হুইস্কি-সোডা-ইত্যাদি : ২,৫০০/- )

জয় বিবেকানন্দ।  


(ওপরের ছবিটি এই url থেকে নেওয়া : http://www.srijan.asia/blog/ )