Sunday, December 15, 2013

শীত Of কোলকাতা - The Essential Elements

ডিসেম্বর জুড়ে বসছে শহরে। সন্ধ্যের মুখে হাফ সোয়েটারটি আর বেমানান মনে হচ্ছে না। কলকাতাইয়া হাওয়াতেও চামড়ায় ছ্যাঁত হচ্ছে। সেন মহাশয় নলেন গুড়ের সন্দেশে বাজার মাতাচ্ছেন।
তা বাঙালির শীত পিকাসিও হয় কি প্রকারে ? বহুবিধ আবেদনময় পৌষ-মাঘি সৌখিনতার হাত ধরে। রবীন্দ্রনাথ বিনে বাঙালি হয়তো বা বাঙালি হলেও হতে পারতে; তবে পৌষ ম্যাজিক বিনে বাঙালিজ্‌ম বলে কিছু থাকতো কিনা সে বিষয়ে সবিশেষ সন্দেহ আছে।
বঙ্গ-শীতের সেরা মশলাগুলো কি কি ? অগোছালো ভাবে সাজিয়ে দেওয়া যাক Essential Elements of Kolkata Winter ----



চড়ুইভাতি। অর্থাৎ পিকনিক (ফ্যামিলির সাথে) বা ফিস্টী (পাড়ার বন্ধুদের সাথে)। 
The mandatory Picnic

   


সিঙ্গারায় ফুলকপি
Singara with traces of Cauliflower in It

(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bloomsnpetals.blogspot.com)


চেজমি গ্লিসারিন সাবান
Glycerine Soap
 

ডাবর চ্যবনপ্রাশ
Warmth of Chawanprash



নতুন আলু
Fresh Potatoes




চিড়িয়াখানায় সকাল
Mornings spent at Alipore Zoo



ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বিকেল বেলা
Late Afternoon Trips to Victoria Memorial



করাইশুটির কচুরি
Peas Kochuri

(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- saffronstreaks.com)

নলেন গুড়ের সন্দেশ
Nolen Gur Sondesh
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- banglasweets.wordpress.com)

জয়নগরের মোয়া
Joynogorer Moa
 
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bongcookbook.com)

লেপ
The Benglicized Quilt

কইমাছের ঝোলে ফুলকপি
Koi-Fish with Cauliflower
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- lassiwithlavina.com)


পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনের সন্ধ্যে
Christmas Evening at Park street

ইডেনে টেস্ট ম্যাচ
Test Match at Eden Gardens

পাঠিসাপটা
Pathisapta
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- madhurrecipes.com) 

পাড়ার জলসায় রাতজাগা
Night Long Music Shows across the Paras


বছর শেষের রাত্রে আলতো হুইস্কির স্নেহ। সাহেবি নতুন বছরে সাহেবি মেজাজের কনসেপ্ট।
The New Year's Eve Whiskey. Sahib's Calendar should be celebrated in Sahib's fashion. 



ভোরের কুয়াশায় ময়দান ভ্রমন
Early morning walks across foggy Maidan
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- knowallsbox.com) 

শাল মুরি দিয়ে সন্ধ্যেবেলার চপ-মুড়ি
Wrapped up in a Shawl, Engaged in Chop-Muri
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- spicesandpisces.wordpress.com)

ডিনার শেষের সাহেবি কফি
The Post Dinner Coffee. Colonial Charisma speaking.


রাত্রে ভাতের বদলে রুটি
Roti replaces 'Bhaat' in the Dinner Menu 
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- mansuraudraji.wordpress.com)

মাঙ্কি টুপি
Monkey Cap. The Crown. 

বোরোলিন
Boroline

চলো পুরী
Let's go to Puri

ফুচকায় বাড়তি ঝাল
Raising the Chili quotient of Fuchka to jack up the heat
 (ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- viji-vijisworld.blogspot.com)

ছাদের রোদে বালতি রেখে জল গরম
Keeping the Bucket full of water under the roof top sun. For natural geyser effect. 


সর্ষের তেল মেখে স্নান
That classy mustard oil massage before bath. To amputate the remotest of Cough & Cold possibilities.  

সোয়েটারে ন্যাপথলিনের গন্ধ
The Napthalene flavored Sweaters


পেঁয়াজকলি দিয়ে মৌরলা মাছের ঝাল
Mourla Fish spicy curry with Spring Onions
PiyaajKoliMaach2
(ছবিটি নেওয়া হয়েছে এখান থেকে- bongcookbook.com)

নিউ মার্কেট চষে সেরা কমলা লেবুর খোঁজ
Exploring New Market for the finest Oranges

দ্য হাইয়েস্ট ফর্ম অফ ডিম- হাঁসের ডিম’য়ের বাড়তি ব্যবহার
The highest form of edible Eggs; The Ducks egg; assumes a far more significant role during this time.


বইমেলা; কালীঘাটের চেয়েও পবিত্র পীঠস্থান
Book Fair; Even the Kali Ghat is not as sacred.

পাড়ার মেলায় নাগরদোলার দোলন ও বেগুনী ভক্ষণ
Twisting on the Fancy Rides and Gorging on the Begunis at Para Fairs



বোলপুরে দু দিন গা এলিয়ে পৌষ মেলা
A leisurely trip to Bolpur's Poush Mela

মাফলার’য়ের আদর ঘোমটা
The Ghunghat of Muffler 




    এ লিস্ট অবশ্যই অসম্পূর্ণ; এ পোষ্ট দীর্ঘতর হবে এমনটাই আসা। ইংরেজিতে যাকে বলে “Suggestions are welcome”. 

Wednesday, December 11, 2013

অফিসার

জীবনে রয়েছে শুধু অফিস, মাছের বাজার আর মাস কাবারি। এর বাইরে সব ফাঁকি। যেদিন অফিস ফুরোবে; রেসিডিউ হিসেবে পড়ে রইবে শুধু ডায়াবেটিস আর ব্লাড প্রেশার। বউ, খোকা, বাবা, মা এ সবই ট্রান্সিটরি ব্যাপার। লাইফের নিউক্লিয়াস হচ্ছে অফিস। দিনে আট ঘণ্টা ঘুম, হাতে রইলে ১৬ ঘণ্টা। বাসে-ট্রেনে-বাথরুমে-বাজারে ৪ ঘণ্টা। হাতে রইলে বারো ঘণ্টা। এই ব্যবহারিক বারো ঘণ্টার মধ্যে বেবাক দশ ঘণ্টাই হজম করে নেয় অফিস। আর দু ঘণ্টা পরিবার- পরিজন – আত্মীয়স্বজন নিয়ে হাহাকার করে কি হবে ? অফিসই রামকৃষ্ণ।

বস’ও খেপচুরিয়াস, বউ’ও ডাইনোসরিও। বউ কে তোল্লাই দেব আর বস কে দেব পেল্লায় খিস্তি-সব, এ কেমন কথা ? ভেবে দেখলাম বউ কে যেমন ভাবে সামাল দিই, ঠিক একই ভাবে বস কে ম্যানেজ করতে পারলেই ল্যাঠা চুকে যায়।  

বস সেদিন বললে “ তোমার মার্কেট শেয়ার গোল্লায় যাচ্ছে হে, এমন গদাই –লস্করি করে চললে তোমার মুণ্ডুটি আস্ত থাকবে ভেবেছ ?” মনে মনে বস’কে বললাম- “ রেগে যেও না মাইরি, নেক্সট পুজোয় একটা বালুচরি। প্রমিস”।  ব্যাস অমনি রাগ গলে জল; বসের রাগ নয়,  আমার রাগ গলে জল। ঠাণ্ডা মেজাজে বসের সমস্ত রাগ অ্যাবসর্ব করে নিলাম।

আমি খাটলাম, আর প্রমোশন পেলে পাশের টেবিলের সামন্ত। সামন্তর অফার করা জলভরা উত্তমকুমারের হাসি ছুঁড়ে গ্রহণ করলাম। সন্ধ্যাবেলা নিজেকে একটা দামি হাত ঘড়ি উপহার দিলাম বছরভর অফিসে মার-কাটারি কাজ করবার জন্যে। আমিই আমার ম্যানেজমেন্ট। নিজের পিঠ আমি নিজেই চাপড়ায়েগা।

সেদিন পিওন হরিহর বললে যে মাঝে মাঝে বস আর সামন্ত আড়ালে-আবডালে আমায় নিয়ে “ গবেট” বলে হাসাহাসি  করে। হরিহর কে একটা গোল্ডফ্লেক অফার করে বোঝালাম , “ তুই জানিস, মানুষকে হাসাতে পারার ক্ষমতা ইজ দি হাইয়েস্ট ফর্ম অফ সুপার পাওয়ার ? আমার বাড়ির লোক তো সর্বক্ষণ  তেলে-বেগুনে হয়ে রয়েছে; হামেশাই ডিম্যান্ড পেশ হচ্ছে- বাবা’র নস্যি নেই, মা’য়ের কোমরের ব্যথার মলম নেই, বউয়ের হিল তোলা চটি নেই, ছেলের পোকেমন টিশার্ট নেই। বাড়িতে তো আমায় দেখে কেউ হাসে না, শুধু গুরু-গম্ভীর সব দাবী ঝেড়ে চলেছে- এই নেই, সেই নেই, ওটা কর, ওখানে যাও, অমুককে সামলাও, তমুককে ধর। আমার এই অফিস টেবিল আর এই চেয়ারখানি তো আমার ওয়েসিস রে। তুই যখন আমায় চা-বিস্কুট দিস, নিজের গা থেকে কেমন সাহেব-সুবোর মত গন্ধ পাই। এই আমার মত এমন দামড়ার কথা ভেবে বস আর সামন্ত যদি একটু হাসতে পারে, তবে সেটা তো আমার অ্যাচিভমেন্ট, কি বলিস ?”

যাওয়ার আগে হরিহর   বিড়বিড় করে যে কাকে “ক্যালানে” বললে সেটা ঠিক ধরতে পারলাম না।  

Monday, November 18, 2013

প্যান্ডোরার বাক্স

প্যান্ডোরা অস্থির হয়ে পায়চারি করচিলেন। ঘেইমে-নেয়ে সে এক একাকার কাণ্ড। ঢাউস বাক্সখানা রাখা আছে চিলেকোঠার ঘরে। কত্তা বার বার কয়ে গিয়েচেন যেন বাক্সখানের ধারে কাছে প্যান্ডোরা না ঘেঁষে। কিন্তু মনের মধ্যে তার কেমন যেন এতাল-বেতাল হচ্ছে গো।

মিনসে ভর দুপুরে অমন বাক্স নিয়ে এলেন কেন গো। আনলেনই যখন তখন চিলেকোঠার কোনায় লুইকে রাখলেন কেন গো। লুইকে রাখলেনই যখন, তখন প্যান্ডোরাকে সে বাক্সের ধারে কাছে যেতে বারণ করলেন কেন গো। মিনসে বারণ করে আবার নিজে বাড়ি থেকে বেইরে গেলেন কেন গো। এখন প্যান্ডোরা কি করবে গো।

চিন্তেয় চিন্তেয় হাঁপ ধরে যায় প্যান্ডোরার। বাক্সে কি এমন যেমন তেমন ব্যাপার আছে গো ? বাক্সে কি এমন বাঘ-ভল্লুক রইচে গো ? কি এমন বাক্স যা প্যান্ডোরা ধইরলে তার মিনসের মান-ইজ্জৎ লটকে যাবে গো ? মিনসে কি নতুন পিরীতির খপ্পরে পড়েচে গো? বাক্সে করে সতীনের গয়না এনেচে নাকি অ্যাঁ ? এনে নুকিয়ে রেখেচে ? প্যান্ডোরার কি এমন সব্বনাশ হতে চলেচে গো ? প্যান্ডোরা কি করবে গো ?
ও হরি, প্যান্ডোরা কি করবে গো ? প্যান্ডোরার কি সব্বনাশ হল গো ?

নাঃ, এমন হতে দেওয়া যাচ্চে না। প্যান্ডোরা ঠিক করলে সে ঝ্যাঁটা মারবে মিনসের নিষেধের মুখে। দুদ্দাড় করে সিঁড়ি বেয়ে চিলেকোঠায় উঠে গেলেন প্যান্ডোরা বউঠান। ঘরের কোনে মেঝেতে রাখা আধ-হাত লম্বা সাদা কাগজের বাক্স। বিকেলের আবছায়াতে দেখতে পষ্ট নয় গো। প্যান্ডোরা উবু হয়ে বসলেন বাক্স খানার পাশে। মন শক্ত করলেন। সাদা কাগজের বাক্স রঙিন ফিতে দিয়ে বাঁধা। প্যান্ডোরার তর সইল না গো। তর সইল না।

প্যান্ডোরা রঙিন ফিতে ছিঁড়ে বাক্সর ঢাকা খুললেন। ভেতরে থরে থরে সাজানো;  কৃষ্ণনগরের রসিক, ঢলঢলে সরভাজা’দের দল।          

Saturday, November 16, 2013

এক্সপেরিমেন্ট

দিবাকর দু আঙুলের ফাঁকে সাবধানে টেস্ট টিউবটাকে ধরে নাড়ছিলেন। আড়চোখে খেয়াল রাখতে হচ্ছিল স্টপওয়াচের প্রতি। পাক্কা বাহাত্তর সেকেন্ড।

তারপর একটা চিমটে দিয়ে টেস্ট টিউবটার টুঁটি টিপে বার্নারের ওপর ধরলেন। দিবাকরের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, গরমের নয়, উত্তেজনার। এই ছোট্ট ল্যাবরেটরিতে এর আগেও বহু চমৎকার ঘটনা ঘটেছে; কখনও তাঁর হাতে, কখনও বা তার সহকর্মী ইন্দ্রে’দার তত্ত্বাবধানে। তবে এই প্রথম দুজনে এক সঙ্গে মাঠে নেমেছেন কারণ কাজটা তেমনই দুর্দান্ত। এই কম্পাউন্ড আবিষ্কার হলে দুনিয়ার ভোল পাল্টে যাবে। এক সময় মনে হচ্ছিল কাজটা অসম্ভব। কিন্তু ভাগ্যিস দুজনের কেউই হাল ছেড়ে দেননি। ব্রেক-থ্রুটা আসে গত পরশু সন্ধ্যে বেলা। কি ভাবে সেটা বলাই বাহুল্য কিন্তু দুজনেই লাফিয়ে উঠেছিলেন। একটানা ত্রিশ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে তারপর থেকে দুজনে কাজ করে গেছেন। এই সামান্য কিছুক্ষণ আগে ইন্দ্রদা গেছেন একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে।

বার্নারের ওপর মিনিট তিনেক রাখতেই টেস্ট টিউবের ভেতরের মিশ্রণটি কালো ড্যালা থেকে পালটে দুটো স্পষ্ট ভাগে দেখা দিল; একটা সবজেটে, অন্যটা গাড় লাল। চিমটে সহ টেস্ট টিউব হাতে না থাকলে দিবাকর লাফিয়ে উঠতেন ইউরেকা বলে। একবার ভাবলেন ইন্দ্রদাকে হাঁক দেবেন। তারপর ভাবলেন যে এক্সপেরিমেন্টের শেষ অংশটুকু সেরেই ফেলা যাক। তারপর ইন্দ্রদাকে ডেকে ফাইনাল স্যাম্পেল দেখিয়ে হুল্লোড় করা যাবে।

টেস্ট টিউবের সবুজ-লাল মাল-মশলা একটা কাঁচের পাত্রে ঢাললেন দিবাকর। তারপর দেরাজ খুলে নিয়ে এলেন ড্রপার ও কাঁচের তিনটে শিশি। প্রত্যেক শিশি থেকে দুই ফোঁটা নিয়ে এই লাল-সবুজ কম্পাউন্ডে মিশিয়ে দিলেই সেই মহার্ঘ বস্তুটি তৈয়ার হবে। দিবাকর দেরি করলেন না। দু ফোঁটা করে কেওকার্পিন,  তরল বোরোলিন ও নলেন গুড় মিশিয়ে দিলেন সবুজ-লাল কম্পাউন্ডে।

সঙ্গে সঙ্গেই দিবাকর হাঁক দিলেন “ হুররে ইন্দ্রদা, উই হ্যাভ ডান ইট! বাঙালির ডী-এন-এ তৈরি”। 

Thursday, November 14, 2013

নামকরণ

লালু রেগে কাই । রাগবে নাই বা কেন ? পল্টু ব্যাটা একেবারে ইস্টুপিড। টিফিনের পরের প্রথম ক্লাসে বাংলার স্যার অমন দরাজ গলায় “ কন্যাকুমারীর রকমারি মনিহারী” কবিতাটি পাঠ করছিলেন; ক্লাসময় স্যারের আওয়াজ গমগম করে খেলা করছিল, গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল লালুর। অমনি পল্টে ব্যাটা এমন একটা বিরাশি সিক্কার হাঁচি ঝাড়লে যে সব মাটি। ছন্দপতন ঘটায় স্যার ফের ফিরে গেলেন সমাসে। রাগে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিল লালুর। এই বাংলার স্যার নতুন এসেছেন, মাঝে মাঝেই স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। ক্লাসের বাকি ছেলেরা ফচকেমি করে যে এই নতুন স্যারকে দাঁড়িলেস-রবীন্দ্রনাথ বলে ডাকে, তাতে লালু ভারি মর্মাহত হয়। ইয়ে, এই মর্মাহত শব্দটা লালু নিয়মিত ব্যাবহার করছে আজকাল, সেনটেন্সে বেশ জোর আসে তাতে।

লালু্র ভারি অপূর্ব লাগে নতুন বাংলা স্যারের কবিতা। স্যারের দেশ  বেড়ানোর নেশা আছে, আজ হিমালয় তো কাল কেরল। আর ঘুরে এসেই রোমাঞ্চকর সব কবিতা লেখেন। সে সব লেখায় যেমনি আবেগ, তেমনি তার ভাষা, তেমনি ছন্দ- ভারি হাইক্লাস। কবিতাগুলো লালুর মনের মধ্যে বায়স্কোপ চালিয়ে দেয়; এমন রিয়েল লেখা সেই সব।

লালুর ছোটকা বাড়ি থেকে অল্প বয়েসে পালিয়ে যান, লালুর অবশ্য বয়েস তখন অনেক ছোট। তাঁর তোরঙ্গ ঘেঁটে একটা চমৎকার কবিতার ডায়েরি পাওয়া যায় বহু বছর পরে। অতএব সাহিত্য’র প্রতি ন্যাক লালুর ব্লাডেই আছে। বাপ-মা যতই তাকে ইঞ্জিনিয়ার করতে চান না কেন, লালু বেশ জানে সে সব তার দ্বারা হওয়ার নয়। ক্লাস নাইনের জ্যামিতির চোটে এ বয়েসেই মাথায় কেমন টাক টাক ভাব আসছে। আর দাঁড়িলেস-রবীন্দ্রনাথ-স্যারের ইনফ্লুয়েন্স গাড় হওয়ার পর থেকে লালু ঠিক করেই নিয়েছে,হয় লিটারেচারে যাবে নয়তো মেজপিসের মত বড়বাজারে আচারের ব্যবসা ধরবে।

পল্টুর উৎপাতে বাংলা স্যার কবিতা থামিয়ে ফের পড়ানোতে মন দিয়েছিলেন। লালু ঠিক করলে আজ ক্লাসের শেষে স্যারের কাছে হত্যে দিতেই হবে। আসলে এই নতুন কবি-স্যারকে এতই ভক্তি করে লালু যে আজ পর্যন্ত ঠিক কাছে ঘেঁষবার সাহস হয় নি। কিন্তু স্যার যে তাকে অনবরত ইন্সপ্যায়ার করে চলেছেন, সেটা বেশ টের পায় লালু। স্যারের মত পকেটে ছোট ডায়েরি রাখতে আরম্ভ করেছে সে। অবিশ্যি সেই ডায়েরিতে যে কি লেখা যায়, তা নিয়ে লালুর ধারনা এখনই স্পষ্ট নয়।

ক্লাস শেষ হতেই লালু ছুটলে স্যারের পিছন পিছন। বারান্দার শেষ প্রান্তে এসে হাঁক দিলে
-      “ স্যার, এক মিনিট”
-      “ আরে লালমোহন যে, কিছু বলবে ?”
-      “ স্যার, ইয়ে মানে। আমি মানে...আমার আপনার কবিতা খুব ভালো লাগে স্যার”
-      “ হেঃ, ঠ্যাং পুল করছ না তো ?”
-      “ না...নো...মানে নেভার টি নট স্যার। কি বলছেন স্যার। আপনার ওই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে নিয়ে লেখাটা, চোখে জল এসে গেস্‌ল স্যার। ওই যে স্টার্টটা। ‘অয়ি কাঞ্চনজঙ্ঘে’ বলে যে স্টার্টটা ছিল স্যার। ভারি মুভিং। আজকের যে চাঁদনী রাত নিয়ে কবিতা বলছিলেন স্যার, শুনে গায়ে কাঁটা দিয়েছে স্যার। নেহাত পল্টুটা এমন বেরসিক ভাবে হেঁচে দিলে...”
-      “ তোমার এতটাই ভালো লেগেছে লালমোহন ? এথিনিয়াম ইন্সটিটিউশনে এই প্রথম কেউ আমার কবিতাকে অ্যাক্‌নোলেজ করলে। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার কাব্যরস যেন সীতা, যুগের রাবণ তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারছ ? আর এই একা তুমি আছ লালমোহন, যে জটায়ুর মত আমার কবিতার সীতা মাইয়াকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছ। আই অ্যাম গ্রেটফুল টু ইউ”
-      “ স্যার আশীর্বাদ করুন যেন গোটা জীবন জটায়ু হয়ে থাকতে পারি”

লালমোহন গাঙ্গুলি কে বুকে টেনে নিলেন শ্রী শ্রী বৈকুণ্ঠ মল্লিক।  

Thursday, October 24, 2013

ইভনিং শাওয়ার

বাথরুমে এত রকমের সাবান সাজানো থাকে যে নির্মল রোজই খেই হারিয়ে ফেলেন। নতুন কোম্পানি থেকে সাজানো ফ্ল্যাট দেবে তা বেশ জানা ছিল কিন্তু তার বাথরুমের চেকনাইও যে এমন হবে, সেটা আগে ভাবা যায়নি। বউ-ছেলেকে তাড়াতাড়ি অন্ডালের বাড়ি থেকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। এখন কত তাড়াতাড়ি দীপা ও বুম্বা এখানকার সোসাইটির আদব কায়দা রপ্ত করতে পারে সেইটেই দেখবার।

বাথরুমের ক্যাবিনেট খুলে মনে ভরে প্রসাধন সম্ভার দেখতে থাকেন নির্মল। হাত ধোয়ার সাবান এক, মুখ ধোয়ার সাবান অন্য।  বাকি শরীরের ধোয়ার জন্যে অন্তত চার রকমের সাবান – লিকুইড আর বার মিলে। লেবেল পড়ে নির্মল বুঝতে পারেন একেক সাবানের মর্ম একেক রকম; একেক রকম স্কিনের জন্যে একেক চিজ্‌, নিজের চামড়ার রকমটা এতদিনেও জানা হয়ে ওঠেনি নির্মলের। স্ক্রাব বলে কিছু একটা ব্যাপার রয়েছে যা দিয়ে বোধ নিজেকে বেশ রগড়ে পরিষ্কার করা যায়।

চুলের জন্যেও হরেক আয়োজন; শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক, সিরাম। আর তাছাড়া যে কতশত রকমের শিশি রয়েছে গুনে বা পড়ে শেষ করা যায় না।  শাওয়ারের ঠাণ্ডা জলের সাথে নির্মলের শিরদাঁড়ার ঘাম মিশে যায়।

ফেনায় ভেসে যেতে যেতে নির্মল গাঙ্গুলি তার এই অচানক বিশ্বজয়ের তড়িৎ সিঁড়িগুলো মনে করতে থাকেন। থ্রিল। নতুন সেক্রেটারির ব্লাউজের ঝিলিক খেলে যায় মনে। থ্রিল। বস যে শ্যাম্পেন খাওয়ালে তার এক গেলাসের দাম নাকি থ্রি অ্যান্ড হাফ্‌ থাউজ্যান্ড রুপিজ। থ্রিল।

মৃদু অস্বস্তিটা যায় না, সেটাও বেশ টের পান নির্মল। গোটা শরীরময় জল সাবানের ঝাঁপাটা সত্যেও একটা চ্যাটচ্যাটে ভাব। ছেলেবেলায় বাবা মার্গো সাবান আনতেন। সবজে সাবান, নিম তিতকুটে গন্ধ। তবু নির্মলের ভারি প্রিয় ছিল।

বাথরুমের দরজা খুলে গলা বাড়িয়ে নির্মল হাঁক দিলেন।

-      রাজু ? রাজু ?
-      জি সাহাব। আউর এক তাউলিয়া চাহিয়ে কেয়া সাহাব ?
-      না।  মার্গো সাবান এখনও বাজারে চলে ? জানিস তুই ?
-      জি নহি পতা হুজুর।
-      এক কাজ কর। চট করে নিচের মুদির দোকানে গিয়ে খোঁজ করে আয় দেখি। মার্গো সাবান। মনে থাকবে ? যা দেখে আয়।
-      শর্মার দুকানমে সাহাব ?
-      হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওই ছোট মুদীর দোকানটায়।
-      উ দুকানমে আপকা লায়েক সামান নহি মিলেগা সাহাব।
-      আরে যা বলছি তাই কর গিয়ে। এটা থাকলে ওর দোকানেই থাকবে। চট করে যা। ভেজা গায়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি। মার্গো সাবান থাকলে এক জোড়া নিয়ে আসিস। টেবিলের ওপর খুচরো টাকা রাখা আছে। জলদি, যা। 

Tuesday, October 15, 2013

ইভনিং পার্টি

সান্যাল – আই হোপ তুমি আজকের ইভনিং পার্টির ইম্পরট্যান্স বুঝতে পারছ গাঙ্গুলি।

গাঙ্গুলি  - অ্যাব্‌সলিউটলি স্যার। কন্ট্র্যাক্ট পাওয়ায় জন্যে ঢান্ডানিয়া কে যে আমরা স্পেশাল ফেভার অফার করতে পিছপা হব না, সেইটা কনভে করবার এর চেয়ে বেটার প্ল্যাটফর্ম আর পাওয়া যাবে না।

সান্যাল – প্রিসাইসলি। ইন ফ্যাক্ট,আগাম হাতে গুঁজে দেওয়ার জন্যে কিছু ক্যাশ আমি সঙ্গে রাখছি। দ্য সুনার উই টাই হিম ডাউন দ্য বেটার।

গাঙ্গুলি – কিন্তু ঢান্ডানিয়াকে হাতে রাখাই কি মূল শর্ত এই কন্ট্র্যাক্ট হাতে পাওয়ার ? ওর ওপরওয়ালা রয়েছে।

সান্যাল – যথেষ্ট খবর রয়েছে আমার কাছে। ওর ওপরওয়ালারা সবাই শুধু রাবার ষ্ট্যাম্প। তাছাড়া, এই ঢান্ডানিয়া ইজ আ ভেরি ধুরন্ধর মাল। দেবিকাপ্রসাদ বলে যে ওর অ্যানুয়াল ইনকাম’য়ের সেভেন্টি পারসেন্ট হল ব্ল্যাক। বুঝতেই পারছ।

গাঙ্গুলি – আই সি। আচ্ছা পার্টিতে তো ডেভিডসন অ্যান্ড কোম্পানির দাশগুপ্তও থাকবে। তাই না। ঢান্ডানিয়াকে এপ্রোচ করবার সময় ওকে দূরে রাখতে হবে।

সান্যাল – সেই কাজটা আমি করব।

গাঙ্গুলি – স্যার, আপনি মানে ? আপনি যদি দাশগুপ্তর সঙ্গে  নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তাহলে ঢান্ডানিয়া কে টোপ গেলাবে কে ?

সান্যাল – তুমি। আই ওয়ান্ট ইউ টু ডু ইট।

গাঙ্গুলি  - মাফ করবেন স্যার। আপনি তো জানেন এই ধরনের শেডি ট্র্যান্স্যাকশনগুলো আমি হ্যান্ডল করতে পারি না। মানে, আজ পর্যন্ত কখনও...

সান্যাল – লুক হিয়ার গাঙ্গুলি। এই বিজনেসে থেকে তুমি তুলসী পাতার প্রিটেন্স নিয়ে জীবন কাটিয়ে দেবে সেটা তো হতে পারে না।

গাঙ্গুলি – দেখুন স্যার। আমার এই ব্যাপারটা আপনার কাছে অজানা নয়। কিছু ব্যাপারে আমি কম্প্রোমাইজ করতে পারব না।

সান্যাল – ইউ উইল হ্যাভ টু গাঙ্গুলি। এই সব ডার্টি প্ল্যান ফাঁদায় তোমার এক্সপ্লিসিট মদত থাকবে। মুনাফা কামাবে। বেন্‌জ চড়বে। আর এদিকে হাতে ছুঁচোর গন্ধ বরদাস্ত করবে না। সেইটে তো বেশি দিন হতে পারে না। ইউ উইল হ্যাভ টু। অর আই উইল মেক শিওর দ্যাট ইউ আর নট আ পার্ট অফ দিস ডিল।

গাঙ্গুলি – ইজ ইট আ থ্রেট ?

সান্যাল – এক্সপ্লিসিটলি সো।

গাঙ্গুলি – আমি ভাবতে পারছি না স্যার। আপনার গলার স্বর এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভাবে অন্য।

সান্যাল – ন্যাকামোর সময় নেই গাঙ্গুলি। ইউ আর ডুয়িং ইট। আর এখন থেকে মনে রেখ, তেল মাখতে হলে তোমায় কড়িটি ফেলতে হবে।

গাঙ্গুলি – বাড়ির ফোন। এক্সকিউজ মি।

পিতা – হ্যালো। গুবলু ? শোন, সন্ধ্যে বেলা আমার একটা ইম্পরট্যান্ট মিট অ্যাটেন্ড করতে হবে । ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড বাবা।

আই নো। আই নো। প্রেপারেশন ভালো আছে তো ? গুড বয়।

হ্যাঁ তোমার সান্যাল কাকু সঙ্গেই আছে আমার। হি উইশেস ইউ অল দ্য বেস্ট ফর টুমরোজ ক্লাস টেস্ট।  

কাল কোন সাবজেক্টে টেস্ট যেন গুবলু সোনা ? মরাল সায়েন্স ? দ্যাট শুড বি আ ওয়াক ইন দ্য পার্ক ফর ইউ। টূ ইজি সাবজেক্ট, তাই না ?