Monday, June 13, 2011

বৃষ্টির সন্ধ্যে ও একটি গা-কাঁপানো গল্প




জুন মাসের সন্ধ্যে।
ঝমঝম বৃষ্টি। প্রবল, ছাতা-ডিসমিস করে দেওয়া বৃষ্টি।
লোড-শেডিং। প্রবল গপ্পিয়ে বন্ধু। তার রত্ন-সম রাধুনি বর্ধমানের দিবাকর।
মোমবাতি'র আলোয় জমাট আড্ডা। আড্ডা'র ক্যাটালিস্ট হিসেবে দিবাকর কুমারের পেঁয়াজি, বেগুনী,
লঙ্কা-পকোড়া (হু হু হু হহুহু, চোখে জল কিন্তু জ্বিবে দারুন), ডিম'এর ডেভিল, আম আচার'এর তেল
এবং আলু-সহ ভাজা মুড়ি। সঙ্গে ফ্রিজ-ঠান্ডা মিষ্টি ডাব'এর জল। আহহ... জিহ্ভার্গ্সম একেই বলে।
বৃষ্টি'র সন্ধ্যে। মোমবাতি আছে, তেলে-ভাজা মুড়ি আছে, ভূতের গপ্প হবে না?


সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করতেই সে উঠে ভিতরের ঘরে গিয়ে একটা পুরনো এবং ময়লা এক টুকরো ডায়েরী-ছেঁড়া পাতা এনে ধরিয়ে দিল। বললে
, "পড়ে দ্যাখ, সুইসাইড নোট"

সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডে কনকন।
"দাদা,
দীপক'কে ছাড়া বাঁচা অসম্ভব ছিল। ঠাকুমা'র পছন্দ করা ছেলের সঙ্গে বিয়ে মেনে নিতে পারব না।চললাম, তোরা ভাল থাকিস
ইতি
মণি"
-"এই সুইসাইড নোট'টা কার ?"
-"আমার বোন'এর। আমাদের পরিবারে আমার ঠাকুমার দাপট ছিল ভীষণ। মণি'র প্রেম করা উনি কিছুতেই মানতে পারেননি। জানতে পেরেই একরকম জোর করেই ওর বিয়ে ঠিক করেন ঠাকুমা আর বাবা। পাকা-কথার আগের দিন রাত্রে মণি হঠাত্‍ এই ডিসিশনটা নিয়ে ফ্যালে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যায়। ও মারা যাওয়ার পর থেকেই ঠাকুমা একটানা হ্যালুসিনেট করতে থাকেন যে মণি'র আত্মা এসে ওকে জাপটে ধরছে। দু-দিনের মধ্যেই ঠাকুমার প্রবল জ্বর আসে, সঙ্গে বিকার ওর প্রলাপ। এক সপ্তাহ না ঘুরতেই ঠাকুমা মারা যান"
-"অহহ, সরি, কিন্তু এই সুইসাইড নোটের সঙ্গে ভূতের কী লিংক?"
-"বিশ্বাস করবি কি না জানি না, কিন্তু এটা একটা posthumous সুইসাইড নোট"
-"মারা যাওয়ার পড়ে লেখা সুইসাইড নোট মানে ?", আমি তখন উত্তেজিত
-" হাইপার হয়ে যাস না, যা বলছি শুনে যা। এরপর বিশ্বাস করা তোর নিজের ওপর। ঠাকুমা যখন প্রবল জ্বর'এর মাথায় প্রলাপ বকে চলেছেন, যার বেশির ভাগ কথাই কেউ ধরতে পারছে না, অনেকেই বলেছিল যে ওকে নাকি মণি'র আত্মা চেপে ধরেছে। আমি অন্তত পাত্তা দিনি সেসব । জ্বর এতটাই ছিল যে ঠাকুমা বিছানা ছাড়তে পারতেন না। সাত দিন'এর মাথায়, মাঝরাত্রের দিকে আমি নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে মাথা রেখে পড়ে আছি, ঘুম আসছে না। আচমকা দেখি ঠাকুমা ওই শরীরেই উঠে আমার টেবিলের কাছে চলে এসেছে, উড়ো-চুল, লাল চোখ, শরীরে শুধু একটা সাদা থান জড়ানো, আর সেই মুখ আমি কখনো ভুলবো না রে, গোটা মুখে যেন রক্ত উঠে এসেছে। ঠাকুমা আমায় সোনভাই বলে ডাকতেন। কিন্তু সেই ঘোরে আমায় কি বললে জানিস?
বললে "দাদা সরে যা...", আর বলেই বরফ হাতে, এমন আসুরিক শক্তি নিয়ে আমায় ঠ্যালা দিলেন যে আমি সামলাতে পারলাম না, হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম চেয়ার সহ..., আর আমি পড়ে যেতেই ঠাকুমা আমার টেবিলে রাখা খোলা ডায়েরি আর কলম নিয়ে খস-খস করে ওই দুই লাইনের চিঠি'টা লিখেই লুটিয়ে পড়েন, মারা যান"
-"মানে..মানে তোমার বোন'এর এই সুইসাইড নোট'টা তোমার ঠাকুমা..বিকারের ঘোরে..?"
-"হ্যাঁ"
-"কিন্তু এটা তো আত্মা জাতীয় কিছু নাও...মানে সাবকনশাসে'ও তো..."
-" ঠাকুমা লেখা পড়া আদৌ জানতেন না স্যার, তাঁর অক্ষর জ্ঞান'ও ছিল না.."
( সঙ্গীর থেকে ব্লগে তার অভিজ্ঞতা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছি, তবে পত্র-লেখিকার আসল নামের পরিবর্তে অন্য নাম ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে )

Sunday, June 12, 2011

বউ-লেস চিলি চিকেন



“A Man is emancipated from the clutches of his wife, when he successfully makes Chilli Chicken all by himself, in his own kitchen, in the absence of his wife” ~ An Old Chinese Saying

প্রশ্নচিহ্ন :
বউ বাড়ি না থাকলে পাউরুটি-আমূলস্প্রে খেয়ে থাকতে হবে? সেদ্ধ-ভাত'ই বা খেতে হবে কেন? রেস্টুরেন্ট থেকে খাওয়ার আনতে যাওয়াই বা জরুরি কেন?
বউ বাপের বাড়ি গ্যাছে বলে রোববার রাত্রে বাড়িতে মুরগি ঢুকবে না এটা কি কোনো ইজ্জতের কথা হলো?
অতএব :
@finelychopped (টুইটার পরিচিতি) ব্লগে হানা দিলাম (মুম্বাই-বাসী কল্যাণ কর্মকারের এই ব্লগ'টি যে কোনও খাদ্য-রসিকের কাছে একটি সোনার খনি, যারা এখনো এই ব্লগ'টি তে যান নি, এই পোস্ট পড়া বন্ধ রেখে আগে গিয়ে ওই ব্লগটা দেখুন) চিলি চিকেনের সহজ অথচ গরম রেসিপি টুকে নিলাম, আর তারপর...তারপর.. ইতিহাস নেমে এল রান্নাঘরে।
রেসিপিটা এত সহজে এক লাইনে সাজিয়ে দিয়েছেন @finelychopped যে সেটাকে বাস্তবায়িত করা অতি সহজ
Heat oil, add chopped garlic, add soy sauce and chili sauce, add, chopped onion bulbs, add chicken, salt and ajino moto, stir till cooked and oil dries, add green chillies. End of story. Ten minutes from start to Finish
আমি শুধু সামান্য দুটো ইনোভেসন গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেছি :
১. চিকেন'টা কে এক ডিম ফাটিয়ে ও সামান্য নুন-শুকনো লঙ্কার গুড়ো, কর্ণ-ফ্লাওয়ার দিয়ে ৩০ মিনিট ম্যারিনেট করে রেখেছি (ডিম'এর প্রতি আমার অগাধ আস্থা, পারলে..ইয়ে..শুক্ত'তেও )
২. মূল রান্নার আগে চিকেনটাকে অল্প আঁচে একটু ভেজে নিয়েছি
ব্যাস.. তারপর @finelychopped'এর সহজ লাইন মেপে চালিয়ে দিয়েছি
ফলাফল? অনবদ্য, অভাবনীয়, ঐতিহাসিক
বউ ছাড়া রান্না ঘরে মুরগি ঢুকবে না, এই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে গ্যালো...
"আমার প্রথম চিলি চিকেনে রাঙানো ভাত এক কাঁড়ি / আমি কি ভুলতে পারি " - প্রাচীন চিনা গণ-সঙ্গীত (দয়া করে ক্রস-চেক করতে যাবেন না)

১. যা যা দরকার

Tuesday, February 22, 2011

মৃত্যু ফন্দি




জন্মিলে মরিতে হবে..ইত্যাদি..ইত্যাদি..ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই..

তো কিরকম মৃত্যু আমার কাছে একসেপ্টেবল?

১. মারণ-অসুখ:

কিরকম?

এইডস? শাট আপ!
ক্যান্সার? না দাদা। যন্ত্রণা-কেমো-খরচ সব মিলে কেলোর কীর্তি। এ চলবে না।
হার্ট এট্যাক? নোটিশ পিরিয়ড় বড্ড খাঁটো।একজন ফস করে মারা যাবে আর তাকে ঘিরে কেন মেলোড্রামা থাকবে না, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। কাজেই অসুখ ব্যাপারটা বাদ থাক।


২. দুর্ঘটনা :ঠিক যেই কারণে হার্ট এট্যাক মান গেলো না, সেই কারণেই এটি বাদ। তাছাড়া মরতে হলে এক্কেবারে ফিট-ফাট হয়ে মরতে হবে; ভেঙ্গে-চুরে নূলো হয়ে নয়। রাজনীগন্ধার, আদ্দির পাঞ্জাবি, সোনালী ফ্রেমের সৌখিন চশমা মিলে একটা এলিগ্যান্ট এগজিট হওয়া দরকার। অতএব, যে কোনও ভ্যারইটির দুর্ঘটনা; আগুন, নৌকা-ডুবি, বিমান-দুর্ঘটনা, মোটর-চাপা ইত্যাদি; এসব বাদ।

৩. আত্মহত্যা: না, নিজের প্রতি যথেষ্ট পেয়ার আছে। এক্কেবারে যাকে বলে হীরের টুকরো ছেলে। কোনও কথা হবে না।

৪. পাবলিক প্যাদানি: বয়স থাকতে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে টোন কাটতে পারলাম না তো বুড়ো বয়সে গিয়ে সিটি বাজিয়ে পাবলিক প্যাদানি খাওয়ার চান্স নেই। পকেট-মার নয়। পাবলিকের মারে পটকে যাওয়ার কোনও চান্স দেখছি না।

৫. খুন: মার্ডার? ইন্টারেস্টিং! তবে আবার যন্ত্রণা ব্যাপারটা চলে আসছে। আগে ক্লোরফর্ম দিয়ে তারপর চাক্কু চালালে ব্যাপারটা টের পাব না ব্যতে, তবে বড্ড বেশি ঝূট-ঝামেলা হয়ে যাবে। তাছাড়া এমন পয়সা-কড়ি বা এমন কোনও শত্রু নেই যে খুন হতে হবে। নিজের সুপারি নিজে দিতে হবে খুন হতে হলে। খুন ব্যাপারটা তাহলে ক্রস আউট করে দেওয়া যাক।

৬. জঙ্গি-হানা: সরি! পাগলের পাগলামি'তে নিকেশ হওয়ার ইচ্ছে আমার নেই। নিজের মৃত্যুর মত সিরিয়াস ব্যাপারে তো নয়ই।

৭. দেশ'এর জন্যে: সৈন্যবাহিনী? বয়স নেই। স্বদেশী? ইংরেজরা আর রইল কই ( এ.রাজা'কে খুন করে ফাঁসি চড়বো এমন 'রঙ দে বসান্তি'গিরিও চলবে না)

৮. দশের জন্যে: পাড়া'র দালাল বলে বউ পেটাতে পারে। সোশ্যাল মৃত্যু ব্যাপারটা বুমেরাঙ্গ হয়ে যেতে পারে।

৯. আততায়ীর হাতে: Assassination? আমি কেনেডি না গান্ধী? নেহাত কোনও ডিকটেটর হলেও চলতো কিন্তু তাও নয়; একনায়ক আমি নয়; আমার স্ত্রী হলেন গিয়ে একনায়িকা; এসব ইউটপিয়ান মৃত্যু আমার নয়।

১০. আদর্শ মৃত্যু : ভাবছেন ইচ্ছা মৃত্যু চাইব? ওসব মিথোলজি-টজি ইস নট মাই কাপ অফ টী!

মাঝ রাত্রি। সমুদ্দুরের ধারে ঢেউ বাঁচিয়ে বালি'র ওপর থেবড়ে বসে অছি। একা। মুচুর-মুচুর করে মোরলা মাছ ভাজা আর মুর্গীর রোস্ট চিবিয়ে চলেছি। ফুরফুরে হাওয়া-ফুরফুরে মন-তুরীয় মেজাজ! গুণ-গুণ করে গাইছি 'না যাও সইয়া, চুরাকে বইয়া'...আহা..এমন সময় কাঁধে একটি হাত...

-"আরে, বাবা?তুমি?"

-"ভূত দেখলি নাকি?"

-"ভূত নয়?"

-"মরে গেলেই কি ভূত হতে হয় রে পাগল?"

-"হয় না বুঝি? তা, এতদিন পরে হঠাত্‍ মনে পড়লো বাবা?"

-"এই বহুদিন পর দেখলাম তুই একা চুপ-চাপ বসে..অছিস কেমন?

-"সুপার, বউ-বাচ্চা-তস্য বাচ্চা মিলে সাজানো বাগান। পেনসন-গ্র্যাচুইটি-হুইস্কি নিয়ে বেশ আছি বুঝলে। এখনো মান্না দে শুনি জানো বাবা"

-"জানি তুই শুনিস..আমি যে জলশাঘরে...আঃ কি সুর বল তো?আচ্ছা পচা, ভালো আছিস তো?"

-"দেদার সুখ পিতা, হ্যাপি টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি। তবে বড় একা হয়ে পড়ি আজকাল। মা'র কথা মনে পড়ে। তোমায় তো দেখছি..মা কই?"

-"যাবি মা'র কাছে?"

-"যাব?"

-"আলবাত যাবি..আমি নিয়ে যাব.."

-"প্লিজ নিয়ে চল বাবা"

-"লেট্স গো সন.."

-"আয়ার এই মোরলা, চিকেন,হুইস্কি?তোমার বৌমা'কেও তো একবার জানিয়ে যাওয়া দরকার.."

-"ভালোবাসা কি ছেড়ে দেওয়া যায় রে?শুধু ছেড়ে যেতে হয়- চল, বেরিয়ে পড়ি"



Monday, February 21, 2011

ভাষা দিবসিও কথোপকথন


স্থান: 17 তলার একটি ফ্ল্যাট, দক্ষিণ কোলকাতা
কাল: ২১ ফেব্রুয়ারী
পাত্র-দ্বয়: পিতা, বয়স ৩৯, চাকুরে / পুত্র, বয়স ৭, ছাত্র
কাল্পনিক?: আদৌ নয়। পিতা'টির অনুরোধে নাম গুলি চেপে যাওয়া হলো।


পুত্র: হোয়াট ইস দিস ল্যাংগুয়েজ-ডে ড্যাড? এনি আইডিয়া?
পিতা: গেট আইডিয়া মাই সন!
পুত্র: হোয়াট?
পিতা: ইয়ে, ল্যাংগুয়েজ ডে মিন্স ভাষা দিবস, আই মিন দ্য ডে টু সেলিব্রেট ইওর ল্যাংগুয়েজ ডিয়ার সনি।

পুত্র :ও, মানে ইউ মিন, ফদার্স ডে-মাদার্স ডে লাইক ডে, তাই না ড্যাড?
পিতা: প্রিসাইসলি।
পুত্র: তো, ফাদার্স ডে'তে যদি তোমাকে কার্ড দি, হুম সুড আই প্রেজেন্ট আ কার্ড অন দিস ডে?
পিতা: ওয়েল সন, ইট্স আ নো-কার্ড ডে।ইট্স আ লেকচার কাম কালচারাল অনুষ্ঠান ডে।
পুত্র: ড্যাড, ইউ নো, সামটাইমস আই ডোন্ট গেট ইউ। এনিওয়েস, সো হোয়াই ডু উই সেলিব্রেট ল্যাংগুয়েজ ডে?
পিতা: বিকজ..বিকজ..ইউ সি, ওয়ান্স আপঅন এ টাইম, অন দিস ডে, উই ফট এ ব্যাটেল টু সেভ আওয়ার ল্যাংগুয়েজ।
পুত্র :ইউ ফট?
পিতা: মি? যা: শ্লা, নো নট মি বাট মাই পূর্ব-পুরুষেস ফট, আই মিন আওয়ার ফোরফাদার্স ফট ফর আওয়ার ল্যাংগুয়েজ। ভয়ানক ফাইট কিয়া, ফট টিল দে ডাইড, এ ফাটা-ফাটি যুদ্ধ ইট ওয়াজ!আই মিন
এ ভ্যালিয়াণ্ট ব্যাটেল ইট ওয়াজ!
পুত্র: ওয়াও, সাউণ্ড্স কুল ড্যাড, সো হোয়াট ল্যাংগুয়েজ ডিড উ ফাইট ফর?
পিতা: বাংলা, বাঙাল টু বি পৃসাইস! আহ আমাগো গরব আমাগো ভাষা, উফ্!
পুত্র: হোয়াট আর ইউ মাম্ব্লিংগ ড্যাড?
পিতা: হুম? , না, ওয়াস সেয়িং যে দে ফট ফর আওয়ার মাদার টাং, বেঙ্গলি!
পুত্র: ওয়াও, নাইস। বাট টেল মি ড্যাড, দে ডিড নট ফাইট টু ওয়েল, ডিড দে?
পিতা: সে কি রে ব্যাটা, হোয়াই ডু ইউ আস্ক দ্যাট?
পুত্র: কজ মাই মাদার টাং ইস বেঙ্গলি বাট আমি ভালো বেঙ্গলি বলতে পারেস না। ইন স্কুল মাই ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ ইস ইংলিশ এন্ড সেকণ্ড ল্যাংগুয়েজ ইস হিন্দী।
পিতা: ডোন্ট বদার সন, আই উইল টিচ ইউ গুড বাংলা, ডান?
পুত্র: ডান, বাট ড্যাড..ইউ রিয়ালি থিঙ্ক দ্যাট বেঙ্গলি ইস মাই মাদার টাং? কজ ইউ সি, মম কান্ট রিড বেঙ্গলি এণ্ড হার্ডলি এভার স্পিক্স ইন বেঙ্গলি। সি ওনলি স্পিক্স ইন বেঙ্গলি হোয়েন সি ইস এবিউসিং
ইউ, তাই না ড্যাড?
পিতা: গেস বেঙ্গলি ইস ইউর ফাদার টাং দেন।
পুত্র: নট ব্যাড, বাট হোয়াট কুড বি মই মাদার টাং দেন?
পিতা :খিস্তি! দ্যাট ইস ইউর মাদার টাং সন!
পুত্র: হোয়াট? হোয়াট ডিড ইউ জাষ্ট সে ড্যাড? হোয়াট স্তি?
পিতা: খি.. আহ ওয়েল, নেভার মাইন্ড, ইউ উইল নো হোয়েন ইউ ম্যারি। কাল থেকে আমি তোমায় বাংলা শেখাব।

Saturday, February 5, 2011

বাঙ্গালের বিশ্ব-বুদ্ধি

আমার জ্ঞান-স্ফেয়ারে, মিশর হাজার তিনেক বছর’এর তফাতে, পিরামিড’এর পর মুবারক-সাহেবের হাত ধরে প্রবেশ করল। মাঝে কিছু খুচরো এন্ট্রি ছিল বটে; এই যেমন নন এলাইনমেন্ট-পন্থী নাসের, টিনটিন’এর ফারওয়ের চুরুট খোঁজা অথবা প্রোফেসর শঙ্কুর মিশর-ভ্রমণ ইউ-এফ-ও’এর খোঁজে। ভাবলে অবাক হতে হয়, যে গ্লোবালাইজ্ড অর্থনীতি এবং টেকনোলজির যুগে, যখন গোটা পৃথিবীটা পকেটে চিরকুটের মত পড়ে থাক উচিত, আমি যে ইণ্টেলেকচুয়াল ডোবায় বাস করছি, তার রেডিয়াস’টাই সামান্য পাল্টেছে মাত্র। মিশরের মানুষ যে ওদিকে পিরামিডিও এক মানবিক যুদ্ধে নেমেছেন, তার খবরটা অন্তত আমার কাছে তখন পৌছল যখন বিস্ফোরণ ঘটে গ্যাছে, বাঁধ ভাঙ্গার কাজ শুরু হয়ে গ্যাছে।


এই সময়ই মনে হল, এই ‘গোটা পৃথিবী’ই এক’ গোছের কথা আদতে স্রেফ ফালতু-বাত। মুখ’এর সামনে এটলাস খুলে বসলে ঘাবড়ে যেতে হয় যে এই ইউনিভার্সাল ব্রাদারহুডের যুগেও আমরা আসলে আমাদের ব্রাদার-দিগকে আদৌ তেমন চিনে উঠতে পারিনি। অন্ততো যে কয়েকটি গুটিকয় দেশ সম্বন্ধে সামান্য যোগ অনুভুব করি, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে মনে হয় ঝাঁপ দি। কোন কোন দেশ কে কি কি সূত্রে এবং কতটুকু জানি?বলি শুনুন:

১। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র: নমস্য। ‘মোদের গরব মোদের আশা-আমেরিকা দেশটি খাসা’। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আমাগো প্র্যাসিডেণ্ট। ডেমক্রেসির বাপ- হোয়াইট হাউস। সিনেমার ঠাকুরদা- হলিউড। সমস্ত ‘ভালো-ছেলে’দের স্পষ্ট গন্তব্য। আর মানে..ইয়ে..ফ্রি সেক্স-টেক্স চলে বোধ হয় ওখানে।

২। পাকিস্তান: ক্রিকেট। মাঝে মাঝে রাম-প্যাদানী’র ভয়; উগ্রবাদ। উচ্ছন্নে যাক, বয়ে গ্যাছে।

৩। চিন: চাউমিন। মাও সে তুং।অলিম্পিক মেডাল। আর ওরা বোধ হয় টিকটিকি খায়!

৪। বাংলাদেশ: ধুর, দেশ কি। ও তো ক্যানিং’এর ওপার। ইলিশ’এর সাপ্লাই চালিয়ে যাক, ব্যাস!

৫। নেপাল: মণিষা কইরলা। যত কান্ড কাঠমাণ্ডু’তে। আম আদমির বিদেশ ভ্রমনের শখ মিটিয়ে থাকে।

৬। শ্রীলঙ্কা: ক্রিকেট। ব্যাস। চুপ।

৭। সিংগাপুর, হংকং: ব্যাপক কিছু হবে, ঝাঁ-চকচকে শহর টহর বোধ হয়।

৮। ইন্দোনেশিয়া,জাভা, বার্মা, ভিয়েতনাম, উত্তর/দক্ষিণ কোরিয়া: হে: হে:, আরে দাদা 8B বাস স্টপ’টাই সেদিন গুলিয়ে গেছিল, আর বার্মা। তবে ভিয়েতনামে কোনও এক কালে কোনও যুদ্ধ-টুদ্ধ হয়েছিল, কমুনিষ্ট গোছের কিছু। আর কোনও এক কোরিয়ার কাছে বোমা আছে, বুড়িমা-ছাপ নয়; পরমাণু!

৯। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যাণ্ড : ক্রিকেট, নিয়মিত ভারতীয় ছাত্র-চাবকানো।

১০। জাপান: ইলেক্ট্রনিক্স: সোনি, এরাও টিকটিকি খায় না? ও হ্যাঁ, হিরোশিমা-নাগসাকি; দুম-দুমা-দুম!

১১। আরব: যাহা ওমান, তাহাই সৌদি; ওসব ফারাক বুঝি না। তেল-মরুভূমি-খেজুর-শেখ-বেলি ড্যান্স; তুখোড়!

১২। দক্ষিণ আফ্রিকা: ম্যান্ডেলা, ক্রিকেট, সাফারি; দেশটা আফ্রিকা’তে না থেকে ইউরোপে থাক উচিত ছিল।

১৩। আফ্রিকার অন্য সব দেশ: কালো, অন্ধকার, জঙ্গল, গরীব, যুদ্ধ; এককেবারে যা-তা। মিশর আফ্রিকায় নাকি? হ্যাঁ?

১৪। ইংল্যান্ড: চার্ণকের দেশ।লণ্ডন। ধোপ-দুরুস্ত সাহেবরা শুধু এখানেই থাকেন; এবং হেথায় রানি’র বাস (থেবড়ি বুড়ী আবার কি না রানি..)। কিন্তু ইংল্যান্ড, গ্রেট ব্রিটেন আর ইউনাইটেড কিংডম’এর কনফিউশন এ জন্মে আরে ক্লিয়ার হল না। ও হ্যাঁ; ই পি এল’এর লাইভ টেলিকাস্ট।

১৫। জার্মানি: হিটলার, বিশ্ব-যুদ্ধ, আর হিটলার। এবং ফুটবল।

১৬। ফ্রান্স: আইফেল টাওয়ার। আর ফ্যাশন টিভি।

১৭। রাশিয়া: কম্যুনিস্ট, লেনিন।

১৮। ব্রাজিল: পেলে, আর্জেন্টিনা: মারাদোনা।

১৯। সুইজারল্যান্ড: বরফ, চকলেট। পকেটভারী’রা এখানে ঘুরতে যান, পকেটখালি’রা এর ছবি ড্রইং-রুমে সাজিয়ে থাকেন।

২০। গ্রীস, ইতালি: ইতিহাস। আলেকজান্ডার।সীজার।

২১। ফুটবল: স্পেন, পর্তুগাল, কলম্বিয়া, চিলি, ইত্যাদি ইত্যাদি; সব নাম মনে থাকে না; ওয়ার্ল্ড কাপ শুরু হলে গড়গড় করে মনে চলে আসে।

এই হল আমার বিশ্ব-মানচিত্রের কনসেপ্ট। ভাবছেন বিশ্ব না চিনি, দেশ’টাকে অন্তত জানি। ধ্যুর মশাই!

পাঞ্জাব মানেই আমার কাছে ভাঙ্গরা আর পাতিয়ালা পেগ।
সিন্ধু এখন আউট অফ কন্টেক্সট।
গুজরাত মানে মোদী আর ন্যানো।
মারাঠা বলতে চিনলাম শিবাজী, তেণ্ডুলকর আর বাল ঠাকরেকে।
দ্রাবিড় মাত্রই মাদ্রাজী; ওসব তামিল, কেরল, কর্ণাটক বুঝি না; দক্ষিণ মাত্রই ডোসা-ইডলি-রজনীকান্ত!
উত্‍কল: পুরী এবং উড়ে ঠাকুর
বঙ্গ: দেশটা না চিনি, রাজ্য চিনি ভাবছেন? বিষ্ণুপুরের পোড়া-মাটি মন্দির, বোলপুরে শান্তিনিকেতন, বর্ধমানের মুড়ি,মালদার আম, চন্দননগরের জগধাত্রী পুজো, তিন বছরে এক বার দার্জিলিং; এই হল গিয়ে আমার মানসে বঙ্গ-মূর্তি।

ভাবছেন কোলকাতা’টা ভাল করে চিনি অন্তত? শেয়ালদা টু হাওড়া এবং শ্যামবাজার থেকে ময়দান; এর বাইরে যদি আমি কখনো-সখোনো ছিটকে পড়ি, তখন কলকাতা’কে আমি ততোটাই চিনি যতটা চিনি নাগপুর’কে (না, এর আগে আমি নাগপুরে কখনো যাইনি)।ট্র্যাজেডিটা আরও হৃদয় বিদারগ হয়ে ওঠে অন্য জায়গায়। বিকেলে বউ চা দিতে দেরি করায় মেজাজ চড়িয়ে ঢুকলাম রান্নাঘরে; নিজের চা নিজেই বানিয়ে দেখিয়ে দেব পুরুষ কি না পারে! রান্না ঘরে ঢুকতেই যাকে বলে এলাবোরেট কেলো; কোথায় দেশলাই, কোথায় চা, কোথায় কাপ, কোথায় চিনি! মাথায় উঠল চা বানানো; ঘৃণ্য আত্ম-সমর্পণ ছাড়া কোনও উপায়’ই রইল না।বিশ্ব তো কোন ছার, এতদিনে নিজের ঘর’টাকেও ভাল করে চিনতে পারলাম না!