ভূত ১: ভাই, নতুন নাকি?
ভূত ২: ইয়ে, হ্যাঁ, তিন মাস। আপনি?
ভূত ১: ১২০ বছর।
ভূত ২:ওরে বাওয়া,আপনি তো এলেমদার মামদো মশায়। ১২০ বছর ধরে কলকাতায় কচলাচ্ছেন?এই তিন মাসেই নাভি-শ্বাস উঠে গ্যালো, ভাবছি শিমুলতলা বা সিলেটে শিফ্ট করব।
ভূত ১ :ভারী চটপটে ভূত তো হে তুমি!অল্পবয়সে বিদেয় নিতে হয়েছে নাকি?
ভূত ২ :আর বলবেন না স্যার, উনিশ বছরেই কেলো ঘটে গ্যালো। একটা সেক্সি অঙ্কর সলিউশন চিন্তা করতে করতে রাস্তা পার হচ্ছিলাম
, এমন সময় শালা মিনিবাস'টা..ভূত ১ :কি বললে? সেক্সি অঙ্ক? অর্থাত্, যৌনতা-মূলক অঙ্ক?
ভূত ২ : হে হে, আচ্ছা মাল তো স্যার আপনি। সেক্সি মনে যৌ.. , ধুর: মাইরি। অবশ্য মান্ধাতা আমলের লোক বটে আপনি। ওই যৌনতা-ফৌনতা ন্যারো, মানে ইয়ে, সংকীর্ণ মানে। সেক্সি অনেক বেশি বৃহত্তর শব্দ স্যার।
ভূত ১ :ভাষা ভারী এগিয়ে গ্যাছে হে, বৃহত্তর কেমন?
ভূত ২ :উমম,আধুনিক ব্যবহারে সেক্সি মানে হলো গিয়ে মার-কাটারি জিনিস। একটা ব্যপকা চাবুক মার্কা ইয়ে, বুঝলেন? মানে ইয়ে, একটা সুপার-ডুপার তুবড়ি মার্কা কোনও কিছু। মানে ধরুন 'ছেলেটা আলটিমেট সেক্সি কথা বলে', তার মানে গিয়ে হল গিয়ে ছেলেটা দারুন কথা বলে। বা ‘সচিন একটা সেক্সি শট খেললো’, মানে দারুন প্যাদানী দিল বোলারকে। অথবা ধরুন ‘রাস্তাটা সেক্সি’, তার মানে রাস্তায় কোনও খান-খন্দ নেই, এক্কেবারে স্মূদ-ড্রাইভ।মানে সোজা ভাষায় কোনও কিছু সেক্সি মানে হলো এমন কিছু যা কোটি'তে এক! কি বুঝছেন তো? এই যে কাকা, মিচকি হাসছেন যে, আমার কথা শুনে মস্তি মারছেন নাকি?
ভূত ১ :আরে না ভায়া, এক ভূতে কি অন্য ভূতের ওপর হাসতে পারে? তবে ভেবে ভারী চমতকৃত হতে হচ্ছে যে বাংলা ভাষায় অভিব্যক্তি আজকাল কি প্রচন্ড হয়ে উঠেছে, ভাগ্যে সময় থাকতে সরে পড়েছি ভাই।
ভূত ২: অভি.. কি? হ্যাঁ?
ভূত ১: অভিব্যক্তি, মানে হল গিয়ে..সে বাদ দাও। আমি কি ভেবে হাসছিলাম জানো? ওই যে তুমি বললে না, যে বা যা, কোটিতে এক, তাই সেক্সি। তা আমি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার পর, এক উটকো লিখিয়ে বলেছিল আমি নাকি চার কোটি'তে একজন। তাই ভাবছিলুম যে আমি বোধ হয় চার-গুণ সেক্সি!
ভূত ২ : হে হে হে হে, আপনি মজার মানুষ মালুম হচ্ছে কাকা। আপনি কে ছিলেন মাইরি?মাস্টার-মাস্টার কথা বলেন কিন্তু আপনি। আর এই লিখিয়ে মালটাই বা কে যে আপনাকে এতো বার খাইয়ে কথা বলেছিল? আপনার শিষ্য-টিষ্য নাকি?
ভূত ১ :ভাই, লিখিয়েটি আমার শিষ্য কিনা জানি না, তবে তোমাদের চোদ্দ-গুষ্টির গুরুদেব তো বটেই।আর আমি মাস্টারিই করতাম বটে। ভূত হয়ে এ শহরে ঘুর-ঘুর করছি অথচ মজার কথা হল আমার পিতৃদত্ত নাম হল ঈশ্বর, ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়!
পরিশিষ্ট:
Shortly after Iswar Chandra (Bandyopadhyay) Vidyasagar's death, Rabindranāth Tāgore reverently wrote about him: "One wonders how God, in the process of producing forty million Bengalis, produced a man!" (উত্স :উইকিপিডিয়া)




