Wednesday, September 19, 2012

নব্য বং প্রেম

রাত পৌনে এগারোটা বাজতেই বেবুলদা বৌদিকে ঘরে টেনে নিয়ে দরজায় খিল

-“একটা সারপ্রাইজ আছে সোনা”

বৌদি তো অবাক, “এই রাত্রে আবার কিসের সারপ্রাইজ ?”

বেবুলদা মিউ মিউ করে কইলে, “ একটা, মস্ত ব্যাপার বয়ে এনেছি”

-   “কী গো? লিলুয়া থেকে মেজপিসি বড়ি পাঠিয়েছে নাকি গো?”, বৌদি উত্‍সুক।

-   “দ্যুত, একটা রোমান্টিক ইয়ে তৈরি করছি, আর কোথা থেকে নিয়ে এলে লিলুয়া আর বড়ি”

-   “ঈ:, চল্লিশ বছর বয়সে নাগর হয়ে এলেন রোম্যান্স করতে, কবে থেকে বলছি রান্না ঘরে একটা নতুন চিমনী বসাতে,সে বেলা কোন খেয়াল নেই। আর আমার এদিকে তেলে-ঝুলে একাকার কান্ড”

-   “উফ্ফ, হবে হবে। লেট আস ফোকাস ওন দ্য নাইট সোনা”

-   “হটাত্‍ এত সোনা সোনা বাই কেনো? ওদিকে মানতাশা গড়িয়ে দেওয়ার বেলায় অমন নেকু-কান্না কাঁদাই বা কেনো?”

-   “ওরে বাবা, আহা শুনবে তো কী এনেছি...”

-   “কী জলদি বলো, আমার বাজে সময় নেই। মালতীর মাকে কাল আবার ভোর আসতে বলেছি”

-   “না মানে, তার আগে বলো, তোমার কী মনে হয় না যে আজকাল আমরা ইয়ে ব্যাপারটা একটু ইয়ে, কম ইয়েতে করছি?”

-   “ইয়ে?”

-   মানে, ইয়ে ফিজিক্যাল ব্যাপারটা....একটু গেজে যাচ্ছে না...”

-   “বয়স গাছ বেয়ে উঠছে, এখনো আবার অমন কচি ন্যাকামো কেনো?”

-   “আরে বয়স তো মনে, ইয়েতে আবার বয়েস কিসে?আসলে আমাদের ইয়ে টা ভারী এক ঘেয়ে হয়ে যাচ্ছিল, বুঝলে ডিয়ারএকটু বৈচিত্র আনতে হবেআরে বাবা সব বলই যদি গুড লেন্থ পড়ে তবে কী আর বোলারএর কোনও মান থাকে? দুটো শর্ট বল, একটা ইয়র্কার, একটা নিচু ফুলটস থাকবে; তবে না বোলার হ্যাডলি-সম

-   “তুমি যে কী বলো আমি ছাই কিছু বুঝি না, কী এনছো সেটা বলো”

-   “বলবো হানি, তবে তার আগে বলি; আজ তোমায় হাম আদর করেগাকিন্তু অন্য স্টাইলে”

-   “ফচকেমো হচ্ছে? যা করার তাড়াতাড়ি করো, বললাম না মালতীর মা কাল ভোরে আসবে? ম্যালা কাজ”

-   “দুত্তর মালতীর মাআজ এমন একটা ব্যাপার করব না, তোমার ইচ্ছে করবে যে তুমি আদর খেতে খেতে জাষ্ট ভেসে যাও...”

-   “কী এনেছো বলবে না কী কাল টিফিনে মুলো-সেদ্ধ আর রুটি দেবো?”

-   আহহ, রুকোএই দ্যাখো; চকলেট সিরাপ এনেছি”

-   “এ দিয়ে তো হট চকলেট বানায় শুনেছি”

-   “ঠিক, আর আজ এটা দিয়ে আমরা ইয়ে-ইয়ে করবো, আই মিন; হট-ইয়ে; মানে হট-লাভ করবো”

-   “এটা দিয়ে মানে?”

-   “মানে বিদেশী ছবিতে বুঝলে, নায়করা এই  চকলেট সিরাপ নায়িকার শরীরে জুড়ে ছড়িয়ে দেয়, তারপর তা আদর করে চেটে নেয়...”

-   “ইইউ, ম্যাগো, ছি:”

-   “ছি না সোনা, ছি না, সে ভারী প্রেম-ময়; আর ইয়ে; উত্তেজক। একবার প্লিজ...”

-   “মরে গেলেও না, ইসসস...”

-   “পুজোয় পুরী নিয়ে যাবো”

-   “না বললুম তো”

-   “জামদানী”

-   “না গো, এ তো খাওয়ার জিনিষ, ভারী চ্যাটচ্যাটে”

-   “মানতাসা

-   “তুমি বড় জ্বালাও...”

-   “হীরের নাক ছাবি”

-   “হীরের কানের দুল”

-   “রাজি”

-   “জলদি করো, কাল আবার মালতীর মা ভোর ভোর চলে আসবে...”

-   “ছিপি খুলি তাহলে এই সিরাপের বোতলের?”

-   “এই, খাটে নয়; সিরাপ ছড়িয়ে গড়াগড়ি হয়ে চাদর-তোষক নষ্ট হয়ে যাবে...”

-   তবে? ইয়ে, মেঝেতে মাদুর পেতে নেবো?”

-   “না না, মাদুর চটচট করবে”

-   “তবে মাদুর ছাড়া? ডাইরেক্ট মেঝেতে ?”

-   “না না, মেঝে তে পিপড়ে আসবে যে....”

-   “ যা: শালা, তবে.....তবে মেঝেতে যদি কাগজ পেতে নি?”

-   “মা সরস্বতীর ওপর? ছি:, মরণ হয় না গো!”

-   “হাউ ইজ নিউজ-প্রিন্ট সরস্বতী? ধুর! আচ্ছা, চেয়ারে; ড্রয়িংগ রুমে?”

-   “বা: রে, এই সেদিন নতুন পালিশ করলাম চেয়ার গুলো, আজ আবার ওতে সিরাপ লেগে একাকার হোক আর কী....”

-   “কী চিজ মাইরি তুমি, আচ্ছা বেশ, চলো বাথরুমে চলো”

-   “ওয়াক থু:, অমন নোংরা জাগায় গিয়ে? ছি:, ছি:, ওয়াক থু:”

বৌদিকে একটা কাল্পনিক ড্রিবল করে, বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো বেবুলদা। আহত সিংহের মত জানালে:

 “ নিকুচি করেছে চকলেট সিরাপ সহ ইয়ের, তোমার জন্যে ওই লিলুয়া আর বড়িই ভালো; এই রইলো চকলেট সিরাপের বোতল; কাল খোকাকে কমপ্ল্যানে মিশিয়ে খাইয়ে দিও। আমি তিব্বত চললাম

Tuesday, September 18, 2012

বাঙালি, প্রতিবাদ ও মমতা



ভাতে, ঝোলে, প্রতিবাদে বাঙালিইন ফ্যাক্ট, হীরক-রাজ কইতেন যে  “ভাত-ঝোল নাও পাই / প্রতিবাদ করা চাই”।

ব্রিটিশে কিংবা গ্যাস-অম্বলের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের কিংবা ভাত-ঘুম বিরোধিতার বিরুদ্ধে, অপশাসকের কালো হাত কিংবা বউএর মেজাজের বিরুদ্ধে: বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছে চিরকাল। এবং দাঁড়াবে।

রোজ ভোরে খবরের কাগজ হাতে মেজকা সমগ্র জাতির হয়ে প্রতিবাদ রেখে যান। পিসী জেহাদ জানিয়ে যান তাস খেলুড়ে পিসের প্রতি দু ঘন্টা অন্তর দাঁত্‍ খিচিয়ে। বস নিজের বসের প্রতি রাগ জানান দেন নিজের অধস্তনকে লেজে খেলিয়েবউ বরের কলার চেপে শাশুড়ির কে শাসান, শাশুড়ি ছেলের কান মূলে বউ কে রোয়াব ঝাড়েন 

এহেন বাঙালির “গাঙ্গুলী কতৃক চ্যাপেল-ক্যালানো” মূলক মাতঙ্গিনী মূর্তি যে কী ভয়ানক তার সপাট পরিচয় নতুন দিল্লী তথা অধুনা ইউ পি এ সরকার মোক্ষম মালুম পেয়েছে। এবং হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন অবশ্যই মমতা দেবীর গদাম গদা-ঠ্যাঙ্গানিতে।
সাড়ে তিনটি বছর ধরে, ইউ-পি-এ সরকার কে নেড়ি-মাফিক শাসন করে, অবশেষে; বাড়াবাড়ি রকম ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই দেখে সহবাগ মাফিক একটি পুল খেলেছেন মমতা: সাপোর্ট ক্ষতম।  দেশের সমস্ত কোন থেকে আসা এক রাশ সংবাদদাতার সামনে নিপাট বাংলায় এমন ধুলেন পর্যুদস্ত ইউ-পি-এ সরকারকে, যে সুযোগ পেলে জাকির হুসেন তাল মিলিয়ে জমাট এক হাত বাজিয়ে সঙ্গ দিতে পারতেন। সাবাস দিদি

জয়; মা-মাটি-মদনের জয়

( ছবি টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া )
   

Monday, September 17, 2012

নব-সাহিত্য সভা

অনাদি সেন : স্যার, বসবো?

গোলঞ্চ-বাবু : বসবে কেনো? শোনো, যে বসে থাকবে, জেনো তার ভাগ্যও বসে থাকেআর তুমি তো দেখছি ইয়ং ম্যান হে! ছোকড়াবসবে কী? বরং এই বেলা দু চারটে ডন বৈঠক দিয়ে নাও

অনাদি সেন : ডন-বৈঠক? দেবো? এখন?

গোলঞ্চ বাবু: না, না, এইটে ব্যায়াম করার জায়গা নাকি হে? ডন বৈঠক মারতে হয় তো নেদু মল্লিকের আখড়ায় গেলেই পারো? নব-সাহিত্যসভার আপিসে এসে ফচকেমো কেনো?  আজ ডন-বৈঠক মারতে চাইছ, কাল এসে বলবে মুজরো করবো।আমি কী সম্পাদক না শতরঞ্চি?

অনাদি সেন: ইয়ে স্যার, আ...আমি তো ইয়ে, ডন বৈঠক মারতে আসিনি

গোলঞ্চবাবু: এ তো আচ্ছা ঝ্যামেলা, ওরে ও পঞ্চা, কতবার বলেছি আপিস ঘরে কাউকে ঢোকাবার আগে একটু ভালো করে ঝালিয়ে নিতে

অনাদি সেন: আঁজ্ঞে আমি অনাদি, অনাদি সেন।
নৃপেনবাবুর ভাইপো,আজ আসবার কথা ছিলো

গোলঞ্চবাবু: নৃপেন বাবু? হলদিয়ার?

অনাদি সেন: না না, আপনার প্রতিবেশী অনামিত্র হালদারের পিসতুতু ভাই। ওই যে আপনার ম্যাগাজিনে একটা কবিতার ব্যাপারে রেকমেণ্ড করেছিলেন গত বিষ্যুদবার।

গোলঞ্চবাবু: কবিতা? যা: শালা, তুমি কী কবি নাকি?  

অনাদি সেন: হে হে হে হে, ওই আর কী...

গোলঞ্চবাবু : ওই আর কী মানে? কবি নও? চাঁদা চাইতে আসনি তো ভায়া?আমরা আবার কম্যুনিষ্ট টেনডেন্সি আছে...

অনাদি সেন: না না, চাঁদা নয়, আজ্ঞে আমি কবি, আপনার পত্রিকায় দুটো লেখা যদি...

গোলঞ্চবাবু: এক মিনিট, কবি? কোন পত্রিকায় লেখা হয়? “দেশ”য়ের লেখক হলে আপনি আমাদের ব্র্যাকেটে পড়েন না, পাতি ছোট পত্রিকার খুচরো লেখক হলে আমাদের আগুনের ফুলকি নব-সাহিত্যসভায় লেখা ছাপাবার স্বপ্ন দেখো না, আর এক্কেবারে নয়া-চিড়িয়া হলে; কেটে পড় ব্যাটা!

অনাদি সেন: ইয়ে স্যার, না মানে, ওই মাসিমা, মানে আপনার মিসেস বলছিলেন, আপনার ছোট ছেলে হালটুর ইংরেজিটা একটু নড়বড়ে; হপ্তা চারদিন ওকে একটু দেখিয়ে দিতে আমার কিন্তু কোনও অসুবিধেই হবে না...

গোলঞ্চবাবু : আমি প্রাইভেট টুইশনির বিরোধী, এই করেই এ দেশের পড়াশোনার বারোটা বাজলো...

অনাদি সেন: ইয়ে স্যার, আমি কিন্তু মাইনে নিয়ে পড়াবো না...

গোলঞ্চবাবু:  অ! তবে এক কাজ করো, শনি-রবি বাদ দিয়ে এসে ওকে একটু দেখিয়ে যেও কেমন? দেখি পরের বছর তোমার লেখার জন্যে আমাদের পত্রিকায় একটা স্লট যদি বের করে পারি, বুঝতেই তো পারছো, মাইন্ডলেস কম্পিটিশণের যুগ, ওয়ান পাইস ফাদার-মাদার করে চলতে হয়, তা দাঁড়িয়ে কেনো? বসো।

অনাদি সেন: মাসিমা আরও বলছিলেন যে বাজার ঘাট করার, রেশন তোলবার ভারী অসুবিধে, আপনার বড় ছেলের কলেজের পড়ার চাপ, আপনার সম্পাদনার মত গুরু-দায়িত্ব। তা স্যার, আমি আবার সকালের দিকটা বেশ খালিই থাকি, ইউনিভার্সিটি যেতে হয় তো সেই বেলা দশটার পরতা এবার থেকে ওই রোজ রোজ বাজার করা, রেশন তোলার  চিন্তা না হয় এবার আপনি বাদই দিলেন। আমাদের মত ছেলে-পিলেরা থাকতে, আপনাদের মত বিদ্বজন বাজারের থলি হাতে ভীরমি খাবেন, সেটা কী মেনে নেওয়া যায় স্যার?

গোলঞ্চবাবু : বা: এই তো হলো ইয়াং টার্কের মত কথা, আরে বাবা তোমরাই তো দেশের ভবিষ্যত, দশের আশা। বোসো বাবা বোসো, ইয়ে পঞ্চা এক কাপ চা নিয়ে আয় বাবা, বিস্কুটের ছাড়া। তা বাবা অনাদি, তোমার দুটো স্যাম্পেল কবিতা রেখে যাও, সামনের মাসের ম্যাগাজিনে বিভু মিত্তিরের লেখা বাদ দিচ্ছি; তেনার ভারী পাখনা গজিয়েছে কী না।দেখি সেইখেনে তোমার লেখা যদি একটা চালান দিয়ে দেওয়া যায়।  

Saturday, August 25, 2012

জনাব, আজ শনিবার

দুলকি চালে ফুটপাথ চলছিফুরুত্‍ মেজাজ, তুর্কি আবেগঢোলা পায়জামা, সদ্য বৃষ্টি থামা মেজাজের হাওয়ায় রিমঝিম রঙ ওঠা হাফ শার্টনওয়াজ শরিফ মেজাজউত্তম কুমারিও মৌজে পাশ কাটিয়ে চলেছি চায়ের দোকান, খানা খন্দ, পথ-চলতি বাঙালি ভূড়ির দল। এমন মুর্গ-মুশল্লমি মেজাজের রহস্য?

জনাব, আজ শনিবার!

আগামী আধ ঘন্টার মধ্যেই হাতের একদা সফেদ থলিটি  কিলো-খানেক মুরগী, সব্জী, ও মশালায় পরিপূর্ণ হবে। তারপর মৃদুমন্দ বেগে বয়ে চলা বলরাম সুইটসয়ের পরমাদরে।আদুরে গুণ গুণ : “উচাটন মন অ আ অ ঘরে রয় না আ আ আ”এক হাতে বাজার থলি অন্য হাতে মিঠে দইয়ের হাঁড়ি; এও এক প্রকার নিবিড় পলিগ্যামি

মনের মধ্যে মুর্গী-ভাত-মাখা দুপুরটাকে দেখছি গড়ের মাঠের দিকে শান্ত সুরে ধাবিত হতে। নরম হয়ে আসা দুপুরের রোদ পিঠে আমি ময়দানের সবুজে থেবড়েমৃদু হণ্টনে চেগে থাকবে খিদে, জেগে থাকবে সপ্তাহান্ত।সন্ধ্যে নামবে কাঠি-রোলে, হগ সাহেবের বাজারের গিন্নী-তোল্লাই-মূলক বিকিকিনিতে এবং রাতের আঁধারের রঙ হবে আলতো রোদ-মাখা-কাঞ্চনজঙ্ঘা-সুলভ সোনালীতে; স্কচে।  

শুধু স্বপ্নটা যখন সবে ঋতুবান হতে শুরু করেছে, অমনি ঝণাত্‍ করে মোবাইল নিয়ে এলো শনিবারিও অফিসের ডাক এবং অত:পর এক বাঁধভাঙ্গা স্বগোক্তি “শুয়ার” । 

Wednesday, August 22, 2012

সিস্টেম

ব্যক্তি ১: এই যে, আপনি কী কারুর জন্যে অপেক্ষা করছেন?

ব্যক্তি ২: রত্তির দুটোয়? ফুটপাথে দাঁড়িয়ে?আপনি তো আচ্ছা আহাম্মক মশায়

ব্যক্তি ১: তবে? তবে কী ব্যাপার চাঁদু?এই ল্যাম্পপোস্টের তলায় মাতব্বরি কেনো? চত্তরটা আমার

ব্যক্তি ২: উরে আমার মদন মিত্র এলেন রে বাওয়া! চত্তর আমার! আরে রে দাঁত-ক্যালা।

ব্যক্তি ১: হেইয়ো!খবরদার!এইখেনটা আমার বেডরূম, আমি এইখেনে নিদ্রে যাই। একটু সরে দাঁড়ান মাইরি...

ব্যক্তি ২: রিকুয়েস্ট? বাঃ!বেশ, আমার মন ভারী নরম, পাঁচ মিনিট দে দেকিনি, চাঁদটাকে একটু অবজার্ভ করে কেটে পড়বো।

ব্যক্তি ১: চাঁদ দেখবেন? এই আপনি কী কবি নাকি?

ব্যক্তি ২: আমি কবি হলে কী এই ভর-রাত্রে তোমার মত ফুটপেথে মাতালের সামনে লুঙ্গি পরে মুজরো করতে আসি?

ব্যক্তি ১: লে হালুয়া, তুইও ভিখিরি, আমিও ভিখিরি। ভিখিরি হলো বাঘ বুঝলি; দুই বাঘ কখনো এক জঙ্গলে শিকার করে না, দুই ভিখিরি কখনো এক ফুটপাথে শুয়ে থাকে না...স্টেটাসের বেপার।

ব্যক্তি ২: তুই বড় বাজে বকিস, দাঁড়া না, দেখছিস না চাঁদ দেখছি?পাঁচ মিনিট চাঁদ দেখে চলে যাবো। তোদের এই সেন্ট্রাল এভিনিউয়ের ফুটপাথে আমি ইয়ে করিআমি শুই মেডিক্যাল কলেজের উঠোনেপচা ওষুধের গন্ধ ছাড়া আমার ঘুমই আসে না, নেহাত এই স্পটটা থেকে চাঁদয়ের ভিউটা মার-কাটারি, তাই...

ব্যক্তি  ১: কেনো বাপ? চাঁদে কী মধু আছে?

ব্যক্তি ২: চাঁদে? মধু? না মধু নেই তো! তবে পুন্নিমের চাঁদটার দিকে চেয়ে থাকলে ক্ষীদেটা একটু লাঘব হয়...

বিধাতা-গিন্নী: “মুখ-পোড়া মিনসে, অমন চাঁদপানা ছেলেটার আত্মাটাকে; মর্ত্তে ফুটপাথের পাগল না বানিয়ে পাঠালে কী চলছিলো না?”

বিধাতা: “আহ:, গিন্নী চট করে চটে যাও কেনো, আরে বাবা সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে কী আর সুকান্ত কে আমি ফেভার করতে পারি?”

Tuesday, August 14, 2012

স্বাধীনতা কী ?

স্বাধীনতা কী? ১৫ অগষ্ট না সানি দেওল? একটি ব্যক্তিগত সার্ভের আগুন ফল-প্রকাশ করা হলো



স্বাধীনতা, কার চোখে কেমন?

পিতার চোখে স্বাধীনতা : পুত্র কে প্যাদানী, কন্যা কে ধমকানি

মাতার চোখে স্বাধীনতা:  জামাই/বউ কে ওভারটেক করে কন্যা/পুত্রের সত্ব আদায়
  
বেকার পুত্রের চোখে স্বাধীনতা: পিতার উন্মুক্ত মানি-ব্যাগ

চাকুরে পুত্রের চোখে স্বাধীনতা: পিতা-মাতার বৃদ্ধাশ্রম, ছোট্ট ফ্ল্যাটে বউয়ের হামি

কন্যার চোখে স্বাধীনতা: আউটডেটেড পিতা-মাতাকে চুক্কি, ফেসবুকিও রাজকুমারকে চুম্মি


প্রেমিকের চোখে স্বাধীনতা : নলবন

প্রেমিকার চোখে স্বাধীনতা: ব্যক্তিগত খিদমতগার-কাম-প্রেমিক

স্বামীর চোখে স্বাধীনতা : স্ত্রীর বাপের বাড়ি যাওয়া

স্ত্রীর চোখে স্বাধীনতা: স্বামীর টুটি

ছাত্রের চোখে স্বাধীনতা: ছুটি

শিক্ষকের চোখে স্বাধীনতা: অবাধ ক্যালানির লাইসেন্স

নেতার চোখে স্বাধীনতা: জনগণের মাথায় নিয়মিত কাঠাল ভাঙার পবিত্র অধিকার

পাবলিকের চোখে স্বাধীনতা: খিস্তি

আঁতেলের চোখে স্বাধীনতা: কফি হাউস

গুণ্ডার চোখে স্বাধীনতা : রাজনীতি

এবং

এক জনৈক অশীতিপর বৃদ্ধের চোখেস্বাধীনতা: দেশ ভাগ, নিজের মাটি থেকে উপড়ে,ছিটকে আসার চিরকালীন যন্ত্রণা।