Monday, November 5, 2012

পাপন আর মাঠ

সন্ধ্যে বেলাবিশাল একটা মাঠ। একজনকে বাদ দিলে, সম্পূর্ণ ফাঁকা। মাঠের ঠিক মাঝখানটায় বসে পাপনহূই দিকে একটা গোলপোস্ট আর ঠিক উল্টো দিকে একটাএক-ছটাক দু-ছটাক ঘাস মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে, অল্প বালি, অল্প কাদাশুধু মাঠের ঠিক মাঝখানটায়, অর্থাত্‍ পাপন যেখানে বসে আছে, সেইখানটা একটু ন্যাড়া; কারণ এইটা হল ক্যাম্বিস বলে খেলার ক্রিকেটের পীচপাপন বাঁ হাতে ব্যাট করেসবে রিভার্স স্যুইপটা হাতে আসছেগরম পড়ে গেলে অবশ্য শুধু ফুটবল আর ফুটবলবর্ষায় করায় ল্যাপ্টা-লেপ্টি হয়ে ফুটবলের যে কী মজা; আহা। মান্তুদা তো এই মাঠে প্র্যাকটিস করেই কলকাতার ফার্স্ট ডিভিশনে চান্স পেয়ে গেছিলো।

ঘাস উপড়ে ফেলে গোড়ার ফ্যাকাশে সবুজ দিকটা জুত্‍ করে চাটতে পারলে মিষ্টি স্বাদ জ্বিভে লাগে। বিকেলের আড্ডায় মগ্ন হয়ে কতবার ঘাস মুখে দিয়ে ফেলেছে পাপনগরু হয়ে থাকাটা নেহাত্‍ মন্দ নয়; ঘাস ব্যাপারটায় অসুবিধে বিশেষ নেই, তাছাড়া অঙ্কস্যারের গরু বলে ডাকটা আর অপমানজনক লাগবে না
এই মাঠেই প্রতি রবিবার বিকেলে নন্তু-মামা গল্পের আসর বসাতেন। পাড়ার সমস্ত ছোটোরা নন্তু-মামাকে ঘিরে বসতো, শোনা হতো কত গপ্প; ট্রয়ের হেলেন থেকে জোয়ান অফ আর্ক, অফুরন্ত স্টক ছিলো মামার। আর ছিলো গপ্পের শেষে নিমাইদার আইসক্রিম। মাঠের পাশেই রোজ বিকেলে ঘুরপাক খায় দুজন ফিরিওয়ালা, আইসক্রিম নিয়ে নিমাইদা আর রাখোহরি কাকুর ফুচকার ঠ্যালা।  

মাঠের চার ধার দিয়ে বেশ কিছু গাছ; নিম, কৃষ্ণচুড়ো, দেবদারু। নলা-পাগলার হাতে লাগানো গন্ধরাজ গাছটা বেশ ঝাঁকড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি একটা আম গাছও রয়েছে এবং আমও হয় প্রচুর; মজা হচ্ছে যে সব আমই বিষ-টক, পাখিরাও ঠোকরায় নাওই আম শুধু খেলার মাঠ থেকে কুকুর তাড়ানোর কাজে লাগেতবে বিশুর দিদি ওই আমও এমন চমত্‍কার মাখতো নুন-লঙ্কা দিয়ে;যে ভাবতেই জ্বিভে সরাত্‍ করে জল চলে আসে 

এই মাঠ জুড়ে একটা চমত্কার বহুতল বাড়ি উঠবে। আট-তলা। পার্কিং, মাল্টি-জিম, বাগান সহ। পাপনের বাবাও এ বহুতলে একটা ফ্ল্যাট বুক করতে পেরেছেন। সহজ ছিলো না, বহুলোক আবেদন করেছিলেন ফ্ল্যাটের জন্যে; নেহাত্‍ বরাত জোরে লটারীতে নাম উঠেছে পাপনের বাবার। বাড়িতে ভীষণ ফুর্তি; বাবা পাড়ার সব্বাইকে ডেকে মাংস ভাত খাওয়াবে বলে প্ল্যান করছেন। সাউথ খোলা ব্যালকনি বলে জমাটি ফুর্তি চলছে পাপনের বাড়িতে।

শুধু পাপন কিছুতেই খুশি হতে পারছে না এই মাঠ জুড়ে ফ্ল্যাট বাড়ি ওঠার খবরে। পাপনের শুধু মনে হচ্ছে ওর আর রিভার্স স্যুইপ শানানো হবে না, কাদায় মাখামাখি ফুটবল খেলা আর হবে না, কচি ঘাস আনমনে দাঁতে কাটতে কাটতে আড্ডা দেওয়া হবে না, নন্তু-মামার গল্পের আসর আর বসবে না, খেলা শেষে রাখোহরি কাকুর ফুচকা বা আলু-কাবলি খাওয়া হবে না, বিশুর দিদি হাতের আচার খাওয়া হবে না; শুধু বাবার কেনা নতুন ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে বসে হাওয়া খেতে হবে

কাল থেকেই কাজ শুরু হওয়ার কথা। নন্তু-মামা অনেক চেষ্টা করেছিলেন ব্যাপারটা আটকাতে, জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করেছিলেন; গত পরশু কে বা কার এসে নন্তু-মামাকে বেদম পিটিয়ে গ্যাছে; নন্তু-মামা এখন হাসপাতালে। বাবা বলেন নন্তু-মামার নুইসেন্স ভ্যালু বড্ড বেশি।

পাপনের ভীষণ কান্না পাচ্ছে। পাপনের মা নেইপাপনের জন্মের সময়ই মা চলে যানমাকে জড়িয়ে ধরলে শুয়ে থাকলে নাকি সমস্ত দু:খ কেটে যায়পাপন উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো মাঠের ওপর

অবনিবাবু দরজা খুলতে চান না

-   অবনি বাড়ি আছো ?

-   আজ্ঞে না

-   অবনি ঠাট্টা করছো?

-   যা: শালা

-   অবনি তুমি গাল দাও?

-   যা বাব্বা

-   অবনি তুমি বিরক্ত হচ্ছো?

-   হতেও পারি

-   অবনি তুমি কি দোনমনায় ভূগছো?

-   আঃ, কি হচ্ছেটা কি?

-   অবনি তুমি কি পাল্টা প্রশ্ন করছো?

-   সকাল সকাল দরজায় খটখট, কে তুমি বাবা?

-   অবনি তুমি কি তোমার বাবার কণ্ঠস্বর চেনো না?

-   কেলিও দেবো কিন্তু!

-   অবনি তুমি লোকের গায়ে হাত তোলো?

-   চোপ!

-   অবনি তুমি সমস্ত অপ্রিয় প্রশ্ন চুপ করিয়ে দিতে চাও?

-   কান মলছি স্যারদোর খুলছি


Friday, November 2, 2012

আপনি কি বাঙালি ?


আপনি কি মাঙ্কি-টুপি ব্যবহারে কুণ্ঠা বোধ করেন?

আপনার গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত আসলে কি কণ্ঠস্বর আপনা থেকে ভারী হয়ে যায় না?

আপনি কি জেলুসিল সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল নন?

আপনি কি নলেন গুড়ের আশায় ক্যালেণ্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকেন না?

আপনি কি “রোম্যান্স মানেই উত্তম” বলে গলে যান না?

আপনি কি পর্ণ কে পানু বলে অভিহিত করেন না?

আপনি কি “বোকা” শব্দটিকে ঘোরতর অসুম্পূর্ণ বলে মনে করেন না
?

আপনি কি একযোগে ফুটবল এবং রাজনৈতিক বোদ্ধা নন?

আপনি কি “কালচারাল” তথা “রাবীন্দ্রিক ও নজরুলিও” ব্যাপারে মেগা-উত্‍সাহি নন?

আপনি কি গ্রেগ চ্যাপেল-খিস্তিতে বিশ্বাস করেন না?

আপনি কি সি-পি-এমই বা তৃণমূলী বামপন্থায় বিশ্বাসী নন?

আপনি কি রোববারে মাংস-ভোজের ব্যাপারে একনিষ্ঠ নন?

ইলিশের মূল্য বৃদ্ধিতে কি আপনার বুক হু হু করে ওঠে না?

আপনি কি কোলকাতা কে আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের যোগফলের এক কাঠি বেশি বলে মনে করেন না?

আপনি কি দার্জিলিং ছাড়া পাহাড় আর পুরী ছাড়া সমুদ্র কে বিধবা বলে মনে করেন না?

দুর্গাপুজোয় নিরামিষ খাওয়া কি আপনার ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত নয়?

আপনি কি ভূড়ির প্রতি স্নেহশীল নন?


উপরের প্রশ্নগুলির একটারও উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে আপনি বাঙালি নন

দু:স্বপ্ন


মধুময় ধড়মরিয়ে উঠে বসলেনচারিদিকে চেয়ে দেখলেন আর কেউ নেইখাটের ওপর তিনি একাপরনের গেঞ্জিটা ঘামে চুপচুপ।মান্ধাতা আমলের ফ্যানটা ঘটঘট শব্দে ঘুরে চলেছে, সাথে দেওয়াল ঘড়ির টিকটিক। নাইট-বাতির আবছা আলোর চেয়ে রাতের গাঢ় অন্ধকারই বেশি স্পষ্টতবে অন্ধকারে কিছুক্ষণ চোখ সইয়ে নিয়ে টের পেলেন যে স্বপ্নটা নিদেন স্বপ্ন ছিলো নাশিয়রের কাছের ইজি-চেয়ারে যে ছায়ামূর্তিটি বসে আছে সেটার অবয়ব দেখে মধুময় নিশ্চিন্ত হলেন যে ওটা বাবাপ্রতিবেশিরা বার বার বলা সত্বেও কাশী গিয়ে পিন্ড না দিয়ে আসাটা যে গোয়ার্তুমি হয়েছে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারলেন মধুময়আসলে যৌবনে আত্মস্থ করা কম্যুনিজ্মের পোকাটা এই ষাট বছর বয়সেও জ্যান্ত ছিলো। মধুময় বুঝলেন যে এই বয়সে এসে অন্তত এইটুকু মালুম হলো যে দৈবিক-ভৌতিক ব্যাপারটা নেহাত লোক ভোলানো বাতেলা নয়; নইলে বাবার দেখা এইভাবে পাওয়া যেতো না।

-   তুমি কি ভয় পেয়েছো মধু?, বাবার স্পষ্ট কণ্ঠস্বর

-   “বাবা?”, মধুময় যাচাই করতে চাইলেন

-   “চিনতে অসুবিধে হচ্ছে?”

-   “না মানে, ইয়ে , ভয় নয়, একটু ভেবড়ে গেছি...আপনি এতদিন তো...”

-   “এতদিন দেখা দিই নি, আজ দিচ্ছি, সঙ্গত কারণ আছে বলেই দিচ্ছি”

-   “কেমন আছেন?”

-   “ঠাট্টা করছো?”

-   “ইয়ে, মানে আমি মোটামুটি....”

-  “তোমার হাল-হকিকত আমার জানতে বাকি নেই। ভাগ্গিস বে-থা করোনি; নয়তো তোমার উড়ন-চন্ডিপনার জন্যে আর পাঁচটা জীবন জলে যেতো”

-   “বকছেন?”

-   “তুমি বকাবকির উর্ধে বাপ, চিরকালই”

-   “কি একটা সঙ্গত কারণ বলছিলেন, আজ দেখা দেওয়ার...”, মধুময় উসখুস করে ওঠেন।

-   “কারণ একটাই, যে এতদিনে তুমি আমায় এ অবস্থায় দেখার যোগ্য হয়েছ

-   “মানে?”

-   “অত্যাধিক খাওয়ার লোভই তোমার কাল হবে আমি জানতাম।গতরাতের চিংড়ি-মাংসের ওভার-ডোজ সহ্য হয়নি তোমার।  দুই ঘন্টা আগেই তুমি এই পারে চলে এসেছো মধু, ঘুমের মধ্যে আচমকা দড়াম করে বেড়ে যাও ব্লাড-প্রেশার তোমার ওই কোলেস্টেরলের ডিপো মার্কা হার্ট সাসটেন করতে পারেনি। এতদিন বাদে ছেলে আমায় দেখতে পাবে, আমি ছুটে আসবো না?আজ যে আমি কি খুশি মধু তোমায় বলে বোঝাতে পারবো না, তাড়াতাড়ি চল; তোমার মা পথ চেয়ে বসে আছেন” 

Thursday, November 1, 2012

করওয়া চৌথ’য়ের কবলে


(ঘটনাটি অথবা দুর্ঘটনাটি ঠিক এক বছর পুরনো)

সকাল সকাল বোমাব্রেকফাস্ট নেইহোয়াট? এনার্কি নাকি? বউয়ের কাছে এনকোয়েরী করতেই মালুম হলো কেস : করওয়া চৌথ! আধা-কম্যুনিষ্ট বউ বলে কী! এসব তো উত্তর ভারতীয় ব্যাপার-স্যাপার!তায় উপোস করে থাকার নিয়ম হলো স্ত্রীদের’; স্বামীদের আয়ু-বৃদ্ধির অভিপ্রায়ে। এসবের মধ্যে গোদা-বাঙালি পুরুষ-সিংহ আমি ফাঁসলাম কেমন করে?  ভাত-ডাল-চচ্চড়ি-ঝোল গিলে অফিসে বেরোনো অভ্যেস; এদিকে এক আনফোরসিন দুর্যোগ এসে হাজির।

বউ বুঝিয়ে বলায় কেস খোলসা হলো। রীতি-রেওয়াজের মুখে কেরোসিন; এই বঙ্গ-করোয়া চৌথটা হলো নব্য সামাজিক ফ্যাশন-বিশেষ। বাঙালির দেশি-কসমোপলিটিয়ানা অর্জনের দিকে আর একটি পদক্ষেপ; বউয়ের বান্ধবী-মহলে সবাই নাকি ব্যাপারটা জাতি নির্বিশেষে গ্রহণ করেছে। গতবার বউয়ের খপ্পড়ে পরে ধানতেরাসে পকেট-ত্রাস উত্‍সব পালন করতে বাধ্য হয়েছিলামএবারে করওয়া চৌথয়ের পাল্লায় পড়লামআমার উপোসের কারণ হচ্ছে স্ত্রী-মুখী সমব্যথাযেহেতু বউ উপোস যাবে; সেহেতু বরও উপোস যাবে; রোম্যান্সের হিসেব তাই বলে; বউএর বান্ধবীদের বরেরা নাকি স্বেচ্ছায় উপোস যাচ্ছেলে হালুয়া। কখন সন্ধ্যেবেলা বউ চালুনি দিয়ে চাঁদ দেখবে, তারপর সে খাবে; এবং বলি-নায়কের মত আমারও Chivalry’র কেতা মেনে তার পরেই জল-স্পর্শ করা উচিত।

আমি আপ্রাণ বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে এই উপোস কী ভাবে বাঙালি জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিতে পারে; কিন্তু কে শোনে কার কথা। অবশেষে নির্জলা অবস্থায় অফিস-মুখো হলাম

অফিসে  কোনও রকমে দাঁতে দাঁত চেপে বেলা পার করছি। প্রেসার মনে হচ্ছে লো হয়ে যাচ্ছে, গা গুলিয়ে উঠছে ক্ষীদের চোটে, জিভ শুকিয়ে যাচ্ছে;যে কোনও মুহূর্তে মনে হচ্ছে কোল্যাপ্স করে যাবো। লাঞ্চে সবাই যখন ক্যান্টিন-মুখো; আমি প্রায় ভেঙ্গেচুরে তপস্যা লাটে তোলার মুখেকোনওরকমে মন শক্ত করলামবউ বেচারী আমার জন্যে হোক বা FDI’য়ের প্রতি মরাল সাপোর্টের খাতিরে হোক উপোস করে আছে; আমার কী একটা দায়িত্ব নেই? আমি কী এমনই পাষণ্ড?

সহকর্মী বচু-দা লাঞ্চে যাওয়ার আগে চিংড়ি মালাইকারী অফার করে গেলেন; বচু-বৌদির হাতের মালাইকারী যে অমৃত-সমান সেটা আমার জানা ছিলোইচ্ছে হচ্ছিল বউ ডিভোর্স করলে করবে, মেরে দিই মালাইকারীবহু কষ্টে সামলাতে হলোনিজেকে অনুপ্রাণিত করবার জন্যে একটু নিরবিলি মুহূর্তে মানিব্যাগ থেকে বউয়ের পাসপোর্ট সাইজ ফটো বার করে একটু হামি খেয়ে নিলাম; আহা রে, আমার জন্যে কেউ না খেয়ে আছেপারবো, আর কয়েক ঘন্টা আমি না খেয়ে থাকতে পারবোজয় আন্না

বিকেল পাঁচটা নাগাদ, যখন প্রায় আধ-মরা হয়ে গেছি; পাল্স ঢিলে হয়ে এসেছে; আমার মিষ্টি-নরম বউটির জন্যে মন কেমন করে উঠলো; সেও তো অফিসের কাজ ঠেলছে সেই সকাল থেকে উপোস থেকে। বৌয়ের খবর নিতে ফোন করলাম।

-   “ হেল্লো সোনা, কেমন আছো?”, আমি বিগলিত কন্ঠে শুধোলাম।

-   খারাপ থাকবো কেনো?” বউ সটান।

-   “ না মানে অফিসের কাজে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?”

-   “কেনো? অসুবিধে কেনো হবে?”

-   “না মানে, গোটা দিন উপোস করে আছো কী না....”

-   “উপোস? এইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইইই......যা:! দেখেছো কান্ড! অফিসে হাজার কাজের চাপে তো ভুলেই গেছিলাম করওয়া চৌথের কথা আর সেই ভুলে কল্যিগদের সঙ্গে লান্চ করে ফেলেছি। যাক! এখন থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত আর কিচ্ছুটি খাবো না, ওকে ডিয়ার? এবার বলো, করওয়া চৌথে তুমি আমায় কী গিফ্ট দেবে! ভালো গিফ্ট দেওয়াটা কিন্তু একটা নিয়ম আজকের দিনে, জানো তো? একটা হীরের...”
খটাং করে কাটলাম ফোন!তুরন্ত বেরোলাম অফিস থেকে। টার্গেট দুটো! প্রথমত: আরসালন, দ্বিতীয়ত : ডিভোর্স লইয়ার!

শালা!