Wednesday, May 8, 2013

রবিজ্ঞান

রবি ইজ আওয়ার কম্যুনিটি-হবি। হেবি আমেজ। 

কবিত্বের গভীরতা সম্বন্ধে বিশেষ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না; কারণ ভদ্রলোক মদ্যপান তেমন করতেন বলে শোনা যায় না। তবে  দাঁড়ি তে যদি থাকে জীবন-মুখির আসলি মেজাজ, তাহলে  নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় যে রবি'ই হলেন প্রাচীন নচিকেতা।  শুধু জিন্স আর বাতেলা বাদ থাকায় নচি-সম গ্ল্যামার-রূপ  বাদ থেকে গেলো। নচির ওই হু-লা-লা-লা'র ছোঁয়ায় অবশ্য রবিবাবুর পাগলা হওয়া গানটা অনেকটাই দাঁড়িয়ে গেছে।  

তবে নেহাৎ হেলাফেলার মাল নন। হাজার হলেও নোবেল ম্যানেজ করেছেন, বোলপুরে ইস্কুল আর গুচ্ছ আঁতলামো ছেড়ে গেছেন। রাস্তায় মূর্তি, শো-কেসে সাজানো রচনাবলী এবং শাওয়ারের তলে একলা চলো'র সুর। এলেম তো আছেই। তাছাড়া  বুদ্ধিমান পাবলিক  মাত্রই বুঝবেন যে ওনার আঁকার হাতটা অনেকটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর মত।

ইয়ে, দাঁড়িওয়ালার বৌদির সাথে একটা ইয়ে ছিলো না ? কে একটা বলছিলো যেন, আমি অবিশ্যি পাত্তা দিইনি।
 

যাক গে। আউর এক জন্ম-বার্ষিকী। নেকু গলায় মিনমিন, সাথে হারমোনিয়াম, পাশে রজনীগন্ধার ষ্টিক ভর্তি ফুলদানি। গাম্বাট কন্ঠে ঢেঁকুর মাখা আবৃত্তি আর টিভি-ভর্তি  ফালতু গদগদ।

পাড়ার গুলে-মাতাল মাঝে মাঝেই বালক সংঘের ক্লাব-চাতালে খাড়া রবি-মূর্তির সামনে এসে চোলাই পেটে লুটিয়ে পড়ে। আর বিড়বিড় করে আউড়ে চলে : 

" বহু কোটি বাঙালি হে মা জননী , রেখেছে ঠাকুর করে আদর করনি "

অন দ্যাট নোট : " হ্যাপী রবি-ডে গাইজ" । 

Tuesday, May 7, 2013

চুমুতে হামিতে




ঠোঁটে ঠোঁট চকামে তৈয়ার হলো চুমু।

চুমুতে রইলো আকস্মিকতা। রইলো চলকে ওঠা হুইস্কি গেলাসের মিচকে হাসি, ছাদের গন্ধ, মাথা ঝিমঝিম, ঠোঁট-বুক-হাত ত্রাহ্য-স্পর্শের পেলব বিস্ফোরণ।  ফার্স্ট-ইয়ারের বেমক্কা দু জোড়া ঠোঁটের কলম্বাস-হিউয়েন সাং জুটি বনে ওঠা। চার পাশের বিশ্ব-যুদ্ধ বাস্প হয়ে উড়ে যায়, থকথকে বুক-জোড়া পড়ে থাকে। খেজুর রসের হাঁড়ির মত সুর জমে ওঠে চুমুর ভেজা-ভেজা আবেশে। পৃথিবী লেংচে চলে।  চুমুর পালা শেষ হলেই অক্সিজেন খতম হয়ে যাবে দুনিয়া থেকে; এমন ভয় জুড়ে থাকে নলবন, দত্ত-বাড়ির পুকুর-ঘাট, মন্টুদের চিলেকোঠা এবং অন্য প্রতিটি পাঁজর-তীর্থে
 । 

চুমু সেদ্ধ হতে হতে নরম হয়ে এলে চিবুতে সুবিধে হয়। ঠোঁট-জোড়ার  তেজ কমে আসে; ঝলক আবছা হয়ে আসে অভ্যস্ত আলাপে। এক বেরসিক ইশ্বর চুমুতে গুঁজে দেন পরিচিতি। পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট জুড়ে নেমে আসে স্নেহ, যেই স্নেহ বার বার শুধু এক হাঁড়ি ভাতের মত মনে করিয়ে দেয়।  
"একে অপরকে  জাপটে ধরে ভালো রাখা, এক সাথে ভালো থাকা - এইটুকুই তো"। 

কখন যে ঠোঁট-পাগলামিতে সাথে স্নেহ মিশে যায় এবং  শ্রীমান  চুমু নিজের নাম পাল্টে হামি বনে যায়; মানব-মানবী তার হিসেব রাখতে পারেন না।      


( চুমু-ওয়ালির জন্যে  নয়, হামি-ওয়ালির জন্যেও নয়; এই পোস্টটি রইলো শ্রী শ্রী রাজ শেখরের জন্যে )

অতি স্যার-বাজি

আসুন স্যার। 
বসুন স্যার। 
বলুন স্যার। 

আমি কি করতে পারি স্যার। 
আপনি বললে আমি সব করতে পারি স্যার। 
আমায় এক বার বলেই দেখুন না স্যার। 
আপনি হলেন ভগবান স্যার, আমি মাছি পাতি।
আপনি মুখ দিয়ে একবার বলেছেন, এ না হয়ে পারে স্যার ?
আমার জান কবুল স্যার। 

---

আসবো স্যার ?
বসবো স্যার ?
বলবো স্যার ?

আমার ভারী দুর্দশা স্যার। 
আমায় একটু দয়া করবেন স্যার। 
আমায় এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিন স্যার। 
অমন ভাবে বলবেন না স্যার। 
আপনি না দেখলে আমি কোথায় যাব স্যার। 
আপনি এমনটা করতে পারলেন স্যার ?

-- 

অতি স্যার-বাজি অতি সরেস ফাঁসির ইন্তেজাম। 

দুপুরগুলো


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরগুলো ভারী মামুলি হয়ে পড়লে। মা'র বকুনি নেই, বুন্তু-দিদির হাতে মাখা কাঁচা আম কুচি নেই, ভর দুপুরে ইয়ার-দোস্তের হাঁক-ডাক নেই অন্য পাড়ায় ম্যাচ খেলতে যাওয়ার জন্যে। এমন কি ঠা-ঠা রোদ্দুর মাখা ছাদের কোনের ভিজে মায়াও নেই; যেখান থেকে পাশের বাড়ির মেয়ে মামনের ঘরের জানলা দেখা যেত। গরমের ছুটিতে পাড়ার নাটকের দলের রিহার্সাল, দত্ত-পুকুরে ছিপ ফেলা, ভূদেব-কাকার কাছে টুয়েন্টি-নাইন শেখা, সন্তুর কাছে মান্জা রহস্যের পাঠ নেওয়া - সমস্তই দুপুরের অছিলায়। 


এখন ফাইল এসেছে, বসের হাঁক-ডাক এসেছে; দুপুর-গুলো বেমক্কা আফটার-নুন গোছের মুরুব্বি বনে গেছে। অধুনা দুপুরের সামান্য একলা মুহুর্তে মামনের কথা মনে আসে। সে এখন ক্যানাডাতে চমত্কার এক চাকরি এবং অনাবিল এক সংসার সামলায়- আমাদের দুজনার দুপুর এখন আর একসাথে আসে না। 

Monday, May 6, 2013

কিছু দাবিময় ডাক-নাম

কিছু ডাকনাম যে কেন তেমন ভাবে চলে না। ভেবে মন খারাপ হয় যায়। ছোটমামা হামেশাই বলে যে পোটেনশিয়াল নষ্ট করেই এ দেশ গোল্লায় গেল। হক কথা। কত ফোনেটিক বাহার যে কেতা-দুরুস্ত হতে গিয়ে মূর্ছা গেল তার ইয়ত্তা নেই। এই যেমন নিমকি ; কি অপূর্ব নাম খানি। নিমকি মা’কে বল জলখাবার দিতে, নিমকি পড়তে বস, নিমকি বাঁদরামো করিসনে – কি ব্যাঞ্জনাময় সমস্ত ব্যাবহার।

অথবা ধরা যাক বম্বে। শহর হিসেবে নয়; ডাকনাম হিসেবে। বুম্বা-টুম্বা ফালতু; ওসব ভারি সিনেম্যাটিক। বম্বে – বেশ নাদুস-নুদুস আদুরে নাম।অমন শুনেই মনে হয় কাছে ডেকে নি – কাম হিয়ার বম্বে। একটা আলতো গ্ল্যামার আছে।

ডাকনামের কথাই যখন উঠলো তখন বলি; ভেল্কি নামটির প্রতি আমার বেশ গুচ্ছ দুর্বলতা আছে। ডাক-নামেদের মধ্যে এমন তরুন-তুর্কী নাম পাওয়া দুস্কর।
নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে একশন।

বোঁদে শব্দ’টার মধ্যে ডাক-নামিও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ছন্দ-মিল সম্ভাবনা গুলো জরীপ করে দেখা গেল যে ব্যাপারটা বেজায় চাপের হতে পারে; সেইটে বাদ।

আমি আন্তরিক ভাবে একটা ডাকনামে খুব স্নেহ ভরে বিশ্বাস করি ; হাম্বা। ভারি দাবিময়। হাম্বা অঙ্কে ফেল করলি রে ? হাম্বা ফের গোলমাল করছিস ব্যাটাচ্ছেলে ? হাম্বা তুমি সাপের পাঁচ পা দেখেছো না কি ? দিল খুলে ওই নামে ডেকে ভারি সুখ হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

মনে রাখা ভালো যে কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম হতে পারে, ভালোনাম হতে পারে; কিন্তু ডাকনাম হবে স্রেফ ডাকিয়ের ইচ্ছেয়। দু চার খানা পেলব ডাকনাম শুধু ছাড়লাম এই খানে; সমগ্র লিস্টি করতে হলে আমায় বাল্মিকি হতে হবে। বাঙালি বাবাই-পাপাই-বাবু-তপু’র ফাঁদ থেকে যত তুরন্ত বেরিয়ে আসতে পারে ততই মঙ্গল।
  

ঠকানে বৃত্তান্ত

প্রেমিক চোরা প্রেমে প্রেমিকাকে ঠকালে ।

প্রেমিকা ঠকিয়ে অন্য ঠোঁটে চুমু খেলে।

মেঘলা আকাশ ঠকিয়ে দিয়ে ঢেলে দিলে মেঘ।

দোকানি ঠকিয়ে গছিয়ে দিলে বাসি রসগোল্লা।

টেরি ঠকিয়ে টাক নামালে।

বয়েস ঠকিয়ে বাত পাঠালে।

সি-পি-এম ঠকিয়ে গাঁট্টা দিলে, তৃনমূল ঠকিয়ে চাটি মারলে।

কিন্তু সব চেয়ে খুনে ঠকানে বৃত্তান্ত;

ধোকার ডালনা কে ঠকিয়ে; পনীর-ন্যাকামোর বাঙালি রসনায় ঢুকে পড়া।

মর্মান্তিক। মর্মান্তিক। মর্মান্তিক।  

Wednesday, May 1, 2013

বাঙালির বিপন্ন ক্যারিস্মা

বাঙালির ক্যারিস্মা কমে যাচ্ছে ক্রমশ। মধ্যবিত্তের ভুঁড়ি নেই, মধ্যবয়স্কের গেঁটে বাত নেই, মধ্য-বুদ্ধি ছাত্রের নধর আলিস্যি নেই। বিরক্তিকর।

পাড়ায় পাড়ায় এখন মাল্টী-জিম আর তার কব্জায় পড়ে পাবলিক চিমসে মেরে চলেছে। এক সময় ধুম ছিল ভোরবেলা আলতো হেঁটে এসে মৌজ করে পরোটা আলুর দম গেলার। এখন ছাই ট্রেড-মিলে নাচুনি ঝেড়ে , ডাইনিং টেবিলে বসে, ইকনমিক্স টাইমসে মুখ গুঁজে; করনফ্লেক্স গেলা। ছিঃ ছিঃ, অমন ফিটনেসের মাথায় বাজ।

ভাত-ঘুম ছিল এক কালের বিউটি-ফ্যাসন। এখন দেবীরা দুপুরে এরবিক্সে নিজেদের নিমজ্জিত করছেন।  ফল ? তোবড়ানো গাল, হাড়গিলে দেহ-পল্লব – অমনটা না হলে নাকি আজকাল চাবুক বলা চলে না। আরে বাবা, বং-ললনা যদি আলতো থলথলে সৌন্দর্য-রসে না ভিজে থাকেন; তাকে কি আর পাতে দেওয়া চলে ?

জিম যে অতি হাড়-হিম করা ব্যাপার; তা এই বেলা পাবলিকে টের না পেলে সমুহ বিপদ।